দ্য ফোর্থ ডাইমেনশন

“এইপ, কথা বলছিস কেন? বকবক করছি ভাল লাগে না?”আচমকা ফিজিক্স স্যারের ঝাড়ি খেয়ে চুপ করে গেল কুদ্দুস।স্যার কি পড়াচ্ছে টা ও শুনছিল না।ওর মাথায় গিজগিজ করছে হাজারটা প্রশ্ন।কে তার উত্তর দেবে? “নিউটন বলেছেন ,প্রত্যেক বলের একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে, অর্থাৎ আমি আবারও বলছি”…… “স্যার আমার একটা প্রশ্ন ছিল” , হঠাৎ ব্রেক কষা গাড়ির মত স্যারের কথা থামিয়ে দিল কুদ্দুস। মোটা ভুরু দুইটা কুঞ্চিত করে স্যার বললেন, “কী বলবি বল?” “স্যার, আপনি তো বললেন প্রত্যেক বলের সমান ও বিপরীত ক্রিয়া আছে।কিন্তু স্যার আমি যদি বাতাসে একটা ঘুষি মারি, তাহলে এর রিঅ্যাকশন টাই বা হল কোথায় আর রিঅ্যাকশন টা সমান আর বিপরীতই বা হল কিভাবে?” “এইপ,তুই কি নিউটনের চেয়ে বেশি বুঝিস?ফাইজলামি করিস আমার সাথে? ফাইজলামি? তুই, তুই… তুই ঐ খানে গিয়ে নীলডাউন হয়ে থাক, না না তুই এই খানে এসে নীলডাউন হয়ে থাক।“স্যার আমি না হয় নীলডাউন হলাম, কিন্তু নিউটনের হবে কী?” পুরো ক্লাস প্রচণ্ড হাসির শব্দে ফেটে পড়ল। “এই তুই এখখনি ক্লাসের বাইরে চলে যা।তোর মত ছাত্রের আমার দরকার নাই।যা তোর নিউটনের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর গে যা…” অনুগত ছাত্রের মত প্রতিবাদ ছাড়াই কুদ্দুস ক্লাস থেকে বের হয়ে গেল।এইসব ক্লাস তার ভাল লাগে না।তোতা পাখির মত শুধু বইয়ে যা আছে তাই পড়ায়, এর বাইরে কি হল? কেন হল? কিভাবে হল? এইসবের কোন নামগন্ধ নেই। যত্তসব!স্কুল থেকে বেরিয়ে বেশ দূরে ছোটখাট জঙ্গল মত একটা জায়গা আছে।প্রায়ই মাথা মাথা গরম হয়ে গেলে ও এখানে এসে গৌতম বুদ্ধের মত ধ্যানে বসে থাকে।উফফ, আজকে মনে হয় মাথাটা একটু বেশিই গরম হয়ে গেছে।|কুল কুদ্দুস, কুউল!নিজেই নিজেকে বোঝাতে লাগল সে।হঠাৎ সাঁই বেগে কী যেন একটা তার পাশ দিয়ে চলে গেল।ধুরো… শান্তিতে একটু ধ্যান ও করতে দেবে না, নিজের মনে বলে উঠল সে। হঠাৎ করে কী যেন একটা কুদ্দুসের সামনে আকাশ থেকে নেমে এল।এক মুহূর্তের জন্য কুদ্দুস দেখতে পেল মানুষের মত দেখতে একটা প্রাণী ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।কিন্তু প্রাণীটা ঠিক মানুষের মত না।ঠিক, ঠিক……
                                                                                                          (২)

মাথার বামপাশে একটা ভোঁতা যন্ত্রণা নিয়ে জ্ঞান ফিরল কুদ্দুসের।চারপাশে ভালভাবে তাকাল সে।এটা কোথায়?সে তো জঙ্গলে বসে ছিল।তারপর……

“ওয়েলকাম মিঃ কুদ্দুস, আমাদের গ্রহে আপনাকে স্বাগতম”.কথা শুনে চারদিকে তাকাল কুদ্দুস।দেখল  ঠিক তার সোজাসুজি কিছুদূরে একটা চেয়ারে বসে আছে একজন মানুষ।না, না এতো ঠিক মানুষ নয়।এর দুটা চোখ আছে কিন্তু ভুরু কোথায়? মাথায় তো কোন চুল ও নেই।আর মাথাটাও কেমন যেন সাইজে একটু বড় বড় লাগছে।“এ কোথায় আসলাম আমি?”কুদ্দুস একপ্রকার চেঁচিয়েই উঠল।“আপনার মাথায় অনেক প্রশ্ন,তাই না?”কুদ্দুস কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকল।“শুনুন আপনার ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।আপনি এখানে সম্পুর্ণ নিরাপদ।আপনার মাথায় সম্ভাব্য যেসব প্রশ্ন আস্তে পারে তার উত্তর গুলো হল,আপনি এখন ‘জেনিথ-১২’ নামক চতুর্থ মাত্রার একটি গ্রহে অবস্থান করছেন।এটি আপনাদের পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে মাত্র ১৪৪৬ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত।এটি সূর্যেরই একটি গ্রহ”.এই পর্যন্ত বলে থামল আধা মানুষ প্রাণিটি।কুদ্দুসকে একটু উশখুশ করে উঠতে দেখে আবার সেই চুলহীন মানব সদৃশ প্রাণীটি বলে উঠলো, “আমি জানি আপনি কি ভাবছেন?আপনাদের এত কাছে একটি গ্রহ , কিন্তু আপনারা কিছু জানেন না কেন , তাই না? আমি আগেই বলেছি আমাদের গ্রহটি চতুর্থ মাত্রার।আপনাদের পরিচিত পৃথিবী তিন  মাত্রার।তার বাইরেও আমাদের একটি মাত্রা আছে।সেটি হল অবস্থান।আমরা দৈর্ঘ্য,প্রস্থের মত অবস্থান ও মাপতে পারি।আপনারা যেমন যেকোন দৈর্ঘ্যের যেকোন দূরত্বের জায়গায় যেতে পারেন, আমরাও তেমনি যেকোন অবস্থানেই যেতে পারি।এটাকে আপনারা প্যারালাল পৃথিবী ও বলতে পারেন।পৃথিবীর সাধারণ মানুষের পক্ষে ঐ চতুর্থ মাত্রা অনুভব করা সম্ভব নয়।আপনাদের বিজ্ঞানীরা অবশ্য এই নিয়ে অনেক গবেষণা করছে।কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা সেরকম কোন অগ্রগতিই করতে সক্ষম হয় নি।তাই এত কাছে থেকেও আপনারা আমাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানেন না।কিন্তু মারা আপনাদের সম্পর্কে জানি।|এবং ইচ্ছা করলে যখন তখন আপনাদের গ্রহ থেকে ঘুরেও আসতে পারি!এতোক্ষণ ঘোর লাগা চোখে সবকিছু শুনছিল কুদ্দুস।“এ ও কী সম্ভব? আমার তো বিশ্বাস ই হচ্ছে না” বলে উঠলো সে।“বিশ্বাস করতে আপনি বাধ্য।কিছুক্ষণ পরেই আমরা আপনাকে বাইরে আমাদের গ্রহ দেখাতে নিয়ে যাব।তখন নিজের চোখেই সবকিছু দেখবেন”।“কিন্তু ,আপনি না বললেন আমরা আপনাদের দেখতে পাইনা,তাহলে আমি কিভাবে আপনাদের দেখতে পাচ্ছি?” “ও এই ব্যাপার? আপনি একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন আপনার মাথার পেছনের দিকে একটি খুব সূক্ষ্ম তার ঝুলছে। এর একেবারে শেষ মাথায় একটি সেন্সর রয়েছে।আমরা আপনার জন্য এক স্পেশাল নিউরোলেপ্টিক-ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ওয়েভ পাঠাচ্ছি, যা এই সেন্সর অনবরত ক্যাচ করে যাচ্ছে।আর আপনার চোখে আছে দশ লক্ষ মেগা পিক্সেলের একটি কর্ণিয়াল চশমা।ওই তার আপনার মাথায় চতুর্থ মাত্রার অনুভূতি সৃষ্টি করছে আর হাই পাওয়ারের চশমা ওইসব অনুভূতি দ্বারা সৃষ্ট ছবি দৃশ্যমান করে তুলছে.আশা করি বুঝতে পারছেন”.কুদ্দুস সব কিছু শুনল।কিছু বুঝল,কিছু বুঝল না।কিন্তু কিছু বলল না।সে আসলে সব হিসাব মেলাতে পারছে না।চতুর্থ মাত্রা!!!ধুর!স্বপ্ন দেখছি না তো? হঠাৎ কুদ্দুসকে আবারো একবার চমকে দিয়ে ওদের রুমের কোন এক কোণ থেকে সাইরেন বেজে উঠল।সেই কেশ,লোমহীন মানুষ সদৃশ প্রাণীটি স্ত্রস্তকন্ঠে বলে উঠলো,আপনাকে এবার উঠতে হবে।আমরা আমাদের গ্রহটাকে ঘুরে দেখব।অনেকটা যন্ত্রচালিত রোবটের মত উঠে দাঁড়াল কুদ্দুস।বাইরে আসতেই প্রচণ্ড আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে গেল তার।এত আলো??? তার ঐ অবস্থা দেখে সেই প্রাণীটি আবার বলে উঠলো,” এই আলোই আমাদের সমস্ত শক্তির উৎস।প্রায় দেড়শ বছর আগেই আমাদের সব খনিজ সম্পদ শেষ হয়ে গিয়েছে।ভালো করে তাকিয়ে দেখুন আমাদের আকাশে গ্রহের চারপাশ জুড়ে একটি স্বচ্ছ কাঁচের আবরণ আছে।এটাকে বলে রেডিও-সিলিকেট গ্লাস।এর মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করে ঠিকই,কিন্তু তাপ না।আর তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো যেমন রেডিয়াম সেই আলো শোষণ করে তাকে ম্যাগনিফাইং করে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।তারপর সোলার পাওয়ার ক্যাচার সেই আলো শুষে নিয়ে তাকে শক্তিতে রুপান্তর করে।তা দিয়েই সব চলে।এত আলোতে আপনার কিছুক্ষণ একটু সমস্যা হতে পারে।তবে আপনি যখন অজ্ঞান ছিলেন তখন আপনাকে এর জন্য একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পুশ করা হয়েছে।তাই এর জন্য আপনার কোন ক্ষতি হবে না”.বাপরে বাপ!এ কোন জগতে আইলাম রে,মনে মনে ভাবল কুদ্দুস।কিন্তু মুখে বলল, “আচ্ছা আমার একটা প্রশ্ন ছিল”।“বলে ফেলুন” “আচ্ছা আপনাদের চেহারা তো প্রায় মানুষের মত।কিন্তু… “ওহ এই কথা” কুদ্দুসকে শেষ করতে দিল না সেই প্রাণী।“আচ্ছা আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, আপনার মাথার চুল,ঐ লোম কি কাজে আসে বলতে পারেন?” উত্তরে কিছু একটা বলতে যেয়ে ও বলতে পারল না কুদ্দুস।তাকে আমতা আমতা করতে দেখে হেসে উঠলো সেই কেশ-লোমহীন প্রাণীটা।“শুনুন, এর উত্তরে আপনারা যেটা বলবেন সেটা হল সৌন্দর্য।হা হা হা!এই সৌন্দর্যের ব্যাপারটা সবখানে এক নয় মিঃ কুদ্দুস।আপনার কাছে যেমন আমাকে অদ্ভুত লাগছে,ঠিক তেমনি আমার কাছে আপনাকে।সব ই আপেক্ষিক!আসলে  চুলের প্রধান কাজ হল দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ আর অনেক ক্ষেত্রে অনেক স্পর্শকাতর  অঙ্গ কে নিরাপত্তা দেয়া, যেমন ভ্রূ।আমরা আমাদের গ্রহের তাপমাত্রা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করি, একটু খেয়াল করলে দেখবেন আমরা আমাদের চোখের সাইজ বড় করার পাশাপাশি একে কোটরের মধ্যে আরো বেশি করে ঢুকিয়ে দিয়েছি।চারিদিকে ঘুরাতে সুবিধা।মাথার সাইজ বড় করেছি।আমরা প্রায় পুরো বিশ্বজগত ঘুরেছি।তারমধ্যে আপনাদের মানুষের ডিজাইনই সবচেয়ে ভালো লেগেছে।তাই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমাদের জিনের কোড পরিবর্তন করে চেহারা আপনাদের মত করেছি।কিন্তু অবশ্যই অপ্রয়োজনীয় সব বাদ দিয়ে”.কথা বলতে বলতে কখন যে ওরা বিশাল একটা ভবনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তা কুদ্দুস একদমই খেয়াল করে নি।তার চোখ ছিল নিচের দিকে আর কান ছিল কথার দিকে।ওরা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে উড়ে এসেছে।নিচে কুদ্দুস দেখতে পেল অনেক বড় বড় বিল্ডিং আর অনেক কেশহীন মানব-মানবী।বিল্ডিং গুলোর কোনোটা লম্বাটে, কোনোটা গোলাকার,কোনোটা আবার চন্দ্রাকৃতির।এতসব দেখতে দেখতে  কুদ্দুসের মনে হল এখন ও যদি ওকে কেউ ডেকে তোলে , আর বলে  ওহে বৎস,তুমি এতক্ষণ ধরিয়া যাহা দেখিয়াছ, যাহা শুনিয়াছ, সবই তোমার উর্বর মস্তিস্কের কল্পনা মাত্র।সবই তোমার স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।তাহলেই বোধহয় সে বেশি খুশি হত!

সেই বিশাল ভবনের ভিতরে কুদ্দুসকে নিয়ে এল ওরা।“এবার আপনি দেখা করতে যাচ্ছেন এই গ্রহের সর্বাধিনায়ক বিজ্ঞান কাউন্সিলের প্রধানের সাথে”।“মানে? এই গ্রহে কোন প্রেসিডেন্ট নাই?”অবাক স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো কুদ্দুস।একটা বাঁকা হাসি দিয়ে সেই আধামানব বলল, “প্রেসিডেন্ট??? সে কাহিনী তো কবেই চুকে গেছে।প্রেসিডেন্ট অবশ্য ছিল এককালে।কিন্তু ঐ মূর্খের দল রাজনীতিবীদেরা কি কোন গ্রহের উন্নতি সাধন করতে পারে নাকি?ওরা তো খালি পারে কে,কখন,কাকে,কিভাবে মেরে নিজের উন্নতি করবে,সেই চিন্তা করতে। প্রায় একশ বছর আগে সব বিজ্ঞানীরা মিলে ‘techno-science revolution’ এর মধ্য দিয়ে সব রাজনীতিবিদদের উৎখাত করেছে।জনসাধারণের ও অবশ্য এতে পূর্ণ সমর্থন ছিল।এখন এ গ্রহে পুরোটাই বিজ্ঞানীদের রাজত্ব”.বাহ!বস তো, ভাবল কুদ্দুস।“আচ্ছা আপনারা আমাকে এখানে এনেছেন কেন?” “দুঃখিত, এই একটি প্রশ্নের উত্তর আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হল না।আমার দায়িত্ব ছিল আপনাকে এই পর্যন্ত পৌছে দেওয়া।এর বেশি কিছু আপনাকে বলা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।এই বলে সে সামনে খুলে যাওয়া দরজা দেখাল।“আমার দৌড় এই পর্যন্তই।এবার আপনি ভেতরে যান”হঠাৎ করে কেন যেন কুদ্দুসের মেরুদন্ড বেয়ে শীতল হাওয়া বয়ে গেল।আসলেই তো সে এখানে কেন?প্রচন্ড শব্দে তার পেছনের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।বিশাল এক হলরুমের মত ঘরে সে এখন সম্পূর্ণ একা।“তোমার এই প্রশ্নের উত্তর আমি দিচ্ছি”.কুদ্দুস চারপাশে তাকিয়ে দেখল, কিন্তু কোথথেকে ঠিক শব্দ আসছে টা ধরতে পারল না।সেই গায়েবি আওয়াজ আবার বলে উঠল,”তোমার এখানে আসার পেছনে তোমার কোন স্বার্থ নেই।সম্পূর্ণ আমাদের প্রয়োজনে তুমি আজ এখানে।তোমার শুনে খারাপ লাগতে পারে।কিন্তু সত্যটি হল তুমি একটি গিনিপিগ।এর আগেও তোমার মত অনেক মানুষকে আমরা এখানে নিয়ে এসেছি।তাদের কাউকেই আমরা আর ফেরত পাঠাইনি”. হঠাৎ করেই কুদ্দুসের নিজেকে খুব অসহায় মনে হতে লাগল।সে আর কখন ও সে পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারবে না???তার সামনে কিছুদূরেই উপর হতে একটা চেয়ার নেমে এল।তাতে একজন মোটামুটি কিম্ভূত দর্শনের আধামানব বসে আছেন।আকারে ইনি আগের সবার চেয়ে বড়।পোশাক-আশাকই বলে দিচ্ছে ইনি বিশিষ্ট কোন ব্যক্তি।“কি ভাবছ কুদ্দুস?হ্যাঁ, আমিই বিজ্ঞান কাউন্সিলের প্রধান।এই গ্রহের সর্বাধিনায়ক।তোমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই।তোমাকে এই সব তথ্য বলে দেওয়ার কারণ হল,তোমাকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।তুমি হয়ত বা জান না তোমার ব্রেনের গঠনটা বেশ ইন্টারেস্টিং।আর সবার মত নও তুমি।তোমার মধ্যে এতো কৌতূহল কেন?আমি এটাও জানি এ জন্য তোমার পরিচিত জনেরা তোমাকে ঝামেলাই মনে করে।তোমার ব্রেন নিয়ে আমার গবেষণা করার ইচ্ছা আছে।তুমি হয়তবা আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন কোন জিনের গঠন উপহার দেবে।তবে হ্যাঁ, আমাদের প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে তোমাকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল স্টেশন দিয়ে পৃথিবীতে ফেরত পাঠাবো।তুমিই সম্ভবত সেই প্রথম ভাগ্যবান হতে যাচ্ছ।সব শুনে কুদ্দুস চুপ করে রইল।ভাগ্যবান!অনেক কস্টের মাঝেও হাসি পেলো তার।কেন জানি ইচ্ছা করছে জোরে একটা ঘুষি মেরে ঐ ফাজিলটার নাকটা ফাটিয়ে দিতে।“তোমাকে আমরা পৃথিবীতে ফেরত পাঠাব ঠিক ই, কিন্তু আমি ঠিক বলতে পারব না তোমার ঐ ছোট্ট ব্রেন এইসব স্মৃতি ধরে রাখতে পারবে কিনা।আর যদি রাখেও তোমার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না,এ ব্যাপারে আমি একেবারে সিউর”।“মানে কি??এগুলো কোন ধরনের ফাজলামি?আমি…” আর কিছু বলার আগেই তার মাথাটা বনবন করে ঘুরে উঠলো।চোখের সামনে একটা কালো পর্দা নেমে এল তার।জ্ঞান হারাবার আগে শুধু একটা শব্দই শুনতে পেল সে।গুড বাই……
                                                                                                                  (৩)

“এই যে, এই ভাই যান কই?কই যান হ্যা?জানেন না নিউটনের বলের বিপরীত ক্রিয়া আছে?এহহে আপনার চুল এত বড় কেন?চুল আপনার কোন কাজে লাগে অ্যা?যত্তসব।এত করে বলি সবকয়টা রাজনীতিবিদদের ধ্বংস করে দাও,ওরা কি শান্তি আনতে পারে?চতুর্থ মাত্রা মাপতে পারে?পারে না,পারে না।হা হা হা , সব কয়টা পাগল,সব কয়টা।

“বাবা, ঐ লোকটা কে? ও এভাবে কথা বলে কেন?”
“কে ঐ টাকমাথার লোকটা ? ওতো একটা বদ্ধ পাগল।ওর কথা তুমি কিছু কানে নিও না বাবা।চল আমরা স্কুলে যাই।তোমার স্কুলের দেরি হয়ে যাচ্ছে না”।
“হুম”
আর কথা না বাড়িয়ে ছেলেটা তার বাবার সাথে স্কুলের পথে রওয়ানা হল।কিন্তু ওর মাথায় ওই পাগলের একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছে।আসলেই তো,চুল আমাদের কোন কাজে লাগে?এই প্রশ্নের উত্তর তাকে কে দেবে?

lpxT~

৮৫৯ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “দ্য ফোর্থ ডাইমেনশন”

  1. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)
    আর কথা না বাড়িয়ে ছেলেটা তার বাবার সাথে স্কুলের পথে রওয়ানা হল।কিন্তু ওর মাথায় ওই পাগলের একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছে।আসলেই তো,চুল আমাদের কোন কাজে লাগে?এই প্রশ্নের উত্তর তাকে কে দেবে?

    B-)


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।