শাকুর ভাই এবং আমি

২০০৮ সালে আমি যখন ক্লাস এইটে, তখন আমাদের কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করা হয়। কলেজের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ২৮ এপ্রিল হলেও কোন এক কারনে সুবর্ণ জয়ন্তী পরে পালন করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত সে সময় আমিও কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। পায়ে সমস্যা থাকায় আমাকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবুও রাতে কনসার্টে যেতে পেরেছিলাম।

যদিও তারিখটা মনে নেই, দিনটি ছিল শুক্রবার। যেহেতু অনেক এক্স-ক্যাডেট আসবেন, আগের দিন প্রিন্সিপাল ইন্সপেকশন ছিল। ইন্সপেকশন হলে যা হয়, সবাই সবার অতিরিক্ত বই- খাতা, ময়লা কাপড়চোপড় আমার লকারের তালা ভেঙে লকারে রেখে দিল। সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের দিন রুমের সবাই আমার লকার (ভুলবশত) খোলা রেখে জুমার নামাজে গেল। আমার প্লেসটি শাকুর মজিদ ভাইয়ের (আপনারা সবাই তাকে চেনেন) ক্লাস সেভেনের প্লেস। তিনি তাঁর ক্লাস সেভেন ১৯৭৮ বইটিতে এই প্লেসের ছবিও দিয়েছেন। বিখ্যাত মানুষের বিখ্যাত প্লেসে থাকার মাশুলও আমাকেই দিতে হল। সবাই জুমার নামাজে যাবার পর উনি এলেন পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করতে। এসে দেখলেন তাঁর প্লেসের বর্তমান অধিকারী প্লেসটির মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

তারপর তিনি একটি পত্রিকায় (পত্রিকাটির নাম মনে নেই, সম্ভবত দৈনিক পূর্বকোণ) সুবর্ণ জয়ন্তী নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখলেন। এবং সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে আমার লকারের দুরবস্থার কথাও সেখানে স্থান পেল। কয়েকটি লাইন এরকম, “… আগে যেখানে লেখা ছিল শাকুর ১২৩৬ সেখানে এখন লেখা মুয়াজ ২৭৬০…… মুয়াজ তুমি জুমার নামাজে গিয়েছ লকার খোলা রেখে… কিন্তু তোমার লকারের এই অবস্থা কেন… তুমি যে প্যান্টের উপর বই রেখেছ, তোমাকে বড় ভাইরা কিছু বলবে না?” যথাসময়ে আমি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলাম। কিন্তু আমি এসব কিছুই জানতাম না। আমি প্রথম জানলাম যখন পত্রিকার ওই অনুচ্ছেদটি ফটোকপি করে একাডেমিক ভবন ও প্রতিটি হাউসের নোটিস বোর্ডে লাগানো হল। সঙ্গে সঙ্গে অষ্টম শ্রেণীর এই বালকটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে গেল। খ্যাতি থাকলে বিড়ম্বনাও অবশ্যম্ভাবী। প্রথম কয়েক সপ্তাহ তো রীতিমত জেরার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ঘটনা আরো বিপজ্জনক দিকে মোড় নিল যখন কর্তৃপক্ষ ওই লেখাটা কলেজের দ্বিবার্ষিকী ফৌজিয়ানে ছেপে দিল। এতদিনে যদিও সবাই ব্যাপারটা ভুলতে বসেছে, তারপরও অনেক স্যার এবং বন্ধুরা এখনো খোঁচা মারে। শাকুর ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য রিইউনিয়নের সময় অনেক চেষ্টা করেছিলাম। শাকুর ভাইকে এমন একটি মধুর স্মৃতির জন্য ধন্যবাদ।

২,৩৬৫ বার দেখা হয়েছে

২৪ টি মন্তব্য : “শাকুর ভাই এবং আমি”

  1. নাফিস (২০০৪-১০)

    সিসিবির একটা ট্র্যাডিশন আছে, প্রথম ব্লগ দেওয়ার পর ভার্চুয়াল ফ্রন্টরোল দিতে হয় ! ইমোটিকন এর ঘরে গিয়ে ফ্রন্টরোল এর ইমো বের করে কমেন্ট সেকশনে গিয়ে লাগিয়ে দাও কয়েকটা ফ্রন্টরোল 🙂

    জবাব দিন
  2. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    সরাসরি কারও নাম লিখলে সেই মানুষটিকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিশেষ করে সে লেখা যদি ভাল কিছু না হয়। শাকুর ভাই তো অনেক সিনিয়র মানুষ উনি এমনটা করলেন কেন বুঝলাম না। একজন নিতান্তই ব্লগার হিসেবে আমার একটা অভিজ্ঞরার কথা বলি। কিছুদিন আগে আরিজোনা থেকে এক সিনিয়র ভাই আমাদের এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন। উনি বুয়েটে আমার থেকে পাঁচ-ছয় বছরের সিনিয়র। উনি বল্লেন, 'তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে নাকি তোমার এখন কোন যোগাযোগ নাই?'

    আমি বল্লাম, 'এ কথা বলছেন কেন?'

    'সেদিন ইন্টেলের ক্যাফেতে এই নিয়ে কথা হলো। তোমার ক্লাসমেটরা বলতেছে তুমি নাকি তাকে নিয়ে কী লিখছিলা?'

    আমি মনে করে দেখলাম তিন বছর আগে "নারী কথন" নামের একটা ব্লগে আমি শুধু তার নামের আদ্য্ক্ষর দিয়ে পাঠককে বুঝাতে চেয়েছিলাম যে আমার পরিচিত একজন এখন প্রায় তিনশ বছর আগেকার স্টাইলে ধর্মচর্চা করছে। শুধু তাই না সে তার আশে পাশের মানুষদেরও এই স্টাইলের মধ্যে আসার জন্য প্রভাবিত করছে। এই ক্ষেত্রে তার একাডেমিক এক্সেলেন্সি বেশ কাজে লাগছে। অথচ তার কোয়ালিটি দিয়ে সে কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্য্মে সমাজের কিছু সমস্যা সমাধান করার কাজে লাগাতে পারতো। কষ্ট পেলাম কী লিখতে চাইলাম আর লোকে কী বুঝলো।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।