একটি হৃদয়স্পর্শী প্রেমের উপন্যাস (নাম খুঁজছি)

[ বখাটের দৌরাত্ম্যে কিশোরীর আত্মহত্যা – পত্রিকার এরকম দুঃখজনক সংবাদে ইচ্ছে হলো কিশোরী হয়ে আত্মহত্যার আগের মুহূর্তটিকে অনুভব করার। কেন অকাল মৃত্যু? কী তার প্রতিকার? ভাবনার ফলস্বরুপ এক উপন্যাসের প্লট মাথায় আসলো। জীবনের বিভিন্ন সময়টা দেখানোর জন্য উপন্যাসের সময়কালের পরিধিটা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কী দাড়ায়।]

বার

ইচ্ছেটা অনেকদিনের। ছোট মামিকে নিয়ে ধর্মসাগরের পাড়ে বেরাতে যাব। আসলে ঠিক অনেকদিনের নয়, মামি এখানে আসার পর থেকেই এরকমটা ভাবছিলাম। আবার উনার জন্যই সেখানে যেতে চাচ্ছি

ঠিক সেটাও আসল কারণ নয়। ধর্মসাগরের পাড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবার সময় খান দাদার সাথে দাদামনুর প্রায়ই দেখা হয়। খান দাদা সেখানটায় হাঁটাহাটি করেন। দাদামনুকে দেখলেই জিজ্ঞেস করেন,

‘জোয়ান অব আর্ক আমাকে আর দেখতে আসল না?’প্রায়ই ভাবি যাব। কিন্তু ওখানটায় গেলেই মনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা ডাহুকটা প্রায়ই হু হু করে কেঁদে উঠে। ওদিকটায় গেলে আমার পৃথিবীটাকে

খুব শূন্য বলে মনে হয়।

আজ সকালে ঢাকা থেকে আমাদের বইয়ের দোকানে ছোটমামার ফোন আসার পর থেকেই খুব জোরসে ইচ্ছা পূরণে লেগে গেলাম এবং সফলও হলাম। আম্মা মামাতো ভাই দুবছরের আকাশকে দেখবে। শুধু

আমি আর মামি যাব।
ঠাকুরপাড়ার রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ধর্মসাগরের পাড় খুব একটা কম দূরের পথ নয়। রিক্সাওয়ালার সাথে বেশ দরদাম করছিলাম। শেষে দফারফা হলো তিন টাকায়।

শীতের মাঝামাঝি। আজকের দিনটা খুব ভালো। দুপুর গড়িয়ে গেছে। তারপরও শীতের কুমকুম শিশিরে ভেজা ভেজা ঘাস। অথচ মিষ্টি রোদে ঝলমল করে হাসছে চারপাশ। এমন আবহাওয়ায় বাইরে না

বেরুলে অপরাধ হতো। দুদিন পর মামি চলে গেলে আমার কতো খারাপ লাগবে টুকটুক করে সে কথাই বলছিলাম। রিক্সাটা যখন মর্ডান স্কুলের সামনের রাস্তাটার উপর বাঁক নিল তখন প্রসঙ্গ পালটে মামি বলে

উঠলো, ’তোদের এই শহরটা তো মনে হয় পানির উপর ভাসছে। ঘর থেকে বেরুলেই তো দিঘি দেখি। আবার আরেকটা দিঘি দেখতে এতোদূর যাওয়া কেন?’
’ওখানে গেলে বুঝবে কেন যাওয়া।’
পাশে তাকিয়ে দেখলাম দীপিকা সিনেমা হল। ছোট মামীর খুব সিনেমা দেখার শখ। বাইরে যাবার প্রসঙ্গ উঠলেই উনার প্রথম পছন্দ থাকবে সিনেমা দেখা। গত পনের দিনে অন্তত তিনটা সিনেমা দেখেছি। তার

মধ্যে মামির পাল্লায় পরে নয়নমণি ছবিটা দুইবার দেখতে হয়েছে। ছবিটা আসলেই খুব ভালো। তবে তা আমার দুঃখ বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুন। তাই চারবারের বার মামিকে সিনেমা হলমুখো না করে দিঘিমুখো

করলাম। উনি চলে গেলে সেখানে আমি আর কার সাথে যাব? আর ঠিক করেছি মামিকে সব বলে দিব। ভেতরের চাপটা একদমই সহ্য করতে পারছি না। তবে উনি বিশ্বাসঘাতকতা করলে খুব বিপদে পড়ে

যাব। তখন সবাই আসল চেহারাটা জেনে আমাকে খুব খারাপ ভাববে। সবচেয়ে বেশি ভয় দাদামনুকে নিয়ে। এক সময়ের খেলার সাথি এখন যেন আরেক বাবা হয়ে গেছে। কত কারণের আমাকে বাইরে যেতে

হয়। প্রতি পদে পদে জেরা করবে। পান থেকে চুন খসলেই বলবে, ‘একটু গান গেয়ে নিজেকে রুনা লায়লা ভাবতে।’ দেশে এখন এই গায়িকার খুব নাম। দাদামনুর খুব পছন্দ। তবে মাঝে মধ্যে মনে হয়

গায়িকা হিসেবে এলাকায় একটু নাম হওয়াটা ওর অতো পছন্দ নয়। সুযোগ পেলেই গান আর অংক নিয়ে খোঁচা মারবে। মানবিক বিভাগে পড়লে দোষের কি?এটা ঠিক অংকে আমার একটু দুর্বলতা আছে। কিন্তু

এই নিয়ে দাদামনু আমাকে অযথা যন্ত্রণা করতে ছাড়বে না। অংকে একশতে চল্লিশ পাওয়াটা যেন মানুষ খুন করার মতো মহা অপরাধ! দাদামনুটা আসলে বড্ড বেশি হিংসুটে। সব সময় সবাই আমার ভালো

বলছে তো এটা তার সহ্য হয় না। তাই শুধু শুধুই সবসময় আমার পেছনে লেগে থাকে। আর নিজে তো সুযোগ পেলেই বাইরে যাবে। বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি করবে। যত শৃংখল আমার জন্য। আমারও তো ইচ্ছা

করে একদম ছোটবেলার মতো সারা শহর টো টো করে ঘুরতে। এই ডিসেম্বর মাসটা আসলেই সেই ইচ্ছাটা আরো বেড়ে যায়। মনে পড়ে খান মঞ্জিলের সময়গুলো। সময় থামতে জানে না কিন্তু স্মৃতি হয়ে বড়

যন্ত্রণা দিতে পারে।

স্কুল থাকার কারণে এ রাস্তার উপর আস্তে ধীরে একটা দুটো করে বইপত্র, স্কুল কলেজের প্রয়োজনীয় উপকরণের দোকান গড়ে উঠছে। গত বছর আমরা যে দোকানটা কিনলাম সেটাও এই রাস্তার উপর।

আম্মা ‘সরস্বতি স্টোর’ নামটা বদলে ’রিমঝিম স্টেশনারী’ করে দিয়েছেন। আমার নামে নাম। এ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাই খুব লজ্জা হয়। ভাগ্যিস এখন আর মর্ডান স্কুলে পড়ি না। আব্বা-আম্মার

নিজেদের ভালবাসাটা এভাবে প্রকাশ করাটা মাঝে মধ্যে আমার কাছে আদিখ্যতা বলে মনে হয়। আরোও তো তিন ভাইবোন আছে। দাদামনু এমনি এমনিই আমার পেছনে লেগে থাকে না।

রিমঝিম স্টোরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ছোটমামি বললেন, ‘ দেখবি তোর মামার আর কোন টেলিফোন আসলো কিনা?‘
অগ্যতা নামতে হলো। সেই সাথে বুঝে গেলাম মামির চলে যাওয়া নিয়ে আমি যতোটা বিরহে আছি, উনি ঠিক ততোটাই উত্তেজিত। আনন্দে।
হায়দার ভাই এই দোকান দেখাশোনা করেন। আমাকে দেখে হই চই শুরু করে দিলো। দোকানে দুজন খরিদ্দার ছিল। তাদেরকে আমাকে দেখিয়ে বললো, ‘এই যে দেয়া। পুরো নাম রিমঝিম দেয়া। এর নামেই

দোকান।‘
হায়দার ভাইকে নিয়ে এই ভয়টাই আমি পাচ্ছিলাম। আম্মা যে কেন এই রকম একটা লোককে চাকুরী দিল কে জানে। শুধু শুধু বেশি কথা বলে। দুজনের মধ্যে একজন বলে উঠলো, ‘তুমি আপনের ছোট

বোন না? আপন জেলা স্কুলে থাকতে আমার দুই ক্লাস নীচে পড়তো। মর্ডান স্কুলে যখন পড়তে তখন টাউন হলে তোমার নাচ দেখেছিলাম।’
অচেনা কেউ আমার তিন বছরের পুরোনো নাচের কথা বলাতে অনুভব করলাম মাটি থেকে আমার পা দু ইঞ্চি উপরে উঠে গেল। দুম করে হায়দার ভাইয়ের উপর তেতে উঠা রাগটা হয়ে গেল পানি। এই

দুজনের সাথে ভাইয়ার এখন কোন যোগাযোগ থাকার কথা নয়। আমাদের সাথেই দেখা হয় কালেভদ্রে।
আমি যখন হায়দার ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম, সেই দুজন তখন আমার দিকে তাকিয়েই ছিল। একটু ভাব দেখানোর জন্য ফোনটা চাইলাম। হায়দার ভাই সেটা টেবিলের উপর উঠিয়ে দিলেন। এখন

কুমিল্লা শহরে টেলিফোন এক মহার্ঘ বস্তু। বাসায় না হোক দোকানে হলেও একটা টেলিফোন যে আমাদের আছে সুযোগ পেলেই বিষয়টা আর দশজনকে জানাতে ইচ্ছে করে। নাম্বার ঘোরানোর গোল চাকতিটার

শুন্যের ঘরে ছোট্র একটা তালা লাগানো আছে। চাবিটা থাকে আম্মার কাছে। ভান করে কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের মধ্যে এমন ভাবে উকিঁঝুঁকি মারলাম যেন ফোনের চাবিটা খুঁজছি। আমি আবার অভিনয়েও খুব

পাকা। আমাদের শাপলা শালুক ক্লাবের পরিচালক ফজলু ভাই আগে থেকেই বলে রেখেছেন আগামী বছর রক্ত করবীর নন্দিনীর চরিত্রটা একদম আমার জন্যই বাঁধা। নাচবো, গাইবো মঞ্চ মাতাবো – এসব

এখন আর আমাকে অতো আহলাদিত করে না। বিষয়টা হয়ে গেছে মাছ-ভাতের মতো। তবে এখন এরকম দুজোড়া চোখের তাকিয়ে থাকার মতো নতুন এক উপসর্গ শুরু হয়েছে। বুঝতে পারছি বড় হয়ে যাচ্ছি।

এই বুঝতে পারাটা কখনও রোমাঞ্চিত করে, আবার কখনও খুব মন খারাপ করে দেয়। একরামের কী দরকার ছিল আমাকে প্রেমপত্র দেওয়ার? কী ভালো বন্ধু ছিলাম আমরা। আমার নাচ বা গানের ও ছিল

বাঁধা তবলাবাদক। ভাবলে মন খারাপ হয়ে যায় যে আমি একজন বন্ধু হারালাম। হারালাম এতোদিনকার তবলাবাদককে। তাও আবার আমারই সুপারিশে।
শেষ পর্যন্ত চাবিটা পেলাম না এমন ভাব করে কোনদিকে না তাকিয়ে গট গট করে সোজা রিক্সায় উঠে পরলাম। আমি নিশ্চিত যে পেছনে দুজোড়া অভিভূত চোখ তখনো আমাকে অনুসরণ করে চলছে।

রিক্সাটা যখন ঝাউতলার পথ ধরে যাচ্ছে। আশেপাশে ছোটবেলায় দেখা সেই মহুয়া গাছটার খোঁজ করলাম। পেলাম না। এদিকটায় অনেক বাড়িঘর উঠে গেছে। এই শহরের বাড়িঘরের রেখাগুলো দ্রুত পালটে

যাচ্ছে। রিক্সা যখন প্রায় ধর্মসাগরের কাছে চলে আসলো তখন ছোটমামিকে বললাম চোখ বন্ধ করতে। ছোটমামি খুব ভালো। আমি কিছু বললে শুনে। চোখবন্ধ মামির হাতটা ধরে এই বিশাল দিঘির এক পাশে

বাঁধানো বেঞ্চিতে এসে দুজনে মিলে বসলাম।
‘এবার চোখ খোলো।‘ অধির আগ্রহে কথাটা বললাম।
ছোটমামি তাকিয়ে আছে দিঘির দিকে। আর আমি তাকিয়ে আছি ওনার চোখের দিকে। ধীরে ধীরে মুদ্ধতার মায়াবী রঙ্গে সে চোখ রঙ্গিন হয়ে উঠলো। উনি শুধু মুখে বললেন, ‘আমার কল্পনাকে ছাড়িয়ে

গেছে।‘
আসলেই খুব সুন্দর। দিঘির বিশালত্ব, স্বচ্ছ টলমল জল, চারপাশের শুনশান নিরবতা সব মিলিয়ে কেমন জানি এক মায়াবী পরিবেশ। ছোটমামি জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা এই শীতকালে পানিতে ছোট

ছোট ঠেউ কেন?‘
‘এটা এই দিঘির রহস্য।‘ কথাটা বলতে গিয়েই বুকের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা ডাহুকটা একটা কুহু ডাক দিলো। গত বছর হিরণ ভাইকে আমি ঠিক এই প্রশ্নটাই করেছিলাম। আর উত্তরে উনি ঠিক এ

কথাটাই বলেছিলেন।

আরো কিছুক্ষণ এখানটায় বসে রানী কুঠিরের দিকে এগুলাম। আজ মামিকে কথায় পেয়েছে। মামির কাছ থেকেই জেনেছিলাম ওনাদের এলাকার এক ছেলে নাকি মামিকে খুব পছন্দ করতো। যুদ্ধের সময় শান্

িত কমিটিতে যোগ দিয়ে প্রায়ই মামিদের বাসার সামনে টহল দিয়ে বেড়াতো আর ওনার বাবাকে কোন ভয় নাই বলে আশ্বস্ত করতো। আমিও দুষ্টুমী করে জিজ্ঞেস করি,‘তোমারও কি একটু একটু পছন্দ

ছিল?’
’বালাই শাট। ঐ মোনাফেক রাজাকারকে পছন্দ করতে যাব কোন দুঃখে?’
উত্তর বঙ্গের মেয়ে বলে মামির অনেক শব্দ আমার কাছে নতুন লাগে। আবার আমরা যখন ’ছেলে ধরা’কে ’পোলা চোর’ বলি – তা শুনে মামি হেসে কুটি কুটি। তবে এখন আমাদের আঞ্চলিক ভাষা

বদলে পুরোপুরিই ঢাকা শহরের ভাষায় কথা বলি। যুদ্ধের সময় থেকেই আমার ভাষা বদলে যায়। স্কুলে মেয়েরা আমার এই শুদ্ধ ভাষা নিয়ে বেশ হাসি-ঠাট্টা করতো।
’ঐ লোক এখন কোথায়?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।
’ভেবেছিলাম যুদ্ধের পর একেবারে শূলে চড়বে। কিন্তু কোথায় কী? এখন তো শুনি এলাকায় আবার সদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছে। ইশ হঠাৎ করে দেশটার যে কী হয়ে গেল?’
দেশটা কোন দিকে যাচ্ছে, কী হচ্ছে এসব এখন বড়োদের নিত্য নৈম্যত্তিক সংলাপ। আম্মা তো গত বছর বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে মারা যাওয়ার ঘটনাটা এখনও হজম করতে পারেননি। প্রায়ই এটা নিয়ে এমনভাবে

বিলাপ করতে থাকবেন যে যেন নিজের বাবা মারা গেছেন। অথচ এ ঘটনার আগে আম্মার প্রতিদিনকার অভিযোগ ছিল বিশ টাকা মনের চাল এই চার বছরে দুইশ টাকায় উঠলো কি করে? এসব দেখলে

আমার কখনও বড় হতে ইচ্ছে করে না। এ বয়সেই আমার মনে যে পাহাড়সম দুঃখ বড় হলে তার সাথে যদি দেশ থেকে শুরু করে চাল ডালের হিসেব যোগ হয় তাহলে তখন দুঃখের ভারে বাঁচবো কী করে?

’আচ্ছা মামি, প্রেম জিনিষটা আসলে কী?’ আমার গোপন কথাটা বলার জন্য বিষয়বস্তুর মোড় ঘুরিয়ে দিলাম। রানী কুঠিরের শান বাঁধানো ঘাটের নিঝুম পরিবেশে এই তো সুযোগ।
’ধর্মসাগরের সামনে দাড়িয়ে প্রথমেই মনে হলো আজকে তোর মামাটা যদি পাশে থাকতো! এটাই প্রেমরে।’
’মামার জন্য তোমার এতো প্রেম?’ ছোট মামার মতো গাট্টাগোট্টা লোকেরও যে কেউ প্রেমে পড়তে পারে তা জেনে আমি কিছুটা বিস্মিত হলাম। এর আগে আমার ধারণা ছিল যে কোন মেয়ের প্রেম পাবার

জন্য ছেলেটাকে অন্ততঃপক্ষে রাজ্জাকের মতো মিষ্টি মিষ্টি চেহারা কিম্বা জাফর ইকবালের মতো সুদর্শন পুরুষ হতে হবে। কয়জন আর হিরণ ভাইয়ের মতো বাস্তব জীবনের নায়কদের দেখেছে!
’তোর মামা মানুষটা ফেরেস্তার মতো। তুই যখন আরো বড়ো হবি তখন তোকে একটা খহূভ গোপন কথা বলবো। তুই বিশ্বাসই করতে পারবি না এমন কথা।’
ওহ, মামির কথা শোনার আর ধৈর্য্য নেই আমার। আমি ভেতরে ভেতরে মরে যাচ্ছি আমার কথা বলার জন্য। কিন্তু কিভাবে শুরু করবো?
’চল দিঘিটার ঐ পাড়ে তোমাকে আরেকটা জায়গায় নিয়ে যাই। অবশ্য কিছুদূর হাঁটতে হবে।’ আবারও মামির প্রসঙ্গ পালটে আমার প্রসঙ্গে নিয়ে আসার চেষ্টা।

হালকা হালকা টুকরো টুকরো জটলা অতিক্রম করে, ঝরা পাতা মাড়িয়ে, সারিবদ্ধ নারকেল গাছের শৃংখলা পেড়িয়ে, খুব ধীরে ধীরে জাকিয়ে বসা শেষ বিকেলের হিমের মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়ে চলছি।

বুকের ভেতর ঢিপ ঢিপ শব্দ। যতোই লাল বোগেনভেলিয়ায় ছাওয়া কালো গেটেটার কাছে চলে আসছি শব্দটা বেড়েই চলছে। হিরণ ভাই এখন আর এখানে নেই। হঠাৎ করে উনাদের চলে যাওয়াটা এখনও মেনে

নিতে খুব কষ্ট হয়। তারপরও ওনার দাদার এই বাড়িটা এক পলক দেখলেই ভেতরের ডাহুকটা মিষ্টি সুরে গান গেয়ে উঠে। মনে হয় আমি যেন হিরণ ভাইয়েরই দেখা পেলাম।
হয়তো মানুষটার সাথে আর দেখা হবে না। কিন্তু এক জীবন তো এই কষ্ট বহন করার জন্য যথেষ্ট নয়। শিপ্রার মতো যদি আরেকটা জীবনের আশায় থাকতে পারতাম!

চলবে

২,৮৩০ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “একটি হৃদয়স্পর্শী প্রেমের উপন্যাস (নাম খুঁজছি)”

  1. রাব্বী (৯২-৯৮)

    শুরুটা বেশ ভাল লাগলো। আপু, একটা জায়গায় "শান্তি বাহিনী" কথাটা আছে। "শান্তি কমিটি" নাকি "শান্তি বাহিনী" - কোনটা হবে?

    অবশ্যই চলবে।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
  2. তানভীর (৯৪-০০)

    খুব ভালো লাগছে লেখাটা। পরের পর্ব তাড়াতাড়ি চাই কিন্তু আপু।

    কুমিল্লা নিয়ে লেখা- এজন্য বেশ স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লাম। ধর্মসাগড় পাড়ের বেঞ্চিতে বসে আমরা বন্ধুরা কত যে সময় কাটিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। শহরে একটা সাগর বুকে নিয়ে আছি আমরা- এ নিয়ে আমাদের কত গর্ব!
    এই শহরের ফেলে আসা স্মৃতিগুলোকে নিয়ে এখনও বেঁচে আছি। 🙁

    জবাব দিন
  3. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    ঢাকায় নাকি ভয়াবহ লোডশেডিং চলতেছে। অবস্থা ভালো হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। আর যারা পড়লে তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ। লেখাটা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই সব পর্ব দেওয়া হয়তো হবে না। কিছু কিছু পর্ব দেওয়ার আশা রাখি।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।