বর্ষা ও প্রাইভেসি

সকালে উঠেই চোখ কচলে যদি দেখি, দূর আকাশে
ঘন কালো মেঘের আনাগোনা, আর চারিদিক থেকে
ধেয়ে আসছে অথৈ আঁধার, তখন থেকেই আমার
মনের মাঝে একটা ময়ূর পেখম মেলতে শুরু করে।

শ্রাবনের প্রথম শীতল বারিধারাকে স্বাগত জানাতে
প্রকৃতির গাছ গাছালিগুলো যেন উন্মুখ হয়ে থাকে।
ঘনসবুজ ডালপালাগুলো আনন্দে হেলেদুলে নাচে,
পাখীরা খুশীতে হঠাৎ হঠাৎ গান গায়, আসে যায়।

বর্ষার কালো মেঘ দেখলেই, রাজ্যের যত আলস্য
আমাকে পেয়ে বসে। সব কাজ ফেলে রেখে শুনি
আনমনা যত মানুষ আর হেয়ালী প্রকৃতির গান।
কালো মেঘের মাঝে সাদা বক খুঁজে হই হয়রান।

শ্রাবনের ঘনকালো মেঘের গহীনে একটি ব্যাকুল মন
খুঁজে বেড়ায় কেবল একটি নিবিড় আশ্রয়। যেখানে
একান্তে বসে স্মৃতির সাদাকালো এলবামটা খুলে
সে চোখ বুলিয়ে নিতে পারে, মেঘমেদুর নিরালায়।

বর্ষা আমাকে সৃষ্টির মন্ত্রণা দেয়। আলস্যের মাঝেই
সৃষ্টির উন্মাদনা পেয়ে বসে। শুধু চাই একটু নিঃশব্দ
নিবিড়তা, একটুখানি একান্ত ঠাঁই। বর্ষা এলেই তাই,
আমি একটুখানি প্রাইভেসির খোঁজে অস্থির হয়ে যাই।

ঢাকা
১৫ জুলাই ২০১৪
৩১ আষাঢ় ১৪২১
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

৯২৭ বার দেখা হয়েছে

৭ টি মন্তব্য : “বর্ষা ও প্রাইভেসি”

  1. সাইদুল (৭৬-৮২)

    সকালে পড়েছিলাম মোবাইলে। মন্তব্য করিনি মোবাইলে লেখার কষ্টের কথা ভেবে।
    মুগ্ধ হলাম কবিতায়


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।