আমার চারপাশ ০৪

আজকে সকালটা শুরু হল বৃষ্টি দিয়ে। ভোরে প্রচন্ড শব্দে একটা বাজ পরল, তখন প্রায় ছয়টা বাজে। বাজের শব্দ আর ঠান্ডা বাতাস এই দুইয়ে মিলে ঘুম ভেঙ্গে গেল। রাতে ঘুমিয়েছি অনেক দেরীতে তাই এই ঠান্ডা ঠান্ডা বৃষ্টি মুখর পরিবেশে আবার ঘুম। দারুন ঘুম। ঘুমানোর সময় একটা স্বপ্ন দেখলাম। কলেজ নিয়ে। কলেজে থাকতে সকাল বেলা বৃষ্টি ছিল সবার বহু প্রতিক্ষীত কিন্তু তার দেখা পাওয়া যেত ভোর বেলা কদাচিত। দেখা যেত ভোরবেলা প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু পিটির বাঁশি দেওয়ার একটু আগেই থেমে যেত ব্যাটা, তাই চল পিটি গ্রাউন্ডে। আর মেজার আর খারাপ হত যখন দেখা যেত পিটি শেষ হওয়ার একটু পরেই আকাশ উলটে বৃষ্টি নামছে। এইভাবে মাঝে মাঝেই কলেজের স্মৃতিগুলো মনের মাঝে টোকা দিয়ে যায়।

বিকেলে পরীক্ষা ছিল, অনার্স জীবনের শেষ ইনকোর্সের আগের ইনকোর্স। গূরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কিন্তু এই বাদলা দিনে কেন যেন পড়তে ইচ্ছে করছিল না। তাই বেলা বারটার দিকে আবার ঘুম। প্রস্তুতির যাচ্ছেতাই অবস্থা আর পরীক্ষার খাতার অবস্থা আর খারাপ। ছাত্রজীবন শেষ হয়ে আসছে আস্তে আস্তে কিন্তু ভাল ছাত্র হওয়া বুঝি আর হয়ে উঠল না। সেই পুরান অবস্থা। খারাপ নাম্বার, তার পর কিছুক্ষণ মন খারাপ করে থাকা এবং অবশেষে সব ভুলে গিয়ে আবার লাইব্রেরীর সামনে আড্ডা।

ফেসবুক বন্ধ তাই নিয়ে কম জল ঘোলা হচ্ছে না। সরকার আসলে কি করে আর তার মাথায় কারা বসে থাকে তাই নিয়ে মাঝে মাঝে সন্দেহ দেখা দেয়। এই যুগে একটা সাইট ব্যান করেই শুধু তাকে আটকানো যায় না এই সামান্য বুদ্ধি হয়ত এই সরকারের মাথায় এখনো আসে নি। তাই তারা ফেসবুক বন্ধ করে নিজের মাথায় নিজেই ঘোল ঢালে।

আজকে কথা হচ্ছিল মাইক টোয়েনের জীবনী নিয়ে। তার মৃত্যুর একশ বছর পর ২০১০ সালে বের হচ্ছে তার জীবনী। এরকমই নাকি ছিল তার ইচ্ছে। টম স্যায়ার আর হাকেল বেরি ফিনের মার্ক টোয়েন। তবে আমাকে বেশী আকর্ষণ করছিল তার ছোট গল্প গুলো। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে বের হওয়া তার ছোট গল্পের একটা সংকলন যে আমি আর আমার ছোট বোন কতবার পড়েছি তার ইয়াত্তা নেই। আহ, দশ লক্ষ পাউন্ডের নোটের মত যদি একটা ছোট গল্প লিখতে পারতাম। মার্ক টোয়েন জীবনী তে কি আছে তা নিয়ে কথাবার্তার শেষ নেই। কেউ বলে তার সেক্রেটারীর সাথে তার গোপন সম্পর্কের কথা লেখা আছে, আবার কেউ বলে হয়ত কোন বন্ধু সম্পর্কে শক্ত কোন কথা লেখা আছে তাই এত বছরের অপেক্ষা। এইসব কথার মাঝেই অপেক্ষায় আছি কবে এই জীবনী বের হবে আর কবে এটা পড়তে পারব। আশা করি এইবারো নীলক্ষেত এই বই বের হবার কয়েক মাসের মধ্যে এই গরীব ছাত্রদের জন্য তার যাদুর ঝুলি আবার খুলবে।

জীবনটা আসলে কি রকম? আমার উত্তর হল- আজকের দিনটার মত। যেখানে একটু পুরাতন স্মৃতি রোমান্থন থাকে, একটূ মন খারাপের উপাদান থাকে, হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডা থাকে আর কখনো বই পড়ার আশায় একজোড়া লোভে জ্বল জ্বল চোখ থাকে। তাই জীবনটা কঠিন হলেও বেঁচে থাকা ব্যাপারটা খুব একটা খ্রাপ না 😀

২,৪৭০ বার দেখা হয়েছে

৪৪ টি মন্তব্য : “আমার চারপাশ ০৪”

  1. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    জীবনটা কঠিন হলেও বেঁচে থাকা ব্যাপারটা খুব একটা খ্রাপ না

    আসলেই তাই। তবে সবার জন্য এই "আজকের দিন" হয় ভিন্ন স্বাদের। কিন্তু দিন শেষে হিসাব করলে দেখা যায় ফলাফল কম বেশি সবারই এক/ কাছাকাছি।

    জবাব দিন
  2. আজকেই আমি লিখলাম... এই বৃষ্টি নিয়েই... অনেকদিন পরে!!
    তুইও সেই বৃষ্টিকেই উপকরণ করলি!!

    তোর লেখাগুলো অনেক সুইট লাগে দোস সত্যি!! 🙂
    এইটার মতন......

    জবাব দিন
  3. রকিব (০১-০৭)

    রাশুদা দ্যা গ্রেট, অনেকদিন পর সেই চিরচেনা ব্লগর ব্লগরের স্বাদ দিলেন। পুরোটা পড়ার পর তাই মনে হচ্ছে, জীবনটা কঠিন হলেও বেঁচে থাকা ব্যাপারটা খুব একটা খ্রাপ না :dreamy:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  4. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)
    যেখানে একটু পুরাতন স্মৃতি রোমান্থন থাকে, একটূ মন খারাপের উপাদান থাকে, হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডা থাকে আর কখনো বই পড়ার আশায় একজোড়া লোভে জ্বল জ্বল চোখ থাকে। তাই জীবনটা কঠিন হলেও বেঁচে থাকা ব্যাপারটা খুব একটা খ্রাপ না 😀

    আসলেই খ্রাপ না, জটিল।

    জবাব দিন
  5. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    দেশে বুঝি খুব বৃষ্টি হচ্ছে। জিহাদের জন্য সুখবর। বর্ষা আসিতেছে , থুক্কু চলে আসছে।
    রাশেদ তোমার লেখার হাত খুবই ঝরঝরে। লেখতে থাক আশা করি ১০০ বছর পর ২১১০ সালে তোমার একটা জীবনী বের হবে। এইটা কিন্তু অন্তর থেকে বললাম।
    মার্ক টোয়েন আমারো খুবই পছন্দের। ছোটবেলায় যেসব কল্পনা ছিল তার মধ্যে কয়েকটা হল, কিশোর পাশার মত গোয়েন্দা দল বানাব, টম সয়্যার এর মত অভিযানে বের হব , থ্রি মাস্কেটিয়ারের মত ফ্রেন্ড থাকবে, আর নয়ত কুয়াশা, রবিনহুড কিংবা দস্যু বনহুরের মত দস্যু হয়ে যাব। আহারে কিছুই হইল না এই জীবনে।

    জবাব দিন
  6. মেহবুবা (৯৯-০৫)

    আমার বন্ধু রাশেদ,
    তোর লেখা পড়ে বড়ই ভালো লাগলো।জীবন নিয়ে পজিটিভ ধারণাই মনে হয় আমাদের নতুন করে একটা দিন শুরু করতে সাহায্য করে।
    Whether true or false, what is said about men often has as much influence on their lives, and particularly on their destinies, as what they do
    ছোটবেলায় যাই পড়তাম তাই হইতে ইচ্ছা করতো।তিন গোয়েন্দা পড়ে তো মনে হত এখনি বাসার বাইরের অপরিচিত লোকটার হাঁটাহাঁটি নিয়ে কিছু একটা বের করে ফেলবো। 😀
    এখন আর ইচ্ছা করেনা। 🙁

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।