কামরুল ভাইয়ের খোঁচা আর আমার স্মৃতি বিভ্রাট জনিত পোষ্ট

(কামরুল ভাইয়ের পুরান লেখা দেওয়ার খোঁচায় রাগিত হইয়া নতুন পুরা গরম গরম একটা লেখা দেওয়া হইল । ইহাকে আপনার স্মৃতিকথা বা ব্লগর ব্লগর যা ইচ্ছা বলিতে পারেন । লেখা ভাল না লাগিলে আমার দোষ নাই যত দোষ কামরুল ভাইয়ের)

গতকাল রাতে কথা হচ্ছিল ইশতির সাথে । তখন কথায় কথায় অনেক পুরান কথা মনে পড়ল । ভার্সিটিতে তখন প্রায় নতুন নতুন । ডিপার্টমেন্টের কার সাথে তেমন খাতির হয় নাই। প্রায় আউল ফাউল ঘোরা ঘুরি করি । এই সময় কেম্নে কেম্নে জানি পরিচয় হয়ে গেল অন্য ডিপার্টমেন্টের কিছু ছেলেমেয়ের সাথে । আর সেই স্মৃতি থেকে আজকের ব্লগের সূত্রপাত।
সারাজীবন পড়িয়া আসিয়াছি বালক বিদ্যালয়ে তাই মেয়েদের সাথে গ্রুপে গল্প করতে গেলে তখন কিছুটা ভয় কিছুটা লজ্জা আর বেশির ভাগ সময় অসস্তিতে থাকি । আর এই সময় একদিন ঘটিল এই ঘটনা । আমাদের সেইদিন ক্লাস নাই তাই আউল ফাউল ঘোরাঘুরি করে ফোন দিলাম আমার নতুন পরিচিত গ্রুপের একজনকে । সেই ব্যাটা বলে আমি তো ক্লাসে তো তুই টিএসসির কোনায় দেখ বাকিদের পাইলেও পাইতে পারিস ।
টিএসসির কোনায় গিয়ে দেখি একি বিপদ । কেও নাই খালি গ্রুপের সবচেয়ে বেশি কথা বলা মেয়েটা একা একা বসে কি জানি করে । আমি ভাবলাম একা একা মেয়েদের সাথে গল্প করার থেকে পালান ভাল । তাই উলটা ঘুরে যেই মাত্র হাটা দিলাম ঠিক তখনি শুনি কে যেন পিছন থেকে ডাকে রাশেদ , এই রাশেদ , এদিকে আয় । আমি মনে মনে বলি আল্লাহ রক্ষা কর । আর শেষ পর্যন্ত কোন উপায় না দেখে কি আর করা ভেবে মেয়ের সামনে গিয়ে বসলাম।
ভাগ্যিস বসিয়াছিলাম নাইলে আমার ভয়, লজ্জা আর অসস্তি কোন দিন কাটিত কিনা সন্দেহ । প্রথমে কোন কথা আমি না খুজিয়া পাইলেও সমস্যা হয় নাই কারন এই মেয়ে একাই দশজনের সমান কথা বলতে পারে । আস্তে আস্তে দেখি- আরে এই মেয়ে তো প্রচুর গল্পের বই পড়েছে । আর তখন আমার আর লাগে কি । আমিও আমার প্রিয় সাবজেক্টের গল্পে ডুবিয়ে গেলাম সাথে মেয়েও।
যদিও গ্রুপের এই মেয়ের সাথে আমার কথা শুরু হয় সবার শেষে কিন্তু পরে দেখা গেল এর সাথেই আমার খাতির বেশি । আমরা খালি বইয়ের গল্প করি নানা ক্লাসিক সিনেমা দেখার জন্য কালচারাল সেন্টার গুলোতে ঘুরাঘুরি করি । এইভাবেই অন্যদের ভাষায় তথাকথিত আঁতেল ভাবেই আমাদের সময় কাটিতে লাগিল । আঁতেল আঁতেল ভাবেই মেয়ে আমাকে বলে দেখ রাশেদ সাবধান তুই আবার আমার প্রেমে পরিস না । আমিও আঁতেল আঁতেল ভাবে উত্তর দিই ছি এই সব কি বলিস । আমাকে দেখলে কি এরকম মনে হয় । কিন্তু সর্বনাশ যা করার মেয়ে তা করে দিয়েছে পাগল কে সাঁকো নাড়ানোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ।

পাগল কে সাঁকো নাড়ানোর কথা মনে করিয়ে দেওয়ার ফলশ্রুতিতে সেই রাতেই আমার মনে হতে থাকল মেয়েটা আসলে কেমন ? যতই ভাবি ততই মনে হয় খারাপ না বরং আমার জন্য পারফেক্ট । দুইজনেই আঁতেল । এই ভাবে দেখি মনের মাঝে সুক্ষ কিছু অনূভূতির দোলাচালের খেলা শুরু হল । আমার কাজকাম এই দোলাচালে প্যাঁচায়ে যেতে লাগল । আর এই বেসামাল অবস্থায় মনের উঁড়ুউঁড়ু সময়ে লিখে ফেললাম কবিতা আর ছড়ার সংমিশ্রনে নিচের অদ্ভুত এই জগাখিচুড়ি-

অনুভূতির সুক্ষ কাঁপন
হৃদয় মাঝে সুখের নাচন
উদাস হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলাম আজ-
মনের যত চিন্তা ।

বলছি তোদের মাতাল আমি
পাগল আমি তারি ঘোরে
যায় ভেঙ্গে যাক মনের যত বদ্ধ দুয়ার
আজ হতে হব আমি তারি প্রেমে মগ্ন ।

তারপর ??? তারপরের ঘটনা আসলে বয়স জনিত কারনে স্মৃতিবিভ্রাট রোগে ভোগায় মোমেন্টা সিনেমার মত পুরান ঘটনা মনে রাখিতে পারি না । স্মৃতি ফিরিয়া আসিলে বাকি ঘটনা নিয়ে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করা হবে ।

৬,২০৩ বার দেখা হয়েছে

৯৪ টি মন্তব্য : “কামরুল ভাইয়ের খোঁচা আর আমার স্মৃতি বিভ্রাট জনিত পোষ্ট”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    কত আশা নিয়া পড়া শুরু করছিলাম এই ভেবে যে সিসিবির কবিতা উৎসবের মাঝে একটা পোস্ট পাইলাম আমার মত সাধারন বুদ্ধির পাঠকের জন্য, কিন্তু শেষে আইসা দেখি সমকালিন সিসিবিও ধারা রাশেদ সমুন্নত রাখছে।
    তবে রাশেদের কবিতা পইড়া মনে হল সামান্য হইলেও জ্ঞান-বুদ্ধি আমার আছে, কারন আমি কবিতা বুঝতেও পারছি, সাথে ভালও লাগছে। :thumbup: :thumbup:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    যাহোক, আসল কথায় আসি।
    গরমা গরম টাটকা সদ্য উনুন থেকে নামানো যেকোনো জিনিসই ফ্রিজের জমানোর চেয়ে ভালো লাগে, আর সেটা যদি এরকম দারুন মিষ্টি প্রেমের দুষ্টু কবিতার মত চমৎকার পরিবেশনাময় হয় তাহলেতো কথাই নেই। :clap: :clap:
    এইবার পাঙ্গানির হাত থেইকা বাচার লাইগা সব কিছু কুইক মনে কইরা ফেল :grr: :grr:
    লেখা দারুন হইছে :clap:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  3. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)
    পুরান ঘটনা মনে রাখিতে পারি না...

    সব ব্লগ বাড়ানোর ডিজিটাল ধান্ধা... 😡
    মেজাজ এমন খারাপ হইল যে, টাটকা লেখাটা পড়ে যে ভাল লাগছে তা আর কমুই না... :thumbdown:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  4. রাশেদ (৯৯-০৫)
    সব ব্লগ বাড়ানোর ডিজিটাল ধান্ধা
    বুঝতে হবে এইটা ডিজিটাল বাংলাদেশ । মেজাজ খারাপ করার জন্য জুনা ভাইয়ের ব্যাঞ্চায় 😀


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  5. তাইফুর (৯২-৯৮)

    লেখা অসাধারণ হইছে ... গরম গরম তাই সুস্বাদুও
    আর চ্রম জায়গায় ঝুলাইয়া রাখছিস
    সাবাস ব্যাটা ক্লাইমেক্স'এর ...


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  6. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    নিজেই নিজেকে আতেল শ্রেনী ভুক্ত করায় এই পুলার ভ্যান গাড়ি চাই।

    তয় লেখা ভালা হইছে। দুইটা বাড়ি মারি :chup: :chup:

    মাথায় হাতুড়ির পিটা খাইলে স্মৃতি আপা ফিরা আসে বড় ভাই কইছে।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  7. তৌফিক (৯৬-০২)

    খুব খিয়াল কইরা, কারণ কবি বলেছেনঃ

    প্রেম পিরিতি ভালোবাসা
    এই তিন সর্বনাশা।

    এখন কথাটা হইতাছে, এইরকম ক্লাইমেক্সে থামলো ক্যান? 😡 😡 😡 😡 😡

    অতি সত্বর মনে পড়ার তেবরো দাবী জানাই।

    লেখা সেইরকম। :hatsoff:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।