বিমান বাজি!

কলেজ ডাইনিং হলে নিয়মিতই আমাদের বেশ কিছু অখাদ্য পরিবেশন করা হত। খোয়া ঝামা পিঁয়াজু, দাঁতের চিহ্ন রেখে আসা বিস্কুট,মাথা ধরা কেক,খাজা,গজাসহ নানান কিসিমের অখাদ্য। সেই সঙ্গে লাঞ্চ বা ডিনারের সবজি। তার মধ্যে বিখ্যাত ছিল বিমান রায় বাজি! সিলেটি বংশোদ্ভুত এই তুখোড় পরিসংখ্যানবিদ একদা আমাদের মেস ওআইসি নিযুক্ত হলেন। তারপর ডিনারে ডাইনিং হলে ঢুকতেই তাকে দেখতাম অদ্ভুত ম্যাচিং এর জামাকাপড় গায়ে একেবারে মাঝবরাবর দন্ডায়মান,যাকে বলে রেডি ফর টেক অফ। সাদা প্যান্টের সঙ্গে জংলিছাপের শার্ট আর টকটকে লাল টাই,ঠোঁটে ঝুলছে ডলফিন হাসি। সেই আমলে, কলেজ ডাইনিং হলে একধরণের সবজি দেয়া হত, আর বিমানস্যার ঘুরে ঘুরে টেবিল থেকে টেবিলে গিয়ে বলতেন “বাজি কাও, বাজি কাও না কেনে”। ক্লাস সেভেনের দায়িত্ব সেই সবজি খাওয়া, স্যার বলার টেবিল লিডাররা এইট ও নাইনকেও কখনো কখনো সেই “বাজি” খেতে বাধ্য করতেন। মাঝে মাঝে ডাইনিং হল প্রিফেক্ট হেঁটে এসে কে কে বাজি খায়নি সেটা দেখতেন। বিসমিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ বলার বাইরে এই তৃতীয় একটি কাজই তাকে আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে করতে দেখতাম। এর বাইরে তার আর কোন কার্যক্রম ছিল বলেও আমার মনে পড়ে না। যাই হোক, ধান ভানতে গিয়ে শিবের গীতের অ্যালবাম শুনিয়ে দিলাম।ঘটনা হচ্ছে,আজ ছিল সিলেট ক্যাডেট কলেজের সাবেক সংগঠন ওকাস এর বার্ষিক সাধারণ সভা। আর্মি গলফ ক্লাবের পাম ভিউ রেস্টুরেন্টে। জলপাই বরাবরই আমাদের প্রিয় রং! সেখানে মধ্যাহ্ন ভোজে কাচ্চি বিরিয়ানি ও চিকেন রোস্ট (? নাকি তান্দুরি!) এর সঙ্গে যে সবজিটা দেয়া হয়েছিল, চেহারা দেখেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, এই সেই বিমান রায় বাজি! গলা গলা কুমড়ো উঁকি দিয়ে একটা কমলা এফেক্ট তৈরি করেছে,সঙ্গে আরও কিছু কালচে সবুজ পদার্থ। চেখে দেখার জন্য এক চামচ পাতে তুললাম,টেবিলে এসে মুখে দিতেই আহা সেই স্বাদ! কলেজের সেই পাচক চাকুরি শেষে এখানেই যোগ দিল কিনা জানা নেই, নাকি সবাইকে একই কায়দায় সবজি রান্না শেখানো হয় তাও বলতে পারি না। স্বাদকোরকে ভাল লাগুক আর নাই লাগুক,স্মৃতিটাতো উস্কে দিয়ে গেল! আর আমরা তো স্মৃতিতেই বাঁচি!

৪ টি মন্তব্য : “বিমান বাজি!”

  1. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    :clap: :clap: :clap: :clap:

    খিতা মাত মাতলাইন রে বা! এতো খম লিকছুইন শ্যাষ হই গেল তড়াতড়ি! বিমান বাজি খুব সোয়াদ হইছেগো!

    তোমার আরো লেখা পড়তে চাই সিসিবিতে!

    জবাব দিন
  2. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    একটা ডাউট মাথায় আইলো। যতই গল্ফ গার্ডেন আর পাম ভিউ মিউ বানাক, দরকার হইলে বাইরের শেফ আইসা রান্না করুক, যেইখানে সশস্ত্রবাহিনীর বিকিরণ বিদ্যমান সেই সব জায়গায় সবজির মোটামুটি একই টেস্ট। সেটা ক্যাডেট কলেজই হোক আর আর্মি গল্ফ গার্ডেনের পামভিউ রেস্তোরাই হোক! 😀


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।