তোমার জন্য, প্রেমা

প্রেমা,

আজ তোমাকে খুব খুব মনে পড়ছে। কেমন আছো? নিশ্চয়ই ভালো, কারণ শেষবার যখন তোমাকে দেখি, খুব সুখীই লাগছিলো। ভুলে গেছো, না! আসলে এটাই স্বাভাবিক। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। তোমার বা আমার, কারোরই নয়।

জানো, আজ খুব বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টিকে আমি বলতাম “রোমান্টিক বৃষ্টি”। বর্ষার এই দিনগুলো তোমার সাথে ব্যালকনিতে বসে থাকতে কি যে ভালো লাগতো! মনে আছে তোমার, গত বছর জুনের মাঝামাঝিতে একদিন ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ তুমি ফোন করে বাসায় যেতে বললে। তারপর কাকভ‌েজা হয়ে মালিবাগ থেকে ধানমন্ডি। উফ্, কি জ্বরটাই না এসেছিল ওই রাতে! কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে দুজন গোগ্রাসে গিলছিলাম। ঝালে তোমার চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছিল টপ টপ করে। তুমি তো কথাই বলতে পারছিলে না! বৃষ্টির ছাঁটগুলো তোমার মুখ আর কপাল থেকে নেমে আসা চুলগুলো ভিজিয়ে দিচ্ছিল, তুমি বিরক্তি ভরে চুলগুলো মুখের সামনে থেকে সরিয়ে দিচ্ছিলে। কী আদ্ভুত সুন্দরই না লাগছিল তোমাকে! আমার বিস্মিত চেহারায় কিছুর ছাপ কি খুঁজে পেয়েছিলে?

আরো অনেক কিছু ভীড় করছে মনে, চোখটাও কেন যে খিচখিচ করছে! উফ্, কাল একটা ভালো চোখের ডাক্তার দেখাতে হবে, খালি পানি পড়ে!

তুমি আমাকে খুব ভালোবাসতে, না! তাহলে কেন মুখ ফুটে বলনি? কেন বলনি, ‘তোমাকে চাই’? আমিতো তোমার অপেক্ষায় রাতের পর রাত জেগেছি! তোমার এসএমএসগুলো এখনো সেভ করে রেখে দিয়েছি। ইশ্, তোমার মনের কথাটা যদি একবার জানতাম! তুমি কেন এভাবে নিজেকে হঠাৎ গুটিয়ে নিলে? কেন আমার থেকে দূরে সরে গেলে?

তোমার কাছে আমার ফিরে আসা হয়তো আর সম্ভব না, জাগতিক নিয়মে। হয়তো তোমার জন্যও না। শুধু একটা অনুরোধ রাখবে, আমাকে ভুল বুঝ না। আর, আমাকে ক্ষমা করে দিও।

তোমাকে ছাড়া আমার সুখগুলো আমাকে বড় বেশি দংশন করছে, রক্তাক্ত করছে। আমাকে দুমড়ে মুচড়ে আস্তাকুঁড়ে ফেলছে। আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিও।

(তোমারই)
আকাশ

(পূর্বে চতুর্মাত্রিক ব্লগে প্রকাশিত)

৯ টি মন্তব্য : “তোমার জন্য, প্রেমা”

  1. রকিব (০১-০৭)

    বস, মন খারাপ কইরেন না :grr:
    তবে প্রেমা আপুরে নিয়ে দোকানে চা খাইতে আইসা ঐদিন বিল দিতে ভুলে গেছিলেন। ঐটা একটু পাঠায়ে দিলে ভালো হইতো 😀


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।