টুকরো স্মৃতি ৫

ক্যাডেট কলেজের কাহিনী গুলো মনে হলেই মনের অজান্তে হেসে উঠি। মাঝে মাঝে এমন বিব্রত কর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয় যা সামলে ওঠা কষ্টের।সেদিনের ঘটনা। বসুন্ধরায় গেলাম একটা বিশেষ কাজে। হঠাত্‍ করেই কলেজের কথা মনে করে হেসে উঠলাম। সামনে তাকিয়ে দেখি এক আধা বঙ্গ ললনা আমার দিকে দৃষ্টিপাত করে আছে। আমি অনেক ক্ষন পর ব্যাপারটা ধরতে পারলাম। মেয়েটা হয়তোবা ভেবেছে আমি তার ড্রেস আপ নিয়ে হেসেছি। যা হোক প্রসঙ্গ পাল্টে যাচ্ছে। টুকরো স্মৃতির এবারের পর্ব সাজিয়েছি কলেজের বেশ কিছু বিশেষ ঘটনা নিয়ে। আশা করছি পূর্ববর্তী পর্ব গুলোর মত এটিও নির্মল বিনোদন দেবে।

এপিসোড এক:

নবম শ্রেনীর কথা। নতুন টয়লেট লিডিং পেয়েছি। মোটামুটি সব বোরিং ক্লাস গুলোই টয়লেটে কাটে। আমাদের তত্কালীন প্রিন্সিপাল লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুবহানী স্যার কিভাবে যেন ব্যাপারটা টের পেলেন। তিনি প্রায়ই টয়লেটে হঠাত্ করে হামলা দেন। আমরাও ক্যাডেট বলে কথা। স্যারের উপস্থিতি টের পেলেই টয়লেটের ভেতর ঢুকে পরতাম। একবার স্যার হঠাত্ জুনিয়র টয়লেটে হামলা দিলেন। আমাদের জনৈক ক্লাশমেট ভয় পেয়ে চার নম্বর টয়লেটে আশ্রয় নিল। এদিকে স্যার বাইরে থেকে অপেক্ষা করছে কখন ও বের হবে। জনৈক ক্যাডেট আর বের হয়না। এদিকে স্যার নাছোড় বান্দা। একসময় সেই ক্যাডেট বের হলে স্যার রাগান্বিত কন্ঠে বললেন ‘what r u doing inside d toilet for a long time?

জনৈক ক্যাডেট ভয়ে থতমত খেয়ে বলল ‘Sir, ‘বদনা’ of toilet waz ‘ফুটা’. . . . .:D

এপিসোড ২:

আমাদের কলেজের এক ম্যাডামের নাম ছিল বানু। তিনি “স” কে “শ” উচ্চারন করতেন। তিনি ছিলেন সিভিকস এর টীচার। কিন্তু উচ্চারন করতেন

“শিভিকশ” আমরা তখন কলেজে একেবারে নতুন। আমাদের এক ক্লাশমেট শব্দ করে বায়োলোজি পড়ছে। ও বলতে লাগলো ” পরাগ রেনু ডিম্বানু… ম্যাডাম বাইরে থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাত্ লাস্ট শব্দটা তার কানে গেল। তিনি ক্লাসে ঢুকে বললেন “কতিপয় দুশশকিরিতি কারী ক্যাডেট আমাকে টিশ করেশো। আমি এখনি ভি পি শ্যার বলে দেবো. . . . .:Dএপিসোড ৩:

আমাদের কলেজের এক nco stuff ভাঙা ভাঙা ইংরেজী বলতেন। বিশেষ কারনে তিনি adjutant স্যার এর সাথেও ইংরেজীতে কথা বলার চেষ্টা করতেন। কারনটা অজ্ঞাত। তার দায়িত্ব ছিল ক্যাডেট দের Discipline চেক করা। কোন কারনে কোন ক্যাডেট এর ডিসিপ্লিন খারাপ ধরা পড়লে তাদের Adjutant এর কাছে জবাবদিহী করতে হত। একবার প্রিন্সিপাল প্যারেডে জনৈক ক্যাডেট জুতা পালিশ না করে adjutant এর কাছে ধরা খাইছে। adjutant sir হাউস স্টাফ কে ডাকলো। এবং জুতা পালিশ না করার কারন জিজ্ঞেস করল। স্টাফ এর উত্তর ‘Sir,sky iz cloud,,light is dark,,so shoe is not black. . .:D

(তিনি বোঝাতে চাইছে স্যার আকাশে মেঘ। তাই রোদ

নাই। এবং জুতো পালিশ বোঝা যাচ্ছেনা. . .)

এপিসোড চার:

সপ্তম শ্রেনীর কথা। আমাদের টার্ম এন্ড পরীক্ষায় আর্টস এন্ড ক্রাফটস এর সিলেবাস ছিল জল রঙে গ্রামের দৃশ্য আঁকা। আমরা তখন একদম নতুন ক্যাডেট। ক্লাস এলেভেন এর ভাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল সপ্তম শ্রেনীকে হাউস কমন রুমে আর্টস এর প্রাকটিস করাতে হবে। দায়িত্ব দেয়া হলো অষ্টম শ্রেনীর ভাইদের। আমি তখন একটা ঘর ও আঁকতে পারিনা। মোটামুটি একটা আয়ত ক্ষেত্র এর দু পাশে ত্রিভুজ এঁকে ঘরের চালা বানানোর চেষ্টা করি। এর ই মধ্যে শুভ ভাই বললেন ‘ক্লাস সেভেন তোমরা অবশ্যই কাল দু টা গরু আঁকবা। জামান স্যার খুশী হয়ে বেশি নম্বর দিবে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা। এ যাত্রায় কোন ভাবে বাঁচার জন্য অভিনব কৌশল আবিস্কার করলাম। আমাদের ক্লাশের সবচেয়ে ভালো আর্টিস্ট এহসান কে দিয়ে শক্ত কাগজে গরু আঁকালাম। এরপর কাঁচি দিয়ে কাটলাম। পরদিন পরীক্ষা হলে খাতার ওপর কাগজে কাটা গরুর শেপ রেখে পেন্সিল ঘুরাচ্ছি এর মধ্যে ধরা খেলাম দত্ত স্যারের কাছে। তিনি কাগজটা ছিঁড়ে ফেললেন। কি আর করা আমি অসমাপ্ত গরুকে নিজের মনের মত করে শেপ দিলাম। এবং রঙ করলাম। খাতা দেয়ার সময় জামান স্যার বললেন ‘তোমরা কেউ একজন গ্রামের মাঠে উট এঁকেছো। উট

এলো কোথা থেকে. . . . .:D

এপিসোড পাঁচ:

নতুন ক্লাশ সেভেন ফল ইন এ জয়েন করছে। এদেরকে বলা হলো কেউ যেন ফল ইনে মুভ না করে। এবং প্রয়োজনে কারন প্রদর্শন সহ পারমিশান নিয়ে মুভ করতে পারবে। একদিন গেমস এর ফল ইনে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাত্‍ মারজান নামে এক ক্যাডেট বললো ‘ভাইয়্যা মুব (Move) করমু. . .

বেচারা অজ্ঞাত কারনে বরিশাল এর ভাষা ব্যবহার করে।

আমাদের একজন বললো ‘ক্যানো?

মারজানের রিপ্লাই ‘বাইয়া,

প্যান্টের মইদ্দ্যে মশা কামোড় দেছে। একছেড় (খুব) খাউজায় (চুলকায়). . . . .:D

৭৪৩ বার দেখা হয়েছে

৫ টি মন্তব্য : “টুকরো স্মৃতি ৫”

  1. লুবজানা (২০০৫-২০১১)
    নবম শ্রেনীর কথা। নতুন টয়লেট লিডিং পেয়েছি। মোটামুটি সব বোরিং ক্লাস গুলোই টয়লেটে কাটে। আমাদের তত্কালীন প্রিন্সিপাল লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুবহানী স্যার কিভাবে যেন ব্যাপারটা টের পেলেন।

    সুবহানী স্যার আমাদের ও প্রিন্সিপাল ছিলেন!!!


    নিজে যেমন, নিজেকে তেমনি ভালবাসি!!!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।