তুমি কবি নও

ব্যথা পেলে মানুষ কাঁদে, সশব্দে বা নীরবে।
প্রিয়জনের বিদায়ে কাঁদে, শোকাহত হলে কাঁদে।
ভেঙ্গে পড়লে নিভৃতে বসে কাঁদে, ফুঁপিয়ে কাঁদে।
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কাঁদে। আনন্দে ও প্রার্থনায় কাঁদে।
তুমি কবি নও, এসব কান্না যদি শুনতে না পাও।

চাপা কান্না বাষ্প হয়ে ঊর্ধ্বগামী হয়ে যায়।
বারবার ঢোক গিলে তা লুকোতে হয়।
দু’চোখে অশ্রুর ফোঁটা মুক্তো হয়ে ঝুলে থাকে।
আস্তিনে বা আঁচলে মুছে ফেলার আগেই,
যদি তা দেখতে না পাও, তবে তুমি কবি নও।

মুখের ভাষা যখন হারিয়ে যায়,
চোখের তারাগুলো তখন নীরবে কথা বলে।
দূরে চলে গেলেও, কোন এক ফুলেল সুগন্ধিমাখা রাতে
জ্যোৎস্নালোকে বাতাসে ভেসে আসে আদরের যত কথা।
তুমি কবি নও, যদি তুমি শুনতে না পাও সেসব কথা।

পিয়ানো, দোতারায় বা গীটারে যে সুর ঝংকার ওঠে,
আহা! সেখানেও লুকিয়ে থাকে কত প্রাণের আহাজারি।
সুরের সে মূর্ছনা ছাপিয়ে একটি বিশুদ্ধ কবিতা
যদি তুমি পড়তে না পার, তবে নিশ্চয় জেনে রেখো,
সুরের শ্রোতা হলেও, তুমি আসলেই কোন কবি নও।

ঢাকা
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৪
স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

১,৩৪০ বার দেখা হয়েছে

১৮ টি মন্তব্য : “তুমি কবি নও”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    গতকাল আবৃত্তি শোনার পর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সিসিবির কবিতা আমি পড়বো। বুঝি না বুঝি সেটা পরে দেখা যাবে। বিশেষ করে এই কবিতাটি মনে দোলা দিয়েছে। বিশেষ ভাল লেগেছেঃ

    পিয়ানো, দোতারায় বা গীটারে যে সুর ঝংকার ওঠে,
    আহা! সেখানেও লুকিয়ে থাকে কত প্রাণের আহাজারি।
    সুরের সে মূর্ছনা ছাপিয়ে একটি বিশুদ্ধ কবিতা
    যদি তুমি পড়তে না পার, তবে নিশ্চয় জেনে রেখো,
    সুরের শ্রোতা হলেও, তুমি আসলেই কোন কবি নও।

    কারণ এই গানটির কথা মনে পড়েছেঃ


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  2. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    তুমি কবি নও, যদি তুমি শুনতে না পাও সেসব কথা।
    পিয়ানো, দোতারা বা গীটারের তানে বাঁধা কথকতা !
    শোক, সুখ, আনন্দ ও প্রেমে অনুভূতির উর্ধ্বগামী
    বাষ্পেরা দুচোখ যন্ত্রণায় ডুবিয়ে যে নেমে আসে
    তা যদি না বোঝো, না বোঝো ওদের ভাষা,
    যেমন কান্নার মালায় গাঁথা মুক্তো জল তবে থাকো বসে
    কাজ নেই কালি কলমের নামে সখ্যতা নির্মাণ করে
    তুমি কবি নও, থাকোনা কখনো তুমি জ্যোৎস্নার আলো মাখা ভোরে ।

    জবাব দিন
  3. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    :clap: :clap: :clap: :clap:

    সেদিন আমাদের আড্ডায় ভীষণ মুগ্ধতায় এই কবিতাটি শুনছিলাম আপনার কন্ঠে। অডিও ব্লগের জোর দাবী এখন করতেই পারি। মননে ও মেধায় আপনি যথাথর্ই কবি, ভাইয়া! 🙂

    জবাব দিন
  4. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন।
    জনাব আবদুল্লাহেল বাকি।
    উনি জীবনানন্দদাসের একটা পংক্তি দিয়ে কবি আর অ-কবির পার্থক্য বুঝিয়েছিলেন।
    "ধানের নরম শীষে মেঠো ইদুরের চোখ নক্ষত্র পানে আজো চায়..."
    দৃশ্যকল্পটা হলো: একটি ইদুর ভূমিতে বসে উপরের দিকে তাকিয়ে ধানের শীষ দেখছে।
    - অকবির চোখে ইদুরের ঐ তাকিয়ে থাকাটা ধানের শীষ পর্যন্তই এবং কেবলই ক্ষুধা নিবৃত্তের লক্ষে।
    - কবির চোখে সেই তাকানোটা ধানের শীষ ছাড়িয়ে নক্ষত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। আর তাই তা কেবলই ক্ষুধা নিবৃত্তের জন্য নয়। হতে পারে তা অন্য আরও অনেক কারনে...

    কবিতাটা পড়ার সময় এই কথাটা মনে পড়লো।

    আমি অবশ্য নূপুরের মত টেস্ট নেয়ার সাহস পেলাম না।
    জানি যে টেস্টে নির্ঘাত ফেল, তা নিয়ে কি লাভ। 😛 😛 😛

    কবি-কন্ঠে পাঠটাও থাকুক এখানে......

    (সম্পাদিত)


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

      "কবি-কন্ঠে পাঠটাও থাকুক এখানে......" - ধন্যবাদ পারভেজ। অনুষ্ঠানের সিংহভাগ কৃতিত্ব তোমার একার। আর উৎসাহী অংশগ্রহনকারী হিসেবে আমরা হয়তো ছিটে ফোঁটা কিছুটা কৃতিত্ব দাবী করলেও করতে পারি।
      কবি আর অ-কবির পার্থক্য বোঝাতে আবদুল্লাহেল বাকি স্যারের ফর্মুলাটি প্রণিধানযোগ্য। আমিও কিছুটা সেরকমটিই বলতে চেয়েছিঃ
      "আস্তিনে বা আঁচলে মুছে ফেলার আগেই,
      যদি তা দেখতে না পাও, তবে তুমি কবি নও" - সবাই দৃশ্যমানটা দেখে, কবি লেখকেরা আগে পরেরটাও।

      জবাব দিন
  5. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    🙂 🙂 🙂 🙂

    অকবির সাথে আমার শতভাগ মিল আছে, ভাইয়া! 😀 সাথে কিউট ইন্দুরটাও জোস। আমিও খাবারের সন্ধান করি সারাবেলা। তোমার এক্সপ্লানেশন ফাটাফাটি হয়েছে। 🙂

    জবাব দিন
  6. জিহাদ (৯৯-০৫)

    ভাইয়া, আপনার কন্ঠে শোনার পর কবিতাটা বেশি ভালো লাগছে। কাজেই আমার মনে হয় কবিতার পাশপাশি মাঝে মাঝে অডিও ব্লগ দেয়াটা খুব চমৎকার একটা ব্যাপার হবে


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।