কয়েকটি কবিতা


ক্রমশ কেমন একা হয়ে যায় জীবন। মনে হয়, কোথাও যেন নিস্তার নেই আর। একাকীত্ব জোনাকির মতো জ্বলে, নেভে, বুকের ভেতর কামড়ে ধরে। মুখের ওপর মুখোশ চাপিয়ে অনুভূতিহীন এক অবয়ব নিয়ে হাঁটি শহরের রাস্তায়। চারদিকে টের পাই এক ভীত সন্তস্ত্র জনপদ। কেউ কারো নয়। আম খেতে ইচ্ছে হয়। কিনি, কাটি, খাই, দাড়িতে মাখাই। ট্যাপ ছাড়ি, হাত ধুই৷ এ ঘর থেকে ও ঘরে যাই। জিমেইল খুলি, কালকের ক্যালেন্ডার দেখি৷ ঘুম আসে না। ট্যাবের পরে ট্যাব জমে স্ক্রিনে আঁধার নেমে আসে। আহত খরগোশের মতো সারারাত একটা বালিশ অস্বস্তি নিয়ে জেগে রয়৷ এই শুই , এই উঠি । দাঁড়াই, জানালা খুলে। বাইরে তাকিয়ে দেখি বিতৃষ্ণা ও বৃষ্টিহীনতায় ঝরে যাচ্ছে মাধবীলতার শহর৷


চরাচরে তীব্র ক্ষুধা, যৌনতায় আগ্রহ নেই
দুর্দিনে দুমুঠো খেতে দিও।
যদিও নিকটতম দূরে, তবু ভালোবাসা নিও।
বসন্ত দিনের কথা শ্রাবণের মেঘে হলে স্মৃতি,
বুক খোলা অরণ্যে হেঁটে যেতে,
আওড়াই তোমার উদ্ধৃতি।
তোমার কাছে কি আছে কান্নার কোন গান?
না বলা শব্দ, কোন সঞ্চিত অভিধান।
আজ যত দূর চোখ যায় শুধু তোমার পায়েরই ছাপ,
ধীর অভিমানে বুকে মেখে নেই
বেঁচে থাকার অভিশাপ।


আমাদের জীবনে তবে কিছুই নেই।
বর্ষা কিংবা বসন্ত, সেইতো
একই টোনে বেজে চলে
অবসাদের হারমোনিয়াম।

সংসার, চালচুলো, বৃষ্টি বিঘ্নিত রাত,
কেবলই কল্পনা, কাম,
তুষার উরুর ফাঁকে গলে যায়,
গলে যায় জীবনের যাবতীয় ক্লেদ।

কেবলই তোমার কাছে নারী,
আর ফেরা নয়, অবগাহনে দিন নেই আর,
ফেরারী ফাগুন শেষ হলে
এসো মহা সমারোহে নিভিয়ে দেই…প্রেম৷


ভ্যাকেশন মুড নেই।
এখানে প্রতিদিন জীবন,প্রতিদিন জীবিকা,
প্রতিদিন দহনকাল।
ভবিষ্যতের নোটিফিকেশন
কোন সুসংবাদ আনবে না জেনে
মঙ্গল মুছে ফেলি, সঙ্গে মায়াও।

উৎসবহীন দিন, রাত্রি।
প্রার্থনা শূন্য সমাচার;
সবিশেষ ভালো নেই।

আমাদের তাড়িত করে ক্ষুধা ও প্রেম।

দারিদ্র্যের অনেক রঙ;
ভার্মিলন-কোকিলোকোট-গাম্বুজ
বার্লিউড-অ্যারোলিন-সেলেডন-গ্লুকাস।
পরস্পরকে আলিঙ্গন করে
প্রত্যেকেই নিজ নিয়মের মতো।

রাত ফুরাচ্ছে ওই,
সূর্য উঠছে,
মিলিয়ে যাচ্ছে মেঘ
নতুন ভোরে কাজ চাই,
প্রার্থনা ও প্রেমের সাথে ভাত চাই।

৭৮ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।