ভালোবাসি

(সেই অনেক দিন আগে, তখন মাস্ফ্যদা লুঙ্গি নিয়া এত দৌড়াদৌড়ি করতো না; সিসিবিতে একটা লেখা দিছিলাম। তারপর ফয়েজ ভাই, শওকত ভাই, চা ওয়ালা etc. etc দের জটিল জটিল লেখা পড়ে লিখতে সাহস হতো না। আজ একটা দুঃসাহস করে ফেললাম, যদি বদ হজম হয় হজমি খাওনের ডিউটি নিজের নিজের। )

চোখটা খুললেই এক ফালি আকাশ না হলে এক্ টুকরো অন্ধোকার দেখা যায়। ইদানিং অনেক চাঁদ দেখতে ইচ্ছে করে।এক ফালি না পুরো চাঁদ, পূর্ণিমার চাঁদ। জ়ানেন আমার এই চার ফুট বাই চার ফুট ঘ’রটা থেকে পুরো আকাশটা না দেখা যায় না, চাঁদ ও না। আচ্ছা কয়েদী বলে কি আমার আকাশ দেক্তে ইচ্ছে করে না ?

গতকাল জেলার সাহেব এসেছিলেন। কি বলে জানেন? বলে, আমার কিছু খেতে ইচ্ছে করে কিনা। কোনো ব’ই পড়তে ইচ্ছে কিনা। বলেন তো, কন’ডেম সেলের আসামীকে কি এই গুলো জিজ্ঞাসা করতে হয়? এর মানেতো খুব সোজা, আমার ফাসি কনফার্ম। শালা জ়েলারটা কি বোকা। মা এসেছিলো দেখা করতে। মানা করে দিয়েছি। দেখা করিনি। মাকে না অনেক দেখতে ইচ্ছে করছিলো। সেই ক্লাশ সেভেন এর প্রথম প্যারেন্টস ডের মত। জানেন আমি সেদিন মার বুকে মুখ লুকিয়ে অনেক কেদেঁ ছিলাম। আজ ও সেই ভাবে কাদঁতে ইচ্ছে করছিলো, কিন্তু তারপরও মানা করে দিলাম। পিছুটান বাড়িয়ে লাভ কী? আমি হলাম ফাসির আসামি।

ওহহো আপনাদের তো আমার নামটাই বলা হয়নি। রয়, অমিত রয়। আরে না শেষের কবিতার অমিত না। আমি কয়েদী নম্বর ৭০৭, অমিত রয়। কিন্তু আমারও একটা লাবন্য ছিলো। রবি বাবুর লাবন্যর মত না, খুব সাধারণ আর দশটা মেয়ের মত। লাবন্যকে নিয়ে অনেক সপ্ন দেখতাম। খুব সাধারন সপ্ন, আমি অফিস থেকে ঘেমে বাসায় আসলে লাবন্য আচঁল দিয়ে মুখটা মুছে দিচ্ছে; রাতের বেলা লং ড্রাইভে যাবার সময় আমার কাঁধে লাবন্য মাথা রেখেছে আর ওর এলো চুল গুলো আমার মুখ ছুয়ে যাচ্ছে, এই সব হাবিজাবি আর কি। লাবন্যকে প্রথম যেদিন ভালবাসার কথা বলেছিলাম কিছু না বলে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। দুদিন পর ক্যাম্পাসে এসে বলে ক্লাসের পর দেখা করতে, বলেন তখন মেজাজ খারাপ লাগে না? ক্লাসের পর আমি গিয়েছিলাম দেখা করতে, বলে বিকাল বেলা জার্মান কালচার সেন্টারে আসবা। আজিব মেয়েরে বাবা। এখনি ঘুরান শুরু করে দিল! না বিকালে আর ঘুরায়নি। এসেছিলো, এসেছিলো আমার প্রিয় নীলের মাঝে সাদা ফুল করা শাড়ীটা পরে।কি যে অসহ্য সুন্দর লাগছিলো। হ্যাঁ, আমার হবে বলে কথা দিয়েছিলো। যদিও কথাটা রাখেনি। মেয়েরা বোধহয় এমনিই হয়, কথা দেয় কিন্তু রাখতে ভুলে যায়।

আপনাদের নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে আমার ফাসি কি জন্য হচ্ছে। আরে বাবা আস্তে, এক বারে সব বলে দিলে কি হয়? আচ্ছা আগে লাবন্যর কথা শুনবেন নাকি আমার ফাসির কথা? আচ্ছা আমার জায়গায় আপনি হলে কি করতেন? নিজের মাকে পরে পরে মার খেতে দেখতেন, নাকি আমার মতো যে লোক’টা আপনার মাকে মারছিলো তাকে বাধা দিতেন। জানেন আমি লোক’টাকে অনেক বার বলেছিলাম আম্মাকে আর মারধর না করতে। কিন্তু শুনলোনা। আর আমারও যে কি হয়ে গেল দরজার পাশেই খিল’টা রাখা ছিলো। ওটা দিয়েই না কিভাবে যেন মেরে বসলাম। সত্যি আমি ওভাবে মারতে চাইনি, শুধু মাকে বাচাঁতে চেয়েছিলাম।কেন মারতে চায়নি জানেন, লোকটা যে আমার বাবা. কিন্তু কি করবো বলুন মাকে যে খুব বেশি ভালবাসি। (চলবে)

৪,৭৭২ বার দেখা হয়েছে

৫৮ টি মন্তব্য : “ভালোবাসি”

  1. বস আপনার তো কোন খোঁজই নাই। কেমন আছেন? মনটা মনে হয় একটু বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে আপনার। ব্যাপার না। লেখা জটিল হইছে। আপনারে আর আমারে মনে হয় মানুষজন ভুইলাই যাবে।

    জবাব দিন
  2. রকিব (০১-০৭)
    তারপর ফয়েজ ভাই, শওকত ভাই, চা ওয়ালা etc. etc দের জটিল জটিল লেখা পড়ে লিখতে সাহস হতো না।

    রাব্বি ভাই, উপ্রের লিজেন্ডদের সাথে আমার নাম দিয়া পুরাই মান ইজ্জতের ফালুদা বানাইছেন। কই আম গাছ, আর কই শ্যাওড়া গাছ।
    বহুতদিন পর লিখলেন।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।