আমার ছোট বেলা-তিন “অদ্ভুতুড়ে গল্প”।

“নাপিতের ভিটা” নিয়ে অনেক ভয়াবহ গল্প আছে । বহু মানুষের চাক্ষুষ প্রমান সমৃদ্ধ গল্প।তার মধ্যে একটা না বলে পারছিনা। চাঁদ রাত। পরের দিন সকালে ঈদের নামাজ পরে দু-চার শ ‘সমাজই-জমাতি’ মানুষ ক্ষীর পায়েস খাবে।তাই হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে দালান বাড়ির উঠানে বড় কাচাঁরি ঘরের সামনে মণই ডেকচা তে কলস কলস দুধ ঢালা হচ্ছে ঘন মিষ্টান্ন করার উদ্দেশ্যে ।

“সমাজই- জমাতি” মানুষ হচ্ছে, সেই দাদাদের ঘনিস্ট সমস্ত মুন্সি- মাতব্বর, পাইক-পেয়াদা , গন্য-মান্য মুরব্বি যারা জীবিত আছেন তারা অথবা তাঁদের বংশধরা যুগ যুগ ধরে এই বাড়ি কেন্দ্রিক বেড়ে উঠেছেন , তাদের সম্মানিত পদবি। আর তাঁদের অপ্পায়ন  প্রথাটা অনেক যুগ থেকে চলে আসছে।

সারি সারি ডেকচা চুলার পার্শে, চেয়ারম্যেন চাচা সহ অনেক মানুষ গল্পে মশগুল। রাত তখন দ্বিতীয় প্রহর পেরিয়ে গেছে। হঠাৎ ওই নাপিতের ভিটার দিক থেকে        “করিমা ভেঙ্গুর” ছুটে এল।এক হাতে তার সব সময়ের মত বল্লম ধরা, অন্য হাতে জলন্ত হারিকেন। ছুটে এসে সকলের সামনে চার হাত-পা ছড়িয়ে মাটিতে পড়ে রইল। মুখ দিয়ে ফেনা বেরুচ্ছে !

” করিমা ভেঙ্গুর ” ওরফে করিম মিয়ার একটা অতন্ত্য সাহসী ব্যাক গ্রাউনড্ আছে। ছোট বেলা থেকেই আমাদের বাড়িতে মানুশ। বড় হয়ে দাদাদের খাস্ পেয়াদা। হাতে সব সময় বল্লম। আর “ভেঙ্গুর” উপাধি হল সেই ব্রিটিশ আমলে অন্য জমিদার দের সাথে লড়াই এ কোমরে বর্শার খোঁচা খেয়ে বাঁকা হয়ে সামনের দিকে ঝুকে হাটতো , সেজন্যে ।বুড়ো হয়েও সারা রাত বল্লম ও হারিকেন হাতে আমাদের বাড়ি পাহারা দিতে কোন আলস্য করতো না।

সেই অসম সাহসী বীর যোদ্ধার এই করুন পরিণতি !! পানি টানি ছিটিয়ে অনেক কসরৎ করে জ্ঞান ফিরিয়ে ওর কাছ থেকে যা উদ্ধার করা গেল, তা হোল (ওর জবানীতে ): নাপিতের ভিটায় বেশ কিছু তাল গাছে তাল পেকে থাকে। বড়ো মা বললো রাতে সব চোরে চুরি করে নিয়ে যায় , তাই আমি নজর রাখছিলাম।  সন্ধ্যা রাতে আমি পাকা তাল পড়ার শব্দ শুনেছি । কিছুক্ষন আগে আমার মনে হোল কোন এক মেয়ে মানুষ ওই তাল গাছের দিকে যাচ্ছে ।তাই আমি পিছু নিলাম। হারিকেনের আলোয় দেখলাম ঠিকই মেয়েলোকটা আমার দিকে পেছন ফিরে তাল টুকাচ্ছে ।আমি রেগে জিজ্ঞেশ করলাম : এই কোন বাড়ির বউ তুমি এত বেহায়া , প্রতিদিন তাল চুরি করো ? আজ ধরেছি। মেয়েলোক টা আমার কথার তয়াক্কা না করে পেছন ফিরে তাল টুকাতেই থাকলো। আমি রেগে-মেগে যেই কাছে গেছি, এমনি ঘুরে দাঁড়ালো ! বীভৎস চেহারা, আগুনের গোলার মত দুইটি চোখ,আমার দিকে মুখ তুলে দেখে, একহাত লম্বা লাল জিহ্বা বের করে শুধু  ‘থু’  করে আমার দিকে থুথু ছিটালো । আমার আর কিছু মনে নেই। হুশ ফিরলো আপনাদের সামনে।

ঘটনা এখানেই শেষ । সাত আট দিন প্রচণ্ড জ্বরে ভুগে ‘করিমা ভেঙ্গুর’ ভাল হল। শুধু একটি বেপ্যার আমার বা ওখানে উপস্তিত বিঞ্জাণ মনস্ক কারো এখনো পর্যন্ত  বোধগম্য হয়নি যে , করিমা ভেঙ্গুর এর সাথে  “প্রচণ্ড পায়খানার গন্ধ”…, যেটা ডেটল, কারবলিক,লাক্স সাবানের বহু গোসলের পরেও পনেরো/বিশ দিন পর্যন্ত  ওর গা থেকে কিছুতেই যায় নাই।”

কেন??? -এর উত্তর আমার বা কারো জানা নেই ! অতি প্রাকৃতিক কোন কিছুর অস্তিত্ব কি আসলেও আছে? আমি জানিনা ।

১,০৬৬ বার দেখা হয়েছে

১৩ টি মন্তব্য : “আমার ছোট বেলা-তিন “অদ্ভুতুড়ে গল্প”।”

  1. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    ফার্ষ্ট :clap: :clap: :clap:
    কাহিনি কি সত্য??? 😕 😕 😕


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
    • আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

      ছবির একদম ডানে নিচের কোনে (যেখানে ছবিটা শেষ হয়েছে) ওখানে একটা ঝাঁকরা ডাল পালাওয়ালা গাছ ছিল। পার্শে পায়ে চলার পথ (নাপিতের ভিটের দিকে গেছে), ওই গাছে গ্রাম্য এক বধু " ফাঁসী " দিয়েছিল । অনেক মানুষ নাকি চাঁদনী রাতে তাকে ঝুলতে দেখে ।


      Smile n live, help let others do!

      জবাব দিন
  2. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    ধন্যবাদ আজিজ ভাই। তাইলে এইবার তৈরি হয়ে যান, সিসিবির পরবর্তী পেটপূজা আপনাদের গ্রামের বাড়িতেই হবে.......... :guitar: :guitar: :guitar:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।