কিছু কথা মনে পড়ে

ব্লগে একদম নতুন এসেই আমার ক্লাসমেট হায়দার এর “বাণী চিরন্তনী – ক্যাডেট ভার্সন” পইড়া ব্যাপক মজা পাইলাম। এরপর আমার মাথায় কলেজের কিছু উক্তি ঘুরাঘুরি শুরু করছে। চিরন্তনী টাইপ না হইলেও আমার এখনও মনে আছে। (হায়দারকে বলে নিছি, যাতে সে আবার কপিরাইট মামলা না করে দেয়)

১। কলেজে তখন ইংরেজীতে কথা বলার উপর খুব জোর চলতেছে। আমদের সাথে সাথে মাঝে মাঝে স্যাররাও ঝামেলায় পড়ে যেতেন। একদিন আমাদের ম্যাথ এর একজন স্যার স্টাডি পিরিয়ডে এসে আমার পাশে ঘুমন্ত রাকিবুল্লাহকে ডেকে গম্ভীরভাবে বললেন, “যাও……Face your Wash”.

২। পেরেক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত পৌরনীতির আরেকজন বিখ্যাত স্যার এর কাছে হায়দার ছিল চোখের মণি আর আমি ছিলাম চোখের শণি।(অবশ্য আমি কলেজে কখনই এখনকার মত নম্র-ভদ্র ছিলাম না) স্যার আমাকে দেখলে মাঝে মাঝেই বলে উঠত, “ইয়ে মানে……এই ছেলেটার Lack of civic sense এর অভাব আছে”।

৩। এক স্টাফ একবার আমাদের এমন একজন ক্লাসমেট কে দাঁড়ি শেভ না করার জন্য ধরল, যার দাঁড়ি ২০১০ সালেও গজায় নাই। সবাই মুচকি হাসতেছি জন্য স্টাফ রাগী স্বরে বলে উঠলেন, “ক্যাডেট হাসে কেন ??? সারা জীবন উইদাউট দাঁড়িবিহীন থাকবা নাকি ???”

৪। আরেকজন স্টাফ দাঁড়ি শেভ এর জন্য ধরতে আসলে কখনোই বলত না “শেভ কর নাই কেন ???” তার পরিবর্তে উনি যা যা ব্যবহার করতেনঃ
ক। শেভ যাও নাই কেন ???
খ। শেভ চালাও নাই কেন ???
গ। শেভ লাগাও নাই কেন ???
ঘ। শেভ বানাও নাই কেন ??? … … ইত্যাদি ইত্যাদি

৫। আমার এক ক্লাসমেটের নাম ছিল ‘হ্যাং’। কারণ সে এমন সব ডায়লগ দিত, যাতে সে নিজেও হ্যাং হত এবং আশে-পাশের সবাইকেও হ্যাং করে দিত। আরেফিন একদিন তাকে বলল, “দোস্ত রবিবারে অমুক জায়গায় একটু আসিস তো”। হ্যাং মিয়া কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল, “ঠিক আছে আসব। আচ্ছা দোস্ত, রবিবারে যেন কি বার ???”

৬। হ্যাং মিয়ার আরেকটা ডায়লগ মনে পড়ল। জুনিয়র প্রিফেক্ট হওয়ার পর সে চিন্তা করল, জুনিয়রকে এমন ডায়লগ দিবে যাতে ভয় পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। ফলইন টাইমে কোমরে হাত, করিডোরে দাঁড়ানো। ক্লাস নাইন দৌঁড়ে ক্লিয়ার। সাজেদ এর কপাল খারাপ, পড়ল পিছনে। সাথে সাথে শুরু হ্যাং মিয়ার ডায়লগ, “সাজেদ, এদিকে আয়………………এত্ত বড় সাহস !!!!!!!!!!!! লেট করছস কেন x-( x-( x-( ????? একদম গোঁফে আগুন লাগাইয়া দিমু”

২,০৪৮ বার দেখা হয়েছে

২৬ টি মন্তব্য : “কিছু কথা মনে পড়ে”

  1. রাশেদ (৯৯-০৫)

    স্বাগতম জামালপুরী ভাই 😀
    বহুত পুরান ডায়লগ মনে পরল। তবে মনে হয় আপনি আর হায়দার ভাই দুই জন মিলে একটা পেরেক সমগ্র বের করতে পারেন, ভালই চলবে 😀


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  2. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    মানে পেরেক স্যার মানে আমার সরাসরি শিক্ষক।মানে তিনি মানে আমাদেরকে যেখানে সেখানে থুতু না ফেলার সিভিক সেন্স শিখানোর ফাঁকে নিজেই ক্লাসের বাইরে ওয়াক থু বলে থুতু ফেলে আসতেন মানে...লেখাটা জটিল হয়েছে মানে...

    জবাব দিন
  3. রায়েদ (২০০২-২০০৮)

    সাজেদ কিন্তু আমার তখনকার রুমমেট ছিল। সে রুমে এসে খুবই খুশি হইছিল এই কথা শুনে, কারণ ভাইয়া তার গোফ দেখতে পাইছে। এমনিতেই ছিল মাকুন্দা টাইপের, তার উপর আমরা তখন ক্লাস এইটে পড়ি।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।