ইহাই কি ছাত্র রাজনীতি ?

খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয় । তখন আমাদের ৪র্থ সেমিস্টার ফাইনাল চলছে । সেমিস্টার ফাইনাল এর ৪র্থ পরীক্ষা শেষ করে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে বিকেলে একটি দোকানে নাস্তা করতে গিয়েছি ।প্রচণ্ড গরম । আমরা কয়েকজন মিলে একটা বড় টেবিলে বসেছি । আমরা যেখানে বসেছি সেখানে ফ্যান আছে । ওই বড় টেবিলে আরও ৩-৪ টি চেয়ার ফাঁকা আছে । কিন্তু ওইখানে কোন ফ্যান নাই । তো আমরা কয়েকজন মিলে নাস্তা শুরু করে দিয়েছি । ঠিক সেই মুহূর্তে ওই দোকানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর এক রাজনৈতিক নেতার প্রবেশ । (পাঠক কিভাবে বুঝলাম ওই লোকটি একজন রাজনৈতিক নেতা তা একটু পড়ে বুঝতে পারবেন )

ওই লোকটি আমাদের টেবিলের সামনে আসলেন ।ওই লোকটার সাথে আরও ২ জন লোক ছিল । যে চেয়ার গুলো ফাঁকা ছিল ওই চেয়ার গুলোতে উনি আমাদের কয়েকজন কে বসতে বললেন ।তার মানে তিনি পরে এসে ফ্যান এর নিচে বসতে চাইলেন ।

~~ আমাদের এক বন্ধু তখন ওই লোকটাকে খুব ভদ্রভাবে বললেন , ভাই আমরা তো আগে আসছি আর আপনারা পরে আসছেন । আপনারা গিয়ে ওই চেয়ার গুলোতে বসুন না ।

~~ ওই লোকটি বলে:ওই ছেলে চুপ । তোমার বাসা কোথায় ?

~~ ভাইয়া আমার বাসা রংপুর ।

~~ এই খানে কোথায় পড়াশুনা করা হয় ?

~~ ভাইয়া রুয়েটে ।

~~শোন তোমার রুয়েটে যেসব বড় বড় নেতারা আছে না সবাই আমাকে দেখলে সালাম দেয় বুঝছ? আর বেশি কথা বলবানা । বেশি কথা বললে হাত পা ভেঙ্গে রংপুরে পাঠিয়ে দিয়ে আসব বুঝছ ?

এই কথা শুনার পর আমরা ৩ জন ফ্যান এর নিচ থেকে জায়গা ছেড়ে দেই । ওই ৩ জন লোক পরে ওইখানে যেয়ে বসে ।

তা চেয়ারে বসার ওই লোকটির বিভিন্ন কার্যকলাপের একটু বর্ণনা দেইঃ

~~বিশাল জোড়ে দোকানের লোককে হাক দিলেন –এই আমাদের নুডলস দিয়ে যাতো ।

~~দোকানের ওই লোকটা এসে বললেন ভাই নুডলস শেষ ।

~~তোর দোকানে যতবারই আসি ততবারি নুডলস শেষ থাকে । আমাদের জন্য নুডলস রেখে দিতে পারিস না ।যা অন্য কিছু নিয়ে আয় ।

এরপর দোকানের ওই লোকটি ওই লোকটার জন্য অন্য খাবার নিয়ে আসে ।

এর পর খাবারের মধ্যে ওই লোকটার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে বিভিন্ন লোক এর কাছে । কথা বার্তা আর ভাব শাবে একধরনের রাজকীয় হাল ।

আমরা খাবার শেষ করে ওইখান থেকে যেতে পারলে বাঁচি ।তো সবার খাওয়া শেষ । আমার খাওয়া একটু বাকি আছে । একজন আমাকে বলল , তুই খাবার শেষ করে আয় । আমরা বাইরে অপেক্ষা করছি ।

আমাদের বন্ধুদের ভিতর একজন হুজুর বন্ধু ছিল । সে ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ে । জোব্বা পড়ে । কিন্তু কোন রকমের রাজনীতি করে না ।

আমি যখন খাবারের টেবিলে একা তখন ওই রাজনৈতিক নেতা বলছে যে, আজকাল হুজুর দেখলেই মনে হয় শিবির । আর মনে হয় ধরে কোপাই ।

আমি আমার খাওয়া তাড়াতাড়ি শেষ করে ওই খান থেকে চলে আসলাম।কিছুক্ষণ পর ওই লোকটাকে দেখলাম মোটরসাইকেল নিয়ে ভো করে চলে গেলো ।

পাঠক ওই লোকটাকে অনেক কিছুই বলতে চেয়েছিলাম ।কিন্তু ভয়ে বলতে পারিনি ।

ওই লোকটি যখন আমার বন্ধুকে বলল ,”শোন তোমার রুয়েটে যেসব বড় বড় নেতারা আছে না সবাই আমাকে দেখলে সালাম দেয় বুঝছ”, তখন ওই লোকটাকে আমি বলতে চেয়েছিলাম যে ভাইয়া ওই সালামের ভিতর নেই কোন সম্মান, নেই কোন ভালবাসা । ওটা তো আপনাকে দেখে ওরা ভয়ে সালাম দেয় ।

ওই লোকটি যখন আমার বন্ধুকে বলল,”বেশি কথা বললে হাত পা ভেঙ্গে রংপুরে পাঠিয়ে দিয়ে আসব বুঝছ ?” তখন বলতে চেয়েছিলাম আমরা আপনাদের অতিথি ।অতিথির সাথে আপনি যেরকম ব্যবহার করছেন তা থেকে এ কথা স্পষ্ট বুঝা যায় যে বাসায় আপনার কোন অতিথি আসলে আপনি তার সাথে কেমন ব্যবহার করেন ।

ওই লোকটি যখন বলল , “হুজুর দেখলেই মনে হয় শিবির । আর মনে হয় ধরে কোপাই ।” তখন ওই লোকটাকে বলতে চেয়েছিলাম যে আপনার ধারনার খুব প্রশংসা করতে হয় । একটা লোক নিয়মিত নামাজ আদায় করে , আল্লাহ স্মরণ করলেই কি সে শিবির হয়ে যায় ?তারমানে আপনার পরিবারে কেউ নিয়মিত নামাজ আদায় করলে,আল্লাহ স্মরণ করলেই সে শিবির হয়ে যাবে ?তখন কি আপনি তাকে কোপাবেন ?

আজকাল ছাত্ররাজনীতির অর্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে আধিপত্য বিস্তার করা ।গঠনমূলক কাজ খুব কমই হয় ।নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির আধিপত্য তো আর কম দেখি না । ওই সব বিষয় বলতে গেলে ২-৩ তা ব্লগ লেখা হয়ে যাবে । কিন্তু সেই সব বিষয়ে আর বলতে চাই না ।অনেক খারাপ রেজাল্ট করেও রাজনীতির জোড়ে অনেকে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষক হচ্ছে ।

এ দেশের ছাত্ররাজনীতি জাতি গঠনে ঠিক কতটুকু ভূমিকা পালন করছে এইটাই আমার কাছে একটা বড় প্রশ্ন ।

 

 

 

 

৭৪৫ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “ইহাই কি ছাত্র রাজনীতি ?”

  1. রেজা শাওন (০১-০৭)

    ঢাবির গেস্টরুমে কিছু ঘটনা হয়। বলা হয় ঘটনাগুলো রাজনৈতিক। আসলে এগুলো হচ্ছে সিভিয়ার লেভেলের বাচ্চা পোলাপানের কাজ। এই মনে কর, ফার্স্ট ইয়ারের আবাসিক ছাত্ররা সন্ধ্যাকালে লাইন ধরে গেস্টরুমে দাঁড়াবে। ভাই ঢুকবে, সবাই সালাম দিবে। এর পর সবার আমলনামা পাঠ। কেউ সালাম দিল না, অথবা মিছিল-টিছিলে না যাওয়া এই সব অপরাধের বিচার হয়।

    মজার জিনিষ আসলে। এইগুলো কলেজে ক্লাস সেভেনের সাথে এইটের পোলাপান করে। বিশ্ববিদ্যালয়য়ে গিয়ে পুনারায় "ক্লাস এইট" পেয়ে খুব আনন্দ পাইছিলাম আসলে।

    আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা নেতা খুঁজি। ভাল একজন নেতার আশায় উপরে দুই হাত তুলে বসে আছি। আমার তো মনে হয়, পরিবর্তনের জন্য নেতার দরকার নাই। যার যার জায়গায় সে তার কাজটুকু করতে পারলেই সে নেতা। (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
    • শরিফ (০৩-০৯)

      হ্যাঁ ভাই আপনার কথা ঠিক আছে । কিন্তু বর্তমান ছাত্ররাজনীতির রাজনৈতিক নেতাদের আধিপত্য যে বিরাজমান এই কথা মানতেই হবে । নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সব ঘটনা দেখছি যারা প্রত্যক্ষ ভাবে ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত । আপনাকে একদিন ব্যক্তিগত ভাবে সব বলব । এই গুলো প্রকাশ্যে আলোচনা করতেও ভয় করে

      আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা নেতা খুঁজি। ভাল একজন নেতার আশায় উপরে দুই হাত তুলে বসে আছি। আমার তো মনে হয়, পরিবর্তনের জন্য নেতার দরকার নাই। যার যার জায়গায় সে তার কাজটুকু করতে পারলেই সে নেতা।

      আপনার কথাটা সুন্দর কিন্তু একটু দ্বিমত আছে । নেতার দরকার আছে তবে নেতাকে অবশ্যই সমাজ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে , মানুষের দুঃখ কষ্ট বুঝতে হবে , মানুষের বিপদে এগিয়ে আসতে হবে ।যার কথায় মানুষের কাজ করার স্পৃহা জাগবে । এই যেমন ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন নেতার দরকার ছিল । সেই নেতা কিন্তু জাতি পেয়েছিল এবং যার ডাকে মুক্তিযুদ্ধে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ।

      জবাব দিন
  2. জাহিদ (২০০০-২০০৬)

    এখন আর কেউ আদর্শের রাজনীতি করে না। সবাই চায় একটু দাপট খাটায়ে চলতে...আমার মতে মোটামুটি ক্লাস নাইন টেন থেকেই রাজনীতির সম্পর্কে একটা ভাল ধারনা গড়ে ওঠা উচিত যাতে করে এইসব ছেলেরা পরবর্তিতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করে আদর্শের রাজনীতি করে...

    জবাব দিন
    • শরিফ (০৩-০৯)
      এখন আর কেউ আদর্শের রাজনীতি করে না। সবাই চায় একটু দাপট খাটায়ে চলতে…আমার মতে মোটামুটি ক্লাস নাইন টেন থেকেই রাজনীতির সম্পর্কে একটা ভাল ধারনা গড়ে ওঠা উচিত যাতে করে এইসব ছেলেরা পরবর্তিতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করে আদর্শের রাজনীতি করে…

      আপনার সাথে পুরোপুরি সহমত হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাই । :thumbup:

      জবাব দিন
  3. নাজমুস সাকিব অনিক (০৩-০৯)

    আমি নিজে চোখে যতটুকু ছাত্র রাজনীতি দেখেছি তার পুরোটাই খুব প্রকটভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থ বহন করে...শরিফুল ইসলাম আশা করি আমার সহপাঠী হওয়ায় আশা করি তুমিও ব্যাপারগুলা জানো...নতুন করে কিছু বলার নাই...

    এসব ছাত্র রাজনীতি নামক বাচ্চা সুপারম্যান হওয়ার শর্টকাট এপ্লাই করতে গিয়ে যেটা করতে আসছে সেটাই করা হয় না শেষ পর্যন্ত....আর এসব নেতাদের দৌড় সবই জানা...ভার্সিটি ক্যাম্পাসে হম্বিতম্বি করে তালাইমারি মোড়ে ভ্যানওয়ালার হাতে মাইর খায়...হাস্যকর...

    জবাব দিন
  4. সুষমা (১৯৯৯-২০০৫)

    ভার্সিটিতে আমার এক ফ্রেন্ড সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট করত। ওকে আর ওর কাজকরম দেখে মনে হত ফ্রন্ট মানে অনেকটা হুজুগে স্পোর্টিং ক্লাব টাইপ। যখনই হলের কোন সমস্যা, বা অন্য কোন সমস্যা, সে সবার আগেই এগিয়ে আসত। এই রাজনীতি করতে গিয়েই কি জানি বছর বছর ল্যাগ খাইত। অবশেষে লাস্ট সেমিস্টারে শুনলাম, সে রাজনীতি ছেড়ে দিসে কারণ, সে যেরকম ভাবত, তা না। এই রাজনৈতিক দলগুলা আসলে নাট্যদল টাইপ। ছাত্রদের দিয়ে সাধারন ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর অভিনয় করায়, কিন্তু শো শেষে টিকিটের টাকাটা পকেটে ভরতে ব্যস্ত থাকে !

    জবাব দিন
  5. ওই তথাকথিত নেতাকে পিটায়ে হাত পা ভেঙে বাড়িতে পাঠানো দরকার। সাধারণ ছাত্রদের সাথে যারা বিনা কারণে খারাপ ব্যবহার করে এরা মানুষের জাতই না...

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।