৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ১৭তম পর্ব

আমরা সবাই কম-বেশি প্রেম বা ভালবাসাবাসি করেছি। আমি হলফ করে বলতে পারি ৮০ ভাগ মানুষের প্রথম ভালবাসা হয়ে থাকে প্রথম দেখা ( লাভ এট ফার্স্ট সাইট) এবং ভাল লাগা থেকে।
আমার বেলায়ও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। আর ২০০৩ সালে আমার পাশের বাড়িতে আসা নতুন মেয়েটিকে দেখে আমার হঠাৎ মনটা ছটফট করে উঠল। বুঝতে পারলাম আমি ফিদা হয়ে গেছি। আমার মনে প্রেমের জোয়ার বইছে। চেষ্টা-তদবিরের কল্যাণে আমাদের প্রেমও হয়ে গেল।

কিন্তু ক্যাডেট কলেজে থাকাকালীন সময়ে এইসব প্রেম-পিরিতি করাটা আসলেই একটা বড় ঝামেলা। ছুটিতে গেলে আমাদেরও তাই এই নিয়ে ঝগড়াঝাটি কম হত না। আমাদের প্রেমের বছর দুই পরের ঘটনা। আমি সেবার ছুটি থেকে আসার আগের দিন সারা বিকেল চুটিয়ে প্রেম করার পর সন্ধ্যাবেলা লেগে গেল ঝগড়া। সারারাত মন খারাপ, কলেজে এসেও মন খারাপ লাগলো। তো বসে গেলাম কবিতা লিখতে। সেদিন ছিল ২২শে জুন ২০০৩ নাইট প্রেপ, ক্লাসের শেষ ডেস্কটাতে লিখতে বসে গেলাম। লেখাটা ছিল অনেকটা এমন……………

পাঁচ-ছয়টি রজনীগন্ধার স্টিক
কিংবা একতোড়া রক্তলাল গোলাপ;
এ যেন তোমার প্রতি আমার
ভালবাসার নির্দয় প্রলাপ।
আমি তোমাকে এ গোলাপ
বা রজনীগন্ধা দিতে ব্যর্থ,
কারণ সময়টা বড়ই নির্মম
ওয়ালেট কিংবা মানিব্যাগে নেই অর্থ।

তোমাকে একটি প্রশ্ন করি,
ভালবাসা কি অর্থের মোহে আবদ্ধ?
নাকি ভালবাসা মানে গাড়ি-বাড়ি
কিংবা রেঁস্তোরা বা লং ড্রাইভ?
তৃ্তীয় বিশ্বের এই হতদরিদ্র দেশ
কে দেবে আমায় চাকরি?
নাকি সারাজীবন আমাকে
করতে হবে তোমার প্রেমের হকারি!
বলো এ অনাচার-বৈষম্য থেকে
কে দেবে আমায় মুক্তি?
এ বেকার প্রেমিকের বাঁচার প্রয়োজনে
দেখবে তুমি কোন যুক্তি?

তাই আমায় দাও এক শিশি বিষ
কিংবা সস্তাদরের দুটো স্লীপিং পিল;
কারণ আমি আর চাইনা বাঁচতে
কবে হবে আমার সাথে মৃত্যুর মিল??

১,১৭৯ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ১৭তম পর্ব”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    আহা! আহা! কিশোর বয়সের প্রেম। তুলনা হয়?
    এলেম আছে বটে তোমার। ক্যাডেট কলেজে থেকে প্রেমিকা মেনটেন করা সোজা ব্যাপার না। তা তিনি আছেন কেমন এখন?

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।