জন্মদিন ও একটি উইশের গল্প

আহ কি শান্তি । যাক ট্রেন টা ছেড়েছে । সকাল বেলা ট্রেন জার্নির মজাটাই আসলে অন্যরকম কেমন জানি একটা অদ্ভুত তাল আর সাথে ঠান্ডা বাতাস । এরকম একটা দিনে ট্রেনের এই তাল কেমন জানি ঝিমুনি ধরিয়ে দেয় । কিন্তু কে কাকে বুঝাবে এই কথা । শান্তা সব সময় বলবে ট্রেন জার্নি বোরিং ।

ওর ঐ এক কথা – এত ঢকর ঢকর এর মাঝে মানুষ থাকতে পারে নাকি । তার উপর বাসে কত কম সময়ে যাওয়া যায় আর ট্রেনে ? আমি যতই বলি – আরে ট্রেনের এই সুন্দর দুলুনি আর কোথায় পাবে তুমি ? ও ততই বলবে- তোমার এই পাগলামী গুলো আমার মেজাজ পুরা খারাপ করে দেয় । তুমি কিন্তু বিয়ের পর এই সব ঢং করতে পারবে না । আমি যদি তখন বলি আমাদের হানিমুনে কিন্তু আমরা ট্রেনেই যাব । তখন ও নির্ঘাত বলবে তাইলে অন্য কোন মেয়ে খুঁজে নিও বিয়ের জন্য ।

আসলে ট্রেনের মত আর বেশির ভাগ জিনিসে আমার আর ওর পছন্দ প্রায় উল্টা ।কিন্তু কেন জানি আমার ওর এই জিনিস গুলোই ভাল লাগে , একটু অন্য রকম লাগে । আমি ঠিক বুঝাতে পারব না তবে আমি ওকে হয়ত ভালবাসি এই কারণেই । তবে শান্তা শুধু বলবে আমি যে কিভাবে তোমার প্রেমে পরলাম আল্লাই জানে । আমি তখন মনে মনে বলি আসলেই শুধু আল্লাই জানে ।

আসলেই আমার মত একটা ভুলোমনা মানুষের সাথে ওর মত গুছানো মেয়ের যে কিভাবে প্রেম হল তা শুধু আল্লাই বলতে পারবে । শান্তার ভাষায় আমি একটা দ্বায়িত্বজ্ঞান হীন ইরেস্পন্সিবেল । কখন সময় মত আসি না , জন্মদিনে উইশ করতে ভুলে যাই । কিন্তু অন্যদিকে মেয়েটা আমার জন্মদিনে সব সময় কুমিল্লা থেকে ঢাকা চলে আসবে যতই মানা করি না কেন কোন লাভ নেই । গতবার তো মেডিকেলের একটা কার্ড পরীক্ষা মিস করল । আর আমি ? আমি কিনা গতবার ওর জন্মদিন টাই ভুলে গেলাম । না এই বার এইটা হতে দেওয়া যাবে না ।

আজকে বালিকার ক্লাস শেষ একটায় আর ট্রেন কুমিল্লায় পৌছাবে প্রায় সাড়ে এগারটায় । আর স্টেশন থেকে মেডিকেলে পৌছাতে আমার লাগবে প্রায় আধা ঘন্টা । ক্লাস শেষে আমাকে দেখলে যে কি চমকে যাবে তা আল্লাই ভাল জানে । গতকাল রাতে উইশ করার সময় বেচারীর মনটা এত খারাপ ছিল । বলে কিনা ঢাকায় আসবে নাকি আমি বলি ধূর আমার অফিসের এস্যাইমেন্টের কাজে কালকেই খুলনা যেতে হবে । ওর মনটা খালি আরেকটু খারাপ হয় । আমি মনে মনে ভাবি সমস্যা নেই আমাকে ক্লাস শেষে দেখলে যে চিতকার টা দিবে তার তুলনায় এইটা কিছুই না ।

আসলেই কোন কিছুর সাথে তুলানা হতে পারে না এর । ট্রেনের দুলুনিতে কেমন জানি ঝিমুনি আসে চোখ বন্ধ করলেই ভেসে আসে পুরান সব স্মৃতি । চোখ বন্ধ করেই আমার সামনে ভেসে আসে আমাদের প্রথম দেখার কথা কিংবা শান্তাকে প্রোপোজ করতে যাওয়ার সময় আমার নার্ভাস ছবি । কিন্তু আজকের যে ছবি আমার বন্ধ চোখের কল্পনায় আসছে তার তুলানায় এসব কিছুই না । আমি খালি ভাবি আজকের পর ও আমাকে কি বলবে – দ্বায়িত্বজ্ঞান হীন ইরেস্পন্সিবেল নাকি রোমান্টিক fool । যাই বলুক না কেন আমার স্বপ্নে আমি যে কল্পনার দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি সেইটার জন্য আমি দোযখে যেতে পারি । সেই তুলানায় দ্বায়িত্বজ্ঞান হীন ইরেস্পন্সিবেল বা রোমান্টিক fool কোনটাই খারাপ না । আসলেই ট্রেনের দুলুনি কল্পনার জন্য খারাপ না ।

এই সময় কেও একজন বলে ভাই আর কত ঘুমাইবেন । আমি বলি স্টেশনে কখন আসল ? উনি বলেন নামেন তাড়াতাড়ি নামেন । অনেকক্ষন হইছে আর মিনিট দুয়েক এর মধ্যে ট্রেন ছেড়ে দিবে । আমি ঘড়ির দিকে তাকাই সাড়ে বারটা বাজে । উফ বাংলাদেশে ট্রেন কখনই ঠিক মত পৌছাতে পারে না । আমি তাড়াতাড়ি স্টেশনের বাইরে বের হয়ে আসি । মাত্র আধা ঘন্টা আছে এর মাঝে মেডিকেল কলেজের সামনে পৌছাতে হবে । ব্যাস্ত হয়ে আমি রিক্সা খুঁজি । এক বুড়া চাচা মিঞা কে বলি যাবেন নাকি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ । ভাড়া বেশি দিব । চাচা মিঞা দেখি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকায় ।আমি বলি কি হইল চাচা যাবেন না মেডিকেল ? চাচা মিঞা এইবার চোখ আরেকটু বড় করে বলে – পাগল নাকি ? আমি অবাক হয়ে বলি – এইটা কি হইল চাচা ? উনি বলে মিঞা এইটা তো ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা শহর না ।

৩,৬০৯ বার দেখা হয়েছে

৬২ টি মন্তব্য : “জন্মদিন ও একটি উইশের গল্প”

    • রেজওয়ান (৯৯-০৫)

      যাউক তাও ভালো যে বি.বাড়িয়া 😀
      দিনে দিনেই যাওয়া যাইবে নে... 😀
      কিন্তু যদি ঘুম ভাইঙ্গা দেখতো চিটাগং তাইলেই খবর আছিল :grr: :grr: :grr:
      ভাল ছিল দোস্তো... :clap: :clap: :clap:

      জবাব দিন
      • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

        ঠিক কথা, আমিও এমনটাই ভাবছিলাম। ভাগিস বি,বাড়িয়া, চিটাগাং না।

        আজকে বালিকার ক্লাস শেষ একটায় আর ট্রেন কুমিল্লায় পৌছাবে প্রায় সাড়ে এগারটায়

        তয় পোলা কিন্তু আলটিমেটলি লেটই করত। ট্রেন বারটায় বি,বাড়িয়া, এইটা কুমিল্লা নাও পৌছতে পারে ওইদিন।


        পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

        জবাব দিন
  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ঘুমাইয়া ছিলাম, ছিলাম ভাল
    জাইগা দেখি .....
    কুমিল্লা মেডিকেল কোন বা পথে যাই...


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    লেখা ভাল লাগলো। 🙂

    তয় এইটা পরার পর আমার জংশনে দাঁড়িয়ে কবিতার কথা মনে পরে গেল।
    দেখি পরে এক সময় এখানে জুড়ে দেব নে।

    ভাল থেকো রাশু।


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন
  3. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)

    প্রথমে ভয় পাইছিলাম...........না জানি কি এক অঘটন ঘটায়।
    তা দেখি না......মোটামুটি কাছাকাছিই এক ইস্টিশনে নামায়া ছাইড়া দিছে 😀 😀 ।
    ভালো ছিল :clap: :clap: ।


    Life is Mad.

    জবাব দিন
  4. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    পুরান লেখা দেয়ার জন্য রাশেদের ভ্যান গাড়ি চাই। 😀

    তয় আমার পুরান লাগে নাইক্কা। আগে পড়ি নাই তো। 😉

    প্রেম ভালো ছিল। তবে আরো ভালর অবকাশ ছিল।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।