মালেয়শিয়ার চিঠি – ৩

আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের কাছেই মালেয়শিয়া একটা গরিব দেশ। আমি যখন পড়াশুনা করার জন্যে মালায়শিয়া রওনা দিচ্ছি, তখনও সবাই বলেছে “পড়াশুনার জন্য কি কেউ মালেয়শিয়া যায়?” এমন কি আমার মা বাবাও খুব একটা খুশি ছিলেন না । তারপরেও আমি আসলাম, এখন মনে হচ্ছে খুব একটা খারাপ হয় নি । আসলে আমারা এই দেশ সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না ।
kl_sky1
মালেয়শিয়া বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৬০০ কিমি দূরে। এই দেশের প্রধান ধর্ম ইসলাম। কে এল (কুয়ালালাম পুর) শহরের যেমন মোড়ে মোড়ে মসজিদ তেমনি আছে নাইট ক্লাব। কিছু কিছু স্থানে পানির চেয়ে অনেক বিয়ার সস্তা। ইসলাম এখান কার প্রধান ধর্ম হলেও কোন বাড়া বাড়ি নাই। মেয়েরা ছেলেদের মত বাইক চালায় । রাতেও একটা মেয়ে একা একা ঘুরে বেড়াতে পারে। kl_petronas_twin_tower_by_biche

পুরো মালায়শিয়া জুড়ে আছে অনেক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় । সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপ দেয় (মাসে প্রায় ৪০,০০০ টকা) । প্রচুর বাংলাদেশি ছাত্র আছে এখানে। ভাল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো হল UM, UKM, UPM, USM, UTM ইত্যাদি। আর ভাল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যে মাল্টিমিডিয়া ও ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় খুব নাম করা। এছাড়া অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে UK, USA, Australian বিশ্ববিদ্যালয় এর ডিগ্রী দেয়। গুনগত মান ভাল, নিয়মিত ক্লাশ, এসাইনমেন্ট, পরীক্ষা ছাড়া পাশের উপায় নাই।

কে এল মনরেল

কে এল মনরেল

আমার বাসা

আমার বাসা


মালেয়শিয়া পছন্দ করার আরেকটা কারন ছিল এর জব মার্কেট। এখানে প্রায় ৩০০০ আইটি ফার্ম আছে, আর সব কোম্পানীতে প্রোগামার দের খুব চাহিদা। বিশেষ করে, PHP, .Net, C++/C#, Java, এবং এস কিউ এল সাভার ও ওরাকল ডাটবেস এডমিনদের খুব চাহিদা। এছাড়া ব্রিটিশ এমেরিকান টোবাকো , স্ট্যান্ডাড চাটাড ব্যাংক, আই বি এম, ডেল , এইচ পি এর গ্লোবাল সাভির্স আফিস এখানে। মানে ওদের সারা বিশ্বের আই টি সাভির্স এখান থেকে দেওয়া হয়। এছাড়া মাইক্রোসফট, ইন্টেল, ক্যানন, নোকিয়া সহ বেশ কিছু কোম্পানীর এশিয়ান অফিস এখানে। এছাড়া টি এম, প্রেট্রোনাস, প্রোটন এর মত দেশি কোম্পানীতেও আছে বেশ কিছু বাংলাদেশি আই টি প্রফেশনাল। BAT এ আছেন ১০-১২ জন আই টি প্রফেশনাল, যাদের বেতন মাসে ৩-৪ লাখ টাকা।
peng06
সব চেয়ে বড় ব্যাপার হল কে এল এ বসে, ইউরোপ আমেরিকায় থাকার মজা উপভোগ করা। এখানের সব কিছুর দাম খুবি সস্তা। বিশেষ করে খাবার দাবার। যাতায়াত ব্যবস্থা খুব ভাল। বড় বড় রাস্তা আর ফ্লাই ওভার খুব দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। আর পাবলিক ট্রান্সপোট ও সব সময় পাওয়া যায়। রেল, মনরেল , পাতাল রেল ছাড়াও আছে রেপিড কে এল বাস। পুরো কে এল শহর সরাদিন ঘুরে বেড়ানো যায় ২ রিংগিতে (এক টিকিটে)। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ ভাল, তবে কিছু কিছু জায়গায় রাতে ছিনতাই হয় আর টেক্সি চালকরা মাঝে মাঝে নতুন যাত্রীদের সোজা রাস্তায় না গিয়ে, সারা শহর ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে।
xx04img_assist_custom1
বেড়ানোর জন্যে আপনার অপেক্ষায় আছে, সাদা সমুদ্র সৈকত, নীল জল, পানির নিচে ডাইভিং, ম্যনগ্রোভ বন, বিশাল বিশাল পাহাড়, থিম পার্ক থেকে শুরু করে ক্যাসিনো। সব কিছু পাবেন এখানে। আর ফাউ হিসাবে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর আর ইন্দো্নেশিয়ায় যেতে পারবেন বাস বা ফেরিতে। আসলে কম খরচে একটা ভাল ডিগ্রী, আর ভাল কাজের সুযোগ পাবেন এখানে, উন্নত দেশের মত অড জব করতে হবে না ।
n653097657_1318104_5456
তবে এখানে পি-আর দেয় না, তবে মালয়শিয়ান বিয়ে করে সিটিজেনশিপ পাওয়া যায়। আর এখানে ২/৩ বছর জব করে কানাডা তে পি-আর এর জন্য এপ্লাই করতে পারবেন। কারন মালায়শিয়ায় ডুয়েল সিটিজেনশিপ নেওয়া যায় না, আর তাই, মালায়শিয়ানরা কেউ কানাডায় পি-আর এর জন্য এপ্লাই করে না। আর কে এল কানাডিয়ান এম্বাসিতে , ঢাকার চেয়ে অনেক ভাল আপ্যায়ন পাবেন, নাকি ?
আমার কয়েকজন ক্লাশমেট

আমার কয়েকজন ক্লাশমেট

৪,৩১০ বার দেখা হয়েছে

৫১ টি মন্তব্য : “মালেয়শিয়ার চিঠি – ৩”

  1. তানভীর (৯৪-০০)

    মেহেদী, মালয়েশিয়ার গল্পগুলো পড়তে বেশ মজা লাগছে!
    আমার প্রথম বিদেশ ভ্রমণ মালয়েশিয়ায়, তাই এই দেশটাকে আমি বেশ পছন্দ করি। তাছাড়া দেশটা বেশ সুন্দরও বটে!
    ওদের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম আমার খুব ভালো লেগেছে!

    আরো গল্প চাই মালয়েশিয়ার! :thumbup: :thumbup:

    জবাব দিন
  2. মেহেদী কিছু বানান ভুল আছে, ঠিক করে দাও। 😀 নইলে পড়তে অস্বস্তি হয়। 😀

    এই দেশের প্রধান ধ্ম ইসলাম।
    কে এল (কুয়ালালাম পুর) শহরের যেমঅন মোড়ে মোড়ে
    পুরো মালায়শিয়া
    বিশ্ববিদ্যালয় গুল হল

    আরো কিছু আছে ...। 😛

    জবাব দিন
  3. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    খুব ভাল লাগছে লেখাটা।

    নিজে মালয়শিয়া যাওয়ার সুযোগ হয়েছে বলে হয়তো বেশী ভাল লাগলো।
    এর পর আবার গেলে কখনো - তোমাকে জানাতে হবে।
    যদি যাওয়া হয় ইনশাআল্লাহ আর তুমি থাকলে। 😛

    ছবিসমেত লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ।


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন
  4. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    চার বছর আগে একটা ওয়ার্কশপে অংশ নিয়ে কে এল-এ দিন সাতেক ছিলাম। হোস্টরা ভালোই রেখেছিল। ফাইভ স্টার হোটেলটার নাম মনে নাই। সি ফুড এনজয় করেছি। গোছানো-ছিমছাম শহরটা ভালো লেগেছে। সন্ধ্যার পর টুইন টাওয়ারের কাছে ওপেন-এয়ার বারে সময়টা ভালো কাটে চাইনিজ মাইয়াগুলারে দেখে দেখে। শপিং মজার। সব ধরণের দামের আছে। খালি বাংলাদেশে ফোন করাটার খরচ বেশি মনে হয়েছে।

    "সংঘাত পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতা" বিষয়ে ওই ওয়ার্কশপটায় আমাদের সঙ্গে ছিল ভারতীয়, পাকিস্তানি, থাই, শ্রীলংকান, ফিলিপিনো, ইন্দোনেশিয়ান, সিঙ্গাপুরি, লাও এবং অবশ্যই মালয়েশিয়ান সাংবাদিক।

    আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে আবার ফাও যাওয়ার সুযোগ পেলে জানাবো।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  5. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    সুমন, আরেকটা বিষয়। আমার একটা গোপন ইচ্ছা আছে। রেল ও সড়ক পথে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড একটা লম্বা ট্যুর দেয়ার। জানিনা ইচ্ছাটা কখনো পূরণ হবে কিনা??


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।