~ বাসিনি ভালো ~

বাসবো বলেই বাসিনি ভালো
পৃথিবীর এতো আলো।
বাসবো বলেই বলিনি কখনো
বুকের প্রদীপ জ্বালো।

বাসবো বলেই
কথার বাগানে কখনো খুঁজিনি
ক্যাকটাস ফুলগুলি।
বাসবো বলেই করিনি উজাড়
রাতজাগা ঘুমগুলি।
চাইনি কখনো ফানুসে সাজানো
নিথর অন্তপুরী।

চোখের মাদল জলের ঢলে
রঙধনূ রঙ কাগুজে নৌকো
ভাসাইনি পাল তুলে।
বাসবো বলেই এক জোড়া কাপে
দেইনি চুমুক চুমুর নোটেশনে।

বলি
বাসবো বলেই, অবাক বালক,
অযুত বিকেল বাগানে কাটিয়ে,
ক্লান্তিতে ঘুম জড়িয়ে নিয়েও
ভাবিনি হাত ধরি।
করিনি প্রশ্ন, ভাবিনি বলেই
ঘাসেদের কানে কানে,
কান পাতা বিটোভেনে ;
রাতে কি কখনো
ঝরবে শিশির কণা !
মুক্তোর গায়ে
এঁকে দিয়ে তার সাত রঙ্গা দখিনা।

বাসবো বলেই
বলি বাসবো বলেই
হৃদয় গভীরে চালিয়ে ছুরি
চাইনি কখনো লোবান জ্বেলে ধরি।

বলি
বাসবো বলেই
কথাকে আমার গাঁথিনি গল্পে
স্বপ্নের খাম খুলে।
শব্দে সাজানো ইচ্ছে আঁকিনি
মেঘে আলপনা তুলে।

বাসবো বলেই
চন্দ্রালোকে
স্নানের রাতে,
দোলোনচাঁপা
গেঁথে রাখি
আঙ্গুলের সাথে।

বাসবো বলেই
কখনো বলিনি হাসো।
বলিনি বলিনি,
কখনো বলিনি,
রঙধনূ, চাঁদ, দোলোনচাঁপা,
কথার কোলাজ, স্বপ্নের খাম,
নির্ঘুম রাত ভালোবাসো ।

পারো যদি এই বুকে
কিছু মরু ক্যাকটাস বুনে রাখো।
পাঁজরের গায়ে
ধাতব রেলের মতোন
কান পেতে তুমি থাকো ।

আমি বাসবো বলেই
কখনো কাউকে ভালো,
দুহাতে আঁজলা করে
বুকের ভেতরে
তুলে রাখি মৃদু আলো।
বাসবো বলেই
বলেই বলেই
বাসবো বলেই বেশী
আজো কাউকে বাসিনি
বাসিনি বাসিনি
বাসিনি বাসিনি ভালো …

বাসবো বলেই
বাসবো বলেই
বাসিনি ভালো …

বাসবো বলেই
বাসিনি ভালো …

২৭-২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫
[ আগে কখনো এখানে গান পোস্ট করিনি। এই নতুন লেখাটা দিয়ে শুরু করলাম গাইয়েদের আনুকূল্যে শব্দে শোনবার এক সুপ্ত প্রত্যাশায়। ]

১,১২৬ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “~ বাসিনি ভালো ~”

  1. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    কবিতা ভেবেই পড়ে যাচ্ছিলাম।
    হঠাত মনে পড়লো, আরে, এটাতো গান?
    যেই না গান ভেবে পড়ার চেষ্টা শুরু করলাম, দেখি, আর এগুচ্ছে না।
    বুঝলাম, গান শোনাটা এলেও পড়াটা এখনো আয়ত্বে আসে নাই।
    আবারো তাই কবিতা পড়া শুরু করলাম।
    ভাল লাগলো "কবিতা" ভার্সনটাও....


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • লুৎফুল (৭৮-৮৪)

      গান হিসেবে পড়তে গেলে প্রায় সব লেখাই সুখপাঠ্যতা থেকে খানিক দূরে থেকে যায়।
      অবশ্য কিছু বাড়তি শব্দ বা পংক্তি ছেঁটে দিলে কবিতা হিসেবে আরো সুখপাঠ্য হতো।
      গান হিসেবে দাঁড় করাবার জন্য গুনগুনিয়ে সুর ভাঁজছি ...
      গান দাঁড়াতে দাঁড়াতেও কিছু শব্দ কিছু পংক্তি নিশ্চিত ঝরে যাবে ।
      মনের বয়স কিছুটাও বাড়েনি বলে কিছু একটা লিখলেই না ঘষে না মেজে তুলে দেই এখানে ওখানে ...
      সেই সম্পূর্ণতাসাধক স্পর্শ ব্যতিরেকে পড়বার যন্ত্রণাটুকু নেবার জন্য সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা বন্ধু।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।