সাধের হাসপাতাল

সাফল্য / ব্যর্থতার পেজগি
হাসপাতাল যে কারো সাধের জায়গা হতে পারে ক্যাডেট কলেজে না গেলে বুঝি জানা হত না। কে কত বার এডমিট হতে পারল , কে কত দিন পিটি মাফ পেল তা নিয়ে ছিল রিতিমত হিসাব নিকাশ। আর কেউ যদি বারকয়েক সি,এম,এইচ যেতে পারে তাহলে তো আর কথাই নাই। যেন রীতিমত বীরের সম্মান । আমাদের ব্যাচ এর সুমন আর শহীদুল্লাহ ছিল সি,এম,এইচ এক্সপার্ট। ক্লাস সেভেনেই যখন তারা কয়েকবার সি,এম,এইচ ঘুরে তাদের মননশীলতার সাক্ষর রাখল কিন্তু আমরা কয়েকজন যখন সামান্য পিটি পর্যন্ত মাফ করাতে পারলাম না তখন নিজেদের মধ্যে কেমন যেন হীনমন্যতা দেখা দিতে লাগল। ওদের রীতিমত হিংসা করতে শুরু করে দিলাম।

ঘাঘু মেডিক্যাল অফিসারের আগমন
কথায় আছে যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ। প্রবাদটি অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমানিত হল। হাসপাতাল এক্সপার্ট দের কপালে বেশীদিন সুখ সইল না। (মনে হয় আমাদের বদদোয়া কাজে লেগেছিল)। পুরাতন মেডিকাল অফিসার বদলে আসলেন নতুন মেডিক্যাল অফিসার , মেজর এন (ছদ্ম নাম)। উনি ছিলেন ঘাঘু মাল। কয়েকদিনের মধ্যে উনি কাহিনি বুঝে গেলেন। কিছু কিছু কারচুপি সুক্ষ হলেও কিছু কিছু ছিল নেহায়েত ই স্থুল। স্থুল কারচুপি নিয়ে অনেক স্থুল মস্তিস্কের মানুষের স্থুল কৌতুহল থাকতে পারে, কিন্তু আমি আজ আপনাদের সেইসব বলতে আসি নাই। সূক্ষ কিছু কারচুপি স্থূল ভাবে বলতে চাই শুধু। (সতর্কীকরণঃ যাদের রুচিবোধ খুব সূক্ষ এই লেখা তাদের না পড়াই ভাল)

হাগু ব্যাবসা
হাসপাতালে ভর্তি হবার সবচেয়ে সহয উপার ছিল পেট খারাপ বা ডায়রিয়া । কারন কোনো প্রমান লাগে না। জর দেখাতে হয় না । হাসপাতাল প্রেমিদের জন্যে এটা ছিল অব্যার্থ অস্ত্র। কিন্তু মেজর এন এসে চালু করলেন নতুন নিয়ম। ডায়রিয়ার রুগিদের স্পেসিমেন টেস্ট করানো লাগবে (স্থূল বুদ্ধিমান দের জন্যে ভেংগে বলছি – হাগু টেস্ট করানো লাগবে )। সুস্থ হাসপাতাল প্রেমিদের মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ল।কয়েকদিন তারা বেশ শুকনো মুখে পিটি প্যারেড করে টরে আবার আগের মত হাসপাতালে গমন করতে লাগল। কিন্তু এবারের প্যাটার্ন একটু ভিন্ন। যখন যায় দল ধরে ডায়রিয়ার রুগি যায়। ডায়রিয়ার তো কোনো ছোয়াচে রোগ নয়! ল্যাব রিপোর্ট ও বলছে তাদের সত্যিই ডায়রিয়া মেডিক্যাল অফিসার ভাবলেন খাবারে সমস্যা। কিছুদিন ডাইনিং হল এর উপর কড়া নজরদারি করা হল কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না ! এরি মধ্যে কিছু অনুসন্ধানী ক্যাডেট গোপন খবর বের করে ফেলল। (সূক্ষ বুদ্ধির কেউ কেউ হয়ত এরি মধ্যে ধরে ফেলেছেন হেডিং দেখে)। ব্যাপার আর কিছুই না যদি একজনের সত্যিকারের ডায়রিয়ার হয় তখন সে অন্যদের স্পেসিমেন সাপ্লাই করে! এই স্পেসিমেন যে শুধু বন্ধুত্বের খাতিরেই দিত এমন বোকা ক্যাডেটদের ভাবার কোনো কারন নাই। এইতা নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে রীতিমত বানিজ্য চলত। কুপনের বিনিময়ে সেগুলো ভাগ বাটোয়ারা করা হত বলে অনুসন্ধানী রিপোর্টে বের হয়েছিল।

চক চক করলেই সোনা হয় না
আমাদের ঘাঘু মেডিক্যাল অফিসার ঠিকই আন্দাজ করলেন কিছু একটা গোলমাল আছে। তিনি প্যাথোলজি টেস্টারকে ডেকে বললেন “বুঝলেন তো – চক চক করলেই সোনা হয় না, কাজেই ক্যাডেট দের স্পেসিমেন গুলো একটু ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন। সব রিপোর্ট ই পজিটিভ আসে কেন?”। এরি মধ্যে এক কান্ড ঘটে গেল। প্রিন্সিপাল প্যারেড সামনে রেখে শহীদুল্লাহ এর হাসপাতালে যাওয়া খুব ই দরকার। কিন্তু মুশকিন হল হাসপাতালে যে রিয়াল রুগী আসে তার সাথে শহীদুল্লাহর কিছু মনোমালিন্য ছিল। কুপনের বিনিময়েও স্পেসিমেন পাওয়া যাবে না মনে হচ্ছে। কি আর করা। কঠিন জিনিস কে পানি দিয়ে তরল করে সাবমিট করে দেয়া হল। এদিকে ঝারি খেয়ে ক্ষিপ্ত প্যাথোলজিস্ট ভাবলেন এইবার কিছুতেই ১০০% পজিটিভ রিপোর্ট দেবেন না। উনি খুব ভালোভাবে টেস্ট করে রিপোর্ট করলেন যে শহীদুল্লাহর জেনুইন ডায়রিয়া। আর এতদিন আসল রুগীটি নাকি অভিনয় করে এডমিট হইছে!

২,৬৪৭ বার দেখা হয়েছে

৩৩ টি মন্তব্য : “সাধের হাসপাতাল”

  1. তানভীর (৯৪-০০)

    দোস্ত......দারুণ লিখছিস্‌! হাসতে হাসতে মিরা যাইতেছি! =)) =))
    প্লিজ এখানে নিয়মিত লিখিস!

    শহীদুল্লাহ আসলেই একটা জিনিস! ওর কাহিনী লিখা শুরু করলে তো মনে হয় মহাকাব্য হয়ে যাবে! 😀

    জবাব দিন
  2. শোভন (২০০২-২০০৮)

    ভাইয়া সুপার লেখছেন । প্রশংসার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি ।
    :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome:

    জবাব দিন
  3. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    লেখা ভাল হয়েছে।তারপরো একটু উপদেশ দেই।কিছু মনে করনা।

    অব্যার্থ -----অব্যর্থ
    ব্যার্থতার-----ব্যর্থতার
    বন্ধুত্যের------বন্ধুত্বের
    হিনমন্যতা------হীনমন্যতা
    সতর্কিকরন------সতর্কীকরণ
    টেসট-------টেস্ট

    হেডলাইনগুলো আরো চোখে লেগেছে। ঠিক করে নিও।লেখা চালিয়ে যাও :boss: :hatsoff:

    জবাব দিন
  4. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)
    এইতা নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে রীতিমত বানিজ্য চলত। কুপনের বিনিময়ে সেগুলো ভাগ বাটোয়ারা করা হত বলে অনুসন্ধানী রিপোর্টে বের হয়েছিল।

    😮 😮 :boss: :boss: :khekz: :khekz:


    Life is Mad.

    জবাব দিন
  5. জাকির (১৯৮৭ - ১৯৯৩)

    তোমার লেখাটা পড়ে অনেকদিন পর পুরানো স্মৃতি মনে পড়ে গেল। আমি তখন ক্লাস সেভেনে। হাসপাতালে এডমিট। আমাদের সময় ডায়রিয়া রোগীদের স্পেসিমেন সব সময় পরীক্ষা করা হত। ৭ ব্যাচের ভাইয়ারা তখন ক্লাশ টেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দেখি দুপুর থেকে বিকালের মধ্যে ৭ ব্যাচের তিতুমীর হাউসের ৬ থেকে ৭ জন ভর্তি হয়ে গেল। তাদের মধ্যে একজন ছিল আসল রোগী আর বাকীজন রোগীর স্যাম্পল ইউজার। রাতে ডিনারে দেখলাম নতুন রোগী সবার জন্য ভাত আর পুরাতন রোগীর জন্য চিড়া। এই পার্থক্য কেন (যেহেতু সবাই একই রোগের রোগী আর একই স্যাম্পলে ভর্তি) জিজ্ঞেস করাতে জবাব পেলাম যে, আসল রোগীর ছিল রক্ত সহ আর বাকীজনের রক্ত ছাড়া (কেননা আসল রোগী ভর্তির একদিন পর বাকীরা ভর্তি হয়েছে)। তাই খাদ্যে এই তারতম্য্।

    জবাব দিন
  6. পুরাই তো সিসিবি গন্ধ কইরা দিলা। :grr: যদিও গান্ধা পোস্ট, তবে ঘটনা সিরাম!

    আমাদের ব্যাচের খায়রূল একবার মিডটার্ম ফাকি দেবার জন্য, নিজের স্পেসিমেন-এ সেপটিপিন দিয়ে আঙ্গুল থেকে একটু রক্ত দান করেছিল। ফলাফল: রিপোর্টে "র ব্লাড ইন দ্য স্পেসিমেন"... বিষয় গুরুতর, তাকে পরবর্তী তিনদিন "কোল্ড ফ্রেস কাউ মিল্ক, শরবত ও স্যুপ" খাওয়ানো হয়েছিল। :clap: 😀

    জবাব দিন
  7. boss জটিল হইছে । আপনার লেখা পরে বাবু মেডিকেল ওফিসার মেজর এন এর কথা মনে পরে গেল। জিবনে একবারই পিউর কাসিতে আকরানত হয়ে মেজর এন এর কাছে গেছিলাম। সে আমাকে ভুয়া ভেবে ৫ টা ইনজেকসন দিয়াছিলো। ইনজেকসন আর এনটিবায়োটিক খেয়ে পুরা ১২ দিন হসপিটাল। জিবনে আর জাই হই ডাকটার হবো না। dicition টা তখোন নেয়া............

    পরথমবার বলগ এ লিখলাম...জুকতাকখর কেমনে লেখে???????পারতেসি না..।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।