হেলাল হাফিজের কবিতা ওড়না: কিছু বিতর্ক এবং আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি

কবির সাথে এক অন্তঃরঙ্গ মুহূর্তে

কবির সাথে এক অন্তঃরঙ্গ মুহূর্তে

হেলাল হাফিজ অতিসাম্প্রতিক কালে আবার কবিতা লিখছেন। কবির পয়ষট্টিতম জন্মদিন উপলক্ষে যুগান্তরের সাহিত্য পাতায় তিনটি কবিতা ছাপা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কবিতার নাম ওড়না। বলাবাহুল্য কবির সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা এর আগে বহু লেখায় উল্লেখ করেছি। সেই সূত্রে এই কবিতাটির প্রসব বেদনায় যখন কবি ছটফট করছেন তখন আমি কবির সাথে ছিলাম। প্রায়ই তিনি অনুভূতিহীন অন্যমনস্ক হয়ে যেতেন। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে কবিরা একটু অন্যমনস্ক,অগোছালো থাকবে এটাই নিয়ম হলেও কবি হেলাল হাফিজ অত্যন্ত গোছানো একজন মানুষ। তাঁর হোটেলের রুম,বিছানা,লকার তিনি সবসময় গুছিয়ে রাখেন। যতবার আমি তাঁর সাথে রাতে থেকেছি তিনি যথেষ্ট যত্ন তো নিয়েছেনই বরং যদি ভুল ক্রমে কখনো তাঁর পোশাকের সাথে আমার পোশাক মিলে যেত অথবা আমি কোন জিনিস অগোছালো করে রাখতাম পরক্ষণেই তিনি আবার তা গুছিয়ে রাখতে বলতেন। প্রতিবার আসার সময় তিনি গামছা অথবা তোয়ালে নিয়ে যেতে বলতেন এবং কখনোই নিজের গামছা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতেন না। যাহোক একবার তাঁকে উদাসীন ও অন্যমনস্ক দেখে জিজ্ঞেস করি, দাদা সব ঠিকতো? তিনি বলেন,নতুন কবিতার আইডিয়া মাথায় এসেছে।যুঁতসই শব্দ পাচ্ছি না। হেলাল হাফিজ শব্দ শিকারি একজন কবি। যাঁরা হেলাল হাফিজ পড়েন তাঁরা জানেন। তাঁর বিখ্যাত ফেরিঅলা কবিতার শেষ লাইনে হৃষ্টপুষ্ট শব্দটি খুঁজে পেতে তার সাড়ে চারমাস সময় লেগেছে। এটা তাঁর মুখেই শোনা গল্প। আমরা যাঁরা তরুণ লেখক। কবিতা লিখি, তাঁদের সবসময় তিনি বলেন শব্দ শিকার করতে। যাহোক,আমি আর কবিকে কবিতার আইডিয়া এর কথা জিজ্ঞেস করতে সাহস করি না। যদিও তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসেন। এটা তিনি নিজের মুখেই অনেকবার বলেছেন। এও বলেছেন আমার জন্য তাঁর মন কাঁদে। আমি তাঁর প্রেমিকা। পাঠক হয়তো আমাকে একজন আত্মপ্রচারক এবং নির্লজ্জ ভাবছেন। আসলে আমাদের সম্পর্কের গভীরতা ও অনুভূতি এতোটা প্রবল যে না লিখে পারছি না। যাহোক এরপর তাঁর জন্মদিনের দুই দিন আগের এক রাতে আমি তাঁর হোটেলে যাই। প্রায় ছয়মাস পর। যাওয়ার পরেই কবি তাঁর ব্যাগ থেকে পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে লেখা গুলো বের করে দেন। এর মধ্যে যুগান্তরের সাহিত্যপাতায় প্রকাশিত কবির কবিতা ওড়না পড়ে শুধু মুগ্ধ নয় বরং চরম অভিভূত হই। কবিতাটি তিনি নিজ মুখে আমি এবং আমার এক মেয়েবন্ধুকে মুঠোফোনে পড়ে শোনান। সে রাতে আমার মনে হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রোমানটিক কবিতাটির লাইনটি আমি শুনি। কবিতাটি এমন,তোমার বুকের ওড়না আমার প্রেমের জায়নামাজ। যারা কবিতার জগতে বিচরণ করেন এবং রোমানটিক তাঁরা হয়তো এই লাইনটির গভীরতা বুঝতে পারবেন। সে রাতে কবি আমাকে উপদেশ দেন আমি যেন কখনোই কবিতায় নারীর স্তন,যোনী কিংবা অন্য অশালীন শব্দ ব্যবহার না করি। তাঁর মতে এতে নারীকে অপমান করা হয় এবং নারীরা এটা পছন্দও করে না। কবিকে ব্যক্তিগত ভাবে এই কবিতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। কবি বলেন,জায়নামাজ যেমন খুব পবিত্র একটি জিনিস তেমনি নারীর বুকের ওড়নাও পবিত্র। মুলত নারীকে প্রেমের প্রার্থনায় কল্পনা করতে গিয়েই কবি এই উপমা ব্যবহার করেছেন। এবং তিনি আরো জানান যে তিনি এই বুকের শব্দটাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একবার ভাবলেন গলার ওড়না দেবেন,একবার মাথার। কিন্তু কোথাও অপূর্ণতা থেকে যায় বিধায় তিনি এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। পরদিন আমি সেই লাইন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম কবির নাম সমেত। এরপর একের পর এক সব ভয়াবহ কমেন্ট এলো। কখনোই ভাবিনি শুধুমাত্র জায়নামাজ শব্দটি ব্যবহারের কারণে এটি অনেকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে। অনেকে এটিকে অশ্নীল বলে। কেউ কেউ আমাকে নাস্তিকও গালি দেয়। অবশ্য তাঁরা এতোটাই ধর্মপ্রাণ যে ধর্মীয় ঘোরের মাঝে থাকতে থাকতে দেখেওনি যে কবিতার নিচে কবির নাম দেয়া। আমাকেই কবিতাটির রচয়িতা ভেবে অনেকেই গালিগালাজ করলো। বুঝলাম সেই চিরাচরিয়ত প্রবাদ বাঙালির ধর্ম অনুভূতি ও যৌনঅনুভূতি কোনটি প্রবল তা বলা মুশকিল এর প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি। আমি একাই জড়িয়ে গেলাম বিতর্কে। আমি বোঝাতে চেষ্টা করলাম জায়নামাজকে এতো গুরুত্ব দেয়ার কিছুই নেই। এটি এক টুকরো মকমলের কার্পেট ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও এই লেখা পড়েও অনেকে আমার সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করবেন। আসলে আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারতা বোঝাতে চাইছি। জায়নামাজে নামাজ পড়া আমাদের সংস্কৃতি নয়। এটি পূর্বের সংস্কৃতি। আমাদের হজ্ব যাত্রী এবং প্রবাসিরা এটিকে ধার করে এনেছেন মাত্র। পবিত্র কোরআনে জায়নামাজের কথা নেই। নবীজী নামাজ পড়তেন খোলা ময়দানে ঘাসের ওপর। নামাজ পড়তে হলে দরকার একটা পরিস্কার জায়গা। এক টুকরো পরিস্কার কাপড়। পরিস্কার গামছার ওপর নামাজ পড়লেও যে সওয়াব,জায়নামাজে নামায পড়লে একই সওয়াব। আর জায়নামাজ ও যদি অপবিত্র থাকে তবে নামাজ হবে না। এক্ষেত্রে নারীর ওড়নাকে জায়নামাজের সাথে তুলনা দেয়া দোষের কিছু নয়। এক্ষেত্রে একজনের কমেন্টের উত্তরে আমি নিচের কমেন্টটি করেছিলাম।

জায়নামাজে নামাজ পড়া কখনোই আমাদের সংস্কৃতি না। এটি আরবের সংস্কৃতি। আপনি বললেন আমরা অন্য সংস্কৃতির ধারক বাহক কেন হবো? আমরা কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই অন্য সংস্কৃতির ধারক বাহক। আমাদের বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি চার হাজার বছরেরও পুরনো। উয়ারি বটেশ্বর এর গবেষণা থেকে জানা যায়। তবে আমাদের এই উপমহাদেশে এতো মানুষের আগমন ঘটেছে যে আমরা মিশ্র হয়ে গেছি। সত্যিকারের বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক অনার্যরা। এরপর আরবের সংস্কৃতি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ইসলামীকরণ এর মাধ্যমে। এটা অনেকের মানতে কষ্ট হবে। আরবের সংস্কৃতিই অধিকাংশ বাঙালি মুসলমানেরা বহন করে আসছি। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাবছি এটা না মানলে হয়তো গুনাহ হবে। একজন সমাজবিজ্ঞান এবং নৃবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমি প্রতিটি সংস্কৃতিকে,প্রত্যেকের মতবাদকে সম্মান করি। ধর্মের উত্পবত্তি,বিকাশ এ সম্পর্কিত অনেক বই পড়তে হয়। যেখানে প্রতিটি বিষয় চমত্কা্র ভাবে বর্নীত। এখন আসি কবিতার কথায়। বাংলা সাহিত্যে প্রিয়তমাকে দেবী বলার ঘটনা অহরহ। বিনয় মজুমদার তার প্রেমিকা গায়ত্রীকে ঈশ্বরী বলে ডেকেছেন। বিষাদ সিন্ধু উপন্যাস মীর মশারফ হোসেনের মনগড়া কাহিনী। কোরান হাদিসের সাথে যে ঘটনার মিল নেই। যেমন মিল নেই রামায়ন এর সাথে মেঘনাদ বদ কাব্যের। আমার মনে হয় আমরা এখনো ইউরোপিয়ান কনফোরমিস্ট সোসাইটিতে আছি। এরপর এনলাইটমেন্ট এসেছে,রেঁনেসা এসেছে। তাই এইসব গোঁড়ামি নিয়ে আর একবার ভাবা উচিত।

বাঁধ সাধলো কট্টর কিছু মুসলমান। তাঁদের দাবী কবিতাটিতে ধর্মকে হেয় করা হয়েছে। একজন তো এই ব্যাখা দিল যে, এখানে প্রচ্ছন্ন ভাবে শিরক করা হয়েছে। কবি তাঁর প্রেমিকাকে সিজদাহ করার কথা বলেছেন। প্রেমিকাকে আল্লাহর স্থানে বসিয়েছেন। কি হাস্যকর যুক্তি। এরা না বোঝে প্রেম। না বোঝে ধর্ম। এরা না ধার্মিক। না প্রেমিক। তাহমিনা শবনম আপা যদিও এক কমেন্টে সুন্দর ব্যাখা দিয়ে বললেন,নামাজ এবং জায়নামাজ এক নয়। এর আগে জায় উপসর্গ আছে। যেমন সুখ আর অসুখ এক নয়। তার কমেন্টেও কাজ হলো না। একের পর এক নোংরা কমেন্ট আসতে লাগলো। দুনিয়ার সব মাছলা জাহির করতে লাগলো অনেকে। কেউ কেউ বললো আমি কেন কবির হয়ে সাফাই গাইছি। তাদের বোঝালাম প্রিয় কবি এবং প্রিয় কবিতা নিয়ে সাফাই গাইতেই পারি। সেদিনই অনুধাবন করতে পারি বাংলাদেশ আফগান হতে বেশি দেরি নেই। আমাদের ধর্মীয় গোঁড়ামি আজ কবিতাকেও খামচে ধরেছে। ধর্ম এবং সাহিত্য যে আলাদা তাদের বোঝাতে ব্যর্থ হলাম। জানি না মেঘনাদ বধের মত কোন লেখা যদি কোরআনের আদলে কোন মুসলমান লিখতো তবে তাঁর কি অবস্থা হতো।এটাও বুঝতে পারি ছোটবেলা থেকে গান ও কবিতায় কেন মন মন্দিরের কথা বলা হয়েছে। কেন মন মসজিদের কথা বলা হয় নি। আসলেই কবি ও লেখকরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির সংকীর্ণতা ছাপিয়ে এগুলো কখনোই সাহিত্য হবে না। হতে দেবে না। যদিও ইউসুফ জুলেখা কিংবা বিষাদ সিন্ধু লেখকদের অপরিসীম সাহসের ফলে ধর্মগ্রন্থের কাহিনী না হয়ে সাহিত্য হয়েছে। কারণ দুটোতেই কাহিনীর পরিবর্তন হয়েছে।লেখক তাঁর কল্পনা শক্তি ব্যবহার করেছেন। আমরা কি তবে দিন দিন আরো গোঁড়া হচ্ছি? বাধ্য হয়ে আমি স্ট্যাটাসটির প্রাইভেসি অনলি মি দিতে বাধ্য হই। এরপর রাগ করেই ঐ কবিতার আদলে আরো একটি কবিতা লিখি। যা এমন,তোমার গলার মালা আমার তসবিহ। সেই একই ফলাফল। আবারো বোঝাতে ব্যর্থ হলাম তসবিহ গুনে জিকির করলেও যে সওয়ার হাতের আঙুল গুনে জিকির করলেও একই সওয়াব। শুধুই পুতির একটা মালাকে এতো সম্মান দেয়ার মানে হয় না।

বাঙালি মুসলমানের মন নামে আহমদ ছফা একটা বই লিখেছেন। আমার মনে হয় এসব নাজুক অনুভূতিসম্পন্ন মুসলমানের বইটা পড়া উচিত। পরে আমি এই কবিতা সম্পর্কে বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সরকার আমিনকে জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন,নারীর বুককে আমরা এখন অশ্নীল হিসেবে গণ্য করি। কারণ আমরা পর্ণআসক্ত প্রজন্ম। অথচ আমরা ভুলে যাই এই বুক কতোটা পবিত্র। এই বুকের দুধ খেয়েই আমরা বেড়ে উঠেছি। বড় হয়েছি। এটি আমাদের মাতৃমুক্তি। তাই এটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর মতে কবিতাটি যথেষ্ট দর্শনময় এবং গভীর প্রেমের শ্রদ্ধাবোধ সম্পন্ন একটি কবিতা। এই কবিতাটিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে লাগার কোন কারণই নাই।
যাহোক,প্রসঙ্গ বদলে গেল। এবার কবির কথায় আসি। কবি এবার পয়ষট্টিতে পা দিলেন। ছাব্বিশ বছরের থেমে যাওয়া কলম আবারো লিখতে শুরু করেছে। সর্বশেষ তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থের কাজ চলছে। অচিরেই আমরা পাবো তাঁর এই বইটি। কবির জন্য অসংখ্য শুভ কামনা থাকলো।

রাব্বী আহমেদ

৩,০৩৯ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “হেলাল হাফিজের কবিতা ওড়না: কিছু বিতর্ক এবং আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি”

  1. মুয়াজ (২০০৭-২০১৩)

    কথায় কথায় মানুষকে নাস্তিক বা মৌলবাদী বলা এখন খুব সাধারণ একটি বিষয়। যারা নিজেদেরকে একটু বেশী প্রগতিশীল মনে করেন তারা অন্যদেরকে মৌলবাদী বলে আনন্দ পান। আবার স্বঘোষিত ধর্মভীরুরাও কারণে অকারণে মানুষকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে থাকেন।

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    কবিতাটা দিয়ে দিলে ভালো হতো।

    কবিরে তসলিমা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা কইরো তো। তসলিমা তার নামে অনেক খারাপ কথা মার্কেটে ছড়াইছেন।
    প্রেম, জায়নামাজ, ওড়না, বুক এইসব নিয়ে পরে কথা হবে।
    কবি বুঝেই লিখেছেন।

    স্তন, উরু, যোনি র ব্যাবহার কবিতা বা নারীকে নোংরা করে ন্য ব্যাবহার জানতে হয়। আমি বলছি না যে কবি এর যথাযথ ব্যাবহার জানেন না। তিনি অবশ্যই জানেন।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    এদেশের মুসলমান এক সময় মুসলমান বাঙালি, তারপর বাঙালি মুসলমান, তারপর বাঙালি হয়েছিলো; এখন আবার তারা বাঙালি থেকে বাঙালি মুসলমান, বাঙালি মুসলমান থেকে মুসলমান বাঙালি, এবং মুসলমান বাঙালি থেকে মুসলমান হচ্ছে। পৌত্রের ঔরষে জন্ম নিচ্ছে পিতামহ। - হুমায়ুন আজাদ।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  4. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    রাব্বী,
    ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত বিতর্কের কথা জানতামইনা।
    হেলাল হাফিজের শ্মশ্রুমণ্ডিত চেহারাটা হারিয়ে যাওয়ায় চিনতেই পারছিনা।
    বয়সও বেড়েছে। আশা করি, সুস্থ আছেন।

    উন্মাদনার যুগে কত কিছুই ঘটবে, লোকে কতকিছুই বলবে। সীতাকে নগ্ন করে আঁকার কারণে মকবুল ফিদা হুসেনের স্টুডিও তছনছ করেছে হিন্দুবাদীরা। এদের সম্পর্কে কিছু বলার নেই -- আমাদের দেশগুলোতে এরাই সংখ্যাগুরু -- দুঃখজনকভাবে তুমি সংখ্যালঘুর দলে, তোমার কথার কোন দাম নেই, মাথার কোন দাম নেই।

    জবাব দিন
  5. আন্দালিব (৯৬-০২)

    স্তন উরু যোনি ইত্যাদি শব্দতে আমি কোন ট্যাবু পাই না। হাত পা চোখ শব্দে যেমন ট্যাবু নাই আমার কাছে, তেমনি এগুলোতেও নাই। তবে এইটা শুরুতে ছিল না। শুরুতে আমিও এই শব্দগুলোকে ট্যাবু অর্থেই শিখেছি। তারপর বয়স বাড়লে বুঝতে পেরেছি যে এটা আসলে সামাজিক অভ্যাস। প্রতিটা সামাজিক অভ্যাস যেমন আমাকে পালন করতে হবে না, তেমনি এটাও মানতেই হবে এমন কথা নেই। নারী বা পুরুষের শরীর নিয়ে সরাসরি কথা বলার অভ্যাস করেছি, সেজন্য এইসব শব্দ থেকে ট্যাবুটুকু প্রাগৈতিহাসিক ব্যাপার ধরে নিয়ে ঝেড়ে ফেলেছি। হেলাল হাফিজের সাথে এইটা নিয়ে আলাপ করতে পারলে খুব ভাল হতো!

    তুমি ভাগ্যবান। যতোটা পারো, তার কাব্যভাবনা, কাব্যচিন্তাকে জেনে নেয়ার চেষ্টা করবে। এতে অনেক বিষয় সম্পর্কে দেখবে তোমার নতুন ধারণা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

    জবাব দিন
  6. টিটো মোস্তাফিজ

    ভাড়া কইরা আনবি মানুষ কান্দিতে মোর লাশের পাশে/চারিদিকে রাখবি নজর সে না যেন দেখতে আসে/সে যদি পায়রে খবর ক্যামনে দিবি লাশের কবর/আমারে জাগিতেই হবে যদি গো তার নয়ন ভাসে/ও তার হৃদয় যেন পবিত্র ঐ মদিনারই মাটি/ আমি তার হৃদয়ে বিছাইয়াছি জায়নামাজের পাটি... মনির খানের দারুণ একটি গান।
    এটা নিয়েও বিতর্ক করবে না কি তেনারা? :-/
    গানটা শুনে তোমার লেখাটার কথা মনে পড়ায় প্রশ্ন জাগলো।


    পুরাদস্তুর বাঙ্গাল

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।