৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ১৫তম পর্ব

২০০৩ সালের ২৩শে ডিসেম্বর, কিছুদিন আগে বিজয় দিবস হয়ে গেছে কিন্তু মন থেকে সেই স্মৃতি বা চেতনা তখনো যায়নি। তাই সেদিন বসে গিয়েছিলাম কবিতা লিখতে। কবিতা লেখার কোন জ্ঞান আমার ছিল না। মন থেকে যা ভাল মনে হয়েছিল তা দিয়ে ছন্দ মেলানোর একটা চেষ্টা করেছিলাম আরকি। যাইহোক আমার কবিতার ভুলগুলোকে পাঠকরা দয়া করে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। তো কবিতাটা ছিল এমন………………

সেই সাতারোশো সাতান্নতে পলাশীর যুদ্ধে হলাম পরাজিত,
তখন থেকে আমাদের মনে জেগে ওঠে স্বাধীনতার ভিত;
আঠারোশো সাতান্নতে তেঁতে উঠেছিল সিপাহী বিদ্রোহের দাবানল,
সারা বাংলায় বেজে উঠেছিল স্বাধীকার ও স্বাধীনতার ডামাডোল;
ঊনিশশো আট সালে ক্ষুদিরাম বোমা মেরেছিল কিংসফোর্ডের গাড়িতে,
প্রতিবাদ ও প্রতিশোধের অনলজ্বালা জেগে উঠেছিল বাংলার বাড়িতে বাড়িতে।

ঊনিশশো ত্রিশ সালের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন,
বাংলার লক্ষ লক্ষ তরুণ বিলিয়ে দিল তাদের প্রাণ;
ঊনিশশো বাহান্নতে আন্দোলন করে পেলাম মাতৃভাষা,
তাইতো আজ আমরা মেটাতে পারি আমাদের মনের যত আশা।
তখন রফিক সালাম বরকত অকাতরে বিলিয়ে দিল প্রাণ,
আর আমরা রাখতে পারলাম আমাদের মাতৃভাষার মান।

ঊনিশশো একাত্তরে লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পেলাম স্বাধীনতা,
তখন থেকেই আমাদের মনে জেগে উঠল স্বদেশের প্রতি মমতা;
তাই বাংলা অধিকারের ইতহাসে মিলিয়ে দিলাম ছন্দ,
আমার মনে বাংলা ও মাতৃভাষা নিয়ে নেই কোন দ্বন্দ।

বিঃ দ্রঃ আমি মানবিক বিভাগের ছাত্র ছিলাম তাই আমার কবিতার বিষয়বস্তুতে ইতিহাস বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল……………………( চলতে থাকবে )

৫০২ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ১৫তম পর্ব”

  1. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    কিছু কিছু ছন্দ বেখাপ্পা মনে হলো। কবিতা বিষয়ে খুব ডিপ নলেজ নাই তাই ব্যাখ্যা করতে পারলাম না। তবে কবিতার বিষয় নির্বাচন ভালো লেগেছে।
    তবে তুমি যেহেতু মানবিক বিভাগের অথবা ইতিহাসকে ভালোবাস, তাই জানতে চাওয়া সিরাজ উদ দৌলাকে কী আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক বলা উচিত যার পরাজয়ে স্বাধীনতার সূর্য ডুবে? যতদূর জানি তার অরিজিন বাঙলা নয়। তিনি বাংলায় কথা বলতে পারতেন কী? তার মাতামহ আলীবর্দী বিশ্বাসঘাতকও বটে। এ ব্যাপারটা নিয়ে আমি নিজেও কিছুটা কনফিউজড।

    জবাব দিন
    • জুলফিকার (২০০০-২০০৬)

      ১মঃ ভাই কবিতা বিষয়ে আমার জ্ঞানও অনেক কম।
      ২য়ঃ না সিরাজ উদ দৌলাকে বলার পক্ষে আমি নই। প্রথমেই বলে নিচ্ছি সে একজন বিহারী।
      তার বাবা বিহার শাসন করতেন। আর মা ছিলেন মুর্শিদাবাদের নবাবের(আলিবর্দি খা) মেয়ে। সিরাজ সাহেব এগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর বাংলা বাংলা শাসন করতে আসেন। কিন্তু আলিবর্দি সাহেবের অন্য মেয়ে এবং তার অনুসারীরা এটা মেনে নিতে পারে নাই।
      ঠিক সেই সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনী তাদের সাথে হাত মেলায়। সিরাজ সাহেব তার ইগোর কারণে এবং অপরিপক্ক যুদ্ধ পরিকল্পনার কারণে সেদিন হেরে গিয়ে আমাদের বাংলাকে ডুবিয়ে গেছেন। তাই তারে আমি আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক বলার পক্ষপাতী নই।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।