টুকরো স্মৃতি ৪

ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হবার পর প্রায়ই স্বপ্ন দেখি আবার সেই দিন গুলোতে ফিরে গেছি। অদ্ভুত সুন্দর সেই স্মৃতি গুলো মাথার ভেতর ঘুরপাক খায়। ক্যাডেট কলেজ থেকে যেদিন বের হয়েছিলাম সেদিন হয়তো ভাবিনি জীবনটা এত স্মৃতিময় হয়ে উঠবে। আজ আরো কয়েকটা টুকরো স্মৃতিচারন করছি।

আমরা তখন ক্লাস সেভেনে। নামায পড়াটা তখন ছিল বাধ্যতামূলক। এরমাঝে কিছু মোল্লাটাইপ ক্যাডেট ছিল যারা খুব ধার্মিক পার্ট নিত। সারাদিন নামায হাদিসের কথা বলে প্রেপের পর জি মিউজিকের গান দেখত। আর অনেক কেই দেখতাম লাইটস অফের পর গোসলের সিরিয়াল দিতে ব্যস্ত। যা হোক। তখন আমাদের কলেজ Adjutant নুরুল আলম স্যার। ক্লাস টুয়েলভ থেকে শুরু করে কলেজের টীচাররা পর্যন্ত তাকে প্রচন্ড ভয় পায়। তিনি প্রায়ই হুট করে সকালের পিটিতে এসে হাজির হতেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেভেন থেকে টুয়েলভ গ্রাউন্ডে অন প্যারেড হত। সারাদিন প্রচন্ড খাটুনির পর যখন ঘুমাতাম তখন মনে হত স্বর্গে আছি। আর তাই অলসতায় ফজরের নামাজটা প্রায়ই কাজা পড়া হত। এরমধ্যে ছিল সেই তথাকথিত মোল্লা টাইপ ক্যাডেটদের অত্যাচার। অতি উত্‍সাহে এরা ভোর পাঁচটার সময় জুনিয়র করিডোরে গিয়ে জানালায় শব্দ করতো। একবার সিদ্ধান্ত নিলাম এদের মোল্লাত্বকে একটা শিক্ষা দিতে হবে। কোন এক শনিবারের সকালের কথা। মোল্লা টাইপ একজন ক্যাডেট খুব ঘটা করে আজান দিচ্ছে। ‘হাইয়া আলাছ ছালা ‘ পর্যন্ত গেছে এমন সময় কেউ একজন হাউসে চিল্লানি দিল ‘boyz,adjutant,adjutant. . . .আর আমরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দিলাম দৌড়। আমাদের ব্যস্ততা টের পেয়ে সেই ভাইয়া আজান অসমাপ্ত রেখেই দিল দৌড়।. . . . . . [:-D]
প্রতিদিন রাতে এশার নামাযের সময় আমাদের ধর্মীয় আলোচনা হত। সেদিন রাতে আলোচনার মাঝে কেউ একজন বললো ‘আসলে আমাদের আল্লাহকে বেশি ভয় পাওয়া উচিত্‍ Adjutant কে নয়. . . . . .
আমি সেই ভাইয়ার মুখের দিকে তাকালাম। দেখলাম তার মুখটা ঘামাচ্ছে। কোনভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি টিভি রুমে চলে গেলেন।

ক্লাস সেভেনের প্রথম দিন। আমি রনন আর জুহেব ছিলাম একই রুমে। রুম নাম্বার ৩৩৩। সোহরাওয়্যার্দী হাউস। আমাদের রুমের কাপড় শুকাতে দেয়ার তাড়টা ছিল একটু ঢিলা। রুম লীডার তাজবীর ভাই প্রথমেই এসে সতর্ক করে দিয়েছেন রুমের তাড় যেন কেউ না ধরে। আমরা মোটামুটি রুমলীডারের কথামত সবাইকে একই কথা বলি। তখন কে কোন ক্লাস চিনতাম না। আমাদের তত্‍কালীন এসিসট্যান্ট হাউস লীডার ছিলেন বেলায়েত ভাই। আমরা তখনো তাকে চিনিনা। ভাইয়া সাইজেও ছোট খাটো ছিলেন। মনেহত ক্লাস এইট। একবার তিনি রুমে ঢুকলেন। সিনিয়রদের আবার অভ্যাস তাড় ধরে দুলতে দুলতে কথা বলা। ভাইয়া তার স্বভাব মত তাড় ধরে ঝুলে ঝুলে কথা বলছেন। হঠাত্‍ করে রনন বলে উঠলো ‘ভাইয়া তাড় ঢিলা।
ভাইয়া চমকে উঠে রননকে জিজ্ঞেস করলেন ‘অই তোমাকে এই কথা কে শিখাইছে?
রনন বললো ‘তাজবীর ভাই।
‘ওকে তাজবীরকে বলবা আমার সাথে দেখা করতে. . . .কথাটা বলেই ভাইয়া বের হয়ে গেলেন। আমরা ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষন পর তাজবির ভাই এলেন। চোখেমুখে আগুন। এসে ধাড়াম ধাড়াম রননকে কয়েকটা থাপ্পড় মারলেন। আমরা কিছু বুঝতে পারলাম না। পরে জেনেছিলাম বেলায়েত ভাইকে ক্লাস এইটের ভাইয়ের তাড় ঢিলা বলে ক্ষেপাত। আর বেলায়েত ভাই তা জানতেন। তিনি ভেবেছিলেন তাজবীর ভাই হয়তো জুনিয়দের ও শিখিয়ে দিয়েছে তাকে তাড় ঢিলা বলে ক্ষেপানোর জন্য। আর সেদিন বেচার তাজবীর ভাইকে অনেক পানিশমেন্ট খেতে হয়েছিল।. .

আমাদের ক্লাসের জনৈক ক্যাডেট সীক রিপোর্ট করছে।কারন পায়ে ফোস্কা উঠছে। তখন নিয়ম ছিল কেউ সীক রিপোর্ট করলে সকালে adjutant স্যারের সাথে দেখা করতে হতো। তিনি কারন জিজ্ঞেস করতেন।স্যারের সাথে কথা বলতে হতো ইংরেজীতে। আমাদের সেই ক্লাসমেট ছিল ইংরেজীতে বেশ কাঁচা। সকালে ঘুম থেকে উঠে রুম মেটকে ফোস্কার ইংরেজী জিজ্ঞেস করলো। ঘুম জড়ানো ঘোরে রুমমেট ফোস্কা না শুনে শুনল পুরস্কার। ও বললো ‘দোস্ত Reward’
সকালে পিটিতে ADJUTANT স্যার একে একে কারন জিজ্ঞেস করছে। ওর কাছে এসে বললো ‘Whatz ur problem?
cadet: Sir I have some rewards on my leg
স্যার শুনে বেশ অবাক হলো। বললো ‘Whatz on ur leg?
cadet:reward sir. . .
স্যার বললেন ‘speak in bangla. . .
তখন ও বললো ‘Reward মানে স্যার ফোস্কা. . . . . . [:-D]
এই কাহিনীর পর আমার সেই বন্ধুকে প্রায়ই অক্সফোর্ড ডিকশোনারি পড়তে দেখতাম। Adjutant স্যার নাকি প্রায়ই ওর viva নিতেন।
adjutant স্যার চলে গেলেও ও আর বদলায়নি। নানা সময় নানা উদ্ভট ইংরেজি ওর মুখে শুনতাম। একবার টুয়েলভে থাকতে কোন এক মঞ্চপ্রতিযোগীতায় ও একটা ডায়লগ দিয়েছিল ‘i am the enoughest performer from sher e bangla house. . . . . . . . [:-D]
আসলে ও বোঝাতে চেয়েছিল এই প্রতিযোগীতায় ও ই শেরে বাংলা হাউসের সবচেয়ে যোগ্য প্রতিযোগি।. . . . .পুরো অডিটরিয়ামে সেদিন হাসির বন্যা বয়ে গেছিল। বেচারার নাম সেদিন থেকে হয়ে গেল ‘enoughest……………….:P

ক্যাডেট কলেজে মেয়ে না থাকায় মোটামুটি ক্যাডেটদের পুরো টার্ম কেটে যায় দু একজন ম্যাডামের মুখ দেখে। এরমাঝে ক্যাডেটদের টার্গেট থাকতো ক্যাম্পাসের মেয়েদের দিকে। ক্যাম্পাসের মেয়ে বলতে শিক্ষকদের মেয়ে আর কি। কিছু কিছু মেয়ে আবার এই সুযোগটা কাজে লাগাত। তবে ক্যাডেটদের চয়েজ সবসময় ই ফিল্মের নাইকা টাইপ। এরকারন আমাদের চোখ বন্দী থাকত অই টিভির পর্দার দিকেই। আর তাই মনে হত সব মেয়েই দেখতে ক্যাটরিনা কিংবা ঐশ্বরিয়া এর কাছাকাছি হবে। আমাদের ক্যাম্পাসে তখন হিট গার্ল সুস্মিতা। প্রয়োজন ছদ্মনাম ব্যবহৃত হল। আমাদের হাউস মাস্টারের মেয়ে। মেয়েট দেখতে ছিল বেশ বিশ্রী। তারচেয়েও অদ্ভুত রকমের ছিল ড্রেস আপ। পেত্নী টাইপ কোন মেয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাসে ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরে হাঁটবে আর ক্যাডেটদের সাথে ভাব নেবে আর যাই হোক ক্যাডেটস তা মেনে নেবেনা। আর মোটামুটি কেউ ওকে দেখতে পারতোনা। একবার সি এ ডির কাজে হাউস অফিস থেকে হাউসমাস্টারের বাসায় ফোন দেয়া হল। আমাদের হাউসলীডারের আবার লজ্জা বেশি।ফোন ধরল স্যারের মেয়ে।

হাউসলীডার: হ্যালো স্যার…
ওপাশ থেকে ‘না আমি সুস্মিতা। আপনি?
‘ইয়ে মানে আমি হাউসবেয়ারা. . …………….:D

কোন এক কারনে আমি একবার কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। সারাদিন হাসপাতালের বেডে গড়াগড়ি খাই। মাঝেমাঝে প্যাথোলজি রুমে গিয়ে স্টাফের সাথে আড্ডা দেই। আর সারাদিন হাসপাতালে কে কে আসল এর ওপর বেহুদা নজরদারী করি। একদিন দেখলাম হাসপাতালে বাংলার জাকির স্যার আসছে। আমি স্যারকে দেখে অবাক হলাম। কারন স্যার এম্নিতে বেশ লাজুক আর ক্যাডেট কলেজের মেডিকেল অফিসারদের প্রতি তার আস্থা নেই। তারমতে ক্যাডেট যদি ডাক্তার স্যারকে গিয়ে বলে ‘স্যার আমার ব্রেন টিউমার হইছে।’ তাহলেও তিনি বলবেন ‘ওকে ওকে নো প্রোবলেম। তোমাকে নাপা আর পেইনকিলার দিচ্ছি। আর তোমার দু দিন পিটি প্যারেড গেমস এক্সকিউজ।’. . . . [:-P] মানে সব রোগের ই এক ট্রিটমেন্ট। যাহোক স্যারের সাথে ডাক্তার স্যারের কথা শুনে মনে হল তার জন্ডিসের লক্ষন। এবং স্যারকে ইউরিন টেস্ট করাতে বলা হল।
কিছুদিন পর দেখলাম স্যার প্যাথোলজি স্টাফকে প্রচন্ড ঝাড়ি দিচ্ছেন। “একটা রিপোর্ট ঠিক ভাবে করতে পারেন না। কিসের চাকরী করেন???
উত্তরে মেডিকেল স্টাফ বলল ‘স্যার আমার কি দোষ আপনার রোগী তো ইউরিন দিয়ে যায়নি পানি দিছে. . . . . .:P

ক্যাডেট কলেজের মেডিকেল অফিসার দের নিয়ে স্মৃতির শেষ নেই। একবার নওফেল মাহমুদ নামে একজন মাথানষ্ট মেডিকেল অফিসার আসল। ভ্যাকেশন থেকে আসার প্রথম দিন অর্থাত্‍ গেট থেকে ঢোকার পর পরই আমাদের সরাসরি মেডিকেল করতে নেয়া হল। আমরা তখন এলেভেনে। দেখলাম এলেভেন আর টুয়েলভের ভাইয়াদের ক্লাস সেভেনে ভর্তি পরীক্ষার মত মেডিকেল টেস্ট হচ্ছে। আর সবক্যাডেট দের ই মোটামুটি তা জানা। যার একটি অংশ টর্চ লাইটের ব্যবহার এবং কাশি। যথাসম্ভব সেন্সরড হবার চেষ্টা করছি। এলেভেন টুয়েলভের ক্যাডেটদের মকরা হওয়া স্বাভাবিক। সেদিন মেডিকেল স্টাফ নাম নোট করলেন। অর্থাত্‍ টর্চের আলো যাদের শরীরে ভেদ হয়নি।. . . [:-P]
যাহোক এই মেডিকেল সম্পর্কিত একটা কমন জোকস না বলে পারছিনা। জানিনা ঠিক কোন কলেজে কাহিনীটা ঘটেছিল। কাহিনীটা মোটামুটি এমন। কোন এক মেডিকেল স্টাফ জনৈক ক্যাডেটের মেডিকেল টেস্ট করাচ্ছেন। চিরাচরিয়ত স্টাইলে স্টাফ বললেন ‘অই জোড়ে কাশি দাও. . .। ক্যাডেট জোড়ে কাশি দেয়ার পরে স্টাফ বললেন ‘কি ব্যাপার স্মোকিং কর নাকি?
ক্যাডেটের বিধ্বংসী উত্তর ‘ক্যান স্টাফ? পেছন থেকে কি ধোঁয়া বের হয়?. . . . . . [:-D]

নওফেল স্যারের সময় নিয়ম ছিল ক্যাডেট মার্চ করে তার কাছে যাবে। কেউ মার্চ না করলে তাকে বিশাল ঝাড়ি খেতে হত। একবার জনৈক ক্যাডেট মার্চ না করে স্যারের রুমে ঢুকলো। স্যার বললেন ‘U cadet,get back,get back,march properly. . . . . .
ক্যাডেট: স্যার আমি খুব অসুস্থ।
ক্যাডেটের কথা শুনে মনে হয় স্যারের খুব মায়া হল। তিনি বললেন ‘ওকে ওকে কাম হেয়ার।সিট ডাউন। whatz ur problem?
ক্যাডেট:স্যার আমার নাকে প্রচন্ড সর্দি আটকে আছে. . . . . . [:-D]
পরের কাহিনীটুকু আর না ই লিখলাম।

আমাদের কেমিস্ট্রি ম্যাডামের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল বেশ ভালো। কলেজের অনেক স্যার ই আমাকে দেখতে পারতোনা। অজ্ঞাত কারনে এই ম্যাডাম আমাকে খুব পছন্দ করতেন। একবার পাক্ষিক পরীক্ষায় উনিশ মার্কের উত্তর দিলাম। খাতা দেয়ার পর দেখি চব্বিশ পেয়েছি। আমি অবাক হলাম। পরে জানলাম ম্যাডাম নাম দেখে খাতা দেখেছেন। হঠাত্‍ মনে পরলো কোন একদিন ম্যাডামকে লাভ ক্যান্ডি খাইয়েছিলাম। বৃথা যায়নি. .:P

টুকরো স্মৃতি: আমাকে কলেজে সবচেয়ে বেশী পছন্দ করতো মুস্তাকীম ভাই। ভাই আবার বিশাল খাইস্টা ছিল(!) একবার গুরুতর একটা অপরাধে তিনি আমাকে হাউসে তার রুমে ডাকলেন। আমি যাওয়ার পর তিনি আমাকে handsdown করিয়ে বই দিয়ে একটা বারি দিয়ে বললেন “অই ব্যথা পাইছ?
আমি বললাম “জি ভাই”
ভাই বলল
” ওকে ওকে গেট আপ। যাও রুমে যাও।”

ডিনারের সময় তিনি আমাকে একটা সুইট দিয়া বললেন ‘বেশি ব্যাথা পাইছিলা?

মনে ভাবিলাম একটা মানুষ এত ভাল ক্যান? সামান্য বইয়ের বারি দিয়া তার কি দরদ. . . . . [:)]

(আমার ভাই এখন লেফট্যানান্ট মুস্তাকীম। জাতিসংঘ মিশনে দক্ষিন আফ্রিকা গিয়া মশার কামড় খাইতেছে……….:P)

টুকরো স্মৃতির এ পর্ব এপর্যন্তই। কাহিনী গুলো আমাদের কলেজে থাকা অবস্থায় ঘটা। একই কাহিনী অন্য কোন কলেজে ঘটলে সেটা কাকতালীয়। আর এর অনেক কাহিনীই ইতোমধ্যে আমাদের ডায়লগস ফ্রম ক্যাডেট কলেজ ‘ নামক ফেসবুক ফ্যান পেইজে প্রকাশিত। আসলে ক্যাডেট কলেজে ছয়বছরে ছয়জনমের স্মৃতি। পরবর্তীতে তা লেখবো।

১,৭০৯ বার দেখা হয়েছে

১৩ টি মন্তব্য : “টুকরো স্মৃতি ৪”

  1. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    ধুর বেটা খালি আমারে শরম দেয় :shy: :shy: :shy:
    তয় লেখা ভালো ছিলো 🙂 🙂 🙂
    কিপিটাপ :clap: :clap: :clap:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  2. রেজা শাওন (০১-০৭)
    আমাদের কেমিস্ট্রি ম্যাডামের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল বেশ ভালো। কলেজের অনেক স্যার ই আমাকে দেখতে পারতোনা। অজ্ঞাত কারনে এই ম্যাডাম আমাকে খুব পছন্দ করতেন। একবার পাক্ষিক পরীক্ষায় উনিশ মার্কের উত্তর দিলাম। খাতা দেয়ার পর দেখি চব্বিশ পেয়েছি। আমি অবাক হলাম। পরে জানলাম ম্যাডাম নাম দেখে খাতা দেখেছেন। হঠাত্‍ মনে পরলো কোন একদিন ম্যাডামকে লাভ ক্যান্ডি খাইয়েছিলাম। বৃথা যায়নি. .:P

    এই রকম ভাল ম্যাডাম আমাদেরও ছিলেন একজন। পরে বদলি হয়ে বরিশাল গিয়েছিলেন। ইনিই কী সেই জন নাকি??

    জবাব দিন
  3. মজা পেলাম। 😉
    -------
    ফেবু পেজ থেকে এখানে আসা...... ক্যাডেট কলেজে পড়ি নি :no: ... তবে বিএনসিসি ক্যাডেট থাকাকালীন এ ধরনের কিছু মজার স্মৃতি আছে :shy: ... বিশেষ করে একবার ব্যাটালিয়ন এডজুটেন্ট মেজর আফতাবকে ভুলে স্টাফজি বলে ডাক দিয়েছিলাম :bash: :duel: (কি করব উনি সিভিলে চলাফেরা করছেন... দেখতেও লাগে স্টাফদের মত ...আর আমি তখন একবারে নতুন ক্যাডেট)... তিনি ক্যাডেট এডজুটেন্টকে ডেকে ৬৩টা পুশআপ দেয়াইছিলেন 😡 ... অর্ডার মনে হয় আরও বেশি ছিল... ক্যাডেট এডজুটেন্ট আমারে ৬৩টা দেয়াইয়া ছেড়ে দিয়েছিল। :boss:
    -------
    মুসতাকীম ভাইয়ের একটা ব্লগ পড়েছিলাম। উনি যেভাবে ব্যান এর ডর দেখায় :no:

    জবাব দিন
  4. মাহমুদ (৯৯-০৫)

    আমাদের তত্‍কালীন এসিসট্যান্ট হাউস লীডার ছিলেন বেলায়েত ভাই। আমরা তখনো "

    তাকে চিনিনা। ভাইয়া সাইজেও ছোট খাটো ছিলেন। মনেহত ক্লাস এইট। একবার তিনি রুমে ঢুকলেন। সিনিয়রদের আবার অভ্যাস তাড় ধরে দুলতে দুলতে কথা বলা। ভাইয়া তার স্বভাব মত তাড় ধরে ঝুলে ঝুলে কথা বলছেন। হঠাত্‍ করে রনন বলে উঠলো ‘ভাইয়া তাড় ঢিলা।
    ভাইয়া চমকে উঠে রননকে জিজ্ঞেস করলেন ‘অই তোমাকে এই কথা কে শিখাইছে?
    রনন বললো ‘তাজবীর ভাই।
    ‘ওকে তাজবীরকে বলবা আমার সাথে দেখা করতে. . . .কথাটা বলেই ভাইয়া বের হয়ে গেলেন।

    হা হা হা........... বিল্লু বাঈ তাইলে এমন ছিল !
    উম......... এই জিনিস ক্লাস সেভেনে আমার রুমমেট ছিল ৩৩৪ নং রুমে।

    ভালো লিখেছ। অনেক সুন্দর হইছে, চালাইয়া যাও বেটা।


    মাহমুদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।