~ প্রেম প্রণয় যদাপি দীপ্য বহমান | জীবন ঋতি নিয়ত ঋদ্ধিমান – দুই ~

দখিনা হাওয়ায় মন উচাটন । উত্তুরে হাওয়া হলে চন-মন । মনটাকে সামলে রাখা বড়ই দায় । এর ভেতরের জিহবাটা বড্ড বেশী লকলকে । এক্কেবারে বেদম বেহায়া । বয়সটা যে বাড়ছে মনকে তা বোঝাবে এমন সাধ্যি কার ! এই যদি চাঁদ দেখে বিচলিত হই তো রূপালী আলোয় থমকে থাকি ! জলের শব্দে মূর্ছা যাই তো, বৃষ্টি পতনে আপনি নিপতনে সিদ্ধ মন ! … নূপুর কিংবা কংকণ ঝন-ঝন ! সহস্র মৃত্যতে সহসা নিমগ্ন ভ্রমন !

এই যে সকাল দুপুর রাত … ইচ্ছামৃত্যুতে জাগি নিত্য প্রভাত ! এর এতোটুকু কি পারি তাকে / তোমাকে / আপনাকে কিয়দ শুধাতে ! ইচ্ছেরা খোসা ভেঙ্গে বেরিয়ে … মথ … ডানাদুর্মর … গুটিয়ে পুনরায় ডিম্বানু-শুক্রাশয় । ইচ্ছের মৃত্যুগুলো প্রতিদিন একটু একটু করে আমাকেও মেরে রেখে যায় ! আমাকে বাঁচাবে এমন ইচ্ছামৃত্যুর হাত থেকে … জগতে আছে কে সহায় !

এই সেদিন ইচ্ছে করছিলো নীল শাড়ী শ্রাবণ জলে ভিজে কতোটা একাকার হয়, হাত ছুঁয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অপলক দেখবো । পেরেছি কি ! ঘাসের গালিচায় শুয়ে, সবুজের অবাক প্রাণবন্ত বাটিকে প্রগলভ মানুষ আর প্রান্তরের গায়ে মিলেমিশে যাওয়া জলজ্যান্ত তোমাকে অকস্মাত হারিয়ে, ভীষণ খুঁজবো । কান্তজীর দেয়ালে মিশে যাওয়া মেটে রঙ্গা মোলায়েম মসলিনে মেলাবো হেঁয়ালীর আঁকিবুকিতে লুকোনো তোমার ছবি । একটাও পারিনি । পেরেছি কি !

ভেবেছিলাম হাজার পাতায় লেখা চিঠি পোস্ট করতে গিয়ে জিপিওতে বাধাবো তুমুল হট্টগোল । ভাবনাগুলো আসলেই বড্ড আবোল তাবোল । বিরক্ত পোস্ট মাস্টার ডেকে বলবেন, ‘ভুল জায়গায় এসেছেন আপনি’ ।

তাহলে যাবোটা কোথায় ! কোথায় আমার আদত গন্তব্য ! তা কি আদৌ জেনেছি অদ্যাবধি !

আদা-রসুন-লংকায় খেয়েছে কয়েক শতাব্দী । বেতন-বাড়ীভাড়া, ইস্কুল-শিক্ষক, ডাক্তার-কবিরাজ, পথ্য আর ভীড়ময় ফুটপাথ – অলৌকিক দীর্ঘস্বাস সব কিছু মিলে আমাকে করেছে তুমুল লন্ডভন্ডে ভীষণ একাকার । এভাবে আরো ক’শতাব্দী পরে আমার মমিরা যখন জেনিফার লোপেজের প্রেমে পড়ে … তখন মেরিলিন তীব্র হাস-ফাস করে … অথচ বেঁচে থাকতে মন্দিরের দেয়াল কিংবা দিব্য সাক্ষী রমনার বটের শাখা … ওরাও একটুখানি ছুঁয়ে যায়নি এ হাত ! মাঝে শুধু জীবনের সবটুকু সময় অনন্য অবহেলায় হয়েছে বেহাত !

কাল সকালেই ঠিক নিশ্চিত জেনো আমি চেপে ধরবো ভালোবাসার হাত । ভালোবাসি কথাটা বলতে উগড়ে দেবো শহর কাঁপানো সুতীব্র চিতকার । আমি তো এ যুগের নই যে হিসেবের বেড়াজাল মেপে বুঝে বারাধি বার নিজেকে করবো দ্বিধাহীন উজাড় ! পুনঃ পুনঃ অপেক্ষা আর প্রাপ্তির দোলাচলে দুলবো সে আমি নই । এক বিন্দুও নই । মনে রেখো কালই শেষ সকাল … ভালোবাসা আদপেই আর হবে না বেহাত !!!

লেখার সময়কাল ~ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪ । প্রথম প্রহর

৯০২ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “~ প্রেম প্রণয় যদাপি দীপ্য বহমান | জীবন ঋতি নিয়ত ঋদ্ধিমান – দুই ~”

    • লুৎফুল (৭৮-৮৪)

      সময় সময় আবেগ তো ভিসুভিয়াসের চেয়েও দুর্মর হয়ে ওঠে প্রেমে। নয় কি ! মানুষ যেনো অন্য জগতের কেউ হয়ে যায়। তাকে গ্রাস করে এক ঐশ্বরিক বোধ আর শক্তি। কে যে কিভাবে কখন কি করে...
      নয় কি !

      জবাব দিন
    • লুৎফুল (৭৮-৮৪)

      প্রেমের আবেগ মানুষকে যেমন করে বেসামাল করে দ্যায়। কোনো হিসেবে মেলানো যায় না।
      সেই আবেগ, ভাবনা আর গতিকে আনতে চেয়েছি এখানে। আর হ্যা, প্রকাশভংগীতে কাব্যময়িতার প্রভাব আমার থেকেই যায়।
      খুব দারুন বলেছিস কিন্তু তুই।
      আর ক্যামনে আসে ! মনের মধ্যে প্রেমের সুনামি তো লন্ড ভন্ড করে সারাক্ষণ। তাই আসে। ওই পথে। (সম্পাদিত)

      জবাব দিন
  1. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    হুম!
    অনেকগুলা ডাইমেনশন দেখলাম।
    ভালবাসাবাসির।
    এত এত দিক হ্যান্ডেল করা কঠিন।
    বুঝতে পারছি, কেন বেশির ভাগ মানুষই এর চেয়ে বরং কুপমুন্ডুকতাকেই বেশি আপন করে নেয়.........


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • লুৎফুল (৭৮-৮৪)

      আসলে এটা প্রতিবার এক ভিন্নরূপ নিয়েই যেনো আছর করে। এক মানুষও যদি বারাধিক আক্রান্ত হয়। প্রতি বার তার রূপ এক হয় না। প্রতিবার তার দুর্বারতা একই রকম বিধ্বংসী হয় না।
      আর মানুষ যতোক্ষণ ওই পাগলা ঘোড়ার লাগাম ধরে থাকতে পারে... তো পারলো। নহয় সেই কুপমুন্ডকতার সংজ্ঞায় তার সমাপ্তি... এই আর কি ।

      জবাব দিন
  2. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    প্রতিটি প্রেমই তো প্রথম প্রেম। প্রতিটি প্রেমই আলো হয়ে, দ্যুতি নিয়ে, অদেখা সুখ হয়ে অথবা অচিন গান হয়ে বাজে অন্তরে। তাকে নাইবা হলো পাওয়া একান্ত নিজের করে, তবু সেতো আমার ভূবন আলো করে আছে... কেউ না জানুক একজন ঠিকই জানেন!

    জবাব দিন
  3. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    "তাকে নাইবা হলো পাওয়া একান্ত নিজের করে, তবু সেতো আমার ভূবন আলো করে আছে... কেউ না জানুক একজন ঠিকই জানেন!"
    বাহ্‌! বাহ্‌!! বাহ্‌!!!
    এভাবে ভাবতে পারলে আসলেই কিন্তু আর কোন সমস্যা থাকে না।
    নতুন এই পথটা বাতলে দেওয়ায়, অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা তোমাকে............


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
  4. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    কি আশ্চর্য, আমিও কোন ঘোরে যেন ভূত হয়ে গেলাম! মানে আগের মন্তব্যটা লগ ইন না করে করাতে মডারেশনের জন্য জমা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে হয়তো আমার ভূত হয়ে বেরিয়ে আসবে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।