ওয়ার্ল্ডকাপ সকার নিয়ে বিশেষ অজ্ঞের বিশেষ ভাবনা

৮ জুলাই ইতালিয়া ১৯৯০, স্টেডিও অলিম্পিকো,রোম। ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা এবং জার্মানীর মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবলের ১৪তম আসরের ফাইনাল ম্যাচ । ৯ বছরের বালক আর তার বাবার চোখ টিভি পর্দায়। তখন ফুটবলার মানেই দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা,আর ম্যারাডোনা মানেই উন্মাদনা। তাঁরাও আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। খেলার ৬৫ মিনিটে জার্মানির ক্লিন্সম্যানকে ফাউল করে আর্জেন্টাইন পেদ্রো মঞ্জন লাল কার্ড দেখেন। কোন বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম লাল কার্ড।৮৪ মিনিটে আর্জেন্টাইন রবার্তো সেন্সিনি রুডি ভোলারকে ফাউলের বদৌলতে রেফারীর দারুন উপহার পেল জার্মানি। পেনাল্টি শট নিলেন ব্রেহমে। গায়কোচিয়ার পেনাল্টি স্টপার হিসেবে খ্যাতি থাকলেও তিনি পারলেননা। খেলার শেষ মুহুর্তে গুস্তাভো দেজত্তি আরেকটি লাল কার্ড।আর্জেন্টিনা অবশিষ্ট ৯ জন খেলোয়াড় আর ০-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে। জার্মানির খেলোয়াড়দের কাপ নিয়ে বুনো উল্লাস আর ম্যারাডোনা সহ আর্জেন্টাইনদের কান্না হৃদয় ছুঁয়ে গেল। আর মেক্সিকান রেফারী এডগার্ডো কোডেসাল সেই ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং এর জন্য আজও বিতর্কিত বিশেষ করে আর্জেন্টাইনদের কাছে।

৩ জুলাই ২০১০ আবার আর্জান্টিনা জার্মানি, ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল। গত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো বাধা পার হয়ে জার্মানির কাছে কোয়ার্টারে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। এবারের দৃশ্যপটেও মেক্সিকো বাধা পার হওয়া আর্জেন্টিনার সামনে সেই পুরনো শত্রু জার্মানরা। জার্মান গোলার সামনে কি টিকতে পারবে আর্জেন্টিনা নাকি আর্জেন্টিনার মেসিডোনাদের মিসাইলে কুপোকাত হবে জার্মানরা সেটি দেখার জন্য আমাদের কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ভুভুজেলার অত্যাচারে কমেন্ট্রি শুনা যেতনা। স্বাগতিকদের বিদায়ের পর কি একটু কমেছে না কানে সহ্য হয়ে গেছে বুঝতে পাচ্ছিনা। জাবুলানি এবং রেফারি নিয়ে বিতর্ক ত আছেই। এইবারের রেফারি মহোদয়রা মনে হয় কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে বেশি উদার। প্রথম রাউন্ডের কিছু খেলা আমার কাছে বিরক্তিকর লাগলেও দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই জমে উঠেছে খেলা। অনেক দলই তাদের খোলস থেকে বেরিয়ে এসে ইয়োহান ক্রুইফের টোটাল ফুটবল না হলেও এটাকিং খেলছে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচই খুব উপভোগ্য হয়েছে।

এবার ফাইনালের আগেই এই কোয়ার্টার ফাইনালে আসলে আমি দুটি ফাইনাল দেখতে পাচ্ছি। ব্রাজিল নেদারল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা জার্মানি। আসল ব্রাজিলকে প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার(১০৫) বিপক্ষে খুজেই পাওয়া যায়নি। প্রথম গোল আদায় করতে লেগেছে ৫৫ মিনিট। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ছন্দে ফিরেছে এবং দুঙ্গা বুঝিয়েছেন তাঁর দর্শনে তিনি অটল। সুন্দর ফুটবল নয়, জয়টাই আসল এবং জয় তিনি আদায় করতে জানেন। তারপর আইভরিকোষ্টের সাথে যাই খেলেছে পর্তুগালের সাথে খেলা দেখে খুব হতাশ আমি। দুইদলই এমন রাবিশ ফুটবল খেলেছে যে রাত জাগাই বৃথা। আমি ব্রাজিলের এত মুন্ডুপাত করছি বলে ভাবার কোন কারন নেই আমি ব্রাজিল বিদ্বেষী। জোগো বনিতো আর সাম্বা শব্দ দুটি জড়িয়ে আছে ব্রাজিলের সাথে। সবারই ব্রাজিলের কাছে প্রত্যাশা বেশি।আর আমরা ফুটবল অনুরাগীরা শত কষ্ট হলেও রাত জেগে খেলা দেখি। কারন একটাই, ভাল দলগুলোর খেলা মিস করতে চাইনা। দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের খেলা দেখে মুগ্ধ। এখানে তারা প্রমান করেছে ব্রাজিলকে ফেবারিট মানতেই হবে। পরিস্কার ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টারে চলে এসেছে। অবশ্যই ব্রাজিলের খেলাও ছিল দৃষ্টিনন্দন। আগে যত নড়বড়ে অবস্থাই থাকুক না কেন জায়গামত ঠিকই জ্বলে উঠার সামর্থ তাদের আছে।

আর্জেন্টিনা ছাড়া একমাত্র নেদারল্যান্ড ক্লিন খেলে পুরো ৯ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে শেষ ১৬তে। দ্বিতীয় রাউন্ডেও ভাল খেলে কোয়ার্টারে জায়গা করে নিয়েছে। নেদারল্যান্ডের কথা তেমন কেউ বলছেন না কারন- হয়ত সাপোর্টার কম। কিন্তু এই দলই ব্রাজিলকে ধরিয়ে দিতে পারে। ব্রাজিলের যেমন আছে কাকা-রবিনহো-ফ্যাবিয়ানো। অরেঞ্জদের তেমন আছে রোবেন-স্নাইডার-ফন পার্সি-ফন ডার ভার্ট। টানা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত নেদারল্যান্ডকে হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই।
এই ম্যাচ নিয়ে প্রেডিকশন করা খুব টাফ তবে ব্রাজিল ফেবারিট। যেই জিতুক ফল ২-১ হতে পারে।আর ব্রাজিল এখানে পার পেলে ঘানা/উরুগুয়ের সাথে খুব সমস্যা হওয়ার কথা না।

উরুগুয়ের আসল তারকা দিয়েগো ফোরলান। প্রথমদিন ফ্রান্স উরুগুয়ে দুই দলের খেলা দেখেই হতাশ। তার পরের ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে ৩-০ জয়ে বড় অবদান ফোরলানের। এই ১০ নম্বরধারী একাই করেন ২ গোল। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও পজিটিভ খেলে মেক্সিকোকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যম্পিয়ন হিসেবেই বৈতরনী পার হয়। আর নক আউটে দক্ষিন কোরিয়ার সাথে খেলায় হিরো অবশ্যই সুয়োরেজ। একাই করেন দুই গোল। দ্বিতীয় গোল যেভাবে বাঁক খেয়ে জালে জড়ালো আর তারপর তাঁর সেলিব্রেট করার যে ভঙ্গি আমাকে বিস্ময়াভিভূত করেছে। ব্লাক স্টারদের ফিটনেসে অবাক করেছে অনেকেই। দেখা যাক আসামোয়া গায়ান কেপি বোয়েটাংরা কি করে? উরুগুয়ে ঘানা খুব টাইট ম্যাচ হবে আশা করি কিন্তু দুইবারের চ্যম্পিয়ান উরুগুয়েকে এগিয়ে রাখতে হচ্ছে।

আর্জেন্টিনা জার্মানি হেড টু হেড ৮ বার জয়ী আর্জেন্টিনা আর জার্মানী ৫ বার। কিন্তু আর্জেন্টিনার জন্য জার্মানি সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। জার্মানি মূল শক্তি বলবো কাউন্টার এটাক আর ক্ষিপ্রতা। ওদের আছে গোমমেশিন ক্লোসা যে পারফরমেন্সের জন্য বিশ্বকাপকেই বেছে নেয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলকিপারের বাড়ানো বল সরাসরি রিসিভ করে প্রথম যে গোল করলেন এক কথায় ভয়ংকর সুন্দর! আসলে ডিফেন্ডার গতির কাছেই হার মেনেছেন। আরো আছে শোয়েনস্টেইগার, ওজিল,লাম,পোডলস্কি। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে সবচেয়ে ভাল সূচনা জার্মানিই করেছে এই বিশ্বকাপে। কিন্তু তার পরের ম্যাচেই ক্লোসার লাল কার্ড সহ সার্বিয়ার মত আন্ডারডগের কাছে পরাজয়। তখন মনে হচ্ছিল বালাকের অভাব (আমি জার্মান বিরোধী হলেও বালাককে খুব ভাল পাই) বুঝি ভালই টের পাচ্ছে তারা। কিন্তু এর পর ঘানার সাথে ভাল খেলে অবশেষে দ্বিতীয় রাউন্ডে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে ভালমতই ফিরে এসেছে।

এই খেলা হয়ত কোন কোন আর্জেন্টাইনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি এত ভয়ের কিছু দেখছিনা।একমাত্র আর্জেন্টিনাই এইবার ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলে আসছে এখন পর্যন্ত। প্রথম ম্যাচে সুপার ঈগলদের সাথে ১-০ গোলে জেতা খেলা দেখে মন ভরেনি। কিন্তু তার পরের খেলায় দক্ষিন কোরিয়ার সাথে খেলা দেখে বুঝা গেল এই আর্জেন্টিনা সহজ নয় কারো জন্যই। একটি আত্নঘাতী ছাড়া হিগুয়েইনের হ্যাট্রিক। আসলে বলবো দলের প্রানভোমরা মেসি মুখে তোলে দিয়েছেন আর হিগুয়েইন খেয়েছেন। আর মার্টিন ডেমিচেলিচের ভুলে একটি গোল খেল ৪৬ মিনিটে। আর সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পেলেন তার পরের ম্যাচে গ্রিসের সাথে। বাকী গোল মার্টিন পালের্মোর। ৭ জন বদলী খেলোয়াড় নিয়ে আসলে ম্যারাডোনা তাঁর রিজার্ভ বেঞ্চ ঝালিয়ে নিলেন। ক্যাপ্টেন মেসি খেললেন এবং খেলালেন তার সতীর্থদের। ম্যান অফ দা ম্যাচও হলেন। আর মেক্সিকোর সাথে খেলা ছিল তেভেজময়। যদিও প্রথম গোল অফসাইডে পেয়েছেন কিন্তু তাঁর দুরপাল্লার শটে দ্বিতীয় গোলটি অসাধারণ।

আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে যেমন ফাঁক আছে তেমনি আছে জার্মানিরও। তবু আর্জেন্টিনা এ পর্যন্ত ১০ গোলের বিপরীতে খেয়েছে মাত্র ২ টি। মেসি তেভেজ হিগুয়েইন (৪ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ভিয়ার সাথে এগিয়ে) ছাড়াও বদলী হিসেবে জামাই আগুয়েরো, মিলিতো। মেসিকে মার্কিং এর জন্য দুই তিন জন বরাদ্ধ থাকলে অন্যরা বেরিয়ে যাবে বরাবরের মতই। আর মার্কিং করেও মেসিকে আটকানো যায়না। শুধু গোল পাচ্ছেন না এটাই আফসোস। নেক্সট ম্যাচে পেয়েও যেতে পারেন। আমি আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখব আর ফলাফল (৩-১)নির্ধারিত সময়েই আসবে।

গতবার গোল দেয়ার পর ডিফেন্সিভ হয়ে মূল প্লেমেকার রিকেলমেকে উঠিয়ে আবার মেসিকেও না নামিয়ে গর্দভ পেকেরম্যান কি প্রমান করতে চাইলেন কে জানে! এখনো আর্জেন্টাইনদের বিশ্বাস ঐ কোচই হারালেন আর্জেন্টিনাকে। গতবারের চেয়ে এবার মূল পার্থক্য মেসি, যাকে কোচ ভালই কাজে লাগাচ্ছেন। জার্মানির সাথে ডিফেন্সিভ খেলে ফায়দা নাই। অফেন্স ইজ দা বেস্ট ডিফেন্স নীতিতেই খেলতে হবে। জার্মানির আছে তারুন্যের সবকিছু ভেঙ্গে ফেলার ক্ষিপ্রতা আর আর্জেন্টিনার আছে তারুন্য আর অভিজ্ঞতার মিশেল। আর্জেন্টিনা জিতলে চেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যারাডোনার বিচক্ষন গেমপ্ল্যান আর অভিজ্ঞতার কারনেই জিতবে। একদিকে যেমন আছে ভেরনের মত বুড়ার অভিজ্ঞতা,আরেকদিকে আছে ভেরনিকার মত তারুন্যের অনুপ্রেরণা। 😛

এই বাধা পেরোলে সামনে পরবে আরেক শক্ত প্রতিপক্ষ-ভনিতা না করেই বলা যায় স্পেন। প্যারাগুয়ে যদিও আমাদের এশিয়ার শেষ ভরসা ব্লু সামুরাইদের বিদায় করে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে কিন্তু স্পেনের কাছে পাত্তা পাওয়ার কথা না। তারার মেলা যে দলে তাদের ক্যাসিয়াস,পুয়োল, ভিয়া,তোরেস,জাভি,ইনিয়েস্তা,রামোস কয়জনের কথা বলবো! যদিও সুইজারল্যান্ডের কাছে ধরা (০-১) খাওয়ার পরও আমার বিশ্বাস ছিল তারা ফিরে আসবে। হন্ডুরাস এবং চিলির বিপক্ষে ভাল খেলেই ট্র্যাকে ফিরেছে তারা। আর পর্তুগাল ত পাত্তাই পায়নি।
ফাইনাল কে খেলবে এই প্রেডিকশন এখন করাটা বড্ড জলদি হয়ে যায়। সেমি আসুক দেখি বিজ্ঞজনেরা কি বলেন। তবে আমরা কিন্তু একটা আর্জেন্টিনা ব্রাজিল স্বপ্নের ফাইনাল আশা করতেই পারি।

আর সেই যে ৯ বছরের বালকের কথা বলেছিলাম সে এখন ২৯ বছরের যুবক। বিশ্বকাপ নিয়ে তার উত্তেজনা এবং প্রস্তুতি কোনটারই কমতি নেই। এই ইস্যুতে কোন ক্লান্তিও নেই। রীতিমত জার্সি গায়ে চাপিয়েই খেলা দেখতে বসে।

২,২০৯ বার দেখা হয়েছে

৩১ টি মন্তব্য : “ওয়ার্ল্ডকাপ সকার নিয়ে বিশেষ অজ্ঞের বিশেষ ভাবনা”

  1. রকিব (০১-০৭)
    আর সেই যে ৯ বছরের বালকের কথা বলেছিলাম সে এখন ২৯ বছরের যুবক।

    ২৯ এ কী আর যুবক থাকে নাকি!!! আপনে তো বুড়া হয়ে গেছেন। 😛


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    নেদারল্যান্ডের কথা তেমন কেউ বলছেন না কারন- হয়ত সাপোর্টার কম। কিন্তু এই দলই ব্রাজিলকে ধরিয়ে দিতে পারে। টানা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত নেদারল্যান্ডকে হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। যেই জিতুক ফল ২-১ হতে পারে।

    চেয়ে চেয়ে দেখলাম, তুমি চলে গেলে... :khekz:

    জবাব দিন
  3. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    জার্মানির সাথে ডিফেন্সিভ খেলে ফায়দা নাই। অফেন্স ইজ দা বেস্ট ডিফেন্স নীতিতেই খেলতে হবে।

    একমত, মেক্সিকোর সাথে শেষ ২০ মিনিট ডিফেন্সিভ খেলে গোল খেয়েছে...

    জবাব দিন
  4. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    এই লেখার পাঠক আমি না, কিন্তু :just: তুই লিখছিস তাই না বুঝলেও একবার চোখ বুলাইলাম :-B

    আর সেই যে ৯ বছরের বালকের কথা বলেছিলাম সে এখন ২৯ বছরের যুবক

    খালি মেয়েরাই নাকি বয়স কমায় 😡 ???


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  5. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)
    ২৯ এ কী আর যুবক থাকে নাকি!!! আপনে তো বুড়া হয়ে গেছেন

    ধুর, কি কউ মিয়া।চল্লিশেও চালশে নয়।এইটা কোন বয়স নাকি।আর যে কয়দিন বিয়া না করি ততদিনই যুবক।বিয়া করলে ত মৃত। 😀
    জিতু হারামী,তোর ডাউট নেয়ার ত কারন দেখলাম না। তোর চাচা বলেই কি ৪০+ হতে হবে নাকি? পোলাপান অলরেডী বুড়া বলতেছে। x-(

    জবাব দিন
  6. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    কিন্তু এই দলই ব্রাজিলকে ধরিয়ে দিতে পারে

    দিতে পারে কি দাদা,বলুন দিয়েচে 😀
    আর নেদারল্যান্ডের জয়ে আমার উল্লাসের কারণ কিন্তু আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার বলে নয়।জানতে চাইলে পড়ুন অনেক পুরনো
    এই লেখাটি

    অফ টপিক-নিজের পুরনো লেখার বিজ্ঞাপনী প্রচারণা চালানোর অপরাধে আমি আমার নিজের ব্যান চাই 🙁

    জবাব দিন
  7. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    মাস্ফু, আমার মনে হয়েছে বাট দিতে পারে বলেছি ব্রাজিলকে :just: অনার করার জন্য।দিয়েছে কিভাবে বলি, ব্লগ ত দিয়েছি বিকেলে। প্রকাশ হতে হতে ব্রাজিল যায় যায়।টাইম দেখে আবার কেউ না ডাউট নেয় :khekz: :goragori:

    জবাব দিন
  8. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    উরুগুয়ে ঘানা ম্যাচ ত পুরা নাটকে ভরপুর।সুয়োরেজ ত দলের জন্য শহীদ হয়ে গেল। :khekz:
    নিজেকে উৎসর্গ করার চেয়ে মহৎ আর কি হতে পারে :salute:

    জবাব দিন
  9. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    ভালো লিখছিস।
    তুইতো এখনো সেইরকম সকারপ্রেমী আছোস দেখি।এফবি'র ছবিগুলা দেইখা মুগ্ধ হইলাম খুব 🙂

    রবীন্দ্রহাউস সকার টিমের কথা মনে পইড়া গেলোরে :dreamy:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  10. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    আগেরদিনের প্রেডিকশন পুরাই মিলে গেছে।বাট কাল আমি পুরা ধরা।এই আর্জেন্টিনাকে দেখব সেইটার কোন লজিক খুজে পাইনি কারন তারা ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলছিল।এই জার্মানীকে অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে রেখেছিলাম কারন সব ইয়াং প্লেয়ার। আর আমার প্রেডিকশন ভুল হতেই পারে।এইটা :just: একটা অনুমান ছিল।আমার মনে হয় সবগুলা কিছু খাইয়া নামছিল আর মাত্রাটাও বেশি হয়ে গেছিল :khekz:
    যেকোন কিছু মন্তব্য করতে পার কোন অসুবিধা নাই।আর যতই মাতামাতি করি আফটার অল ইটস আ গেইম।স্পোর্টিংলি নেয়াই ভাল।ওরা যদি হেরে হজম করতে পারে আমাদেরও পারা উচিৎ।বাংলাদেশের মুর্খ সাপোর্টাররা যা মারামারি করছে সত্যি লজ্জার।ম্যারাডোনা পেলে আমাদের দেশের নামও ভালমত জানেনা।তবে কাল আর্জেন্টিনা যা খেলছে তাদের :duel: :chup:
    জার্মানী স্নায়ুচাপ নেয়ার ক্ষমতা অসাধারণ।আর আর্জেন্টিনা মনে হল জার্মানীর নাম শুনে আগেই হেরে বসে আছে। যারা ভাল খেলবে জয় তাদেরই প্রাপ্য।জার্মানীকে :boss: :hatsoff:

    জবাব দিন
  11. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    শোন মাস্ফু,
    এইবার আমার প্রস্তুতি/মাতামাতি ছিল উল্লেখযোগ্য।ফুল জার্সি,রিস্ট ব্যান্ড,হেডব্যান্ড কোনকিছু কিনতে বাকি রাখিনি। পতাকা একটা কিনেছিলাম আরেক ভক্তকে দিয়ে দিয়েছি। এই খেলার দুইদিন আগে আমি আরেকটা ৫ফিট পতাকা কিনেছি যেটি আমার ছাদে এখনো পতপত করে উড়ছে।খেলার জায়গা নাই, নাহলে বুট বলও কিনতাম।প্রায় সব খেলাই দেখেছি। এমন না যে শুধু আমার দলের খেলাই দেখব।খেলার ফিক্সচারে কোন খেলার কত রেজাল্ট,কোন দলের পয়েন্ট টেবিল কি সব আপডেট করি।এর অর্ধেক সিসিয়াসনেস যদি আমার কেরিয়ারের দিকে থাকত তাহলে শিউর অনেক উন্নতি করা যেত।
    আমি খেলা এঞ্জয় করতে চেয়েছি।এটি আসলেই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।ব্রাজিলের খেলা যান্ত্রিক মনে হয়েছে, সমালোচনা করেছি(ব্রাজিল বিরোধী হিসেবে নয়)কারন তাদের কাছে ভাল খেলা আশা করি আর এই দলটি সবচেয়ে হাই প্রোফাইল দল।নক আউট থেকে ভাল খেলেছে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করেছি(আমার এফবি স্ট্যাটাস দেখলেই উপরের কথাগুলোর প্রমান মিলবে)।এই সমালোচনা অনেক অন্ধ সাপোর্টার সহ্য করতে পারেনি তাদের সাথে আমার তর্ক হয়েছে।ড্র করলেও বলে ব্রাজিল ইজ ব্রাজিল এমনিতেই ফাইনাল খেলবে,হারে ত নাই।আমি বলেছি,ঠিক আছে তোমরা যদি এই খেলা নিয়ে খুশি থাক তাহলে আমার ত সমস্যা নাই। আমি এন্টি জার্মান হিসেবে পরিচয় দেই(আমার দেখা প্রথম বিশ্বকাপ ৯০ দেখে কষ্ট পেয়েছিলাম বলে)কিন্তু কালকের খেলা দেখে বলবো জার্মানির কাপ নেয়া উচিত।যোগ্যতর দলকে স্যালুট করতেই হবে।ইংল্যান্ডের সাথে যা খেলেছে জার্মানি সেই খেলা দেখে আমার শংসয় জেগেছে কিন্তু এত দুঃচিন্তাগ্রস্ত হইনি।কারন ইংল্যান্ডের সাথে আমি আর্জেন্টিনাকে মিলাতে পারিনি কারন তারা ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলে এসেছে এবং মনে হয়েছে এইবার কিছু করার কমিটমেন্ট নিয়েই তারা এসেছে।কিন্তু কালকের খেলায় কোন কমিটমেন্ট পাইনি(এ কোন আর্জেন্টিনা 😮 )।আমার মনে হয়েছে জার্মানির সাথে বাংলাদেশের খেলা।তারা যেন হারতেই এসেছে আর জার্মানি নামেই যেন ভয়ে অস্থির।আর জোয়াকিম লো স্টাডি করে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের খুত বের করে আর একমাত্র ভরসা মেসিকে আটকানোর অব্যর্থ কৌশল নিয়েই এসেছেন এবং ঠান্ডা মাথায় আর্জেন্টিনার স্বপ্নকে খুন করেছেন।তাদের মধ্যে কোন চাপ দেখিনি,তারা খেলা উপভোগ করে খেলেছে। :boss:
    আর আমার দল হেরেছে বলেই যে আমি নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে জ্ঞান হারাবো আর বাকী খেলা দেখা বাদ দিব তা কেন? যারা খেলেছে তারা যদি ৪ গোল হজম করতে পারে আমার সমস্যা কোথায়।আমরা খেলা দেখি বিনোদনের জন্য।এই খেলায় ত বিরক্তি ছাড়া আর কিছু পেলামনা।আমার এক কলিগ(অন্ধ ব্রাজিল সাপোর্টার,এরা আবার ব্রাজিল সম্পর্কেও ঠিক জানেনা।৫বার নিয়েছে ওইটা নিয়েই লাফায়,কত সালে নিয়েছে তাও জানেনা)ব্রাজিলের খেলার সময় এক বিয়ের দাওয়াতে চোখ লাল করে খেতেই ভুলে গিয়েছিল।আর বাংলাদেশী উগ্র সাপোর্টারদের কথা কি বলবো।আল্লাহ এদের হেদায়েত দান কর।আর আমি ক্রেজি সাপোর্টার কিন্তু অন্ধ না। :grr:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।