~ প্রেম প্রণয় যদাপি দীপ্য বহমান | জীবন ঋতি নিয়ত ঋদ্ধিমান – পাঁচ ~

ইচ্ছের ঘোড়া দাবড়েইতো আমাদের নিত্য দিনের যাপন।

স্বপ্নের ভেতর ইচ্ছের ঘোড়ার গায়ে যখন তখন পাখা পর্যন্ত গজিয়ে যায়। আর সেই ঘোড়া কেবল দৌড়ে -ঝাঁপিয়ে চলে না। মন চায় তো অনায়াসে সেই পংখীরাজ যে কোনো গন্তব্যে দেয় দিব্যি উড়াল।

আর বাস্তবে ! জীবন ভর হাঁটলেন কেবল পাশাপাশি। সেই ইচ্ছে ঘোড়ায় লাগাম, জিন কিছুই পরাতেও শিখেন নি । চড়তে শিখাটাও খুব বেশী কঠিন ছিলো কি রপ্ত করে নেয়া ! অথচ পাশে হেটে চোখ বুঁজেই একটা জীবন পার !

মনের মধ্যে আপনি সারাক্ষণ জন ওয়েন, ক্লিন্ট ইস্টউড কিংবা ইথলিন ক্লেয়ার, কেটি জুরাডো . . . স্বপ্নের নায়ক কিংবা নায়িকা। আরে ওসব তো রূপালী পর্দার বানোয়াট ঝাঁপাঝাপি। আদতে জিন না চাপিয়ে অমন ঘোড়া ওরা ছোটায় নাকি !

রোশো রোশো . . . একটু বসো। নিজের মনটাকে তো আগে বোঝো। কতটুকু জল, কতোটা আকাশ তোমার ভালো লাগে। জানো। বুক পকেটে পুরতে চাও পোরো। আকাশটাকে তো পারবে না, যতোটুকু মেঘ আঁটাতে পারো অতোটুকুই ভরো। বৃষ্টি জল হয়ে কোনো দিন তা গড়িয়ে গেলে আবার না হয় এক মুঠো পুরে নিও।

হায় ! তা কি আর হয় ! তোমার মন কেবল চিৎকার করে গলা ফাটাতে চায় . . . সুচিত্রা-উত্তম ভালো লেগেছিল কোনো কালে ! তাই ওখানেই থেমে থাকবো নাকি ! লিওনার্দো দি ক্যাপ্রিও – কেট উইন্সলেট কি ভালো লাগতে পারে না আর আমার ! কিংবা জনি ডীপ – মনিকা বেলুচ্চি ! সালমা হায়েক আর রিচার্ড গ্যেরে . . . বাদ যাবে !

চেহারাখানা আদৌ ভাল করে না দেখা নীল শাড়ী পরিহিতাকে অকস্মাৎ ভালো লাগতেই পারে। অচেনা পুরুষের স্রেফ গলাটা শুনেই প্রেমে পড়ার ইচ্ছে মনে জাগতেই পারে।

পৃথিবীর সব কিছুই তো বদলায়। দোষ শুধু ওই বেচারা মনটারই কেবল ! তাহলে সব শাস্তি তো তারই প্রাপ্য ! নাকি !

তাহলে এতো যুক্তি তর্কে মেতে লাভ কি আর !!!

জানি আপনার মনের মধ্যে তখনো নানান যুক্তি তর্কের ঝড় অগ্নুৎপাত-এর মতোন বেরিয়ে আসতে চাইছে। আবার অন্য দিকে অন্তর্গত আরেক সত্তা হাস-ফাস দম আটকে মরছে।

ওটুকু স্রেফ স্রেফ স্রেফ একান্ত আপনার। ওকে কি আপনি গলা টিপে মারবেন ! নাকি মরফিনে ডোবাবেন ! তন্দুরীর কয়লায় ঝোলাবেন ! তা একেবারে একান্তই আপনার ইচ্ছে . . .
সেই যে ঘোড়া দিয়ে শুরু করলাম। তাকে চাইলে এবার বাঘ, ভালুক, বানর, হনুমান যা খুশী বানিয়ে নিন। না কাউকে বলতে হবে না এর কিয়দ গল্প কিংবা ফিরিস্তি।

খুব বেশী ভুল ভাল হলে পরজন্মে নাহয় শুধরে নেবেন।

সেই পরজন্মের জন্য তিন উল্লাস !

[ লেখার সময়কাল ~ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ | প্রথম প্রহর ]

১,৩৫১ বার দেখা হয়েছে

১৬ টি মন্তব্য : “~ প্রেম প্রণয় যদাপি দীপ্য বহমান | জীবন ঋতি নিয়ত ঋদ্ধিমান – পাঁচ ~”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    আমার প্রিয় নায়িকা অপর্ণা সেন। দেখতেই থাকি আর দেখতেই থাকি। ড্যাবড্যাব করে।
    আর হাল আমলের ক্যাটরিনা কাইফ। এত রূপ!

    বানান ঃ 'সত্তা' তে কোন 'ব' নেই। 🙂

    জবাব দিন
    • লুৎফুল (৭৮-৮৪)

      উফফফ ... খুঁজেই পাচ্ছিলাম না । শেষমেষ পুরোটা আবার পড়া হলো প্রায় ...
      অনেক ধন্যবাদ নূপুর । এটা চালু রেখো ভাই । আমার লেখায় প্রায়শই লাগবে ...

      হুমমম ... আমার পছন্দগুলো আবার নিজের কাছেই অনেক সময় আজগুবী মনে হয় ... তাই যুগ প্রতিনিধিত্ব করে অমন সাধারনভাবে সবার ভালো লাগা কিছু নাম এখানে দিয়েছি । তবে বেলুচ্চি আর হায়েকে চিত্তচাঞ্চল্য নিশ্চিত ঘটে বটে ...

      সেই পুরোনোদের মধ্যে এদিকে অবশ্য অপর্ণাই সেরা ।

      জবাব দিন
  2. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    আমরা মা মেয়ে একই সাথে আমির খানের প্রেমে পরেছিলাম সেই কোন কালে। দুই জনের রুচি, পছন্দের অনেক পরিবতর্ন ঘটেছে এর মাঝে কিন্তু খান সাহেবের প্রশ্নে কোন কমপ্রমাইজ নাই। আমির খানের মুভি রিলিজ হলে আমরা বড় পদর্ায় তাকে দেখতে ছুটি। পশ্চিমপাড়ে জনি ডেপ, উইল স্মিথ, রিচাডর্ গিয়ার আর জজর্ ক্লুনিকে দেখে দিল ধরকান বেড়ে যায় অলক্ষেই।

    জবাব দিন
    • লুৎফুল (৭৮-৮৪)

      ও জর্জ ক্লুনি ! ও রিচার্ড গ্যেরে !
      হেল মুভস আফটার দেম ... নো ডাউট ।

      তবে নিজের মতোন করে সেই হিসেবে আমি যদি ইভা মেন্ডেজ আর স্যান্ড্রা বুলকের নাম দিতাম
      তবে লোকে নিশ্চয়ই আমাকে পাগল ঠাউরাতো ...

      তাই গত বাঁধা নামেই রেখেছি ভরসা ...

      জবাব দিন
  3. অরূপ (৮১-৮৭)

    সান্ড্রা বুলকের নাম না দেখে হতাশই হচ্ছিলাম ... তাওতো কমেন্টে দেখতে পেয়ে মনটা ভালো হয়ে গেলো ...
    মেগ রায়ানের নাম সবাই কেন এড়িয়ে যায় কে জানে ...

    আহা, সত্যিই যদি পরজন্ম থাকে ... এবারের সব ভুল সুদে আসলে সমান করে নেব...
    সেই পরজন্মের জন্য তিন উল্লাস ...


    নিজে কানা পথ চেনে না
    পরকে ডাকে বার বার

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।