চলমান চায়ের আড্ডা এবং আমার পর্যবেক্ষণ

(আমি সম্পূর্ণ ভাবে আবেগে তাড়িত হয়ে এই লেখা লিখব কারণ শাহবাগ তরুণ প্রজন্মের আবেগ থেকেই উৎসারিত। তার পর ও আমার শিক্ষা যদি আমাকে যুক্তির দিকে নিয়ে যায় তাহলে কিছু করার নেই।)

শুরুর আগে আমার তিনটি প্রশ্ন আছে।
১। ৭১ এ যে মুক্তিযুদ্ধ (অনেকের মতে গন্ডগোল) সেটার যৌক্তিকতা কি আদৌ আছে?
২। ৭১ এর যুদ্ধে কি আদৌ মানুষ মরেছিল?রাজাকার রা কি আদৌ কোনরকম মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল?
৩। জন্মের পর থেকে কি আপনি রাজাকার আর গোলাম আযম, সাঈদি, মুজাহিদ এই গুলো শব্দ সমার্থক জেনে আসেন নি?

যাদের ৩টি উত্তরই না তাদের এই আর না পড়লেও চলবে। এবং আমি অত্যন্ত সজ্ঞানে সুস্থ মস্তিষ্কে আপনার সাথে আমার সকল প্রকার যোগাযোগ ছিন্ন করলাম বাস্তবিক, অন্তর্জালিক উভয়ই । কোন দলের হয়ে উকালতি যদি না করেন তাহলে এই ৩ টি উত্তর ই সবার একইরকম হওয়ার কথা। তাই সেদিকে আর গেলাম না। এখনই আমাকে নাস্তিক বলে গালি দিয়ে দোযখে পাঠিয়ে দিয়েন না। বেহেশত দোযখ এর হিসেব না হয় পরকালেই হোক। আমার পর্যবেক্ষণ।

১) বিদেশ থেকে অনেক রকম কথা বার্তা সবসময় শুনি এবং আমি বাইরে থাকতে বলেছি। দেশে গত এক বছর ধরে থেকে এটা অনুভব করতে পেরেছি যেটাকে আমরা দেশপ্রেম বা দেশের প্রতি কর্তব্যবোধ ভেবে বলি তা বেশিরভাগ সময়ই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বলা কথা নয়। তার অনেকটা জুড়েই থাকে নিজেদের অহমিকা প্রকাশ, বুদ্ধিজীবি হিসেবে নিজেকে প্রকাশের চেষ্টা, কিংবা একজন ভাল বিতার্কিক বা যুক্তিবাদী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের একটি তাড়না।

২) যারা ভাবছে শাহবাগ সরকারের পক্ষের আন্দোলন কিংবা সরকার আয়োজিত তাদের জন্য বলছি, প্রথম যেদিন আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেটা সরকারের ঘোষিত রায়ের বিপক্ষেই হয়েছিল। এবং সবাই ধরেই নিয়েছিল আওয়ামীলীগ সরকার ভয় পেয়ে কিংবা অন্য কোন কারণে রায় পরিবর্তন করেছে। এখন যদিও অনেকে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেছে আমার ধারণা মানুষের সেই তাৎক্ষণিক ধারণা অনেকাংশেই সত্যি।
একই সাথে যারা ভাবছে যে শাহবাগ আন্দোলন সরকারের বিপক্ষে ছিল সেটা কেন ৭ দিন যেতে না যেতেই সরকারের পক্ষে কিংবা সরকারের কথার সাথে সুর মিলাতে শুরু করল তাদের জন্য বলছি, শাহবাগ আন্দোলন যে একেবারে সরকারের বিরুদ্ধেই নেমেছিল তাও সঠিক নয়। তরুণরা কিন্তু সরকারকে হুমকি দিয়ে শাহবাগে নামেনি। আপনারা যারা বিদেশে আছেন তারা কাদের মোল্লার রায়ের আগে জনমনের অবস্থা কেউ জানেন ও না এমন কি আন্দাজ ও করতে পারবেন না। আমরা সবাই অত্যন্ত আতঙ্কিত ছিলাম। কারণ তার আগের দিনই গৃহযুদ্ধের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে জামাত (জামাত কে এখন আমরা এখানের অনেকেই জামাতে ইসলামি বলি না কারণ তারা কোনমতেই ইসলামি ভাবধারা পোষণ করে না। ) আমরা সকাল থেকে ভয়ে ভয়ে অপেক্ষা করছিলাম কি হয় না হয়। এবং সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছিল এই রায় ফাঁসি আসবে না তার কারণ সরকার এতবড় রিস্ক নিবে না। কিন্তু ৪২ বছর ধরে যেটা অপেক্ষা করছি সেটা একটুকু ভয়ের জন্য নষ্ট হয়ে যাবে তা হতে দেওয়া যায় না। তখন সবাই রাস্তায় এসেছে মূলত সরকারকে অভয় দেওয়ার জন্য। কারণ বাংলাদেশের ১ ভাগ লোকও জানত না আমরা এতটা উন্মুখ হয়ে ছিলাম এই বিচারের কাঙ্খিত রায়ের জন্য।

৩) তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম যে ইমরান এইচ সরকার যে কিনা এককালে স্বাচিপের রাজনীতি করত তিনি হাসিনার নির্দেশে তৈরিই ছিলেন এইরকম আন্দোলন করার জন্য। তাদের জন্য দুটি কথা। প্রথমটি ইতিহাস থেকে নেওয়া দ্বিতীয়টি নিজস্ব অভিজ্ঞতা।
১৯৭১ এর মুজিবের যে অবদান একটি অংশের কাছে সেটি পুরোপুরিই ভাওতাবাজি। ৭ ই মার্চের ভাষণে উনি দেশ স্বাধীনের কথা কিছু বলেননি, উনি সব কিছুই করেছিলেন নিজে জনপ্রিয় নেতা হয়ে ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য ইয়াহিয়া গং দের একটু প্রেশারে রাখতে। আদৌ দেশ স্বাধীন করার চিন্তাভাবনা তার ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের জনগন তার সেই সো কল্ড ফলস স্ট্যান্স ধরতে পারল না, তারা নিজের জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ল যুদ্ধে। ফলাফল আমি এখন বাংলাদেশের নাগরিক। তাহলে কি দাড়াল, মানুষ কিন্তু সঠিক চেতনাতেই আগায়।
আর ইমরান এইচ সরকার কি উদ্দেশ্যে এইটা শুরু করলেন তার পিছনে কোন মাথা কাজ করেছে আমি জানতাম না। আমার বিশ্বাস এবং আমি নিশ্চিত সেদিন যে ৫০-৬০ হাজার লোক একাধারে শাহবাগে দিনরাত কাটিয়েছে তারা কেউই সেটা নিয়ে মাথা ঘামায়নি তারা চেতনাকে ধারণ করেছে। তাই কে করেছে কেন করেছে সেগুলো নিয়ে যারা মেতে আছেন তাদের কে বলতে চাই যে সেগুলো বাদ দিয়ে কি হয়েছে সেটা দেখেন। আর যেহেতু দেখতে পারছেন না, মিডিয়ার কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাদের কে জানাই যে আমি যা বলেছি তাতে বিন্দুমাত্র ফেব্রিকেশন নাই।

৪) এই মুহূর্তে মিডিয়াকে ১০০% বিশ্বাস যে কেউ করবেন সেই উপায় নেই কোন কালে ছিল না। তবে এই ক্ষেত্রে চ্যানেল আই এর একজন কর্মীর কথা উল্লেখ করলেই স্পষ্ট হবে শাহবাগ সম্বন্ধে মিডিয়ার অবস্থান। উনি বলেছেন একজন সাংবাদিক হিসেবা আমাদের যেমন দায়বদ্ধতা আছে তেমনি একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ চেতনার কাছেও আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আমরা শাহবাগ আন্দোলন কে নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছি।
এই কথা থেকে আমার কাছে স্পষ্ট বাংলাদেশের বেশিরভাগ মিডিয়া এখন মুক্তিযুদ্ধ চেতনার পক্ষে। এর ফলে কিছু কিছু জিনিস হচ্ছে যেমন, হরতালের দিন ইচ্ছে করেই বেশি বেশি গাড়ি চলে এমন জায়গার নিউজ আসছে, শাহবাগের হরতাল বিরোধী মিছিল কে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রমাণ করা হচ্ছে হরতাল বয়কট হচ্ছে। তবে সত্যি হচ্ছে এখনো আমরা হরতালের দিন আগের মতই ভয়ে থাকি গাড়ি নিয়ে বের হই না। এমন কি কাজ না থাকলে নির্ভেজাল ছুটির দিন কাটাই। কিছু কিছু পাগল শাহবাগে গিয়ে বসে থাকি। ফলে এসব মিডিয়া এখন নিরপেক্ষতার প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছে। তবে এই কথা বলতে পারি কেউই হলুদ সাংবাদিকতা করছে না , না ঘটা জিনিস রঙ চড়িয়ে খবর দিচ্ছে না।

৫) শাহবাগ প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে বলি। যারা বাইরে থেকে এইটা প্রমাণ করতে চেষ্টা করছেন যে কাদের মোল্লা সেই কসাই কাদের নয়, সাঈদী সেই দেইল্ল্যা রাজাকার নয়, তারা এই কথা দুদিন আগে থেকে বলছেন তার আগে তারা বলতেন এই সময়ে এসে আর রাজাকারের বিচারের দরকার কি। এখনো এইরকম লোকের অভাব নেই। প্রতিদিন এইরকম অসংখ্য লোকের সাথে আমাকে কথা বলতে হচ্ছে। এক জন্য সাঈদীর বিচার, জামাত কে নিষিদ্ধ করার জন্য ৭ দিনে ৭৪ , মতান্তরে ১০০ জন লোকের মৃত্যু কি আসলেই কাম্য? আমিও মৃত্যুর পক্ষ নিয়ে কথা বলতে পারি না। কারণ এই ১০০ জনের মধ্যে আমার ভাই , মা, বাবা থাকতে পারত। তবে আমার কাছে একটা পরিসংখ্যান আছে।
১৯৭১ সালে ৯ মাসে ৩০ লক্ষ্য লোক মারা গেছে অথচ তার আগে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ ২৪ বছরে হয়ত ৩০০ জন লোক ও মারা যায় নি, সে জন্য যদি এই ৩০ লক্ষ লোকের মৃত্যুর রিস্ক না নিয়ে আমরা যুদ্ধ না করতাম তাহলে কি হত, আমরা পাকিস্তান থাকতাম। হয়ত একদিন মুজিব প্রেসিডেন্ট ও হত। কিন্তু পাকিস্তানে আজো একটি সংবিধান হয় নি, প্রতিদিন ৫০ জন লোক মারা যায় সহিংসতায়, এবং পৃথিবীর ব্যর্থ রাষ্ট্র দের মধ্যে অন্যতম একটি হল এই পাকিস্তান। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে আমরা আমাদের ৩০ লক্ষ শহীদের জন্য কান্নাকাটি করব কিন্তু আবার যদি আমাকে ১৯৭১ এ ফিরে গিয়ে অপশন দেওয়া হয় আমি তাদের বাঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিব না।
যুদ্ধ শেষ হয় নি কোন দিন শেষ হয় না। যারা জিতে যায় তারা একটা মোহে চলে যায় জিতে গেছি কিন্তু পরাজিতদের যুদ্ধ সেদিন থেকে নতুন করে শুরু হয়। ২০১৩ সেটাই উপলব্ধি করতে পেরেছে।

৬)
একটি খুব ভাল জিনিস দেখেছি। এখনো কাউকে যদি বলা হয় আপনি জামাত করেন সে সেটা গালি হিসেবে নেয় এবং প্রচন্ড রিএক্ট করে। এটা এই গ্রুপেও দেখেছি। আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। এবং প্রতিদিন আমি নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য বারবার মানুষকে এইটা বলি। ওদের রিএক্ট দেখে আমি নিশ্চিত হই এখনো মানুষ নির্লজ্জ হয়নি। সে জানে কোনটি খারাপ। অথচ তার কোন দরকার নেই। জামাতের বিপক্ষে বললে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয় কিন্তু পক্ষে থাকার জন্য কাউকে মেরে ফেলা হয়েছে এমনটি শোনা যায়নি। শুধুমাত্র ২০১৩ তে শোনা গিয়েছে যারা জামাত করবেন তাদেরকে আমরা বয়কট করব। তবুও জামাত বললে মানুষ এটা গালি হিসেবে নেয়। এটা আমাকে আশা দেয়। মানুষ জানে জামাত খারাপ। তারা তাদের ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট থেকে গড়ে উঠা দুর্বলতা নিজেরাও লুকিয়ে রাখে। তাহলে কাকে বাঁচাবার জন্য এত বুদ্ধিজীবি আলোচনা ।

অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে দেখে আমি লেখা শেষ করছি তবে এটাই শেষ নয়। আমার ধারণা আমার কর্তব্য দেশের থেকে কেউ একজন সবার আলোচনার সাথে থাকা। দেশে বিদেশীদের মত ঘন্টার পর ঘন্টা নেটে থাকা হয় না তাই নিয়মিত নই তবে অবশ্যই আমি সবার আলোচনা ফলো করছি। একটা অফ টপিক কথা দেশে এসে এমন ও অনেক দিন যায় যে ৭-৮ দিন হয়ে যায় নেট এ আসা হয় না যেটা আমি স্বপ্নেও দেখিনি গত ৮ বছর। এই সিচুয়েশন আমাকে খুবই আনন্দিত করে। রিয়েল লাইফের আনন্দ দেয়। এটলিস্ট শাহবাগ কে আমি ১৫ মিনিটের রিক্সায় গিয়ে দেখে আসতে পারি আসলে ওখানে ১৫ জন নাকি ১৫ হাজার জন। আমাকে মিডিয়ার উপর নির্ভর করতে হয় না।

এত দীর্ঘ একটি লেখা যারা পড়ে শেষ করেছেন তাদের কে অভিনন্দন।

৮৮৯ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “চলমান চায়ের আড্ডা এবং আমার পর্যবেক্ষণ”

  1. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে আমি একটি মেইলিং গ্রুপের সদস্য। সেখানে আমি একাই দেশে বাকি সবাই দেশের বাইরে। তাদের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি আলোচনার উত্তরে এই লেখাটি মেইল করেছিলাম। লেখার পর কি মনে হল এখানেও দিয়ে দিলাম। ব্লগ হিসেবে লেখা হয়নি তাই সাহিত্যগুণ ধরতে যাওয়া একেবারেই বেমানান হবে। তারপরো একটি প্রায় ব্যক্তিগত মেইল কে ব্লগ আকারে দিয়ে দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

    জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    অত্যন্ত কাছের একজন বন্ধুর কাছে শুনতে হয়েছে, বিদেশে থাকার কারণে আমি নাকি বাস্তবতার বোধ হারিয়ে ফেলেছি। দেশে ফিরলেই নাকি শাহবাগ নিয়ে আমার মতামত/অনুভূতি পাল্টে যেতে বাধ্য।সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় একটা বিশাল নাটক নাকি সেখানে হচ্ছে।এই নাট্যমঞ্চ একেবারে কাছে দেখতে পেলামনা বলে দুঃখ রয়ে যাবে।

    জবাব দিন
    • কামরুলতপু (৯৬-০২)

      গল টেস্টে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্য দেখে তার দুদিন আগেই ভিন্ন সুরে কথা বলা উৎপল শুভ্র গান গাচ্ছে ভুল যদি এত মধুর হয় তাহলে হোক না কিছু ভুল।

      আমার তাই বলতে ইচ্ছে হয় আজ বাংলাদেশে এইরকম বাস্তব বোধ হারিয়ে ফেলা লোকই বেশি প্রয়োজন। নইলে বাস্তবতা হিসেব করলে তো আমি দেখব জামাত কে নিষিদ্ধ করলে প্রচুর জানমাল এর ক্ষতি, আবারো সেই ধরি মাছ না ছুঁই পানি টাইপের সমাধান। যেটা অন্তত আমি আর চাই না। আমি চাই নিষ্পত্তি, আর যেন কখনো শাহ আজিজ, মুজাহিদরা পতাকা নিয়ে ঘুরতে না পারে। তাতে যা ক্ষয়ক্ষতি হবে সেটার জন্য পরবর্তিতে আমরা বোধ ফিরে পেয়ে কান্নাকাটি করব।
      খুব বেশি বাস্তব বোধ দেখাতে গেলে ৭১ এ যুদ্ধ হত না এবং ৯০ তে এরশাদ পতন হত না।

      অফটপিকঃ
      নুপূর দা ভাল আছেন? অনেক দিন পর।

      জবাব দিন
      • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

        আছি মোটামুটি তপু।তুমি?
        পতাকা নিয়ে ঘোরার দিন ফুরিয়ে আসছে বলেই পতাকার উপর ক্ষোভ, শহীদ মিনারের উপর ক্ষোভ।
        বিভক্তিটা সবসময়েই ছিলো, এমন না যে বাংলাদেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের অতীত কাজ ভুলে গিয়েছে, তারাও ক্ষমাপ্রার্থনা করেনি। বরং চরম ঔদ্ধত্যের সাথে বারবার ছোবল মারছে।তবু দেশকে নাকি 'দু'ভাগ' করে ফেলা হচ্ছে।ঠিক সেই '৭১ এর মতো।যারা কমন সেন্স খুইয়ে বসে আছে, বিবেকের চেয়ে যারা চান্দের পানে (সে পতাকার হোক কি আসমানেরই হোক) তাকিয়ে থাকতে আগ্রহী তারা কোনদিন শুধরোবেনা।

        জবাব দিন
        • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

          নূপুর ভাই,

          ১। বগুড়ার শেরপুরে যে ছাত্রলীগ নেতারে শহীদ মিনার ভাঙ্গার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলল, তা'র কিসের ক্ষোভ?
          ২। নারায়ণগঞ্জে ত্বকি হত্যার জন্য একমাত্র জামাতের প্রতি সন্দেহের দৃষ্টি (অনেকেই এরই মধ্যে নিশ্চিতও)। কিন্তু কিভাবে নিশ্চিত হলাম যে সেখানে কি অন্তর্দলীয় কোন্দলের কোন ভূমিকা নেই?
          ৩। রামুর ঘটনায় সবথেকে বেশি জড়িত ছিল সরকার দলীয় লোকজন, প্রথম আলোর তদন্ত প্রতিবেদন দেখুন http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-17/news/322123 । তারপরেও বাই ডিফল্ট জামাতকে দায়ী করে কি আওয়ামীলীগকে অন্যায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে না?

          উপরের তিনটা প্রশ্ন আসলে প্রশ্নের আকারে করা হলেও এগুলো মন্তব্য, একটা বিশেষ প্রবণতার প্রতি। বাস্তবে দেশকে দুইভাগে বিভক্ত করার দায় অনেকখানিই আছে এই প্রবণতার মধ্যে।

          আমার জন্ম+বেড়ে ওঠা একটা হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে। ছোটবেলার খেলার সাথীদের মধ্যে হিন্দু মুসলমান প্রায় সমান ছিল। আমি নিজের চোখে দেখে আসছি কিভাবে বাংলাদেশে হিন্দুরা সিষ্টেমিক নির্যাতিনের শিকার হচ্ছে, কারা এর জন্য দায়ী। আমার বিশ্বাস, আপনি সেটা আমার থেকে আরো ভালো ভাবে জানেন। আপনি কি মনে করেন না যে সরকারে থাকা অবস্থায় আওয়ামীলীগকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন যে, তারা তাদের ভোটব্যাংক হিন্দুদের অধিকার রক্ষার জিন্য কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে+ নিচ্ছে? শুধুমাত্র মন্দিরে হামলা হলে আর ভোটের সময় আসলে তাদের হিন্দুদের কথা মনে পড়ে, আর অন্য সময় পড়ে না কেন?


          There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

          জবাব দিন
          • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

            মাহমুদ,
            বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক সমস্যা শুরু হলে মন্দির ভাঙা, হিন্দু পাড়ায় ঢিল ছোঁড়াটা, সেখানকার মেয়েদের নিয়ে টানাটানি করাটা একটা উৎসবের মতো হয়ে যায় প্রচুর লোকের কাছে। এর কোন রাজনৈতিক চরিত্র নেই - ধর্মীয় অনুভূতি সবারই এমন সংবেদনশীল, যেকারণে ইউটিউব বন্ধ করে দিতে হয় - মাথামোটাদের উত্তেজনা প্রশমন করা সম্ভব বলে। এর পেছনের ব্যর্থতাটুকু রাজনৈতিক - ভয়াবহভাবেই। আওয়ামী লীগ কেন করবে হিন্দুদের জন্য। ভোট ব্যাংকের পোলারিটি তো এই পার্টিটা দেখছে ভালোভাবেই। কই এই সাম্প্রতিক হামলাতেও তো আওায়মী লীগকে টুঁ শব্দটি করতে দেখলামনা -- না কেন্দ্রীয়ভাবে, না আঞ্চলিকভাবে।

            একটা ধমক দিলেই তো ঘরবাড়ি জমিজমার দাম অর্ধেকের বেশি নেমে যায় - এখানে আওয়ামী বিএনপি জামাত চরিত্র খুঁজে লাভ কি। তবে আমি যাই বলি না কেন, (নাম মাহাত্ম্যের কারণেই অনেকটা) -- সরাসরি 'ভাদা' দলভুক্ত হয়ে যাই। 'সংখ্যালঘু' শব্দের মধ্যে অপমান খুঁজে পাই। কাজেই আওয়ামী লীগ কতটা 'হিন্দু' দরদী হলো কি না হলো সেটা আর আঙুল দিয়ে দেখাবার প্রয়োজন পড়েনা।

            তবে ২০০১ সালে বিএনপি যা দেখালো, তার তুলনা হয়না। আওয়ামী নিস্পৃহতার চেয়ে তা অনেক ভয়ংকর, মারাত্মক হতাশাজনক। এবং বিএনপি এই খেলা বারবার দেখাবে, হিন্দু জনগোষ্ঠীর % যখন ১ এর নীচে নেমে আসবে তখন আর কারোরই পোছার দরকার হবেনা। এবং এই ব্যর্থতা সারা বাংলাদেশের।

            আর সমষ্টিগতভাবে হিন্দুরা কিছু করতে পারতো কি না, অনেক দেরী হয়ে যাবার আগেই, আওয়ামী লীগের উপর অতিনর্ভরতার বৃত্ত থেকে বের হবে কি না তারা - এগুলো নিয়ে বহু আলোচনা করেছি এককালে। এখন আর আশা দেখিনা।

            শুধু ভোটের সময় আসলে সারা 'বাংলাদেশের জনগণকেই' মনে পড়ে যায় আবকটা দলের।আওয়ামী লীগের এখনকার কার্যকলাপ আর বিএনপির আচরণ -- সবই তো সেই হিসাব নিকাশের ফল, তাই না?

            জবাব দিন
  3. রায়হান (১৯৯৮-২০০৪)
    একটি খুব ভাল জিনিস দেখেছি। এখনো কাউকে যদি বলা হয় আপনি জামাত করেন সে সেটা গালি হিসেবে নেয় এবং প্রচন্ড রিএক্ট করে।

    :thumbup:


    একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার,সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

    জবাব দিন
  4. ফেরদৌস জামান রিফাত (ঝকক/২০০৪-২০১০)

    ধন্যবাদ বড়ভাই, সামনে এগিয়ে এসে আমাদের মত জুনিয়রদের সহজভাবে বিষয়টা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। :thumbup:


    যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের- মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা

    জবাব দিন
  5. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    তপু,
    অনেক দিন পর সিসিবি'তে দেখে ভালো লাগল।

    তোমার সাথে একমত যে, এই মুহুর্তে আবেগই বেশি দরকারী, যুক্তির থেকে। তবে আমার মনে হয়, যুক্তি একেবারে ফেলে দেওয়াটা মারাত্মক ভুল, যেইটা শাহবাগে ঘটতে যাচ্ছে। শাহবাগে সকলেই কিন্তু আবেগ নিয়ে যাচ্ছে না, অনেকেই যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট স্বার্থ (দলীয়+ব্যক্তিগত) চিন্তা করে, যেমন- ছাত্রলীগের নাজমুল আলম। কাজেই, এই দিকটাও দেখতে হবে যে, তরুণদের আবেগকে পুঁজি করে কেউ যেন শাহবাগকে দলীয় স্বার্থে 'মাথায় আদরের হাত বুলিয়ে নিজের পকেটে' পুরে না ফেলে।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  6. সামিউল(২০০৪-১০)

    "যুদ্ধ শেষ হয় নি কোন দিন শেষ হয় না। যারা জিতে যায় তারা একটা মোহে চলে যায় জিতে গেছি কিন্তু পরাজিতদের যুদ্ধ সেদিন থেকে নতুন করে শুরু হয়।"

    :boss: ::salute::


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।