কিছু কাহিনী


ক্লাস এইটে উঠেছি তখনো নতুন জুনিয়র আসেনি। প্রায় প্রতি ব্যাপারেই এইটের সাথে লাগে লাগে অবস্থা। আমরা হয়ত কোন বড় ভাইকে পটিয়ে ডাইনিং টেবিলে হাত তুলে খাওয়ার পারমিশন পেয়ে গেছি। কিন্তু ওরাও কম যায়না অন্য প্রিফেক্টের কাছে চলে গেছে ওইটা নাকচ করে দেবার জন্য। আবার আমরা সালাম দিচ্ছিনা ওইটাও তাদের মহা মাথাব্যাথার কারণ। আরো হাবিজাবি কত কিছু তো আছেই। তার ই মধ্যে অনেক এর সাথেই ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠছে। এরই একজন ছিলেন ইমরান ভাই ২০ তম ব্যাচ। আমাদের এক ব্যাচ সিনিয়র। উনি মহা মজার মানুষ ছিলেন। দূর্ভাগ্য ওনার মজার কাহিনী গুলা মাত্র দুই বছর পেয়েছি। তারপরই উনি কলেজ আউট হয়ে যান। সেখানেও কাহিনী। যাই হোক। ক্লাস এইটে উনি আমার পাশের বেডে ছিলেন। তাই ওনার অনেক মজার কাহিনী আমার নিজের চোখে দেখা। ওনার ই একটা কাহিনী। একটা কৌতুক মনে হয় সবার এ জানা ঐ যে human(মতান্তরে gentleman) এবং superman এর মধ্যকার পার্থক্য। তো শুধু ওই কৌতুক বললে তো আর ইমরান ভাই হয়না। উনি ঐটা লাইভ আয়োজন করলেন। সুপারম্যান সাজলেন। যারা কৌতুকটি জানে না তাদের জন্য human আন্ডারওয়্যার প্যান্টের নিচে পরে আর সুপারম্যান উপরে। তো উনি ওইরকম একটা সুপারম্যান সেজে এসে জিজ্ঞেস করছেন সবাইকে সুপারম্যান আর human এর পার্থক্য। আর তারপর নিজেই বলছেন তুমি human আর আমি সুপারম্যান। এইসময় এসে হাজির হয়ে গেছে মঞ্জুর ভাই জুনিয়র হাউস প্রিফেক্ট। ইমরান কি হচ্ছে? ইমরান ভাইর সরল স্বীকারোক্তি ভাইয়া সুপারম্যান আর হিউম্যান এর পার্থক্য দেখাচ্ছি। এরপর সুপারম্যান এর কি হয়েছিল সেটা চিন্তা করে নেন খুব একটা কষ্ট হবেনা। ক্যাডেট কলেজে এইসব ইউনিক আইডিয়ার কোন মূল্যই নেই।
মঞ্জুর ভাইর কথা যখন চলেই আসল আরেকটা কাহিনী বলে ফেলি। মঞ্জুর ভাই আর মশিউর ভাই তখনকার জুনিয়র হাউস প্রিফেক্ট। বহুত জ্বালাচ্ছে আমাদের। তখন একটা গান খুব হিট মনে হয় বাচ্চু মামার। ঐ যে হায় জ্বালা জ্বালা জ্বালা এই মন জুড়ে হায় জ্বালা জ্বালা জ্বালা এই অন্তরে। তো প্রিফেক্টবর্গের জ্বালায় অতিষ্ট আমাদের উদ্ভাবনা ” হায় জ্বালা জ্বালা জ্বালা এই মঞ্জুরে, হায় জ্বালা জ্বালা জ্বালা ওই মশিউরে এএএএ(লম্বা টান)”। যথারীতি একদিন ধরা এবং উত্তম মধ্যম।
ইমরান ভাইর আরেকটা কাহিনী। কৃষিবিজ্ঞান বলে একটা সাবজেক্ট আছে। আল্লাহ মালুম এইটা দিয়ে কি লাভ হয়। তো সবাই জানে ঐ স্যার শুধু পৃষ্টা গুনে মার্ক দেয়। ইমরান ভাই ও অনেক কিছু লিখে এসে নিশ্চিত পাশ করে ফেলবেন। কিন্তু ওনার খাতাটা পড়ে স্যারের চক্ষু কপালে না মাথায়। মুরগি তাজা করণের মধ্যে ওনার লিখাটা যতটা মনে আছে আমি হুবহু লিখার চেষ্টা করছি। ” মুরগি কে তাজা করতে হলে তাদের খাছা রাখতে হবে টিভি রুমের পাশে। এবং তাদেরকে প্রতিদিন হিন্দি গান দেখতে দিতে হবে। মাধুরীর নাচ দেখলে ওদের মন ভালো থাকবে । আর মন ভালো থাকা মানে স্বাস্থ্য ও ভালো থাকা। ” এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরই এইরকম। ঐ খাতা নিয়ে গীবতখানায় কাড়াকাড়ি পড়ে গেছিল কে কার আগে পড়বে। গীবতখানা হল স্যারদের একটা রুম থাকে যে (আসল শব্দটা ভুলে গেছি ঐ যে স্যার রা যেখানে মিল্ক টাইমে খায়দায় আর ক্যাডেটদের বদনাম করে)। ওইটার নাম আমাদের কলেজে ছিল গীবতখানা।
এক ইংরেজির পন্ডিত এসেছেন আমাদের কলেজে । অডিটোরিয়ামে উনি সহজ ইংরেজি বলার উপর লেকচার দিবেন। সবাই বসে আছি মহা খাপ্পা হয়ে বৃহস্পতিবারের ৬-৭ নং পিরিয়ড সবসময় নষ্ট করে এইসব। একটা দিনই হাফক্লাস ছিল। এখন তো হাফক্লাস কি কেউ জানেনা বিনিময়ে ২ দিন বন্ধ পায় মনে হয়। যাই হোক একটা কথা কতভাবে বলা যায় উনি বলছেন। কারো কাছে টাকা ধার করার উদাহরণ দিলেন উনি এইভাবে “i am afraid if you lend me some money”. পরবর্তীতে সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন কারো কিছু জানার আছে কিনা। রুহুম আমিন মোক্তার ,পোরনীতি, উঠে দাড়ালেন। স্যার আপনি ঐ জায়গায় বললেন i am afraid এইটার মানে কি হল। আসলে ওই লোক অনেক কিপটা আমি ভয় পাচ্ছি ওনার কাছে উনি আসলেই টাকা ধার দিবেন কিনা এইরকম। উনি হতভম্ব আর সারা অডিটোরিয়াম হাসি চাপায় ব্যস্ত। ইংরেজিতে আমিও খুব কাঁচা তাই আমার তো তখন এইটাকে মহা আবিষ্কার মনে হইছিল।

৫ টি মন্তব্য : “কিছু কাহিনী”

  1. চরম লাগলো কাহিনীগুলা পড়ে। কলেজের এইসব মজার আসলেই কোন তুলনা নাই। আর সেখানে না থেকে মজাটা পাওয়াও কষ্টকর। তাও সব কলেজের সবকিছু একসাথে পাওয়া যাচ্ছে এই ব্লগে। শুরুর দিকে ভাবতেও পারিনি এতোটা বস হয়ে উঠবে ক্যাডেট কলেজ ব্লগ।

    এইরকম ইমরান ভাইরা কলেজে থাকে বলেই তো মজাগুলো টের পাওয়া যায়। কলেজ আউট হয়েছে শুনে দুঃখ পেলাম। কারণ আপনারা বাকি মজাটুকু মিস করলেন। সে বিষয়েও লিখবেন আশাকরি।

    জবাব দিন
  2. কলেজের স্যারদের ইংরেজি জ্ঞান নিয়ে বিশেষ চিন্তার কারণ আছে। বর্তমান ইংরেজি ভার্শনে যে উনারা কি করছেন আল্লাহ-ই জানে। আমাদের কৃষিবিজ্ঞান স্যারের একটা কথা মনে পড়ে গেল। মাকসুদুর রহমান স্যার।

    উনি ক্লাশে এসে পড়ানোর পরিবর্তে আজগুবি সব কাহিনী বলতেন। কিসব ক্লাবের কথা বলতেন। অশরীরী সব কাহিনী নাকি ঘটে সেখানে। ভাসাভাসা মনে পড়ছে। উনি নাকি নিজের চোখে ঘুমন্ত মানুষকে বিছানার এক ফুটে উপরে ভেসে থাকতে দেখেছেন। সবই আধ্যাত্মিক ব্যাপার। দর্মীয় আধ্যাত্মিকতা অবশ্য নয়।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : raihanabir

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।