বিসর্জন

একবা‍র এক পথের কুকুর মাংস করিয়া চুরি,
ভাবিতে লাগিল, চুরির কাজেতে নাই তার কোন জুড়ি।
পথে যেতে যেতে সেতুর পাশেতে পানিতে দৃষ্টি পড়ে-
তার মত এক চোরা-মুখো মুখ জীব পানির ওপাড়ে।
সহসা ক্ষোভের গরম আগুন বয়ে গেল তার মাঝে-
তার মত আরো লোকও কি আছে চুরির এই চারু কাজে?
পেতে যদিবা সে পারত আরেক মাংস টুক‍রাখানি,
করে বা একটু রক্তারক্তি একটুকু হানাহানি।
শ্বদন্তগুলো শানিয়ে নেয় সে নিজেরই অগোচরে-
গরবে তার সে বুক, শ্ববৃত্তি ফোলায় দম্ভভরে।
যেই না শত্রুপানে হাঁক ছাড়ে, মাংস টুক‍রাখানি-
মুখ হতে পড়ে ডুবে যায় জলে, তার পর নাহি জানি।
লোভ ও ক্ষোভের শিকার কুকুর চলে যায় পথ ধরে,
নিজ বিশ্বাস হারিয়েই তবে শিখেছে নিতে শুধরে।
পথের কুকুর যদিবা বুঝতে পারে লোভ ঠিক নয়,
বলো তুমি আজ পৃথিবীর লোকে কেন করে না তা জয়?
অসমীচিন এ লোভের আগুন বহু্ত গুণ তপ্ত!
আদমেরও যে বহুদিন লাগে করতে এরে রপ্ত!
সৃষ্টির পরে বিধাতা নিজেই অধিকার দিলে তারে-
“যাহা কিছু চাও সবই পাইবে যত খুশি যত বারে।
শুধু ওই গাছ পানে যেও না’ক, খেও না’ক তার ফল।”
তবু খান্নাস ঠেলে দিলো তারে, ”ও গাছের দিকে চল।”
লোভ দেখাইয়া শয়তান তারে করাইলো ফল আহার,
সাথে সাথে হয়ে বিতাড়িত সে যে, আসিলো পৃথিবী ‘পর।
আদিপাপ আজ মানুষের মাঝে ক্রমবিকশিত হয়ে।
ঠেলে নিয়ে তারে ফেলে মাঝখানে অনাকাংক্ষিত লয়ে।
তবুও মানুষ আজো লোভ করে কোন এক অকারণ,
জানে না কী সে যে ক’দিন পরেই হইবে বিসর্জন?

১,৬৮২ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “বিসর্জন”

  1. মাহবুব (১৯৯৪-২০০০)

    অসাধারণ!
    অনেক সুন্দর।
    তবে আমি বড় ভাই হিসেবে বিনয়ের সঙ্গে একটি বিষয় আরজ করতে চাই।
    হযরত আদম (আঃ) সালাম এবং হযরত হাওয়া (আঃ) পাপ করেছেন একথা বলা ঠিক নয়।প্রথমত তাঁরা আদিপিতা ও আদিমাতা।তাঁদের একজন নবী আর নবীরা আমাদের আক্বীদা মতে নিষ্পাপ।হযরত হাওয়া (আঃ) নিঃসন্দেহে জান্নাতি। তাঁর নামের সাথে আমরা (আঃ) বলি যা নবী ও ফেরেশ্তাদের নামের সাথে বলা হয়।
    সুতরাং তাঁদের সমালোচনা করা আমাদের জন্য ধৃষ্টতা।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      আমি যতদূর জানি একমাত্র মহানবী সঃ ছাড়া বাকি সব নবী-রাসুলেরই কোন না কোন ভুল রয়েছে। আর রাসুল সঃ কে সকল পাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে ৫ বার সিনা সাক করার মাধ্যমে।

      এটাও শুনেছিলাম মেয়েদের প্রসব বেদনা প্রদানের অনেকগুলি কারনের একটি হলো আদম আঃ কে বিবি হাওয়ার নিষিদ্ধ ফল খেতে প্রলুব্ধ করার শাস্তি।

      কোথায় পড়ে ছিলাম মনে নেই, তাই কোন রেফারেন্স নেই। ভুলও হতে পারে।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
      • মাহবুব (১৯৯৪-২০০০)

        @আহসান ঃতুমি তো দেখছি বরিশালের। তুমি কোন হাউজের?

        আমি যতদূর জানি সকল নবী নিস্পাপ এটাই সহীহ আক্বীদা। নবীরা কখনো কখনো ভুল করেছেন। তবে তা পাপের পর্যায়ে নয়।

        মেয়েরা প্রসব বেদনার সময় বিপুল সওয়াব পায়। আর হযরত হাওয়া (আঃ) এর আমলের কারণে অন্য মেয়েরা শাস্তি পাবে এটা আমার কাছে অদ্ভুত মনে হচ্ছে।

        তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নাই তাঁরা অপরাধ করেছেন তবুও আমাদের উচিত নয় তাঁদের দিকে অঙ্গুলি উত্তোলন করা। আমার বাবা / মা যদি কোন লজ্জ্বাজনক পরিস্থিতিতে পড়েন আমি কি এটা সবাইকে বলে বেড়াব নাকি ঢাকবার চেষ্টা করবো?

        আসলে এই ঘটনা পৃথিবীর জীবন শুরুর আগের। তাই পাপের প্রশ্ন আসে না। তাছাড়া তাঁরা অনুশোচনা করে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঠিক করে নিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের উপর যখন রাজ়ী আছেন আমরা কিভাবে তাঁদের দোষ আলোচনা করি।

        শেষ কথা হচ্ছে খারাপের আলোচনা করলে খারাবি বাড়ে। দুর্গন্ধময় জিনিস ঘাটলে দুর্গন্ধই ছড়ায়। যে চায় ভালো ছড়িয়ে যাক তার উচিত ভালোর আলোচনা করা। তাই আমরা মানুষের বিশেষত নেকলোকদের ভালোই আলোচনা করবো।

        আমি সাধারণত ব্লগে এই ধরণের আলোচনা করি না। এখানে একজন নবী ও তাঁর সন্মানিত স্ত্রীর ব্যাপার জড়িত বলেই বড়ভাই হিসেবে দুটি কথা লিখলাম। আমি যদি কারো বিরিক্তির কারণ হয়ে থাকি তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

        জবাব দিন
  2. শিবলী (১৯৯৮-২০০৪)

    ব্লগে স্বাগতম ।
    শুনছিলাম ব্লগে নতুন লোক আইলে এডু স্যার আদরের ভাষায় ১০টা কইরা কি জানি পুরষ্কার দেয় ?????
    তা স্যার বিজি থাকলে আমিই কি দিয়া দিমু ??????

    জবাব দিন
  3. মোজাহার (২০০৪-২০১০)

    সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার মত নবাগতকে এভাবে স্বাগতম জানানোর কারণে আমি সত্যিই গর্বিত। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, হযরত আদম (আঃ)-কে পাপী বলার দুঃসাহস আমার নাই। আমি শুধুমাত্র মানুষের দোষটাকে মূখ্য করে তুলতে চেয়েছি। তবুও আমার কোন ভুল হয়ে থাকলে মহান আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাইছি।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।