৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ৮ম পর্ব(আবার)

আগের ব্লগের মন্তব্য দেখে মনে হল যে আজকে এই পর্বে কলেজ পালানোর(ধন্যবাদ আনোয়ার,২০০০-২০০৬) যে স্মৃতিগুলো আছে তারই একটা কাহিনী বর্নণা করা উচিত।প্রথম কলেজ পালানোর কাহিনীটাই আজ বলতে চাই।

এস এস সি পরীক্ষার্থী তখন আমরা। কলেজের আগের ৩-৪ বছরে অন্যান্য ব্যাচের বড়ভাইদের কলেজ পালানোর অনেক কাহিনী তো ততদিনে মুখে মুখে অনেক শুনেছি। এমনকি জুনিয়র বা ইন্টারমিডিয়েট ব্লকে যখন ছিলাম তখন অনেক বড়ভাইদের কলেজ পালানো সচক্ষে দেখেছি। তাই সবসময় মনে একটা ইচ্ছা ছিল কলেজ পালানোর। তো এই ব্যাপারে আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিত আমাদের ব্যাচের শামীম। যেদিন রাতে ঠিক করলাম কলেজ পালাব সেদিন যে কি চিন্তায় দুইটা প্রেপ করেছিলাম তা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়।

ওইদিন রাতে ১২টার দিকে দোতলায় তীতুমীর হাউসের টয়লেটে বসে অনেকক্ষণ ধরে নাইটগার্ডের আনাগোনা পর্যবেক্ষণ করলাম। তারপর বুঝেশুনে দোতলা থেকে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে গেলাম আমরা দুজন। তারপর ডাইনিং হলের পাশ নিয়ে জুনিয়র ব্লকের পাশে জেনারেটর রুমের পেছনে কিছুক্ষণ ঘাপটি মেরে বসে থাকলাম গার্ডের অবস্থা বোঝার জন্য। তারপর শামীম আমাকে ধাক্কা দিয়ে ১২ ফুট উচু দেয়ালের উপর তুলে দিল। তবে সেটা একবারে সম্ভব হয়নি, বেশ কয়েক বার চেষ্টার পর হয়েছিল। তারপর আমি উপরে উঠে ওকে টেনে তুললাম। এরপর তারকাটা ফাকা করে ওইপাশে যেতে গিয়ে হাতের বেশকিছু জায়গা ছড়ে গেল। কিন্তু সেই ব্যাপারে আমার কোন মাথাব্যাথা ছিল না। তারপর সাফ্যলের সাথে দেয়ালের ওপাশে দুজনে নামতে পারলাম।

নেমে দুজনে হাটতে হাটতে কারমাইকেল কলেজের ক্ষেতের মাঝখানে শিমুল গাছের নিচে গিয়ে দাড়ালাম। সেই রাত ছিল শীতের রাত, আর সেই শীতেও আমরা ঘেমে ভিজে গেছি দেখে বুঝলাম কি পরিমাণ ভয়ের মধ্যে আমরা আছি। কিছুক্ষণ পর অনুধাবন করলাম যে আমরা উত্তেজনায় মধ্যে কোন টাকা-পয়সা ছাড়াই চলে এসেছি। এখন দোকানে গিয়ে কোন কিছু কেনার উপায় নেই। কিন্তু এখন যদি খালি হাতে হাউসে ফিরে গিয়ে পাবলিককে আমাদের পালানোর কাহিনী বলি তাহলে সবাই চাপা ভেবে উড়িয়ে দেবে। তাই কি করা যায় ভেবে ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে হাটতে হাটতে ফিরে আসছিলাম। আসার পথে হঠাৎ পায়ের নিচে শক্ত কিছু অনুভব করলাম, হাতে তুলে দেখি আলু। সাথে সাথে মাথায় খেলে গেল আলু নিয়ে গেলেই সবাইকে বোঝান যাবে আমরা কলেজ পালিয়েছিলাম।

তারপর কলেজ ফেরত আসার পথে হাস্পাতালের পেছন দিয়ে কলেজে ঢুকলাম। ঢুকেই তো কলেজের কুকুরের সামনে পড়ে গেলাম। কুকুর যেমনি ঘেউ ঘেউ করে ডাকা শুরু করল আমরাও ঝেড়ে দৌড় দিলাম। এক দৌড়ে হাউসে রুমে পৌছে গেলাম।

সবকিছু ঠান্ডা হওয়ার পর সবার রুমে রুমে কিছু আলু দিয়ে জানান দিলাম যে কলেজ পালান সফলভাবে সম্পাদন হয়েছে। এইভাবেই শুরু হয়েছিল কলেজ পালান। এরপরে যতবার পালিয়েছি কিছু না কিছু ঘটনা ঘঠেছেই……………………( চলতে থাকবে)

৯৯০ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ৮ম পর্ব(আবার)”

  1. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)

    লেখার বিষয়বস্তু ভাল। কিন্তু একটানে লিখে ফেলার কারন দেখতে ও পড়তে বেখাপ্পা লাগছে। কয়েকটা প্যারায় ভাগ করে দিলে লেখাটা খুব সুন্দর দেখাতো এবং একই সাথে পাঠকদের পড়তে সুবিধা হত। পরবর্তি লেখায় আশা করি ব্যাপারটা মাথায় রাখবে।

    কলেজের এই ধরনে কাহিনিগুলো পড়লে কত্তকিছুই মনে পড়ে যায়। অনেক ধন্যবাদ। =))

    জবাব দিন
  2. আনোয়ার (০০-০৬)

    শালা আলু কই দিসিলি এটাই তো লিখিস নাই ......... x-(

    অনটপিকঃ জুলু তার আলু ফেলেছিলো সবার মশারির উপরে। সকালে চোখ খুলে আমি দেখি মাথার উপরে বিরাট পাথর সদৃশ কিযেন দেখা যাচ্ছে ঘুম ঘুম চোখে বুঝতেও পারছিলাম না কি বস্তুটা, পরে নেড়েচেড়ে বুঝা গেলো সেটা পাথর নহে, আলু ।

    @জুলুঃ প্যারা দিয়ে লিখ নাহলে দেখতে খারাপ লাগে......আরো কত কাহিনী আছে ... এই নে :teacup: চা খা আর লিখতে থাক।

    জবাব দিন
  3. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    আমাদের সময় পালানো সবচেয়ে ফেবারিট রুট ছিল একাডেমিক ব্লকের পিছনে দিয়ে। আর পোলাপাইন ডুকত ডাইনিং হলের পিছন দিয়ে, ডাইনিং আর হলের কানেক্টিং শেডের উপরে দিয়ে এক দৌড়ে তিতুমীরের টয়েলেটে। আরেকটা রুট ছিল খাল দিয়ে, পরে এই খানে লোহার শক্ত গ্রীল দিয়ে দেয়।

    আমাদের ছেলেপেলেরা বেশী পালাতে পারে নাই, কড়া এডুর জন্য। ধরাও পড়ছিল, কুত্তার চিল্লানীতে। আমাদের সৈয়দ মাহমুদের যে রেকর্ড ছিল, ৮৮ ব্যাচের পোলাপাইন শুনছি খুব হেলাফেলায় সেই রেকর্ড ভাংছিল। 🙁


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।