ড্রামের তালে তালে হাইহিলের শব্দ

আমরা যখন ক্যাডেট কলেজে জয়েন করলাম তখন আমাদের ব্যাচে ছিল মোট ৫৬ জন।একমাত্র আমাদেরই চারটি হাউস। তাই প্রতি হাউসে ১৪ জন করে। আমাদের মধ্যে একজন ছিল সাখাওয়াত উল্লাহ জুয়েল। ওর জ়ন্ম কাতারে হওয়ায় আমরা ওকে বাংলাদেশী হিসেবে মানতে নারাজ় ছিলাম। এ নিয়ে টীজ় করতে কার্পণ্য করতাম না। কাতারের এই ছেলেটির বাংলা হাতের লেখা কিন্তূ ছিল অসাধারণ। তাই হাউসের ওয়ালপেপারে ওর লেখা থাকত।নাইন টেনে একবার সাখাওয়াতের প্রাইভেট টিউটরের বাংলা নোট বেশ জনপ্রিয়তা পেল। আমরা সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। একবার ছুটি থেকে সাকু রাহুল কাট চুল নিয়ে হাজির। একেকবার মনে হয় একেকটা চমক নিয়ে হাজির হতো। আমরা রুমমেটও ছিলাম। একাডেমিক রেজাল্ট ছিল ভাল। আস্তে আস্তে দেখলাম গীটার এবং ড্রাম শিখে ফেলল। গেমসে সেরকম সক্রিয় না থাক্লেও কালচারাল একাডেমিক এবং হাউসের বিভিন্ন একটিভিটিসে (গার্ডেনিং,ওয়ালপেপার) ছিল সদর্প উপস্থিতি। ক্লাস একাদশ দ্বাদশে দেখা গেল আমাদের সাকুকে অলরাউন্ডার বলা যায় নির্দ্বিধায়।আমাদের কলেজের লন ক্রিকেট, রুমে সক্স ক্রিকেট এবং আরও অনেক সুখস্মৃতি আছে।

আইসিসিএলএম এ আমাদের সাখাওয়াত এমজিসিসির কোন এক ক্যাডেট এর গাওয়া জ্বালা জ্বালা গানটির সাথে ড্রাম বাজিয়েছিল। তাই ওর ক্রীডেনশিয়াল হয়েছিল ‘ড্রামের তালে তালে হাই হিলের শব্দ’। আমাদের বার্ষিকী ফৌজিয়ান এ ১২ ক্লাসের ক্যাডেটদের ক্রীডেনশিয়াল থাকত। সেখানে আমাদের সাকু’র এমনই ক্রীডেনশিয়াল ছিল।

sak
২০ মে ২০০৬ সালে আমাদের ব্যাচের জন্মদিনে গুলশানে টপক্যাপিতে পেটপুজার পর। সর্বডানে দাঁড়িয়ে সাকু, আমি ডান থেকে চতুর্থ

এরপর পেরিয়ে গেছে অনেক কাল। সাকু বুয়েটে আর্কিতে, আর্টে খুব হাত ভাল ছিল। আমরা দুজনই ঢাকায় ছিলাম তাই কখনো ব্যাচের জন্মদিনে গেট টুগেদার বা অন্য কোন কারনে মাঝে মাঝে দেখা হতো। তারপর আমিও জব করি।সাকুও আর্কি পাশ করে আমাদের এক ফৌজিয়ানের ফার্ম প্রনয়নে জব করত। আর এনগেজমেন্ট হয়েছে কিন্তু তখনো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। এরকমই একটা সময়—
২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবর। আমি ঢাকা ভার্সিটি ক্যাম্পাসের লাইব্রেরী গেটের মুখে মামুর দোকানে সিঙ্গারা,চা খাচ্ছিলাম আমার কিছু বন্ধুর সাথে। বেশ ফুরফুরে মেজাজে। ঠিক তখনি নাভিদের এসএমএস
“ situation is worst, there is no hope dost”

এসএমএস টি আমাকে কিছুক্ষনের জন্য ভাবিয়ে তুলল।ভাবলাম নিশ্চয়ই খারাপ কিছুর আলামত। আমি ফোন দিলাম। যা শুনলাম তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বিষয়বস্তু এরকম-
“সাখাওয়াত ঢাকা থেকে নাইটকোচে চিটাগাং এসেছে। ভোররাতেই নেমেই অসুস্থ নানীকে হস্পিটালে দেখে বাসায় ফেরার পথে বাসার কাছেই ছিনতাইকারী দ্বারা ছুরিকাহত। কলার বোন ভেঙ্গে দিয়েছে, বুকে স্টেপ করেছে, পেটে রড ঢুকিয়েছে এবং বেদম মার মেরেছে।চমেকে আছে, অবস্থা ভালনা।“

আমাদের রাত কাটতে থাকলো অজানা উৎকন্ঠায়। বারবার ফোন দেই যারা চিটাগাং আছে তাদেরকে। রাতে যাওয়া সম্ভব হলোনা। মাঝরাতের পর শুনলাম চুড়ান্ত দুঃসংবাদ। এখানেও সাখাওয়াত শেষবারের মত চমক দেখিয়ে আমাদের সবাইকে ফাঁকি মেরে চলে গেছে না ফেরার দেশে।৭০ ব্যাগ রক্ত দিয়েও কোন কাজ হয়নি। আমি জানিনা আমার অনুভূতি কেমন হয়েছিল। শুধু বলতে পারব নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল আর সবকিছু যেন কেমন ফাঁকা লাগছিল। আমি নানা নানী বা চাচা হারানোর অনুভূতির সাথে পরিচিত ছিলাম। এই প্রথম টের পাচ্ছি ভাই হারানোর শোক সহ্য করার যেন ক্ষমতা আমার নেই।
তারপরদিন চিটাগাং যাওয়ার জন্য আমি আর আফরোজ বের হলাম কিন্তু ওখান থেকে সবাই বলল আসিস না।সাকুকে আমরা ওদের গ্রামের বাড়ী লোহাগাড়া চুনতি নিয়ে যাচ্ছি। তোরা এসে কিছু পাবিনা।

শেষ দেখাটাও দেখা হলোনা।কবে শেষ দেখেছি তাও মনে করতে পারলামনা। তারপর দুই সপ্তাহের মত আমি নীরবে নিভৃতে কেঁদেছি। কোন কাজে মন বসাতে পারিনি। অফিসে কাজ করছি, সবার সাথে যেখানেই যা করছি আমি সারাক্ষন লুকিয়ে লুকিয়ে কেঁদেছি। সাকু আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিলনা তবে খুব ভাল ফ্রেন্ড ছিল।কিন্তু এত ভালবসতাম সেটা আগে বুঝিনি। আমি নিজেও যেন নিজেকে চিনতে পারছিনা,কোনমতেই নিজের মনকে শান্ত করতে পারিনি।
আমাদের ফাঁকি দিয়ে কই চলে গেলি সাকু ? আমরা কি এতই অপরাধ করেছিলাম !

সাখাওয়াত মারা যাবার পর প্রাথমিকভাবে আমরা ওফা অফিসে মিলাদ আর পরিবাগে মসজিদে কুর’আন খতমের ব্যবস্থা করেছিলাম। আর আমাদের ব্যাচের সবার কন্ট্রিবিউশনে ৪৫ হাজার টাকার মত হয়েছিল। সাকু ওদের এলাকায় একটি মসজিদের ডিজাইন করেছিল। সেখান থেকে হাজার বিশেক মসজিদের উন্নয়নের জন্য দান করেছিলাম।আর ওখানে এতিমদের একবেলা খানাপিনার আয়োজন করেছিলাম।বাকি টাকা দিয়ে আরও কিছু কাজ করেছিলাম।পরেরবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বুয়েট মসজিদে মিলাদ আর কুর’আন খতম করিয়েছিলাম।

আমি সিসিবিতে যখন থেকে লেখা শুরু করেছি তখনি ভেবছিলাম সাকু’কে নিয়ে একটা ব্লগ লিখব। কিন্তু যতবারই লিখতে গিয়েছি পারিনি। যেদিন সকালে লেখার কথা মনে করেছি ঐদিনটাই আমার বিষাদে কেটেছে, লিখব ত দূরে থাক।তারপর হয়ত হাস্যকর কোন ব্লগ লিখে মজা করার চেষ্টা করেছি।

ওরা মরেনি। আমার অন্তঃত তাই মনে হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ বইমেলা ছিল। ঐদিন অনেককিছুই ঘটে গেল কিছুই জানলাম না। তারপরদিন দুপুরে আমার ফ্ল্যাটমেট দেখলাম কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে এবং খুব আপসেট মনে হলো। বারবার বলছিল “জহির এত ভাল ছেলে ছিল…খুব দুঃখজনক…”
আমি জিজ্ঞেস করলাম কোন জহির? আমি আবার জানতাম ওর ভার্সিটির এক ফ্রেন্ড আছে জহির। কিন্তু বললো “ ঐ জহির না আমার ওয়ারিদের ফ্রেন্ড তুই চিনবিনা । আমি এখন গাজীপুর যাব ”

আমি তখনো জানলাম না আসল ঘটনা কি। জহির ভাইয়ের সাথে অনেকদিন কোন যোগাযোগ ছিলনা। আমি জানতাম ঢাকা ভার্সিটিতে পড়তো। পরে যে ওয়ারিদে জব করে এবং বাড়ী গাজীপুর এই তথ্যও জানা ছিলনা। রাতে ফিরে আমার ফ্রেন্ড বলছে জহির ত ফৌজিয়ান চিনিস নাকি? আমি যাচ্ছেতাই গালাগালি করলাম, ওয়ারিদের দুইদিনের ফ্রেন্ডশিপ আর তুই বলতেছিস আমি চিনি কিনা ! দুপুরে জিজ্ঞেস করলাম বললি না কেন? তাহলে ত আমিও গাজীপুর যেতাম!

zahir
৪×৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে চ্যাম্পিয়ান টিম ববীন্দ্র হাউস।বা থেকে তানভীর আলী,আব্দুল্লাহ,জহির,আশরাফ(আমি ছাড়া বাকী সবাই ৩৯ তম ব্যাচের)

কেন দুপুরে বুঝলনা আমিও ফৌজিয়ান, আমিও চিনবো জহির ভাইকে।এ জন্য আমার এখনো রাগ হয় ভীষন। অনেক টুকরো ঘটনা মনে পড়তে লাগলো- যখন আমার ৭ ক্লাশে ৭ নম্বর রুমে ক্যাডেট লাইফ শুরু, আমার রুম প্রিফেক্ট ছিলেন জহির ভাই। আরও কত স্মৃতি ! সুইমিং এ বিশেষ করে, আইসিসিএসএম’এ অপ্রত্যাশিতভাবে ৫০ মিঃ বাটারফ্লাইয়ে গোল্ড এনে দিলেন।আবার অপ্রত্যাশিতভাবেই ধুমকেতুর মত যেন কোথায় চলে গেলেন ! মাঝে মাঝে জীবনটা এত শুন্য মনে হয় কেন !
সাখাওয়াত আর জহির ভাই দুজনের কারো শবদেহ আমার দেখা হয়নি। তাই তারা আমার কাছে আজও জীবিত।

আজ সকাল থেকেই আমার মনটা খুব বিক্ষিপ্ত। ফ্রেন্ডশিপ ডেতে সবাই আনন্দ করছে, সবার ফ্রেন্ডদের উইশ করছে কিন্তু আমি একেবারেই কৃপণ। আমার কেন যেন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সাকুর কথা মনে হলো এবং আমি আবারও পরাস্ত,চোখ ভিজে গেল। আমি পণ করলাম আজ কাউকে উইশ করবনা। করিওনি, সবাই মনে হয় আমার মনের কথা বুঝতে পেরে আমাকেও উইশ করেনি। কেবল একজন উইশ করেছিল তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

ফ্রেন্ডশিপ ডে’র ইতিহাস কিন্তু দুঃখের। আমেরিকায় একজনকে মেরে ফেলা হয়েছিল আগষ্টের ফার্স্ট শনিবার।আর রবিবার তার ফ্রেন্ড সুইসাইড করে। আমারও আজকের দিনটা যথার্থ কষ্টেই কাটলো। কিন্তু যার জন্য আমি কাউকে উইশ করিনি তাকে নিয়ে আজ ত ব্লগে লিখতেই হবে।

কিন্তু আমি আবারও মনে হয় হেরে গেলাম।এখন আমার দু’চোখ জলে ভিজে গেছে।আমি আর লিখতে পারছিনা।আমাকে সব বন্ধুরা প্লিজ ক্ষমা করবেন। এই ব্লগ লেখার জন্য বেশি তাড়না বোধ করেছি এবং এটিই সবচে’ বেশি এলোমেলো হলো।

৩,১১৮ বার দেখা হয়েছে

৩৫ টি মন্তব্য : “ড্রামের তালে তালে হাইহিলের শব্দ”

  1. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    কলেজ থেকে বের হবার পর অনেকদিন দেখা সাক্ষাৎ ছিলোনা। অথচ ভার্সিটির শেষ পর্যায়ে কি এক প্রজেক্টের কাজে এক সকালে শুধুমাত্র দেখা করার জন্যেইআমার রুমে গিয়ে হাজির হয়েছিলো। খুবই অবাক হয়েছিলাম। অনেকটাই শান্ত ধীর স্থির হয়ে গিয়েছিলো।

    অমানুষগুলো ওকে এমন ভাবে আঘাত করেছিলো যে ওর চেহারাই চেনা যাচ্ছিলোনা সেদিন।

    আল্লাহ ওকে যেখানেই রাখুন ভালো রাখুন।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  2. তুহিন ছুরিকাহত হবার পর আমি নিজেও সারাটা রাত দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি।সারারাত ভেবেছি,ওকে কি আবার আমরা ফিরে পাব?

    আল্লাহ মনে হয় এযাত্রা এতটা কঠোর হননি।

    আসলে নিজের ব্যাচমেট হারানোর জ্বালা শেয়ার করার মত মানুষ পাওয়া বোধ হয় খুব কঠিন।

    জবাব দিন
  3. ভাইয়া,

    আল্লাহ সাখাওয়াত ভাইয়ের আত্মাকে শান্তিতে রাখুন।

    .................................

    কিছু বলতে পারবো না ভাইয়া। আজ পরীক্ষা দিয়ে মাত্র এসে কালকে মিস হয়ে যাওয়া পোস্টগুলো পড়তে বসলাম। আমার চোখ দুইটা দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে গত মিনিট পাঁচেক ধরে......।
    আমার পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যাপারটা খুব খারাপ লাগে। সাখাওয়াত ভাইয়ের কথাটা আমার খুব কষ্ট দিলো। মৃত্যুই যদি হবে, তাহলে ওইসব ছিনতাইকারীদের হাতে এতটা নৃসংশভাবে কেন??

    বিয়েটা হয়ে গেলে আরেকটা মানুষটা সারা জীবনের জন্য আরো বেশি বেশি কষ্ট পেত... কী জানি! আমাদের জীবনের এতটুকু নিশ্চয়তা নাই-- আমরা কী নিয়ে যে থাকি!

    মনটা কেমন যেন লাগছে। আর কিছু লিখব না। চোখের পানি থামছে না.........

    জবাব দিন
  4. তাইফুর (৯২-৯৮)
    আইসিসিএলএম এ আমাদের সাখাওয়াত এমজিসিসির কোন এক ক্যাডেট এর গাওয়া জ্বালা জ্বালা গানটির সাথে ড্রাম বাজিয়েছিল।

    চিনতে পেরে কষ্ট বাড়ল ...


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  5. ইসলাম (৯৩-৯৯)

    তুই আমাকে এই লেখা পড়তে বললি কেন? 🙁

    সাখাওয়াত আমার সাথে নার্সারী থেকে টুয়েল্‌ভ পর্যন্ত একসাথে পড়ছে। ওর বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাকাতে পারিনা। বুকটা কেমন খালি খালি লাগে।


    মন তুমি কৃষিকাজ জানোনা, এমন মানবজমিন রইলো পতিত, ফলালে ফলতো সোনা

    জবাব দিন
  6. সাখাওয়াত আমাদের চুনতি গ্রামের সন্তান, গত ১৮-১০-২০০৯ নিরবে চলে .গেলো........।। যে দিনের কথা আপনি লিখেছেন। আসুন আমরা সবাই মিলে দোয়া করি।
    আমাদের গ্রামের ওয়েব সাইট www.chunati.com.
    Please visit the page for Sakwat jewel.

    জবাব দিন
  7. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    আপনাদের গ্রামের সাইট অকল্পনীয় সুন্দর :hatsoff:
    মামুনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে কোন আশাব্যঞ্জক কথা শুনাতে পারেনি।কেন জানিনা। কষ্টে বুকটা ফেটে যায়। =((

    জবাব দিন
  8. সালাম, পড়লাম লেখাটা।তবে আমি ঠিক চিনতে পারিনি আপনাকে। কবে দেখেছি ওই এফ সিসি তে ভুলেও গেছি।
    কোন মেইল আই ডি দেয়া নাই। তাই আমারটা দিয়ে গেলাম। কথা হবে ইনশাল্লাহ।ডিলিট করে দেন মন্তব্যটা।
    -সাখাওয়াতের সহোদর।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।