চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্বের ড্র

আগামীকাল পত্রিকা বের হবে না। আমার মত সংবাদপত্রে কী বোর্ড পিষে দিন গুজরান করনেওয়ালাদের জন্য সুসংবাদ! একদিন অফিস কামাই দেয়া গেলো, কি মজা। সিসিবিতে খেলাধূলা নিয়ে লেখার মানুষ অনেক! এহসান ভাই, আকাশদা, কামরুল ভাই…তালিকাটা লম্বা হতেই থাকবে। সেই তালিকায় নিজেকেও জুড়ে দিলাম আর কি।
ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্বের ড্র হয়ে গেলো। এই পর্ব থেকেই শুরু হবে তারাদের ঝরে পড়া। বেশ কিছু স্বাদু ম্যাচ আর অতীতের হিসাব কিতাব চুকানোর সমীকরণ নিয়ে ভালোবাসা দিবসের পরদিন থেকে মাঠে নামবে ইউরোপের সেরা সেরা দলগুলো। এক নজরে দেখে নেয়া যাক শেষ ষোলোর রাউন্ডে কারা মুখোমুখি হচ্ছে-
এ এস রোমা-শাখাতার দোনিয়েতস্ক
এসি মিলান- টটেনহাম হটস্পার
ভ্যালেন্সিয়া-শালকে ০৪
ইন্টার মিলান-বায়ার্ন মিউনিখ
অলিম্পিক লিওঁ-রিয়াল মাদ্রিদ
আর্সেনাল-বার্সেলোনা
মার্সেই-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
এফসি কোপেনহেগেন-চেলসি

রোমা-শাখাতার ম্যাচটা নিয়ে কিছু বলা মুশকিল, যে কেউই জিততে পারে। একই কথা কিন্তু বলা যায় এসি মিলান-টটেনহাম ম্যাচ নিয়েও। মিলান সাতবারের চ্যাম্পিয়ন আর স্পার্স এই বারই প্রথম খেলছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। কিন্তু মিলানের বর্তমান ফর্ম বলছে ম্যাচটা হাড্ডাহাড্ডি হবে। বেশ ক’বার পিছিয়ে পড়েও খেলায় ফিরে আসার দারুণ রেকর্ড আছে হ্যারি রেডন্যাপের দলের।এই ম্যাচটা যে দারুণ উত্তাপ ছড়াবে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
ভ্যালেন্সিয়া-শালকে ম্যাচটা নিয়ে আগ্রহ থাকার একটাই কারণ, রাউল গঞ্জালেস। এবারই শালকেতে যোগ দিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। রাউল তার গোলের সংখ্যাটা বাড়াতে পারেন কি না এই কারণেই এই ম্যাচের উপর চোখ থাকবে ফুটবল ভক্তদের। স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জার্মান দলের জার্সি গায়ে রাউল। শুধু এই একটা কারণেই তো ৯০+৯০ মিনিট টিভি সেটের সামনে বসে থাকা যায়!
কদিন আগেই বলিউডে সাড়া ফেলেছে অক্ষয় কুমার-ঐশ্বরিয়া রাই অভিনীত “অ্যাকশন রিপ্লে”। এবারে চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্বে গত মৌসুমের বেশ কিছু অ্যাকশন রিপ্লে দেখা যাবে!গতবারের দুই ফাইনালিস্ট ইন্টার মিলান-বায়ার্ন মিউনিখের দেখা হয়ে যাচ্ছে রাউন্ড অফ সিক্সটিনেই। অর্থাৎ গতবারের দুই ফাইনালিস্টের একজন এবার সেকেন্ড রাউন্ডেই নক আউট । রাফায়েল বেনিতেজের ইন্টারের যা ফর্মা, তাতে মনে হচ্ছে বায়ার্ন এবার বদলাটা নিয়েই ছাড়বে!
দ্বিতীয় পর্বে আবারো মুখোমুখি অলিম্পিক লিওঁ-রিয়াল মাদ্রিদ। গতবার নিজের মাঠে ফাইনাল খেলার যে স্বপ্ন দেখেছিলো রিয়াল, তাতে জল ঢেলে দিয়েছিলো এই লিওঁই। দুই লেগ মিলিয়ে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলো ফ্রেঞ্চ ক্লাবটি। কিন্তু এবার ম্যানুয়েল পেল্লেগ্রিনির জায়গায় হোসে মরিনহো। ঠেলা কিন্তু লিঁওকেই সামলাতে হবে…।
গত মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া আর্সেনাল বার্সেলোনার রি-ম্যাচ দেখা যাবে একধাপ আগেই। এমিরেটস স্টেডিয়ামে ২-২ গোলে ড্র এর ন্যু ক্যাম্পে ১৮ মিনিটে নিকোলাস বেন্টনারের গোল। আকাশদা তখন সত্যি সত্যি আকাশে! কিন্তু মেসির একহালি গোল প্রমাণ করে দিলো আকাশ আর মাটি কেয়ামত ছাড়াই এক হতে পারে!
আমার দল ম্যানইউ সহজ প্রতিপক্ষই পেয়েছে, ফ্রেঞ্চ লিগের মার্শেই। তবে ম্যান ইউর এবারের যা ফর্ম তাতে প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জ হলেও নির্ভার থাকতে পারি না। দারুণ শুরুর পর খেই হারিয়ে ফেলা চেলসি খেলবে এফসি কোপেনহেগেন এর বিপক্ষে। ডেনিশ দলটা কিন্তু শক্ত আছে! নিজের মাঠে তারা রুখে দিয়েছিলো বার্সেলোনাকে, চেলসির যে শনির দশা চলছে তাতে আনচেলোত্তির দলকে সাবধানেই পথ চলতে হবে।

৯০৫ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্বের ড্র”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আমি নিজে পোস্ট লেখা শুরু করেছিলাম, ভাগ্য ভাল মাঝামাঝি এসে প্রথম পাতায় ঘুরতে এসেছিলাম। কষ্ট কমে গেল। ম্যাচ গুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা যাবে।

    রোমা-শাখাতার ম্যাচে আসলেই প্রেডিক্ট করা কঠিন, তবে আমি শাখাতারকে সাপোর্ট করব, এডুয়ার্ডোর জন্য।

    মিলান -স্পারস দারুন খেলা হবে। আমার মনে হয় স্পারস এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আক্রমনাত্মক আর উত্তেজনাকর (এক্সাইটিং?) ফুটবল খেলেছে। মিলানের আরেক দল ইন্টারের সাথে গ্রুপ পর্বে ইতিমধ্যে দেখা হয়েছে। ইন্টারের মাঠে প্রথমার্ধে ৪ গোলে পিছিয়ে পড়লেও ২য়ার্ধে ৩ গোল শোধ করে দিয়েছিল। যদিও এসি মিলান এই মুহুর্তে ইন্টার থেকে অনেক ভাল ফর্মে আছে তারপরো প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লীগ খেলতে আসা টটেনহাম মোটেই সহজ হবে না, বরং সেকেন্ড লেগে নিজের মাঠে খেলা হওয়ায় স্পারস বরং বাড়তি সুবিধা পাবে। এই ম্যাচে সাপোর্ট করবো স্পারসকে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ভ্যালেন্সিয়া-শালকে ম্যাচ নিয়ে কোন মতামত নেই, কারন এদের সম্পর্কে ধারনা নেই। তবে বুড়ো রাউল কতদূর কি করতে পারে তা দেখার জন্য অপেক্ষায় আছি।

    ইন্টার-বায়ার্ন গত ফাইনালের রীপ্লে হলেও এর মাঝে অনেক কিছু বদলে গেছে। বিশেষ করে ইন্টারে এবার মোরিনহো নেই, সেই সাথে বিশাল ইঞ্জুরি তালিকা। ম্যাচের আগে কতজন ফিরতে পারে তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাফায়েল বেনিতেজ লিভারপুলের বারটা বাজিয়ে এবার ইন্টারকেও ডুবানোর মিশনে বেশ ভাল ভাবেই আগাচ্ছে। এই ম্যাচে আমার সাপোর্ট থাকবে বায়ার্নের পক্ষে।

    লিওঁ গতবার রিয়াল মাদ্রিদের স্বপ্ন ভংগের কারন হলেও এবার সেটার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। প্রতিশোধ মিশনে মোরিনহোর রিয়াল সহজেই ফেভারিট আর আমি সাপোর্ট করবো লিওঁকে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচ দারুন খেলে হঠাৎ করে খেই হারিয়ে ফেলে আর্সেনাল। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ রানার্স আপ হয়। তারপর থেকেই জানা ছিল স্পেন বা জার্মানীর কারো মুখোমুখি হচ্ছে তারা। আর বাতাসে ভাসছিল বার্সিলোনার কথা। আর্সেন ওয়েঙ্গার নিজেও মিডিয়া স্ট্যান্ট হিসেবে বার্সাকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে চাওয়ার কথা বলেছিল। শেষ পর্যন্ত বার্সাকেই তারা পেয়েছে। গতবার মেসি তান্ডবে উড়ে গিয়েছিল এই আর্সেনাল। কোন অঘটন না ঘটলে এবার সেরকম কিছুই ঘটার কথা। আমি ব্যক্তিগত ভাবে অবশ্য বাররাকেই চাচ্ছিলাম। কারন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে বাদ পড়লে আগে আগে পড়াই ভাল। তাতে ঘরোয়া লীগে বেশি মনযোগ দেয়া যাবে। আর বার্সিলোনার কাছে ম্যাচ হারলে তেমন একটা হতাশাও কাজ করবে না, কারন ওদের কাছে সবাই হারে। আর বার্সাকে কোন ভাবে হারিয়ে যদি আর্সেনাল পার হয়ে যেতে পারে তাহলে তা হবে বিশাল বড় একটা অর্জন, সেটার আত্মবিশ্বাষ বাকি মৌসুমে বেশ পজিটিভলি কাজে লাগবে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    মার্সেই-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, এফসি কোপেনহেগেন-চেলসি। ইংলিশ লীগের দুই ফেভারিট দল তুলনামূলক ভাবে সহজ প্রতিপক্ষই পেয়েছে। তবে দুদলেরই বিশেষ করে চেলসি'র ফর্মের যে অবস্থা তাতে এরা কার সাথে যে জিতবে আর কার সাথে হারবে তা বলা মুশকিল।আমি ইংলিশ দলদুটোকেই সাপোর্ট করবো।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  5. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    সবার ফোকাস বার্সা আর্সেনাল হলেও আমার মনে হয় টটেনহাম এসি মিলান খেলাটা হবে দারুণ উপভোগ্য। এমনিতে মিলানের প্রতি আমার সমর্থন থাকলেও টটেনহাম জিতলেও খারাপ লাগবে না।
    ভ্যালেন্সিয়া শালকের খেলাটা ফিফটি ফিফটি। তবে আমি ভ্যালেন্সিয়া এগিয়ে রাখবো। ভিলা সিলভা না থাকায় দলটা দুর্বল হয়ে গেলেও আমি চাই ওরাই যাক। রোমা শাখতার খেলায় আমি শাখতারের দিকে। আমার বরাবর আন্ডারডগ প্রীতি তো আছেই তার সাথে আর্সেনালের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সো ..।
    চেলসি উঠুক সেটা আমি চাই। চেলসি দলটাকে আমার খারাপ লাগে না। কিন্তু এবার ওরা খেই হারিয়ে ফেলছে। সবাই ফিরে এসে ঠিক সময়ে ক্লিক করলে হয়তো ভালো কিছু হতেও পারে।
    বায়ার্ন মিউনিখ আর ইন্টারে গতবার ইন্টার করেছিলাম মূলত মরিনহোর জন্য। এবার আমি চাই বায়ার্ন উঠুক।
    আমার দল ম্যানইউর ফিকচারে আমি খুব অখুশি নই। তবে মার্শেই একদম হেলাফেলা করার মত দল না। যাহোক, হোপ ফর দ্যা বেস্ট।
    আর সবশেষে লিঁও রিয়ালের সেই চিরন্তন লড়াই। চিরন্তন বললাম একারণে প্রায়ই এ দুটো দল মুখোমুখি হয়। এবং বেশির ভাগ সময় রিয়াল ঠকে। তবে এবার মরিনহো আছে। তাই এই ম্যাচটা হবে ইন্টারেস্টিং।
    এখন অপেক্ষার পালা । দেখা যাক কী হয়।

    জবাব দিন
  6. রাকেশ (৯৪-০০)

    মিলান স্পার্স ম্যাচ নিয়ে ভয়ে আছি। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সবচেয়ে বাজে উইং ব্যাক মিলানের। সেই আবাতে-জাম্ব্রোত্তা বনাম লেনন-বেল, একটি বেশী একপক্ষীয় হয়ে গেল ব্যাপারটা।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।