মানুষ

(আলফা ট্যাক্সোনমি, লম্বা লম্বা ল্যাটীন শব্দ, বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে, আগ্রহান্বিত না হলে এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আমি মনে করি মানুষ হিসেবে মানুষের ট্যাক্সোনমি জানা থাকটা আমাদের উচিত, আর এটা লেখার মাধ্যমে আমারও জিনিষটা আরেকবার ঝালাই হবে, এটাই আমার এই পোস্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য।) আমরা কি কখনও ভেবেছি মানুষ কি? মানুষের সংজ্ঞা দিতে হলে বোধহয় দর্শন ছাড়া আমাদের কোন গতি নেই। আসলেই কি তাই? জীববিজ্ঞান কি মানুষ বা অন্য যে কোন অর্গানিজমের কোন সংজ্ঞা দিতে পারে? হ্যা পারে। কিভাবে? চলুন দেখা যাক।

বায়োলজি মুলত অর্গানিজম স্টাডি করে তিনটি লেভেলে ১। মলিকিউলার লেভেলে যেমন- মলিকিউলার বায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মলিকিউলার জেনেটিক্স, ফিজিওলজি, সেল বায়োলজি, জেমনিক্স, প্রোটিওমিক্স, এনজাইমেটিক্স ইত্যাদি। ২। অ্যানাটমিক লেভেলে যেমন- অ্যানাটমি, সাইকোলজি, ফিজিওলজি ইত্যাদি। ৩। পপুলেইশন লেভেলে যেমন- পপুলেইশন বায়োলজি, পপুলেইশন জেনেটিক্স, ইভল্যুশনারি বায়োলজি, ইকোলজি, ইভল্যুশনারি ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি, ইভল্যুশনারি জেনেটিক্স, ট্যাক্সোনমি, ফাইলোজেনি ইত্যাদি। এই শ্রেণীবিভাগগুলো কিন্তু হার্ডওয়ার্ড নয়, স্পষ্ট কোন সীমারেখা নেই এদের মধ্যে। ট্যাক্সোনমির কাজ হচ্ছে বায়োডাইভার্সিটিকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শ্রেণীবদ্ধ করা। এই শ্রেণীবদ্ধ করার কাজ আবার করে থাকে ফাইলোজেনিও। তবে ট্যাক্সোনমি এবং ফাইলোজেনি সমার্থক নয়।

ট্যাক্সোনমি মুলত বায়োডাইভার্সিটির শ্রেণীবিন্যাস করে মর্ফোলজির ভিত্তিতে। মর্ফোলজি মুলত স্টাডি করে মর্ফ যেটা কিনা অর্গানিজমের একটি পর্যবেক্ষনযোগ্য ট্রেইট। যেমন পাখা, এটা একটি ট্রেইট যা পাখিতে উপস্থিত মানুষে অনুপস্থিত। আর ফাইলোজেনি বায়োডাইভার্সিটির শ্রেণীবিন্যাস করে জেনেটিক্সের ভিত্তিতে। জিন পর্যবেক্ষনযোগ্য নয় তবে ডিএনএই সিকোয়েন্স করে জানা যায় জিন সম্পর্কে এবং নির্ধারণ করা যায় একটি প্রানী আরেকটি অর্গানিজমের কতটা জেনেটিকালি দুরবর্তী বা নিকটবর্তী। ট্যাক্সোনমি যেই পর্যায়গুলোতে প্রাণীকে ভাগ করে সেগুলোকে বলা হয় ট্যাক্সন, আর ফাইলোজেনি যেই পর্যায়গুলোতে প্রাণীকে ভাগ করে সেগুলোকে বলা হয় ক্লেইড। ক্লেইড হচ্ছে একাধিক প্রাজাতির একটি দল যারা তাদের বিবর্তনের ইতিহাসের কোন এক সময় একটি কমন এ্যানসেস্টর সেয়ার করত। যেমন মানুষ বা অন্য কোন ম্যামাল এবং কোন একটি সাপ বা অন্য কোন সওরাপ্সিড একটি ক্লেইড অ্যামনিওটার অন্তর্ভক্ত কেননা তাদের লাস্ট কমন অ্যান্সেস্টর ছিল অ্যামনিওট। আবার মানুষ বা অন্য কোন ইউআর্কন্টোগ্লাইর্স এবং কুকুর বা অন্য কোন লওরাসিয়াথেরিয়া একটি ক্লেইড ইউথেরিয়ার অন্তর্ভুক্ত কেননা তাদের লাস্ট কমন অ্যান্সেস্টর ছিল ইউথেরিয়ান। যেহেতু ইউথেরিয়ার লিনিয়েইজ অ্যামনিওটার লিনিয়েইজ থেকে অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক সময়ে বিভক্ত হয়, তাই আমরা বলতে পারি মানুষ সাপের চেয়ে কুকুরের বেশী নিকটবর্তী, রাইট? একটি সহজ উদাহারণ দেয়া যাক। যেমন- ট্যাক্সোনমি অনুযায়ী বাদুর মানুষের যতটা নিকটবর্তী তার চেয়ে বেশী নিকটবর্তী পাখির কেননা উভয়েরই পাকা আছে তাই নয় কি? কিন্তু, ফাইলোজেনি অনুযায়ী বাদুর কিন্তু পাখিরচেয়ে দুরবর্তী বরং নিকটবর্তী মানুষের কেননা এরা উভয়েই ম্যামাল এদের ডিএনএই সিকোয়েন্স সিমিলার এবং পাখি ও মানুষের তুলনায় বাদুর ও মানুষ তাদের বিবর্তনের ইতিহাসে অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক সময়ে লাস্ট কমন এ্যানসেস্টর সেয়ার করতো লাইন অফ ডিসেন্ট বিভক্ত হওয়ার পর যা কনভার্জেন্ট ইভল্যুশনের মাধ্যমে পাখা অর্জন করে (যেহেতু পাখি(আর্কাসোওরিয়া) ও মানুষের(ম্যামালিয়া) শেষ কমন অ্যান্সেস্টর অ্যামনিওটা, অপরপক্ষে বাদুর(সিরপ্টেরা) ও মানুষের(প্রাইমেট) শেষ কমন অ্যান্সেস্টর ইউথেরিয়া)।

দেখা যাচ্ছে লিনিয়ান ট্যাক্সোনমি এবং মডার্ন ফাইলোজেনির মধ্যে একটা বিরোধ থেকে যেতে পারে কোন কোন সময়। তাই বর্তমানে লিনিয়ান ট্যাক্সোনমির আধুনিক ভার্সন আলফা ট্যাক্সোনমি ব্যাবহার করা হয় যা কিনা ট্যাক্সোনমি ও ফাইলোজেনির মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলে। যদিও লিনিয়াস প্রবর্তিত বাইনোমিয়াল নেইম বা প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামের ব্যাবস্থা সেই পুরনোটাই ব্যাবহার করা হয়। এখানে একটা কথা বলে নিতে চাই, কেন এই কঠিন কঠিন ল্যাটিন শব্দগুলো ব্যাবহার করা হয়? মানুষকে ম্যান আর বাদুরকে ব্যাট বললেই কি হয়না? না, কারণ বাদুরের সাত হাজার এক্সটেন্ট প্রজাতি আছে, মানুষের প্রজাতিগুলোর মধ্যে হোমো স্যাপিয়েন্স ছাড়া অন্যান্যগুলো যদিও বিলুপ্ত, তারপরও বিজ্ঞানে রক্ষা করে চলা হয় স্ট্রিক্ট সেন্স অফ স্পেসিফিকেইশন। একটা উদাহারণ দেয়া যাক, আপনি একটি মায়োগ্লোবিনের স্টাকচার দেখতে চান, তো আপনি পাবমেডে সার্চ দিলেন, সে আপনাকে জিজ্ঞেস করবে আপনি কোন অর্গানিজমের মায়োগ্লোবিন দেখবেন? মানুষ, গরিলা, ডলফিন না কোনটা? এজন্যই মুলত ট্যাক্সোনমি গুরুত্বপুর্ণ। কেননা এটা আমাদের বলে যে ডলিফিনের চেয়ে গরিলার মায়োগ্লোবিন আমাদেরটার বেশী সিমিলার হবে যেহেতু, ডলফিনের তুলনায় গরিলার সাথে আমাদের লাইন অফ ডিসেন্ট বিভক্ত হয়েছে অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক সময়ে যা অ্যালাও করেছে ম্যুটেইশনের মাধ্যমে প্রোটিন স্ট্রাকচার পরিবর্তিত হওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়। এটা আমাদের আরও বলে যে, যেই প্রোটিন যত প্রয়োজনীয় অর্গানিজম ভেদে তা তত সংরক্ষিত এবং যেই প্রোটিন যত ছোট অর্গানিজম ভেদে তা হবে তত সংরক্ষিত যেহেতু ছোট একটি রিজিয়নে ম্যুটেইশন ঘটার সম্ভবনা কম। তাই আমরা দেখি যে, গ্লাইকোলাইসিস, পাইরুভেট ডিকার্বক্সিলেইশন, সাইট্রিক অ্যাসিড সাইকেল, অক্সিডেইটিভ ফসফোরিলেইশন বিক্রিয়াগুলো ক্যাটালাইজ করা প্রোটিন এনজাইমসমুহ অর্গানিজম ভেদে হাইলি প্রিজার্ভড, কেননা এদের ম্যুটেইশন এদের রিঅ্যাকশন ক্যাটালাইজেইশনে বাধার সৃষ্টি করলে অর্গানিজম মারা যাবে এবং সেই মিউট্যান্ট জিন পরবর্তী প্রজন্মে পাস করে যেতে পারবে না। এটার প্রাকটিকাল অ্যাপ্লিকেইশনের একটা উদাহারণ দিচ্ছি। ইনসুলিন খুবই ছোট একটা প্রোটিন, মাত্র ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড রেসিডিউ। এটা সব অর্গানিজমেই হাইলি প্রিজার্ভড, তবে মানুষের ফিজিওলজিকাল আবহাওয়ায় দেখা যায় সবচেয়ে কার্যকর ও সবচেয়ে দক্ষ হচ্ছে শূকরের ইনসুলিন। ট্যাক্সোনমি জানা না থাকলে দুরবর্তী বিভিন্ন জীব-জন্তুর ইনসুলিনের মানবশরীরে দক্ষতা পরীক্ষা করতে করতে বিজ্ঞানীদের একটি মুল্যবান সময় পার করতে হত। তাই, আমাদের ইনসুলিন বায়োসিন্থেসিসে অক্ষম ডায়েবেটিক্স ম্যালিটাস আক্রান্ত লোকজন ব্যাবহার করছে শূকরের ইনসুলিন। এর ফলাফল হতে পারে দুটি, প্রথমত, পশ্চীমা খৃষ্টান বিজ্ঞানীরা আমাদের ধর্ম নষ্ট করার জন্য ছল করে আমাদের হারামখোর বানাচ্ছে, আমরা বস্তুত নির্দোষ। দ্বিতীয়ত, হারাম জিনিষ ব্যাবহার করার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে কোনভাবেই আমরা মুক্তি পেতে যাচ্ছিনা। হাশরের মাঠে আমরা আমাদের হাইপথেসিস কনফার্ম করতে পারবো।

লিনিয়ান ট্যাক্সোনমি অনুসারে আটটি ট্যাক্সোনমিক র‌্যাঙ্কে ভাগ করা হয় একটি প্রজাতিকে। সেগুলো হল – ডোমেইন, কিংডম, ফাইলাম, ক্লাস, অর্ডার, ফ্যামিলি, জেনাস, স্পেসিস। ট্যাক্সোনমিক র‌্যাঙ্কসমুহ মনে রাখার সহজ নেমোনিক হচ্ছে- ” damn kinky people come over for group sex”. যেখানে, damn> ডোমেইন; kinky> কিংডম; people> ফাইলাম; come> ক্লাস; over> অর্ডার; for> ফ্যামিলি; group> জেনাস; sex> স্পেসিস।

মানুষের এই আটটি ট্যাক্সোনমিক র‌্যাঙ্কের নাম যথা ক্রমে- ডোমেইন- ইউক্যারিওটা, কিংডম-অ্যানিম্যালিয়া, ফাইলাম- কর্ডাটা, ক্লাস- ম্যামালিয়া, অর্ডার- প্রাইমেট, ফ্যামিলি- হোমিনিডাই, জেনাস- হোমো, স্পেসিস- স্যাপিয়েন্স। এটা হচ্ছে আমাদের সাধারণ ট্যাক্সোনমিক লিনিয়েইজ, যেটা কিনা জেনারেলাইজড বা অসম্পুর্ণ। আমাদের সম্পুর্ণ ট্যাক্সোনমিক লিনিয়েইজে আরও অনেক ক্লেইড আছে।

মানুষের সম্পুর্ণ লিনিয়েইজ হল ক্রমানুসারে- বায়োটা, সাইটোটা বা সেলুলার অর্গানিজম, ইউক্যারিওটা, ফাঞ্জাই মেটাজোয়া গ্রুপ বা অপিস্টোকন্টা, মেটাজোয়া বা অ্যানিম্যালিয়া, ইউমেটাজোয়া, বাইল্যাটেরিয়া, সেলোমাটা, ডিউটেরোস্টোমিয়া, কর্ডাটা, ক্র্যানিয়াটা, ভার্টিব্রাটা, ন্যাথোস্টোমাটা, টেলিওস্টোমি, ইউটেলিয়োস্টোমি, সার্কপ্টেরিজি, টেট্রাপডা, অ্যামনিওটা, ম্যামালিয়া, থেরিয়া, ইউথেরিয়া, ইউআর্কন্টোস্লায়ার্স, প্রাইমেট, হ্যাপ্লোরিনি, সিমিফর্মেস, ক্যাটারিনি, হোমিনইডিয়া, হোমিনিডাই, হোমিনিনাই, হোমিনিনি, হোমো, স্যাপিয়েন্স। আমি এই লিনিয়াইজের মুল ট্যাক্সোনমিক র‌্যাঙ্ক সমুহ বোল্ড করে দিলাম। আর এই প্রতিটি ট্যাক্সোনমিক র‌্যাঙ্কের মধ্যবর্তী গৌন ট্যাক্সাসমুহ মনে রাখার নেমোনিক দিলাম যথাক্রমে। ( এখানে আরও একটা জিনিষ বলে নেওয়ে বোধহয় দরকার যে এই ট্যাক্সোনমি পাবমেডের, পাবমেডের ট্যাক্সোনমিকে বলা যেতে পারে সবচেয়ে নিয়মিতভাবে আপডেইটেড তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, পাবমেডের সাইটে গিয়ে ট্যাক্সোনমি ডাটাবেইস সিলেক্ট করে আপনারা অন্যান্য প্রায় সব এক্সটেন্ট অর্গানিজমের ট্যাক্সোনমি দেখতে পারেন)।

এবার আমরা দেখব কি কি নতুন মর্ফের উদ্ভব তাদের ট্যাক্সাগুলো (ট্যাক্সনের বহুবচন) আলাদা করে যাচ্ছে। আর বিভিন্ন মৌল ট্যাক্সাগুলোর সাথে আমি গৌন ট্যাক্সাগুলোর নামও উল্লেখ করবো। গৌন ট্যাক্সাগুলো যেই ধারা মেনে চলে তা দেখাচ্ছি। ধরুণ, ক্লাস মৌল ট্যাক্সাটির গৌন ট্যাক্সাসমুহ হবে- সুপারক্লাস, ক্লাস, সাবক্লাস, ইনফ্রাক্লাস, পার্ভাক্লাস। মনে রাখার নেমোনিক হচ্ছে- superman uprooted some infrastructures pervertedly যেখানে superman> সুপার; uprooted> রুট; some> সাব; infrastructures> ইনফ্রা; pervertedly> পার্ভা।

বায়োটা- প্রথমেই পৃথিবীর অন্যান্য সব অর্গানিজমের মতই আমরা বায়োটা বা জীব, আমরা মিনারেলিয়া বা জড় নই।

সাইটোটা- আমাদের সুপারডোমেইন সাইটোটা, আমরা কোষভিত্তিক প্রাণ, আমরা ভাইরাস, ভাইরয়েড, প্রায়ন, প্লাসমিড, রেট্রোট্রান্সপোজন এর মত অকোষী প্রাণ বা অ্যাসাইটোটা নই।

ইউক্যারিওটা- আমাদের ডোমেইন ইউক্যারিওটা, আমাদের সেল নিউক্লিয়াস আছে, সার্কুলার নয় লিনিয়ার ডিএনএ আছে, ক্রোমোজম আছে, সাইটোস্কেলিটন আছে। আমরা ব্যাক্টেরিয়ার মত প্রোক্যারিওট নই বা আর্কিয়া নই।

অপিস্টোকন্টা- আমাদের সাবডোমেইন অপিস্টোকন্টা। ফাঙ্গাসের মত আমাদের কোষও একটি মাত্র পোস্টেরিয়র ফ্লাজেলাম দ্বারা প্রপেলড্‌, আমাদের শরীরের অন্যান্য কোষে ফ্লাজেলা নেই যদিও, তারপরও আমদের জেনমে ফ্লাজেলআমের জিন আছে যা আমরা অ্যাকটিভেইট করি শুক্রানুর কোষে। আমরা অ্যামইবিজোয়া, রিজারিয়া বা অন্য কোনো বাইকন্টা নই।

মেটাজোয়া বা অ্যানিম্যালিয়া- আমাদের কিংডম মেটাজোয়া। আমরা বহুকোষী প্রাণী এবং বেঁচে থাকার জন্য আমাদের অন্য একটি অর্গানিজমকে খাদ্য হিসেবে গ্রহন করতে হয়। আমরা ফাঙ্গাস নই।

ইউমেটাজোয়া- আমাদের সাবকিংডম ইউমেটাজোয়া। আমরাদের এম্ব্রিওনিক ডেভেলপমেন্টের সময় টিস্যু একাধিক জার্ম লেয়ারে বিভক্ত হয়। আমরা পরিফেরা বা স্পঞ্জ নই, যাদের জার্ম লেয়ার মাত্র একটিই।

বাইল্যাটেরিয়া- আমরা বাইল্যাটেরিয়া, যার বডি-প্ল্যান বাইল্যাটেরালি সিমেট্রিক, অর্থাৎ, আমাদের মুখ ও পায়ু দ্বা্রা নির্ধারিত সম্মুখভাগ ও পশ্চাদভাগ আছে এবং বুক ও পিঠ দ্বা্রা নির্ধারিত উর্ধ্বভাগ ও অধঃভাগ আছে। আমরা স্নিডারিয়া বা স্টেনোফোরা বা জেলীফিশ নই।

সেলোমাটা- আমরা কোয়েলোমাটা। অর্থাৎ, আমাদের কোয়েল বা বডি-ক্যাভিটি আছে যা কিনা ধারণ করে পাকস্থলি, ফুসফুস ও অন্যান্য ইন্টার্নাল অর্গানসমুহ। আমরা প্লাটিহেলমিলথেস বা চ্যাপ্টাকৃমি ও ফিতাকৃ্মি নই।

ডিউটেরোস্টোমিয়া- আমদের সুপারফাইলাম ডিউটেরোস্টোমিয়া এম্ব্রিওনিক ডেভেলপমেন্টে সময় যার বডি ক্যাভিটির প্রথম ডেভেলপ হওয়া ওপেনিং হয় পায়ু। আমরা প্রটোস্টোমিয়া যেমন শামুক, ঝিনুক ও অন্যান্য মোলাস্ক নই যাদের প্রথম ওপেনিং হয় মুখ।

কর্ডাটা- আমাদের ক্লাস কর্ডাটা এম্ব্রিওনিক ডেভেলপমেন্টের যে কোন পর্যায়ে যার নটোকর্ড থাকে। নটোকর্ড মুলত কার্টিলেজ দ্বারা গঠিত একটি শক্ত রড যা শরীরের অভ্যন্তরে লম্বালম্বিভাবে ডেভেলপ হয়, এই নটোকর্ডই পরে আমাদের মেরুদন্ডে রুপান্তরিত হয়। আমরা একাইনোডার্মাটা বা স্টারফিশ নই।

ক্র্যানিয়াটা- আমরা ক্র্যানিয়াটা যার মগজ ক্র্যানিয়াম বা খুলীতে আবদ্ধ থাকে; হার্ট, লোহিত রক্তকনিকা, হেমোগ্লোবিন নামক হেম গ্রুপ সম্বৃদ্ধ গ্লোবুলার প্রোটিন নিয়ে সংগঠিত কার্ডিওভ্যাস্কুলার সিস্টেম থাকে।

ভার্টিব্রাটা- আমাদের সাবফাইলাম ভার্টিব্রাটা, আমরা হাঁড় দ্বারা গঠিত মেরুদন্ডী ক্র্যানিয়াটা। আমরা হ্যাগফিশদের মত খুলী সম্বৃদ্ধ কিন্তু মেরুদন্ডবিহীন মিক্সিনি নই।

ন্যাথোস্টোমাটা- আমাদের ইনফ্রাফাইলাম ন্যাথোস্টোমাটা। আমাদের চোঁয়াল আছে। আমরা ল্যাম্প্রিস বা অন্যান্য হাইপারোআর্সিয়ার মত চোঁয়ালবিহীন মাছ নই।

টেলিওস্টোমি- আমরা টেলিওস্টোমি যার একজোড়া রেস্পাইরেটরি ওপেনিং আছে, যেমন ম্যামালদের ক্ষেত্রে একজোড়া নাকের ছিদ্র এবং মাছের ক্ষেত্রে একজোড়া ফুলকা ইত্যাদি আমরা হাঙ্গর বা অন্যান্য কনড্রিকথাইস নই যার কিনা ৫-৭ জোড়া ফুলকা আছে।

ইউটেলিয়োস্টোমি- আমরা ইউটেলিয়োস্টোমি যার কঙ্কাল হাঁড় দ্বারা গঠিত। আবারও আমরা হাঙ্গর বা অন্যান্য কনড্রিকথাইস নই যার কঙ্কাল কার্টিলেজ দ্বারা গঠিত।

সার্কপ্টেরিজি- আমরা সার্কপ্টেরিজি যার আছে একজোড়া মাংসল লোবড্‌ পেয়ার্ড্‌ পাখা যা একটি মাত্র হাঁড় দ্বা্রা শরীরের সাথে সংযুক্ত, টেট্রাপডা সুপারক্লাসে এই পাখাদ্বয়ই পায়ে পরিবর্তিত হয়। আমরা ইলিশ মাছ বা অন্যান্য মাছের মত অ্যাক্টিনপ্টেরিজি নই যার পাখা রেই ফিনড্‌ বা কাঁটা বা হাঁড় দ্বা্রা গঠিত। নীচের ছবিতে সিলোক্যান্ট ও ইলিশমাছের পাখা দেখুন।

clupeailisha

টেট্রাপডা- আমাদের সুপারক্লাস টেট্রাপডা যার চারটি লিম্ব আছে এবং যা ডেভেলপ করেছে বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা। আমরা সিলোকান্টিমর্ফা যেমন ল্যাটিমার মাছ বা ডিপ্নোই যেমন সিং, মাগুর মাছ নই (যদিও সিং,মাগুর মাছ লাংফিশ যা বাতাসে শ্বাস নিতে পারে।)

অ্যামনিওটা- আমরা অ্যামনিওটা যার ডিম শক্ত খোলশ দ্বারা আবৃত অর্থাৎ যা মাটিতে ডিম পাড়তে সক্ষম। আমরা ব্যাঙ্গ বা অন্যান্য অ্যাম্ফিবিয়া নই যাকে কিনা ডীম পাড়ার জন্য জলে যেতে হয় যেহেতু তার ডিম শক্ত খোলশ দ্বারা আবৃত নয়।

ম্যামালিয়া- আমাদের ক্লাস ম্যামালিয়া। আমাদের মেয়েদের ম্যামারি গ্ল্যান্ড আছে (হুম্‌ম্‌ সম্ভবত এই অঙ্গটাকে নিয়ে পুরুষদের বিভিন্ন ফ্যান্টাসিও আছে।), চুল বা লোম আছে এবং মস্তিষ্কের নিওকর্টেক্স রিজিয়ন আছে। আমরা সওরাপ্সিড বা সরীষৃ্প নই।

থেরিয়া- আমাদের সাবক্লাস থেরিয়া যা কিনা ডিম পাড়ে না বরং গর্ভে বাচ্চা ধারণ করে। আমরা প্লাটিপ্লাসের মত প্রটোথেরিয়া নই যা শিশুকে স্তন্যপান করালেও ডিম পাড়ে।

ইউথেরিয়া- আমাদের ইনফ্রাক্লাস ইউথেরিয়া যার কিনা প্লাসেন্টা (এটা ইউটেরাল ওয়াল ও ফেটাসের মধ্যবর্তী মাংশল অর্গান যা ভ্রুনের বর্জ্য গ্রহন করে ও ভ্রুনকে পুষ্টি প্রদান করে) আছে। আমরা ক্যাঙ্গারু বা অন্যান্য মার্সুপিয়ালের মত মেটাথেরিয়া নই যা কিনা তলপেটে থাকা পাউচে বাচ্চা ধারণ করে।

ইউআর্কন্টোগ্লাইর্স- আমাদের সুপারঅর্ডার ইউআর্কন্টোগ্লাইর্স যা নির্ধারিত হয়েছে মর্ফোলজির ভিত্তিতে নয় বরং মলিকিউলার বায়োলজির ভিত্তিতে, জেনমে থাকা রেট্রোট্রান্সপোজনের অবস্থানের ভিত্তিতে (এটা এখানে আলোচনা করা সম্ভব না, উইকি দেখুন আরও দেখুন transposons, erv, sINE, Line, polymorphism, snp, dna fingerprinting)। আমরা কুকুর, বেড়াল, তিমি মাছ, বাদুরের মত লওরাসিয়াথেরিয়া নই।

প্রাইমেট- আমাদের অর্ডার প্রাইমেট। এর আছে কলার বোন বা ক্ল্যাভিকল, সামনের দিকে পাশাপাশি দুটি চোখ, পেন্ডুলার পিনেস ও টেস্টস, অপেক্ষাকৃত বেশী ব্রেইন টু বডি ম্যাস রেইসিয়ো এবং বুদ্ধিমত্তা (and a highly social lifestyle, এটা মর্ফোলজি নয় যদিও)। আমরা ইঁদুর (রডেন্সিয়া) বা খরগোশের (ল্যাগোমর্ফা) মত গ্লায়ার্স নই।

হ্যাপ্লোরিনি- আমাদের সাবঅর্ডার যার প্রাইমারি সেন্স দৃষ্টি, ভাইটামিন সি বায়োসিনথেসিস করতে পারে না, কেনাইন টিথ নেই। আমরা স্টেপ্সিরিনি বা মাদাগাস্কার বানর নই যার প্রাইমারি সেন্স গন্ধ, ভাইটামিন সি বায়োসিনথেসিস করতে পারে এবং কেনাইন টিথ আছে।

সিমিফর্মেস- আমাদের ইনফ্রাঅর্ডার সিমিফর্মেস যা কিনা আকারে টার্সিমিফর্মেস বা টার্সিয়ার বানর অপেক্ষা বড় কিন্তু চোখের আকার টার্সিয়ার অপেক্ষা ছোট। টার্সিয়ারের ছবি দেখুন http://en.wikipedia.org/wiki/Tarsiiformes

ক্যাটারিনি- আমাদের পার্ভাঅর্ডার ক্যাটারিনি যার নাক নীচ দিকে এবং লেজকে হাতের মত ব্যাবহার করতে পারে না আমরা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাসরত নিউ ওয়ার্ল্ড মাঙ্কি বা প্ল্যাটিরিনি নই যার নাক সামনাসামনি ও লেজকে হাতের মত ব্যাবহার করতে পারে।

হোমিনইডিয়া-আমাদের সুপারফ্যামিলি, এদের বলা হয় এইপ। গঠিত গ্রেইট এইপ ও লেসার এইপদের নিয়ে। আমরা রেসাস বানর ও অন্যান্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড মাঙ্কিদের মত সার্কোপিথেসোইডিয়া নই।

হোমিনিডাই- আমাদের ফ্যামিলি, এদের বলা হয় গ্রেইট এইপ বা হোমিনিড। গঠিত মানুষ, শিম্পাঙ্গী, গরিলা ও ওরাঙওটাঙদের নিয়ে। আমরা গিবনদের মত হাইলোবেটাইডাই বা লেসার এইপ নই।

হোমিনিনাই- আমাদের সাবফ্যামিলি। গঠিত মানুষ, গোরিলা, শিম্পাঙ্গী এবং এদের এক্সটিঙ্কট অ্যান্সেস্টর যেমন অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যাফেরেন্সিস, ওরোরিন টিউজেনেন্সিস, স্যালেন্ট্রোপাস সাডেনসিস এদের নিয়ে। আমরা ওরাঙওটাঙ ও এর অ্যান্সেস্টর যেমন সিভাপিথেকাস, লুফেঙপিথেকাস, আঙ্কারাপিথেকাসদের মত পঞ্জীনাই নই।

হোমিনিনি- আমাদের ট্রাইব, গঠিত মানুষ, শিম্পাঙ্গী ও এদের অ্যান্সেস্টরদের নিয়ে। আমরা গোরিলিনি নই। হোমিনিনি ট্রাইবের দুটি সাবট্রাইবও আছে প্যানিনা যা ধারণ করে শিম্পাঙ্গী ও এদের অ্যান্সেস্টর এবং হোমিনিনা যা ধারণ করে মানুষ ও এর অ্যান্সেস্টরদের। সাবট্রাইব সবসময় উল্লেখ হয় না, উইকিপিডিয়াতে এইমাত্র দেখলাম এর আগে এর কথা আমি জানতাম না।

হোমো- আমাদের জেনাস যার একমাত্র এক্সটেন্ট স্পিসিস আমরাই। আরো ছিল হোমো রুডলফেন্সিস, হোমো অ্যান্টেসেসর, হোমো ন্যান্ডারট্যালেন্সিস, হোমো ফ্লোরেন্সিয়ান ইত্যাদি ইত্যাদি।

স্যাপিইয়েন্স- আমরা স্যাপিইয়েন্স স্পিসিসের অন্তর্ভুক্ত যা ধারণ করে দুটি সাবস্পেসিস হোমো স্যাপিইয়েন্স স্যাপিইয়েন্স এবং হোমো স্যাপিইয়েন্স ইডাল্টু। এর মধ্যে হোমো স্যাপিইয়েন্স স্যাপিইয়েন্স বা আমরাই শুধু এক্সটেন্ট। জীবজগতের সবচেয়ে বেশী ব্রেইন টু বডি ম্যাস রেইসিও ২.১%, একটি অন্যতম সাকসেসফুল ম্যামাল মেরু ছাড়া আর বাদবাকী পুরো পৃথিবীতেই এরা আছে যেহেতু এরা সুপার অর্গানিজম বা সাধারণ ইভল্যুশনারি ফোর্স থেকে মুক্ত, বাঘ, সিংহের মত এরা অ্যাপেক্স প্রিডেইটরও অর্থাৎ অন্য কোন অর্গানিজমের প্রিডেইশন এর উপর কোন সিলেক্সন প্রেসার ফেলতে পারে না। (who are also sequencing the genome of itselves and other organisms আমি জানি এটা মর্ফোলজি না)।

একটা জিনিষ আমাকে খুব বেদনা দেয় যে, মানুষ বা বায়োলজিকালি অন্যতম সফল ম্যামাল হিসেবে বায়োলজির ইতিহাসে আমরা একটি শোচনীয় দুর্ণাম কামিয়েছি, এটা বোধহয় সুপার অর্গানিজম অ্যাপেক্স প্রিডেইটর হওয়ার অভিশাপ। আমরা বায়োডাইভার্সিটির সবচেয়ে বেশী সংখ্যক প্রজাতি বিলুপ্ত করার জন্য দায়ী। আমাদের কাছের আত্নীয় হোমো নেন্ডারটেলেন্সিস কে পটেনশিয়াল কম্পিটিটর ভেবে আমরা বিলুপ্ত করে দেই আজ থেকে ২০,০০০ বছর আগে, শিকার করে করে চিতাবাঘের পপুলেইশন বটলনেক ঘটিয়ে বিলুপ্তির পথে তাকে ঠেলে দিয়েছি, বর্তমানে চিতা সবচেয়ে স্বল্প জেনেটিক ডাইভার্সিটি সম্পন্ন প্রানী, শিকার করে করে হাঙ্গরের কনজার্ভেইশন স্ট্যাটাস বানিয়েছি “থ্রেটেন্ড”, এমন খুব অল্প পটেনশিয়াল প্রিডেটারই আছে মেরে মেরে যা কিনা আমরা বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছি না, সিংহ, বাঘ, কুমিরের প্রজাতিগুলো কোনটার কনজার্ভেইশন স্ট্যাটাস অন্তত “কনসার্ন্ড” নয় দয়া করে আপনারা উইকিপিডিয়া দেখে নিন, অন্যান্য সকল জেনাসে স্পিসিস আছে একাধিক আর আমাদের হোমো জেনাসে এক্সটেন্ট স্পিসিসের সংখ্যা মাত্র একটি হওয়াই কি প্রমান করে না কাছাকাছি অন্যান্য স্পিসিসগুলোকে সভ্যতা শুরুর আগে প্রকৃ্তির অন্যতম দান পটেনশিয়াল কম্পিটিটরের প্রতি শত্রুমনোভাব আর ২.১% ব্রেইন টু বডি-ম্যাস রেইশিয়ো ব্যাবহার করে আমরা কিভাবে বিলুপ্ত করে দিয়েছি? প্রকৃতি মিলিয়ন মিলিয়ন বছর সময় নিয়ে যা বানিয়েছে অল্প কয়েক দশকে আমরা তা বিলুপ্ত করে দিয়েছি, কতটা পাষন্ড আমরা? তবে, আশার বিষয় হচ্ছে, কনজার্ভেইশন বর্তমানে উন্নত বিশ্বের অন্যতম প্রধান কনসার্ন, ইংল্যান্ডের প্রটেকশন অফ বার্ডস অ্যাক্ট যার অধীনে যে কোন কারণে যে কোন পাখি মারলে আপনি জেলেও যেতে পারেন, প্রটেকশন অফ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাক্ট ইত্যাদি নিশ্চিত করছে কনজার্ভেইশন, এছাড়াও বিভিন্ন অ্যানিম্যাল রাইটস গ্রুপগুলোও ততপর হচ্ছে যা কিনা একটি আশাপ্রদ সংবাদ। আমরা আমাদের বিবর্তনের ইতিহাসে কিছু নেক্কারজনক প্রবৃত্তি অর্জন করি, যেমন বহিরাগতের প্রতি অবন্ধুসুলভ মনোভাব, টেরিটরি রক্ষার নিমিত্তে রক্তপাতে প্রবৃত্ত হওয়া, টেরিটরি বাড়িয়ে যাওয়ার জন্য যুদ্ধে প্রবৃত্ত হওয়া, নিজের সারভাইবলের জন্য করা অর্জনসমুহ অন্যান্য সমষ্টিগত উপকারী লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে এমনকি অপরের প্রাণরক্ষার খাতিরেও ত্যাগ করতে দ্বিধাবোধ, পটেনশিয়াল কম্পেটিটর নিজের সার্ভাইবলের হুমকি না হলেও তাকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার প্রচেষ্টা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর বিরুদ্ধে হয়তো তর্ক করা যাবে, ওয়েল, বিহেইভিওরাল বায়োলজিতো বলছে এগুলো অন্যান্য সকল প্রাণীর মধ্যেই বিদ্যমান, আর প্রাকৃতিক নির্বাচনই তো এটা নির্বাচিত করেছে। আমি বলবো, প্রাকৃতিক নির্বাচনতো আরও নির্বাচিত করেছে রোগ-শোক, মৃত্যু, জ্বরা-ব্যাধি, হ্যান্ডিক্যাপড জন্ম নেওয়া শিশু ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা কি এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছি না? সুপার অর্গানিজমের সংজ্ঞাইতো “অর্গানিজম যা ইভল্যুশনারি ফোর্সের আওতায় না পড়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে পার্শিয়ালি।” এখন যদি হঠাৎ আরেকটি আইস এইজ শুর হয়, তারপরও মানুষ বেঁচে থাকবে পোলার ভাল্লুকের মত চামড়ার নীচে ফ্যাটের পুরু স্তর তৈরীর ম্যুটেইশনের জন্য অপেক্ষা না করেই, কেননা আমাদের আছে হিটিং সিস্টেম। প্রকৃতিকে জয় করেছি বলেই আমরা সুপার অর্গানিজম, প্রকৃ্তি আমাদের যেই পাশবিক প্রবৃত্তিগুলো দিয়েছে তাও যেন আমরা খুব তাড়াতাড়ি জয় করতে পারি।

২,২৭৯ বার দেখা হয়েছে

১৮ টি মন্তব্য : “মানুষ”

  1. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    প্রচুর অপরিচিত শব্দ থাকায় প্রথম অংশটা বেশ কঠিন মনে হলো।

    কিন্তু শেষের দিকে "একটা জিনিষ আমাকে খুব বেদনা দেয়"- এইখান থেকে বাকিটা ভালো লেগেছে, খুবই। :thumbup:


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
    • জুবায়ের অর্ণব (৯৮-০৪)

      মাহমুদ ভাই আপনার আমাকে নিয়ে লেখা পোস্টটাতে আমি কয়েকটা বড়ো বড়ো কমেন্ট করছি, যা নিয়ে আমার দ্বিমত ছিল। কষ্ট করে একটু দেইখেন আর জানায়েন আমার যুক্তিগুলা আপনার কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হইছে কিনা।

      জবাব দিন
      • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
        কষ্ট করে একটু দেইখেন

        ধূরর মিয়া, কষ্ট কিসের? আমি ত বেশ আগ্রহ নিয়াই পড়ি তোমার পোষ্টগুলো। তবে এটা ঠিক যে, আমার পাঠের আওতার বাইরের বিষয়গুলো বুঝতে সময় লাগে, কতগুলো বুঝিও না। কিন্তু তোমার পোষ্টে চিন্তার নতুনত্ব আমাকে মুগ্ধ করে।

        উত্তর দিছি তোমার কমেন্টগুলার। 🙂


        There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

        জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    আশা করছি, আরেকটু সময় করে পড়বো তোমার এই লেখাটা।
    একটানে একটু দেখে নেয়ার পর যা বলা যায় তা হচ্ছে,
    তোমার শেষ বাক্যটি আমার খুব পছন্দ হয়েছে। পছন্ড হয়েছে প্রস্তবনাটিও।

    আরেকটি কথা: শূকরের ইনসুলিনের পাশাপাশি আমরা গরুর ইনসুলিনও ব্যবহার করেছি একটা সময়। তবে এখন ব্যবহার করছি recombinant human insulin, তাও অনেকদিন হয়ে গেলো।

    কিছুকিছু শব্দের বাংলা তুমি প্রয়োগ করতে পারো ধীরে ধীরে।
    একটা উদাহরণ:

    অবজার্ভেইবল

    = পর্যবেক্ষণযোগ্য।

    জবাব দিন
    • জুবায়ের অর্ণব (৯৮-০৪)

      গরুর ইনসুলিনের ব্যাপারটা জানতাম না। 😛 ধন্যাবাদ।

      আর আপিনি বাংলা শব্দ ব্যাবহার সম্পর্কে যা বললেন এটা ভাবনার খোরাক জোগায়। আমি এখনি সম্পাদনা করছি এই প্রবন্ধ। আর যেটার যেটার বাংলা আমি করতে পরবো না আপনি/আপনারা দয়া করে দেখিয়ে দিবেন এটার বাংলা প্রতিশব্দ কি হতে পারতো। ধন্যবাদ।

      জবাব দিন
  3. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    আমি দাবি করবো না যে পুরোপুরি বুঝতে পেরেছি, তবে ইন্টেরেস্টিং লাগলো। যদি একেবারে গোটাটা না দিয়ে, টপিক গুলোকে আলাদা আলাদা করে সিরিজ হিসেবে পোস্ট করতে এবং কিছু ছবি, এই যেমন, লিনিয়ান ট্যাক্সোনমি এবং মডার্ন ফাইলোজেনির ব্যাপারটা বোঝানোর জন্য যদি আলাদা ছবি দিতে পারতে, তাহলে ব্যাপারটা ভিসুয়ালাইজ করা সহজ হত।

    জবাব দিন
    • জুবায়ের অর্ণব (৯৮-০৪)

      আসলে ছবি দেয়া উচিত আমি বুঝি, কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে এটা করতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন, আমি মুলত এক বা দুই দসায় একটা লেখা নামানোর চেষ্টা করি, তারপরও সব্জিনিষ মনে থাকেনা অন্যান্য রেফরেন্স দেখতে হয়। আমার লেখা মানুষ বুঝতে না পারলে লেখাটা আসলেই বৃথা, আমার বিশ্বাস ছিল যেটা প্রথমবার জটিল মনে হয়, দুই-তিনবার পড়োলে তা সহজ হয়ে যাওয়ার কথা, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি কেমিস্ট্রি, বায়োলজি এভাবেই কাজ করে, আর আমি পোস্ট লিখি এটা মাথায় রেখে যে বেশীরভাগই হয়তো এটা পড়বে না আর যারা আগ্রহান্বিত তারা কয়াকবারই পড়বে বুঝার জন্য। দয়া করে জানাবেন তো লেখা কি এমন হচ্ছে যে কিছুতেই বোঝা জাচ্ছে না, নাকি এমন যে তথ্যের ঘনত্ব বেশী হওয়ার কারণে প্রথমবার একটু জটিল মনে হলেও কয়েকবার পড়লে সহজ হয়ে আসছে? প্রথমটাই যদি হয় তাহলেতো আমাকে সবকিছু আগাগোড়াই পরিবর্তন করতে হবে।

      জবাব দিন
      • মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

        অবশ্যই কয়েকবার পড়লে ব্যাপারটা বোঝা যায়। তারপরেও যদি অপরিস্কার থাকে, সহজেই গুগল থেকে আরও বিস্তারিত জানা যায়। আমি ছোট ছোট চ্যাপ্টার বা ছবির কথা বলেছিলাম দুটো কারনে।
        প্রথমত, আমরা যারা এই সব বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত না, তারা তাড়াতাড়ি এবং আরো সহজে ব্যাপারটা বুঝতে পারবো।
        দ্বিতীয়ত, যারা রিলেটেড বিষয়ে লেখাপড়া করছে, তারা এই লেখাকে রেফারেন্স বা নোট বা কমপক্ষে, জানার শুরু হিসেবে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে।

        তুমি যে চিন্তা করে লিখেছ, সে অনুযায়ি তোমার স্টাইল ঠিক আছে। কিন্তু আমি পড়ার পরে আমার ওই দুটো পয়েন্ট মনে এসেছিলো। 🙂

        জবাব দিন
  4. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    বায়োলজি আমার সাবজেক্ট না। তবুও লেখাটা প্রথম দিকে ভালো লঅগছিল। মাঝখানে এসে সব আউলাইয়া ~x( গেছে! শেষ প্যারাটা আবার যথেষ্ট বোধগম্য। তোমার বার্তাটা এখানে স্পষ্ট।

    স্বপ্নচারীর মতো আমারো প্রস্তাব : এতো বড় না লিখে ছোট ছোট করে পোস্ট দাও। পারলে ছবিসহ। তাহলে আমাদের মতো গর্দভদের মাথায় কিছুটা হলেও ঢুকবে! শওকত মাসুম যেমন সহজ ভাষায় অর্থনীতি লিখছে।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  5. সাজিদ (২০০২-২০০৮)

    আপনের স্যাটরিয়ানি পোস্ট কই??? 🙁 🙁
    বায়ুলজি আমি একদমি ভালা পাইনা, আম্মা খুব জোর করসিল কিনতু আমি এসএসসি, ইন্টার কোনটাতেই নিই নাই, তাই লেখাটা পড়ি নাই 😛
    স্যাটরিয়ানি পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম......

    জবাব দিন
  6. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    বায়োলজি পড়েছি :(( তাই অনেক কিছু নতুন করে মনে পড়লো। অর্ণবের আগের লেখাগুলোর মতোই ব্যাপক তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। মইনুলের সাথে একমত ছবি এবং ডায়াগ্রামের ব্যাপারে। তাহলে আরো ফলপ্রসু হতো উদ্দেশ্যটা। তবে এখোনো যেভাবে লিখেছো সেটিও নিঃসন্দেহে সাধুবাদযোগ্য :clap:
    টার্মিনলজি ছাড়া ইংরেজির ব্যবহার আরেকটু বাংলা দিয়ে আয়ত্ত্বে নিয়ে আসলে লেখাগুলো উৎকর্ষের শীর্ষে উঠে যাবে নিশ্চিত।
    অর্ণবকে অনেক ধন্যবাদ। অনেক কিছু শিখছি লেখাগুলো থেকে :hatsoff:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।