তারেক ভাই এই লেখাটা আপনার জন্য

আমাদের কলেজে আমরা যখন ছানাপোনা ঠিক তখন একটা চল ছিল, ডায়েরীতে কিছু লিখেয়ে নিবার চল। ক্লাস টুয়েলভ যখন কলেজ থেকে চলে যেত তখন বিশেষ করে ক্লাস সেভেন আর এইট, টুয়েল্ভের ব্লকে ব্লকে ঘুরাঘুরি করত ভাইয়াদের থেকে কিছু ডায়েরীতে লিখিয়ে নিবার জন্য। অনেকে ভাইয়াদের সাথে ভাল সম্পর্ক ছিল সেই কারণে, অনেকে ডায়েরীতে পুরান স্মৃতি ধরে রাখে তাই আর আর বেশীর ভাগ অন্যেরা করছে তাই। আমি ছিলাম শেষের দলে।

ডায়েরীর পাতা উলটাতে উল্টাতে আজ দেখি অনেক ভাইয়াদের সাইন নেওয়া আছে আমার ক্লাস সেভেন আর এইটের ডায়েরীতে। পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় ভাইয়ারা কেউ আলোকিত মানুষ হতে বলছে, কেউ বড় মানুষ হতে বলছে আর কেউ বা ক্যাডেট লাইফ কে এনজয় করতে বলছে। ভাইয়ারা হয়ত কেউ আমাকে ভাল ভাবে জানে কেউ হয়ত বা জানে না কিন্তু তাতে কি, যাবার বেলায় এই শেষদিনে ক্লাস সেভেন আর এইটের কাছে অন্য গ্রহের এই মানুষ গুলো কেমন জানি সহজ হয়ে যায়। নিজে চলে আসার সময় দেখেছি জুনিয়র ছেলেপেলেদের দিকে তাকালে কেন জানি তখন নিজের পুরান কথাগুলো মনে পরে যায় হয়ত তাই ভাইয়ারা সব শুভ কামনা রেখে গেছে ডায়েরীতে কাল অক্ষরে।

এরকম এক ভাইয়া ২০০০ সালের জুন মাসের এক তারিখ আমার ডায়েরীতে চলে যাবার আগে লিখে গিয়েছিলেন-“বই পড়ে যাবে সারাজীবন। পৃথিবীর সব বই শেষ না করা পর্যন্ত থামবে না। আলোকিত মানুষ হও।” অনেক ভাইয়াই এরকম অনেক কিছু লিখে রেখেছে আমার ডায়েরীতে কিন্তু এই লেখাটাই প্রায় নয় বছর পর এই ২০০৯ এ আমার আবার মনে পড়ে যায়। কারন ফেসবুকে একজন এই কথাটাই আবার আমাকে লিখে পাঠায়।

কলেজ থেকে আমরা যখন চলে আসি তখন সময়ের সাথে সাথে আমরা বেশীর ভাগ জুনিয়রের নাম ভুলে যাই, দূর্দান্ত দুই একজন ছাড়া। এই কথাটা আমার ক্ষেত্রেও সত্য। তাই প্রায় নয় বছর পর ফেসবুক প্রোফাইলে আমার ক্লাস সেভেনের পুরাতন একটা ছবি দেখে ছয় বছরের কোন সিনিয়র পুরাতন এই লেখাটা লিখে পাঠায় তখন অবাক না হয়ে উপায় থাকে না। বিস্মিত আমাকে অবাক করে দিয়ে পরের মেসেজে জানতে চান ভাইয়া কলেজের মত বই পড়ার পুরাতন অভ্যাসটা ধরে রেখেছি কিনা তখন আর অবাক হতে হয়। কারণ সেই সময়টায় ভাইয়াদের হাউজ লাইব্রেরীর কারণে যে পরিমাণে জ্বালাতন করেছি সেইটা ভাইয়া মনে রেখেছেন। আসলে আমার মত একটা চুপচাপ মহাবোকা ক্লাস সেভেন কে কেউ বই পড়ার জন্য মনে রাখবে এইটা কোন কালেই আমার মাথাতে আসেনি। তাই ধন্যবাদ ক্যাডেট নাম্বার গ-৭৪৩।

ক্যাডেট নাম্বার ৭৪৩ এর জন্য অনেক কারণেই আসলে লেখা যায়। সমান্তরাল বা কাঠের সেনাপতি কিংবা শব্দশিল্পীর মত অসাধারণ সব গল্পের জন্য। অথবা আপনাকে নিয়ে পোস্ট লিখতে পারি একি কলেজের একি হাউজের বড় ভাই হওয়ার কারণে। কিন্তু না। আমি এই পোস্টটা লিখতে চাই কারণ নয় বছর আগে আমার ডায়েরীতে লিখে রাখা দুইটা লাইন আবার বলে আপনি আমাকে সত্যিই দারুণ অবাক করে দিয়েছিলেন।

অতএব, হে পুব বাঙলার অরাজক কালের স্বপ্নবাজ যুবক তারেক ভাই আজ জন্মদিনে এই লেখাটা আপনার জন্য 🙂

৬,৬৬০ বার দেখা হয়েছে

৮৪ টি মন্তব্য : “তারেক ভাই এই লেখাটা আপনার জন্য”

  1. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    আমার ডায়রির পাতা খুলে আমি যাত্রীর তপু ভাইয়ের দারুন একটা শুভকামনা খুঁজে পাইছিলাম।

    যাই হোক, প্রজ্ঞা, লেখা সব দিক দিয়েই তারেক অসাধারণ একজন মানুষ। তাকে শুভ জন্মদিন জানায়ে গেলাম। ভালো থাকেন বস।

    জবাব দিন
  2. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    দেশে আয়, হাউজিং এস্টেটের পুকুরে আরো একবার সবাই নাংগু হইয়া ঝাপ দিমু। 😛

    ভালো থাকিস।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  3. সাইফ (৯৪-০০)

    রাশেদ কে ধন্যবাদ ক্যাডেট কলেজের বড় ভাই এর জন্ম দিনে এইরকম পোস্ট দেবার জন্য।

    তারেক ,তোকে শুভ জন্ম দিন।কিন্তু তোর জন্ম দিন নিয়ে এত ইতিহাস ঘটে যাচ্ছে আর তোর কোন খবর নাই,শালা ফাউল।জলদি অন প্যারেড হ।

    জবাব দিন
  4. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    শুভ জন্মদিন ভাইয়া।
    কালকে একটা ইফতার পার্টিতে এক ভাইয়া তারকে ভাইকে চিনেনি। তারপর আমি বললাম উনি তো লেখে না আমাদের এখানে তখন আরেকজন বলল ও তো কোয়ালিটি লেখক। শুনে অভিমান হইছে...

    জবাব দিন
  5. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    তারেক তো দেখি বাচ্চা বয়স থেইক্কাই মহা আতেঁল ছিল। আলোকিত মানুষ হইতে কয়।

    যাউজ্ঞা, তারেক তিন দিন পড়ে এই পোস্ট পড়বো, আরও দুইদিন পড়ে উত্তর দিব, তাই হ্যাপী বাড্ডে কওনের আগে আরও কিছুদিন ওয়েট করাই যায়।

    কি কও কনফু 🙂


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  6. আহ্সান (৮৮-৯৪)

    রাশেদ,
    ধন্যবাদ সুন্দর একটা লেখা দেয়ার জন্য।

    তারেক,
    সিসিবি'তে এসে বি-লেটেড হেপি বার্থ ডে...। এর আগে তোমারে উইশ করছি কিনা কিংবা করলেও কই করছি তা একদ্ম চাইপা যাও...। ভূলেও এইখানে উচ্চারণ কইরোনা...। সিসিবিতে আমি আপাতত একটু নাজুক অবস্থানে আছি...। পয়েন্ট আপ করতে একটু সময় লাগবে...। ভাবী রে সালাম দিও।

    জবাব দিন
  7. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    এই পোস্ট আসলে আমার দেওনের কথা ছিল-তানভীর ভাই সময় মত হুমকিও দিছিল।কিন্তু গতকালকে সব আত্মীয় স্বজনের আমাদের বাসায় ইফতারির দাওয়াত থাকায়(এখন ইফতারির দাওয়াত মানে রাইত ১২ টায় ডিনার শেষ হওয়া) পুস্ট দিতে পারি নাই-আর দিলেও এইডার মত হইতনা।রাশেদরে এসিস্টেন্ট জেপির পোস্ট দেওয়া হোক-রকিবের সাথে।

    ও হ্যাঁ,হেফি বাড্ডে তারেক আকা ত্রুক্স ভাই!

    জবাব দিন
  8. নাজমুল (০২-০৮)

    শুভ জন্মদিন তারেক ভাই…… :party:

    সুন্দর পুস্ট হয়েছে রাশেদ ভাই :clap:
    বেশি কইরা কেক কাটেন, আমারে একটা বড়সড পিস দিয়েন। (রল্কিব ভাইয়ার পিসের চাইতেও বড়) 😀

    জবাব দিন
  9. হাসনাইন (৯৯-০৫)

    তারেক ভাই,
    লেট হেফি বাড্ডে। অনেক দেরি মনে হয় 😕
    পরের জন্মদিনের প্রথম শুভেচ্ছা এখনি বুকিং দিলাম 🙂
    এখন যাই গল্পগুলা পইড়া আসি।...।

    রাশেদ তোরে কিছু কমু না, বন্ধুদের প্রশংসা করতে হয় না। :grr:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।