অ্যানাপোলিসের ডায়েরী – ৩

১৪ ই জানুয়ারি, বিকাল ৫:১৮, ২০১৪

মোকাব্বির ভাই এর ডায়েরী ব্লগ টা দেখে মনে হলো আমিও শুরু করে দেই না.. খারাপ হবেনা। এর আগে ছাড়া ছাড়া ভাবে দুইটা পর্ব দিয়েছিলাম। ভাবছি জিনিসটা নিয়মিত করতে হবে.. একটা ব্যাপার খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারছি যে আমি একটা ট্রানসিশন পিরিয়ড পার করছি অনেকদিন ধরে.. আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে গত এক বছর ধরেই। এখানে এসে প্রথমেই পাই প্রাথমিক কালচারাল শকের স্বাদ। সেই ধাক্কা সামলাতেই অনেকদিন লেগে যায়.. এরপর আস্তে আস্তে আমার মনোজগতে অনেক বড় ধরণের একটা পরিবর্তন আসা শুরু করে। সেই পরিবর্তন এখনো চলছে। তাই এই সময়ের চিন্তা ভাবনা গুলো লিখে রাখা দরকার। কয়েক বছর পরে এগুলো পড়ে মজা পাবো নিশ্চিত। তাই ভাবলাম আর যাই হোক, অন্তত নিজের জন্য লেখা দরকার। নতুন সেমিস্টারের প্রথম সপ্তাহ শেষ হয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে। যদিও আমার গা থেকে এখনো শীতকালীন ছুটির গন্ধ পুরোপুরি যায়নি, তবুও পুরোদমে ক্লাস অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। সাথে আরো সব মিলিটারী ফর্মালিটিস তো চলছেই। স্পেশালি সুইমিং এর জন্য এক্সট্রা ইফোর্ট দেওয়া লাগছে। ২০১১ তে প্রথম সাতার শেখা এই আমার জন্য এখানকার সুইমিং টেস্ট আর সুইম কারিকুলাম এর সাথে তাল মেলানো একটু জুলুম টাইপের হয়ে যায়। এদিক টা বাদ দিলে বাকি সব মিলিয়ে সেমিস্টারের শুরুটা মন্দ হয়নি। কোর্স গুলো আর আমার প্রফেসর রা বেশ ইন্টারেস্টিং। একদিকে পড়ছি ফিজিক্স সেকেন্ড পার্ট, ইন্ট্রো টু স্ট্যাটিসটিক্স আর অন্য দিকে এনসিয়েন্ট ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি, এথিক্স, নিউক্লিয়ার উইপন এন্ড ইউএস ন্যাশনাল সিকিউরিটি। বিজ্ঞান ও লিবারেল আর্টস এর এক অদ্ভুত মিক্সচার। বিশেষ করে এথিক্স ক্লাসের এর রিডিং গুলো পড়ে বেশ মজা পাচ্ছি। প্লেটো, এরিস্টটল , কান্ট , হিউম থেকে শুরু করে সব নামজাদা দার্শনিক এর লেখার ফাঁকে ফাঁকে প্রচুর কেস স্টাডি। দেখা যাক সেমিস্টার শেষে এই কোর্স আমার মোরাল ভ্যালু তে বিশেষ কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কিনা। শুধু একটা ক্লাশ এই মুহুর্তে আমার কাছে গোদের উপর বিষফোড়ার মতো লাগছে। এরাবিক ! এই ভাষা শিখতে গিয়ে জান বেড়িয়ে যাচ্ছে। ভেবেছিলাম যে কায়দা-সিফারা পড়ার যে প্রাথমিক যে জ্ঞান টা আছে সেটা মনে হয় অনেক সাহায্য করবে। কিন্তু এক সেমিস্টার শেষ করে নতুন সেমিস্টারে এসে মনে হচ্ছে একেবারে অথৈ সাগরে পরে গেছি। মাথা নষ্ট করে দিচ্ছে এই ভাষা। টাইম ম্যানেজমেন্ট ঠিকমতো করা লাগবে এবার। ফেসবুক থেকে বের হয়ে সত্যিকারের একটা জীবনের স্বাদ নেওয়া দরকার। ফেসবুকে হাতি-ঘোড়া মেরে মেরে আমি অনেকটা কূপমন্ডুক টাইপের হয়ে গেছি ইদানিং । এ অভ্যাস ছাড়তে হবে। ডিনার এর সময় হয়ে গেছে। পেটের ভেতর ছুচো দৌড়াদৌড়ি করছে। ডাইনিং হলে যেতে হবে। আজকের মেন্যু তে আছে স্যামন ফিশ, ম্যাশড পটেটো, ক্যালিফর্নিয়ান ভেজিটেবল আর চিজ কেক। টিপিকাল আমেরিকান ফুড। এই উইকেন্ড এ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট টায় একটা হানা দেওয়া ফরজ হয়ে গেছে।

১৬ ই জানুয়ারি , ২০১৪

আজ মাত্র একটা ক্লাস ছিল। সকালে ফল ইন এর পর ব্রেকফাস্ট করে আরেকটা ঘুম দিলাম। টানা ১০ টা পর্যন্ত। এরপর দেড় ঘন্টার একটা ক্লাস , এরপর লাঞ্চ, এরপর আর কিছুই না ! কালকে শুক্রবার। ৩ দিনের উইকেন্ড দরজায় কড়া নাড়ছে। আর আমরা সেই মুলার পিছনে গাধার মতো দৌড়াচ্ছি। এই জায়গায় সবকিছুতে কাউন্টডাওন করার একটা ট্রেডিশন আছে। সপ্তাহের প্রথম দিন থেকেই সবাই দিন গোনা আরম্ভ করে। উইকেন্ড এর আর কতদিন বাকি। সেমিস্টারের প্রথমে দিন গোনা শুরু হয় নেক্সট ব্রেক বা ছুটি কত দিন পরে। ব্যাপারটা আমার ভালো লাগেনা। সামনের কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করে থাকা মানে তো বর্তমানের অস্তিত্ব কে অস্বীকার করা । বর্তমান সময়ে ঠিকমতো বাচতে না পারলে , ভবিষ্যতে যাই থাকুক না কেন, সেটা উপভোগ করার ক্ষমতা আমাদের থাকবে কিনা এতে আমার সন্দেহ আছে। একদিন, একদিন করে বাচতে শেখাটা খুব জরুরী। যাই হোক, কালকে সন্ধ্যায় ব্যাটালিয়ন নাইট ছিল। পুরাই একটা কৌতুকময় ব্যাপার স্যাপার। চিক ফিলির স্যান্ডউইচ খেয়ে পুরা ব্যাটালিয়ন মিলে মেন’স বাস্কেটবল খেলা দেখতে হবে। নেভি বনাম বাকনেল ইউনিভার্সিটি। বাস্কেটবল খেলা দেখতে কোনো সমসা নেই, কিন্তু ঝামেলা হয় যখন এই খেলা দেখাকে কেউ বাধ্যতামূলক করে দেয় ! যাই হোক, খেলা বেশ কম্পিটিটিভ ছিল। ম্যাচ শেষে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় লাভ । রাতে রুমে ফিরে এসে স্প্রিং ব্রেক এর প্ল্যান করতে করতেই রাত ১/২ টা বেজে যায়। কোম্পানির ৫/৬ জন কোর্সমেট মিলে স্প্রিং ব্রেকে একটা ট্রিপ মারার ধান্ধায় আছি। প্রাথমিক চয়েজ পুয়ের্তো রিকো আইল্যান্ড। দেখা যাক। এখনো অনেক দেরি আছে ব্রেকের। কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়, কে জানে? ইদানিং একটা বিষয় খেয়াল করলাম। বাংলা হরফে ইংরেজি শব্দ লেখার প্রবণতা আমার বেড়ে গেছে। ২০১১ সাল পর্যন্ত লিখতাম ইংরেজি হরফে বাংলা। এরপর যখন বাংলায় লেখা শুরু করলাম আর দেশ ছেড়ে চলে আসলাম , তখন আরেক ধরণের পরিবর্তন আসা শুরু করলো। ইদানিং মনে অজান্তেই প্রচুর ইংরেজি শব্দ বাংলায় লিখে ব্যবহার করছি। জিনিসটা চাইলেই এড়ানো সম্ভব মনে হয়। এটুকু লিখে উপরের পুরো প্যারা টা আবার পড়ে দেখলাম। ইংরেজি শব্দের ছড়াছড়ি। সিদ্ধান্ত নিলাম যে সম্পাদনা করবো না। থাকুক এভাবে। পরের লেখা থেকে বিষয়টা ঠিক করতে হবে।

১৯ জানুয়ারি ২০১৪, রাত ১:৩০

বেকার একটা দিন কাটালাম। কি করলাম নিজেও জানিনা। শনিবার সকাল, যথারীতি ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেল। সাপ্তাহিক কর্মদিবসে ঘুম বিহীন সময় গুলো সুদে আসলে সপ্তাহান্তে ই তুলতে হয় । ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয়ে গেল আমার শনিবার সকালের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম। একটানা ফুটবল খেলা দেখা আরকি। রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ ছিল ১০ টা থেকে। এক পর্দায় রিয়াল এর খেলা আর আরেক পর্দায় আর্সেনাল এর খেলা ছেড়ে দিয়ে চেয়ারে বসে পরলাম। মাঝখানে দৌড় দিয়ে ডায়নিং হলে গিয়ে ব্রাঞ্চ সেরে এলাম। এরপর আবার লিভারপুল এর ম্যাচ। ভেবেছিলাম বাইরে কোথাও যাবো। কিন্তু কেন জানি সব ইচ্ছে মরে গেল। কোথায় যাচ্ছি তার চেয়ে যে জিনিসটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো কার সাথে যাচ্ছি। ব্যাটে বলে মিললো না.. তাই ঘোরাঘুরির চিন্তা বাদ দিয়ে রানিং শু পরে বের হয়ে গেলাম। একটু দৌড় ঝাপ আর সাইক্লিং করে এসে আবার রুমে ফিরে এলাম। প্রচন্ড ঘাম ঝড়ানোর পরও শাওয়ার নিতে তবুও কষ্ট লাগলো । শীতকালে গোসল করাটা একটা পেইন।  এর মাঝেই রুমমেট এসে প্রস্তাব দিলো যে সে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে যেতে যায়।কোন কিছু না ভেবে সাথে আমিও রওনা দিলাম। এই দেশে আসার পর থেকে আমি কেন জানি ল্যাম্ব এর ভক্ত হয়ে গেছি। যেকোনো রেস্টুরেন্টে গেলে কেন জানি আমি ঘুরে ফিরে ল্যাম্ব ই অর্ডার করি। যথারীতি একটা ল্যাম্ব স্পেশালিটি অর্ডার করলাম। যাই হোক, খাওয়া দাওয়ায় হ্যাপি এন্ডিং হয়নি। কারিতে ঝাল ছিল প্রচন্ড রকমের বেশি। মিডিয়াম ঝাল করতে বলতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। খাওয়ার সময় নাক আর চোখের পানি মুছতে মুছতেই জান বের হয়ে গেছে। রুমমেট এর সামনে ব্যাপক ভাব নিয়ে প্রায়ই বলি ,” আই ক্যান ইট এনি কাইন্ড অফ স্পাইসি ফুড” .. আজকে আমার এই নাকানি চুবানি খাওয়ার সিনারি দেখে সে তো হেসেই বাঁচেনা। প্রেস্টিজে বড় রকমের একটা পাঙ্কচার হয়ে গেছে।  যাই হোক আত্মসমর্পণ করিনি। এক আমেরিকান এর সামনে তো বঙ্গদেশের মর্যাদা হানি করতে পারিনা। তাই,পুরো ২ প্লেট বাসমতি চালের ভাত আর ল্যাম্ব গোশত ভিন্দালো কারি আর নান রুটি যা ছিল সব শেষ করেই এসেছি। বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচগ্র্য মেদিনী।

ফিরে এসে কিছু একাডেমিক কাজ করার চেষ্টা করলাম। এথিক্স পেপার লিখার চেষ্টা করলাম, কিছু ফিজিক্স প্রবলেম করার চেষ্টা চালালাম। কিন্তু সেই চিরায়ত রোগ,”মন বসেনা পড়ার টেবিলে” ! তার উপর এটা উইকেন্ড। ধুপ করে বই খাতা সব বন্ধ করে দিয়ে বসে পরলাম কম্পিউটার এর সামনে। ইদানিং ফেসবুকে সময় কাটানো একটু কমিয়ে দিয়েছি। সেই সময় টুকু মুভি দেখাতে ব্যয় করছি। গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটা ফ্রেঞ্চ মুভি দেখা হলো। গতকাল দেখলাম “দি ইনটাচেবল” আর আজ দেখলাম “এমেলি” ! সাবটাইটেল না থাকতে মুভি দুটো দেখতে দেরি হয়ে গেল অনেক। সময় নিয়ে অবশেষে দেখে ফেললাম। দুইটাই অসাধারণ মুভি। ফিল গুড জনার এর।  এধরণের মুভি দেখা জরুরি ছিল। অতি সাম্প্রতিক সময়ে ক্রাইম জনার এর মুভি বেশি দেখা হচ্ছিল। সেটা থেকে একটা ব্রেক দরকার ছিল। তার আগে “ফ্রোজেন” দেখলাম। আরেকটা ফিল গুড মুভি। গানগুলো এখনো মাথার ভেতর ঘুরছে একটানা। স্পটিফাই এ গিয়ে দেখলাম এই মুভির সাউন্ডট্র্যাক সব এলবামে মিলিয়ে   টপচার্ট এ দুই নাম্বারে আছে। তার মানে শুধু আমি না, এই গানের প্রেমে আরো অনেক মানুষই পরেছে দেখ যায়।

কাল রাতে অনেকদিন পরে একটা হিমুর বই পড়লাম। “দরজার ওপাশে” .. মনে হয় হুমায়ুন আহমদ এর লেখা প্রথম হিমুর উপন্যাস। আজকে একটা তিন গোয়েন্দা র বই পড়ার ইচ্ছে আছে। আমার এই স্বভাব টার সাথে আমি খুব ভালো ভাবেই পরিচিত। সচেতন ভাবেই অতীত কে নানাভাবে বর্তমানে নিয়ে আসতে চেষ্টা করি। তিন গোয়েন্দা যখন পড়ি , তখন পুরো মনটাকে দুইটা ভাগে ভাগ করে ফেলি। একটা ভাগ কিশোর , মুসা আর রবিনদের কাহিনী পড়তে থাকে আর আরেকটা ভাগ ঘুরে বেড়াতে থাকে অতীতে। খুঁজে বের করতে চেষ্টা করি সেই পুরোনো স্বাদটাকে। যখন আমি মোটা পাঠ্যপুস্তকের আড়ালে সেবা প্রকাশনীর পেপারব্যাক বইগুলো রেখে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তাম। স্টোলেন কিসেস আর অলয়েজ সুইটেস্ট। স্বাধীনতা পেয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা মাঝে মাঝে আমাদের পরাধীন জীবনের কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়কে মিস করা শুরু করি। মানব মন বড়ই আজব এক জিনিস।

২,৭১৮ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “অ্যানাপোলিসের ডায়েরী – ৩”

  1. ফারহান ( ২০০৪-২০১০ )
    সাবটাইটেল না থাকতে মুভি দুটো দেখতে দেরি হয়ে গেল অনেক।

    সাবটাইটেল না থাকাতে কি দেখা শুরু করতে দেরী হয়ে গেলো নাকি দেখা শেষ করতে ? :-/ :-/

    এই ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো সাবটাইটেল ডাউনলোড করতে পারিসঃ
    http://www.moviesubtitles.org

    🙂 (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  2. সামিউল(২০০৪-১০)

    :clap:
    লেখা ভাল হয়েছে।
    ডাইরি লেখার চেষ্টা আমিও করি, তবে খুব আলসে হওয়ার কারণে এক দুই লাইনের বেশি লেখা হয় না। 🙁


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন
  3. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    যাক শুরু হইলো। আমি ঝাল এখন একদমই খাইতে পারি না। তাই বড় গলায় বলাও বন্ধ করে দিসি! 🙁

    দুইজনে মিলায় চলো পেইজ দিনলিপি দিয়া ভাসায় দেই! :grr: :grr:


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  4. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    তোমরা, মানে তুমি মোকা এবং আরো অনেকে, হলে গিয়ে নমস্য পোলাপান।
    কি সুন্দর দিনলিপি! পড়ে শান্তি -- জাবর কেটে শান্তি।
    তোমরা সব দেশে গিয়ে একটা সোনার বাংলা তৈরি করবে ফের এ প্রতীতি হয়ে গেছে।

    জবাব দিন
  5. জিহাদ (৯৯-০৫)

    ২০১১ তে প্রথম সাঁতার শিখসো, সিরিয়াসলি? 😛
    আমি শিখসি ৯৫এ। বেশ কয়েকবার যমুনার জলে নাকানি চুবানি খাওয়ার পর। পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছি এই চিন্তাটা ভয়াবহ। ছোটবেলায় একটু দুষ্ট ছিলাম দেখে সাঁতার না জেনেও নদীতে নেমে যেতাম। ফলাফল বেশ কয়েকবার পানিতে ডুবতে ডুবতে বেঁচে যাওয়া নানাজনের সহায়তায়। এজন্য সাঁতারটা বোধহয় তারাতারি শেখা হইসিলো। খুব ভালো সাঁতার পারি তা বলবোনা, তবে কাজ চালানোর মত পারি, অন্তত ডুবে মরবোনা। 😀

    ডায়রী লেখার অভ্যাস খুব ভালো। কয়েকবছর পর যখন আবার পড়বা তখন নিজেই মজা পাবা পড়তে। নিজেকেই আবার আবিস্কার করবা নতুন করে। আমি টুয়েলভ পর্যন্ত লিখেছি। শেষের দিকে অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিলাম যদিও। তারপর আর হয়ে উঠেনি লেখা। এখন শুধু মাঝে মাঝে ব্লগর ব্লগর লিখা হয়।

    লেখা বরাবরের মতই দারুণ। চালিয়ে যাও 🙂


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
    • নাফিস (২০০৪-১০)

      অনেক ধন্যবাদ জিহাদ ভাই ! অনেক জোশ দিলেন 🙂
      কাহিনী সত্য ! আমি ভালো মত সাঁতার শিখছি ডিফেন্সে ঢোকার পর.. অনেক পেইন নিয়ে পানি খেয়ে শিখতে হইছে 🙁
      কলেজেও লিখতাম ডায়েরি। আমার সেভেন এর সব কাহিনী লিখা আছে... ওগুলা পড়ে এখন লজ্জা লাগে। 😀 এই লেখা পড়ে কিছুদিন কেমন ফিল করি সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি...

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।