শেষ ট্রাক কিংবা একটা উপন্যাসের বই

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ড্রাফটিং হচ্ছে। এবার সরাসরি ক্যাডেট কলেজ থেকে ক্যাডেটদের নেয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক মনে হওয়ায় খুব দ্রুত ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে আবার রেডি-ও হচ্ছি। আমরা কয়েকজন আবার মাত্র জার্মানী থেকে একটা মহড়া দেখে আসলাম তাই আর নতুন করে কাপড় পাল্টাতে হচ্ছে না। হাউজের সামনে নিচে সবাই ফল-ইন আকারে দাড়িয়ে যাচ্ছে — কোন এক কারণে সবাই হাউজের দিকে হাত নাড়াচ্ছে যেন এইমাত্র তারা একটা ওয়ার্ল্ড কাপ জিতে আসছে!

আমি আমাদের [মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের] সোহরাওয়ার্দী হাউজের দোতলার সামনের জানালা দিয়ে দেখলাম নিচে অন্যান্যদের মধ্যে জাফরি, আমাদের জোবায়ের, জুনায়েদ, হাসান, মাহমুদ আর ইসতিয়াকও একই ভাবে দাঁড়িয়ে গেছে — সবাই একই ভাবে হাউজের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে হাত নাড়াচ্ছে। জোবায়ের আবার ইসতিয়াকের ঘাড় ধরে চ্যাংদোলা করার ভাব করতেসে, ঐদিকে খাকী ড্রেসের শার্টটাও ইন করে নাই পোলা। আরো একজন ছিল মনে আসছে না কে! ঐদিকে বেশ কিছু সিনিয়ার তাদের বউ বাচ্চাদের শেষবারের মত মনে হয় যেন বিদায় দিচ্ছে। এক সিনিয়ার — চেহারাটা মনে করতে পারছি না কেন যেন, সে তার ৪-৫ মাসের বাচ্চাটাকে খেলার ছলে একটু উপরে ছুড়ে মারছে আবার ধরছে… ব্যাপারটা ঘটছে স্লো-মোশনে। সম্ভবত ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন হান্স জিমার টাইপ মিউজিক বাজছে!

আমি যে ব্যাগটা নিয়ে জার্মানী গিয়েছিলাম ওটার দিকে আর হাত না বাড়িয়ে আরেকটা রেডি করা কাঁধের ব্যাগ ছিল ঐটার সাথে স্রেফ একটা বালিশ বেঁধে তৈরি হচ্ছি সবার সাথে জয়েন করার জন্য। কি মনে করে ব্যাগটা খুললাম দেখার জন্য কি আছে — দেখি একগাদা কলম এর একটা ভাঁজ করা সাদা কাগজ। বুঝলাম আরো কিছু একটা লাগবে, তাই ঐ অন্য ব্যাগটা থেকে একটা উপন্যাসের বই বের করে এই ব্যাগে ভরার চেষ্টা করা শুরু করলাম… কি কারণে যেন পারতেসিই না! ঐদিকে টের পেলাম নিচে একটা আর্মি ট্রাক দাড়িয়ে আছে — আর ফল-ইন করা আর কেউ নেই। খুব সম্ভবত এই ট্রাক টা শেষ ট্রাক, যেটা আমার জন্য অপেক্ষা করছে; কিন্তু আর কয়েক সেকেন্ড দেরী করলেই চলে যাবে আমাকে রেখেই।

প্লিজ যাইস না তোরা আমারে রাইক্ষা!!

[অদ্ভুত স্বপ্নের শেষে ঘুম ভাঙ্গলো। অনেক দিন পর এবার ক্যাডেট কলেজ সেটিং-এ। বুঝলাম না কিছুই]

৮৯৬ বার দেখা হয়েছে

৮ টি মন্তব্য : “শেষ ট্রাক কিংবা একটা উপন্যাসের বই”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    ক্যাডেট কলেজের স্বপ্নগুলা যে কি ভযাবহ হয়। অনেক দিন দেখি না! :dreamy:


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।