নক্ষত্রবাসী

ছোটবেলায় বাবা অফিস থেকে সন্ধ্যায় ফিরতেন।
হাতমুখ ধুয়ে উঠোনে রাখা একটা ইজী চেয়ারে
গা এলিয়ে তিনি আমায় ডেকে নিতেন।
আমি তার পেছনে দাঁড়াতাম,
তিনি মুখে মুখে ইংলিশ ট্রান্সলেশন ধরতেন,
পাটিগণিতের আর্যা ধরতেন,
মুখে মুখে অংক কষাতেন,
আকাশের নক্ষত্রপুঞ্জের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেন,
ওরিয়ন, গ্রেট বীয়ার, পোল স্টার, আরো কতো কি!

সেই থেকে আমার অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল,
শুক্লা পক্ষ হোক, কৃষ্ণ পক্ষ হোক,
নিশীথ রাতে আকাশের তারা দেখা।
জীবনে যখন প্রথম ভাবতে শুরু করলাম,
‘সখী ভালবাসা কারে কয়’,
তখন এসব তারার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে
এক সময় একটা পরিচিত মিষ্টি মুখ দেখতে পেতাম।
প্রথমে সামান্য উঁকি দিতো, পরে দেখা যেতো,
পুরোটা আকাশ জুড়েই সে মিষ্টি মুখটি ছড়িয়ে আছে!

আজ যখন আমি রাতের আকাশের দিকে তাকাই,
আমি শুধু একটি নয়, অনেকগুলো মুখ দেখতে পাই।
সেসব মুখ, যারা একদিন আমায় ভালবেসেছিল,
পরম মমতায় স্নেহ করেছিল, মাথায় হাত বুলিয়েছিল,
আমিও তাদের অন্তরে অন্তরে ভালবেসেছিলাম!
তারা একদিন হারিয়ে যাবে, একথা কখনো ভাবিনি।
তারা আজও দূর থেকে আমায় ভালবাসার দ্যূতি পাঠায়,
একেকটি তারা থেকে একেকজন মুখ বের করে শুধোয়,
বাবুসোনা, তুমি ভাল আছো তো?

ঢাকা
২৯ জুন ২০২০

২১৭ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।