~ কারোই কিচ্ছুটি নেই দোষ ~

জেগে আছি ভেবে
পাখিরাও বসেছিলো কাঁধে,
প্রজাপতি
আঙ্গুলের আনাচে কানাচে।

অগোছালো পাতাদের
নিরন্তর আহলাদে
শালিখেরা খেয়েছে
করতল খুঁটে খুঁটে।
বাবুই আর চড়ুইয়ের দল
কথার কোমল বিষাদে
এঁকেছিলো শব্দের আলপনা
কন্ঠার জেগে ওঠা তল্লাটে।

পায়ের পাতার কাছে
অপেক্ষামগ্নতার
লতানো টেরাসে
অচেনা ফোটা ফুল
পাঁপড়ির বিভাজিকা
মেলে ধরা উৎসবে
চেয়েছিলো উঠবে বেড়ে
স্থবির চোখের কাছে
ঠিক চিবুকের সমান।

লঘু চন্দ্রালোকে
শিলা স্থাপত্যের মতো
ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা
এলো চুল ক্ষ্যাপাটে।
মানুষ বাসিনা ভালো
তাই ওরকম কথাহীন
কাটাচ্ছি একটা জীবন
গাছ ফুল লতা আর
পাখিদের সাথে
সখ্যতার মৌতাতে।

বাতাসে মৃদু উড়ছিলো
বোকা চুলগুলো।
যেনো বলছিলো
আছি বেঁচে !
ভাবছিলো বুঝি
ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার
একটা জীবন আমার
এখনো আছে।

১১ অক্টোবর ২০১৫

১,৭১২ বার দেখা হয়েছে

১৩ টি মন্তব্য : “~ কারোই কিচ্ছুটি নেই দোষ ~”

  1. জিয়া (২০০২-২০০৮)

    শুভ সকাল ভাইয়া।

    আপনার কবিতাটা সকাল সকাল পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। আগ্রহের ঘোরেই কিছু জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলাম ভাইয়া। যেমন প্রথম তিন স্তবকের তারুণ্যের গান কি পরের স্তবকগুলোতে বয়সের ভারে হারিয়ে গেলো ভাইয়া? সেক্ষেত্রে চমৎকার শেষ লাইনগুলো
    "ভাবছিলো বুঝি/ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার/একটা জীবন আমার/এখনো আছে।" কি একটু নৈরাশ্য এনে দিল? শেষ বেলার হতাশা কি অনিবার্য্য? আমার জ্ঞ্যান এর পরিধি অত্যন্ত ছোট বিধায় প্রশ্নগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন ভাইয়া।।

    কবিতাটা অত্যন্ত ভালো লেগেছে ভাইয়া। 🙂

    জবাব দিন
    • লুৎফুল (৭৮-৮৪)

      বিষাদ আর জীবনের প্রতি অভিমানই কিন্তু কবিতাটার প্রতিপাদ্য। স্থবির জীবনে পাখী যেনো বাসা বাঁধে আমার শরীরে, ঠুকরে খায়। প্রজাপতি ঘোরে আংগুলের আনাচে কানাচে। প্রকৃতি তাকে তার অংশ করে নিয়েছে ঠিকই কিন্তু প্রকৃতি আর তার অনুসংগ তাকে গোনেনা অমন। আর যার জন্যে অপেক্ষা তার কারনেই শেকড় গজানোর মতোন এমন স্থবিরতা। এমন এক প্রবহমানতায় তাকে জীবিত ভাবাটাই যে ভুল সেটাই শেষ কথা।
      এটাকে ঠিক নৈরাশ্য বলা যাবে না। হতাশা ও অভিমান। হেঁয়ালীর ঢং এক অর্থে বলা যায়। ঢংটি জীবনের সাথে।
      বিষাদের কথা সম্ভবত বেশী ভর করে থাকে আমার ভিতর।

      জবাব দিন
  2. অরূপ (৮১-৮৭)

    ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার
    একটা জীবন আমার
    এখনো আছে।

    :boss: :boss: :boss: জটিল
    ... আঙ্গুলের আনাচে কানাচে প্রজাপতি, লঘু চন্দ্রালোক, অসাধারন। মুগ্ধ। মুগ্ধ। মুগ্ধ।


    নিজে কানা পথ চেনে না
    পরকে ডাকে বার বার

    জবাব দিন
    • লুৎফুল (৭৮-৮৪)

      একখান জীবন দাঁড়াইয়া হেলায় যদি কাটাইলাম, তারে কি কই। নড়ন নাই চড়ন নাই, সামনে পিছে যাওন নাই। মাইনষে আর কীইবা ভাববার পারবো !
      তবু প্রজাপতি, চাঁদ এইসবের সাথে একখান জোর সখ্যের দাবীর দলিল।
      অভিমানী যতোই হোক জীবনের সাথে, পাখিদের ডানায় কিবা প্রজাপতি পাখনায় এখনো তবু কিছু জীবন অবশিষ্ট যেনো রয়ে গেছে...
      অপার ধন্যবাদ অরূপ।

      জবাব দিন
  3. কবিতার জ্ঞান আমার নিতান্তই সীমিত, লিখি ভিতরের এক তাগিদে। ব্যকরনহীন জীবনই পছন্দ তবে প্রশান্তি এবং ছন্দের দোল চাই, চাই অপার ভালবাসা। তাই মানি বিচারিক মন্তব্য করার কোন যোগ্যতা আমার নেই।

    ভালো লেগেছে খুব, বিষাদে ভরে দিয়েছে শেষাংশ । কিছুটা গভীর প্রেমে ডুবে যেতেই ব্যাথা দিল সময় অথবা নিয়তি।

    প্রথম কোন লেখার মন্তব্য করছি এই ব্লগে, আমি জানি অনেকেই হয়তো অতীতের নিরবতায় একটু বিষ্মিত হয়েছে। শুধু বলবো নিজেকে চিনতে ও তো সময় লাগে , তবে আমি বিশ্বাস করি স্তব্ধতাও কথা বলে।

    জবাব দিন
  4. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    আকর্ষণীয় হেঁয়ালীমাখা কবিতা। পড়ে ভাবাক্রান্ত ও ভারাক্রান্ত, দুটোই হ'লাম। প্রথম স্তবকটাই তো ভিত গড়ে দিয়েছে, পরের সুন্দর কথাগুলো অবলীলায় চলে এসেছে। কিছু কিছু কথা অনবদ্য, স্পর্শ করে যায়ঃ
    ১। বাবুই আর চড়ুইয়ের দল
    কথার কোমল বিষাদে
    এঁকেছিলো শব্দের আলপনা
    কন্ঠার জেগে ওঠা তল্লাটে
    ২। ভাবছিলো বুঝি
    ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার
    একটা জীবন আমার
    এখনো আছে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।