চিলড্রেন অব হ্যাভেন

<<সাদেক>>

বাসাটায় ঢোকার মুখে আমার পিচ্চি ছাত্রীর মায়ের ফোন এল। এক্ষেত্রে কখনও ফোন ধরি না, কেটে দেই। উনি বোঝেন যে হ্যা, আমি চলে এসেছি। কিন্তু কেন যে ধরেছিলাম, তবে ধরেছিলাম বলে ভালই হয়েছিল। “হ্যা আপা, আমি……” উনি আমার কথা কেড়ে বলেন, “হ্যা সাদেক, তোমাকে তো একটা কথা বলা দরকার ছিল…” কেমন জানি লাগল, “জ্বি আপা, বলেন…।।” উনি একটু থেমে থেকে তারপর বলতে লাগলেন, “আসলে এখন তো স্কুলের টিচার দিয়েই পড়ানোর রেওয়াজ, তাছাড়া টিচারদের মার্কস দেয়ারও একটা ব্যাপার আছে। তাই ভাবতেছি এখন স্কুলের টিচার দিয়েই, মানে…ভাইয়া তুমি কিছু মনে কর না।” মনটা কেমন করে উঠল, বললাম, “আপা, আমি তো তাপসির সিলেবাস প্রায় শেষ করে আনছি আর পরীক্ষাতেও ও ভাল করেছে।” কথা শেষ হতে না হতেই উনি ইতি টানলেন,  “তুমি তো ভালই পড়াও, অন্য টিউশনি পেয়ে যাবা, আর নতুন কোন পড়ানোর খোজ পাইলে তোমাকে জানাব। আর তোমার এই মাসের যে কয়দিন পড়াইছ, তার বেতন নিয়ে যাইও।তুমি কোথায় এখন?” মিথ্যে বললাম, “আচ্ছা আপা আমি তো একটু ব্যাস্ত আছি এখন, আমি তাহলে পরে দেখা করব।”

খুলনার মত শহরে যাদের টিউশনি করে ছাত্রজীবনের দায় টানতে হয়, টিউশনি চলে গেলে যে কি কষ্ট হয় তা শুধু তারা আর বিধাতাই জানেন। তখন মনের যে অবস্থা, তাতে আর ভেতরে যাবার মানসিকতা ছিল না। ডাকবাংলোর মোড় থেকে পূর্বদিকে পিকচার প্যালেস মোড় চিরে সামনে এগোলে হাদিস পার্ক। সোজা আরও কিছু সামনে গেলে রাস্তার ডানে হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন ইন্টারন্যাশনাল, খুলনার একটা অভিজাত হোটেল। হোটেল ওয়েস্টার্ন ইনের ঠিক আগেই লাগোয়া একটা বনেদি বাসা। পাকিস্তানী আমলের মত পুরোন ধাচের একটা দোতলা বাড়ী। মূল গেটের পর একটু ছোট আঙ্গিনা, দুটো প্রাচীন আমগাছ আর একটা সফেদা গাছের শুকনো পাতা যার বুকে ছড়িয়ে থাকে। তারপর নিচতলার প্রথম ঘর। বাসার কর্তা একজন নামজাদা উকিল ছিলেন। এ ঘরটা ছিল তারই চেম্বার। ঢুকতেই ডানপাশে উকিলের টেবিল চেয়ার আর উল্টোদিকে, কিছুটা ভেতরের দিকে তিনটা আলমারি ভর্তি গাদা গাদা আইনের বই, আলমারির আগে চোখে পড়ে কিছু চেয়ার, অপেক্ষমানদের জন্য। মাঝখান দিয়ে এগিয়ে দোতলায় যাবার সিড়ি। দোতলার বসার ঘরে ঢুকলেই সবার আগে চোখে পড়বে, প্রত্যেকটা দেয়ালে বাসার পূর্ব পূরুষদের কিছু পূরোন ছবি, অধিকাংশই বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের বা বিভিন্ন রাজকীয় অনুষ্ঠানের কেতারদুরস্ত ছবি। আরও চোখে পড়ে একপাশে দুটো শো কেস ভর্তি ক্রেস্ট আর দেয়ালে ঝোলান বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পুরস্কারের বাধাই করা সনদ। এ ঘরেই বসে এ বাসার এক পিচ্চিকে পড়াতে হয়। সে বাসায় আজ ঢোকার মুখেই চাকরিটা চলে গেল। টিউশনি যাদের কাছে অক্সিজেনের সমান্তরাল, তারা এটাকে চাকরির মতই দেখে। মূল গেটের লোহার পাল্লাটা একহাতে ধরেছিলাম পর্যন্ত, তারপর সব শেষ। আবার সেই রুদ্ধশ্বাস জীবন যাপন, প্রতিটা মূহুর্তে মাস চলার হিসেব। টাকা বাচাতে সকালে ইচ্ছে করে দেড়িতে উঠে স্বল্প খেয়ে ক্লাসে যাওয়া, বিকেলে পেট ভরে পানি খেয়ে শুয়ে থাকা- এসব গল্প মনে হলেও অনেককে এভাবে ছাত্র জীবন পার করতে হয়, জীবনের দায়ভার তাদের বাধ্য করে। আমিও তাদের মতই একজন। দুইটা টিউশনির বদৌলতে মাস তিনেক খুব ভাল গিয়েছিল। আবার সেই কষ্টের দিন শুরু। উলটো ঘুরে ফেরার পথ ধরলাম। ঐ বাসার দরজার সাথেই একটা এটিএম বুথ। সেটা চোখে পড়তেই মনে পড়ল এমাসে আর কিছু টাকা জমলেই বেসরকারি ব্যাঙ্কে একটা অ্যাকাউন্ট খোলার পরিকল্পনা ছিল, ভেস্তে গেল। এটিএম বুথের দারোয়ান দেখি আমার দিকে চেয়ে আছে, বুঝলাম যে আনমনা হয়ে আমি বুথটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, তাই সে ভেবেছে টাকা তুলতে এসেছি কিনা, সে অবশ্য আমাকে প্রায় দিনই দেখে। ফুটপাথ ধরে ফিরতে থাকি। বামপাশের দোকানগু্লোর মধ্যে একটা খাবার দোকান আছে যেটাকে আমরা ফার্স্টফুড শপ বলি। এমাসে বেতন পেলে সেখানে সাস লিক বলে কী নাকি একটা খাবার আছে, সেটা খেয়ে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল, এখন আমি নিরুপায়। দোকানটা পেরিয়ে যাবার সময় পেটে মোচড় দিয়ে উঠল। উলটো পালটা ভাবতে ভাবতে ডানে হাদিস পার্ক পেরিয়ে ফিরে আসছি, হাটতে হাটতে একসময় চলে আসলাম পিকচার প্যালেসের মোড়। এখানে  রাস্তার বামে অনেকগুলো প্রসাধনির দোকান আছে। টিউশনি করে যখন ফিরি, সন্ধ্যার আধার ছাপিয়ে যাওয়া দোকানের উজ্বল আলোয় দেখি  অভিজাত মানুষ আর সুন্দরী নারীরা এসব দোকানের ভেতর প্রসাধনি আর অন্যান্য কেনাকাটা করে, কেনাকাটার সময় কেউ কেউ দোকানদারদের সাথে দামাদামি করতে গিয়ে তর্ক করে, বাইরে ভেসে আসা ভেতরের এসির মৃদু ঠান্ডা হাওয়ায় মিষ্টি গলার সেসব কড়া কথা শুনতে আমার ভালই লাগে। মাঝে মাঝে তরুণীদের দেখতে খারাপ লাগে না।  কখনও জোড়ায় জোড়ায় কপোত কপোতিরা কেনা কাটা করে। একবার আমিও এখান থেকে একটা দামি বডি স্প্রে কিনেছিলাম, পরে বুঝেছিলাম যে আমার এসব কেনা সাজে না। আসা যাওয়ার পথে প্রতিবারই ভাবি, একদিন নিশ্চই এই কষ্টের দিন ফুরিয়ে যাবে। সেদিন যে মেয়েটি আমার জীবনে আসবে, তাকে নিয়ে একদিন খুলনা শহরে আসলে, এখানে নিয়ে আসব। এই জায়গাটা দেখিয়ে বলব আমার এসময়ের ভাবনাগুলো- “কেউ ছিল না, আর কেউ থাকলেও তাকে নিয়ে এখানে আসার সঙ্গতি আমার ছিল না। শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম আসা যাওয়ার পথে। ভাবতাম যদি আমার সঙ্গীনিকে নিয়ে আসি কখনও, তখন কি এই কস্টের দিনগুলো মনে থাকবে? তাকে কি এগুলো বলতে পারব?” এসব রোমান্টিক কল্পনা তখন আমার শূন্যতাকে ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু আজ সেরকম কিছুই মনে হল না। একবার তাকালাম দোকানগুলোর দিকে, মনে হল আমাকে কটাক্ষ করছে দোকানগুলোর হা খোলা প্রবেশ পথ। উল্টোদিকে পিকচার প্যালেস সিনেমা হল। হলের সামনে টাঙ্গানো চলতি সিনেমার বড় প্ল্যাকার্ড। মাথায় পট্টি বাধা দাত খিচানো নায়ক, সস্তা মেক-আপ করা নায়িকা আর রামদা হাতে ন্যাড়া মাথা বিকট দর্শন ভিলেন আমাকে ভ্যাংচাতে থাকল। ক্লান্ত, বিষন্ন আর হতাশ মনে আবার হাটতে লাগলাম। এসব সাত পাচ ভাবছি আর ফুটপাত দিয়ে হাটছি, ডাকবাংলো মোড়ের কাছে এসে দেখলাম আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ছেলেদের কয়েকজনকে। টিউশনি তাদের কাছে শুধু সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা কয়েকজন এসেছে ঘুরতে। জীবন ক্ষুদ্র, আনন্দ করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেলে সবাই ছুটে আসে শহরের সব ভাল ভাল মার্কেটে, রেস্তোরায়, বেড়ানোর জায়গায়। রিক্সা থেকে আমাকে দেখে তাদের একজন হাত নাড়ল, “হাই সাদেক! কিরে টিউশনিতে গেছিলি নাকি?” আমি একটা বিবর্ণ হাসি দিলাম। ট্রাফিক মোড়টা পেরিয়েছি, দোতলা “অলকা রেঁস্তোরা”র নিচে পান সিগারেটের দোকানটা দেখলাম। বেতন পেলেই এই দোকানে এসে আমার প্রিয় সিগারেট “555 LONDON” কিনি, বেশি নয় ৫-৬ টা। আজকে মনে হল আমি আর কোনদিনই ঐ দোকানে যেতে পারব না। দোকানদার আবার আমাকে চেনে। আমি যদিও মাসে একদিন যাই ওর দোকানে, আমাকে দেখলেই ঐ সিগারেটের প্যাকেট বের করে। এর পর যা ঘটল, হঠাত নজরে আসল  নামকরা জুতার দোকানটা। সকালে উঠে দৌড়ান আমার বহুদিনের অভ্যাস। একজোড়া ভাল জুতা নেই। বাবার ঋণটা শোধ হয়ে এসেছে। ঠিক করে রেখেছিলাম এ মাস শেষে বেতন পেলেই এখান থেকে এক জোড়া ভাল কেডস কিনব। এমনকি কয়েকবার ঐ শো রুমে গিয়ে কয়েকটা কেডস দেখে রেখেছি পর্যন্ত। কিন্তু এখন আর কি করব? দোকানের কাচের ভেতর দিয়ে একটা জুতা এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে। হঠাত বুক ফেটে কান্না আসতে চাইল। ক্লাস সিক্সে পড়তে সাইকেল কিনতে চেয়েছিলাম, তিন বোনের বিয়ে তখনও বাকি, কিনতে পারিনি। আব্বুর কাছে কিনতে চেয়েও পরে সব কিছু বুঝে বলেছিলাম লাগবে না। বাবার চোখে লুকিয়ে থাকা অক্ষমতার অশ্রু আজ আমার চোখে জমতে শুরু করেছে। “হে ইশ্বর! কোন কিছু চাওয়া কি মানুষের অপরাধ?” নিরবে ডুকরে উঠলাম। পৃথিবীর সবচেয়ে বিব্রতকর দৃশ্য হল পুরুষের চোখে জল। সেই জন্যই বোধ হয় তখন বৃষ্টি নামল। সঙ্গে ছাতা ছিল। ছাতা খুলে নিলাম। দেখলাম একটা ছেলে একজোড়া জুতা নিয়ে বের হচ্ছে। থ্রী-কোয়ার্টার প্যান্ট আর টি শার্ট পড়া। পোশাক আর চাল চলন দেখে মনে হল কোন ধন্যাঢ্য পরিবারের ছেলে। আমার ধারনা সত্যি প্রমান করে দোকানের সামনে থাকা কাল পাজেরোর পাশে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাইভার গাড়ির দরজা খুলে দিল আর ছেলেটা গিয়ে উঠল সেই গাড়িতে। গাড়িতে ওঠার আগে ছেলেটা অদ্ভুতভাবে তাকিয়েছিল আমার দিকে। বৃষ্টি দ্রুতই ভারি হতে থাকে। খুলনায় সাধারনত এত ভারি বৃষ্টি খুব কমই হয়। ঠিক সেই সময় মনে পড়ল ইরানী ছবি “Children of Heaven” এর কথা। ছবির মূল চরিত্র একটা ছোট ছেলে, যে নাম লিখিয়েছিল এক দৌড় প্রতিযোগিতায়। সেখানে দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল একজোড়া জুতো, খুব সম্ভবত কেডস। তার ছোট বোনের কোন জুতো নেই তাই বোনের জন্য সে খুব চেষ্ঠা করে দ্বিতীয় হতে। কিন্তু দূর্ভাগ্য, সে প্রথম হয়। চোখের সামনে দিয়ে দ্বিতীয় হওয়া ছেলেটিকে জুতো নিয়ে যেতে দেখে ছেলেটি কাঁদতে থাকে। নিঃশব্দে হু হু করে আমি কেঁদে উঠলাম । আড়াল দিতে ছাতা বেয়ে আমার চারদিকে গোল হয়ে বৃষ্টির পানি ঝরতে লাগল। এমনিতেই মানুষজন সব দোকান পাটের ভেতরে গেছে গা বাচাতে। ভারি বৃষ্টিতে দমকা হাওয়া কেমন একটা ঘোলাটে হাওয়ার মত দেখায়। সেই হাওয়া আরো ভাল করে আমাকে আড়াল করল চারপাশ থেকে। আমাকে নয়, চিলড্রেন অব হ্যাভেন ছবির সেই শিশুটিকে।

<<কায়সার>>

কালকে আমার রিলেশনশিপের এ্যানিভার্সারি। সারাদিন ঘুরব জি.এফ(গার্ল ফ্রেন্ড)কে নিয়ে। একজোড়া স্নিকারের তো সেলাই ছিড়ে শেষ হয়েছে, আর আরেকজোড়ার কালারটা ফেড হয়েছে। তাই আম্মুকে বলে একজোড়া নতুন স্নিকার কিনলাম। দাম আর কতই নেবে। আমি বাবা দামিটাই পছন্দ করি, একটা স্টাইল থাকে। কালকে এই নতুন জুতা দেখে শায়লা কি বলবে? উমম, থাক যখন বলবে তখনই নাহয় শোনা যাবে, এত চিন্তা করার ধৈর্য আমার নেই। জুতাটা কিনে বের হতেই বৃষ্টি এল। ড্রাইভার রমিজ আঙ্কেলকে বললাম আর্চিস গ্যালারীর দিক যেতে। জুতো কেনার টাকা একটু বেশি করেই নিয়েছি, ওকে কিছু গিফট তো করা চাই। গাড়িতে ওঠার সময় একটা ব্যাপার দেখে অবাক হয়ে গেলাম। সবাই কোন না কোন দোকানের আড়ালে গেছে বৃষ্টি থেকে বাচতে, একটা ছেলেকে দেখি ছাতা খুলে বোকার মত বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটাকে দেখে মনে হল আমার বয়সই হবে। পড়নে একটা পুরোন হাফ শার্ট আর ছাই রঙের প্যান্ট। ছেলেটার পায়ের দিকে কেন জানি আমার দৃষ্টি গিয়েছিল। ওর স্যান্ডেল দেখে মনে হল আমার নতুন জুতার কথা। তারপর মনে হল আমার জিএফের কথা। আমার জিএফ শায়লা আবার মাঝে মাঝে আর্ট ফিল্ম দেখে। সেদিন ব্র্যাড পিটের লেটেস্ট ছবির কথা তুলতেই ও আমাকে বলল একটা ইরানি ছবি দেখতে, চিলড্রেন অব হ্যাভেন। কাহিনি কী জানি সব ছাতা মাথা, একটা ছেলে জুতার জন্য কাঁদে। ও বলল দেখলে নাকি আমার চিন্তা ভাবনা পালটে যাবে। জুতার জন্য এত কান্নাকাটির কি আছে, কিনে নিলেই তো হয়। ভাবতে ভাবতে পাশের সীটে রাখা জুতার প্যাকেটে হাত রাখলাম। বৃষ্টির ভেতর দিয়ে গাড়ি ডাকবাংলার মোড় ছেড়ে চলছে শিববাড়ির ভেতর দিয়ে নিউ মার্কেটের দিকে। নাহ, জিএফ যখন বলেছে, আজ বাসায় গিয়েই চিল্ড্রেন অব হ্যাভেন ছবিটা দেখব।

(এপ্রিল মাসে একটা টিউশনি চলে যাওয়ার পর মনে মনে এই লেখাটার সূত্রপাত হয়। ১২ জুন,২০১২;  রাত ১টা ২৯ এ শেষ হয় এই লেখাটা।)

 

 

১,৫৭৪ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “চিলড্রেন অব হ্যাভেন”

  1. নাফিজ (০৩-০৯)

    গল্পের প্লটটা অসাধারণ ভাই। কমেন্ট করার জন্য লগইন করলাম :thumbup: :thumbup:

    কিন্তু কি জানি একটা বাকি রয়ে গেছে... শেষটা আরেকটু দেরিতে করলে ভাল হতো


    আলোর দিকে তাকাও, ভোগ করো এর রূপ। চক্ষু বোজো এবং আবার দ্যাখো। প্রথমেই তুমি যা দেখেছিলে তা আর নেই,এর পর তুমি যা দেখবে, তা এখনও হয়ে ওঠেনি।

    জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    রিদওয়ান,
    একটা ভীষণ ভালো লেখা পাওনা ছিলো তোমার কাছে। তার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলে আজ। আজকের লেখাটা বিমল মিত্রকে মনে পড়ে গেলো।সাদেকের কথা পড়ে নিজেরো টিউশনি জীবনের কথা মনে পড়ে গেলো অনেক। সাদেকের জীবনযাপন অনেক বিস্তারিত ভাবে এসেছে, পাঠক আমি মিশে গিয়েছি একদম। সুখাদ্য কিংবা ঠাণ্ডা হাওয়াময় মনোহারী দ্রব্যবোঝাই দোকানগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার হাহাকারময় মুহূর্তগুলো ঝলসে দিয়ে গেলো একটু।

    তারপরো অপ্রাপ্তি কিছু:
    কায়সারকে সে তুলনায় বেশ কৃত্রিম মনে হলো। ধনী পরিবারে মানুষ এবং বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত হলেই অগভীর মনের হবে কেউ এমন তো কথা নেই। তবু সে অগভীর মনের- এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েও ওর চরিত্রবর্ণণ কেমন অসম্পূর্ণ মনে হয়। সাদেকের সমান্তরালে দাঁড়াতে পারেনা।

    একারণে লেখাটাকে অসম্পূর্ণ ড্রাফ্‌ট বলবো আমি, যা হয়তো তুমি শেষ করবে কখনো।
    প্রাণ দিয়ে লিখেছো সেটা স্পষ্ট। ফ্রেমটা তো তৈরী হয়ে গেছে, এখন সেই ঘোর থেকে বেরিয়ে এসে গল্পটাকে দাঁড় করাও। ভালো বৈ খারাপ হবেনা।

    ছোটগল্প লিখিয়ে হবার দুঃসাহসিক ব্রত নিয়েছো এটা আমার কাছে অন্তত পরিষ্কার। সংগ্রাম জারি থাক। (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  3. রিদওয়ান (২০০২-২০০৮)

    ভাইয়া, কায়সারের ব্যাপারটা লিখেছি আমার এক সময়ের এক পরিচিত, হ্যা পরিচিতই বলছি, বন্ধু নয়। এক সময়ের এক পরিচিত ছেলে যে খুলনাতেই থাকে তার ছায়া অবলম্বনে, তার চিন্তা চেতনা এরকমই অগভীর। তাই সেভাবেই লিখেছি। আমিও ভেবেছি যে কায়সারের ব্যাপারটা বেশি একরকম করে ফেললাম না তো? তবে এরকম মানুষ আমাদের সমজে বিদ্যমান, যারা এভাবেই সবকিছু দেখে। যখন তারা এভাবে দেখছে, তখন আমার মত কেউ না কেউ জীবনের দায়ভার টানছে। তাই সেভাবেই লিখলাম। আর সেসময় আসলে আমি এমনই একটা জগতে ছিলাম যে ওটাই ছিল আমার দেখা পৃথিবীর বহিঃপ্রকাশ, ওভাবেই আমার সবকিছু প্রকাশ হচ্ছিল গল্পের ভেতর দিয়ে। কিছু কষ্ট আর আবেগ ঘিরে ছিল আমাকে। আপনার নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ, চেষ্ঠা করব আরও নতুন কিছু লিখতে। (সম্পাদিত)

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।