কাঞ্চনদার গপ্পো: অন্তর্বাস দ্বন্দ্ব।

[যারা আগে পড়েছেন, তারা নিজগুণে ক্ষমা করবেন :D]

“কী বললে? ভাবীর হাতে কি?”

গত এক সপ্তাহ ধরে গলির মুখে সান্ধ্য আড্ডা বেশ জমে উঠছে। এর মূল কারণ অবশ্য কাঞ্চনদা। কাঞ্চনদা যোগ দেয়ার পর থেকে আড্ডায় জোরেশোরে খাওয়া দাওয়া চলছে। সিগারেটের প্যাকেট খালি না হতেই কাঞ্চনদা হাঁক পাড়ছে ” শামসু কাকা, পাঠিয়ে দ্যান আরেক প্যাকেট বেনসন!” আমরা বেদম হারে সিগারেট টানি আর কাঞ্চনদার মুখে গপপো শুনি। গত সোমবার ভাবী বাপের বাড়ি চলে গেছেন। আর ভাবীর বাপের বাড়ি চলে যাওয়া মানে গলির মুখে সান্ধ্য আড্ডায় কাঞ্চদার যোগদান। কাঞ্চনদার বউ- আমাদের পাড়াতুতো ভাবী মাঝেমধ্যেই রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যান এবং একদিন দুদিনে বাদেই ফিরে আসেন। পাশে দেখা যায় মুখ চুন করে রাখা কাঞ্চনদাকে। এবার সাতদিনেও ভাবী ফিরে আসেন নি। আজ সন্ধ্যে বেলা মুখে গরম গরম ডালপুরি সেঁধে দিয়ে কাঞ্চনদাকে একথা বলতেই কাঞ্চনদা একটু মিইয়ে যায়,

” এত সহজে আসবে না রে। বিশাল পেঁচগী লেগে গ্যাছে। এরকম পেঁচগী সেই অনেক বছর আগে একবার লেগেছিল। নাইনটিন নাইনটি টুতে!”

” বিশাল পেঁচগী আবার কী? তুমি আবার কিছু করেছ টরেছ নাকি? সাতদিন হয়ে গেলো! ভাবী….” সিগারেটে টান দিতে দিতে কথাটা বলতে গিয়ে অয়ন খকখক করে কেশে ওঠে। অয়ন নতুন স্মোকার। সিগারেটটা এখনো ভালোভাবে আয়ত্বে আনতে পারেনি। নিজেকে সামলে নিয়ে অয়ন আবার বলে, “এমন কী পেঁচগি লেগেছে যে ভাবী সাতদিনেও এলো না!”

” আরে ব্যাটা। সাতদিন তো স্বল্প সময়। বেবি টাইম। সেবার, তার মানে নাইনটি টুতে কদিন ছিলনা জানিস? দেড় মাস। মোর দ্যান এ মানথ।”

” দেড় মা..স!” আমরা একসাথে বলে উঠি। অবাক হতে হয়। কাঞ্চনদা মজা করছে না তো! একথা বলতে যাওয়ার আগেই কাঞ্চদা চোখ দিয়ে রহস্যের ভংগি করে। অয়নের হাতের সিগারেট নিজের হাতে তুলে নিতে নিতে বলে, ” কী শুনবি নাকি সে পেঁচগির গল্প? একটু অ্যাডাল্ট! তাতে অবশ্য সমস্যা নেই। ইউ আর ম্যাচিউরড এনাফ!”

অর্ধেক সিগারেট দু টানে শেষ করে দিয়ে কাঞ্চনদার কাহিনী বলা শুরু হয়। ” বুঝলি, সেবার কক্সবাজার থেকে এসেছি। অফিসের কি একটা কাজে গিয়েছিলাম। দুদিন বাদে বাড়িতে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলো! তোদের ভাবী দরজা খুলে দিয়ে আমার দিকে একবারও তাকালো না। উল্টা ঘুরে শোবার ঘরের দিকে হাঁটা দিল। যাই হোক, পরের দিন ভোরবেলা বারান্দায় বসে আয়েশ করে খবরের কাগজ পড়ছি, হঠাৎ দেখি ও হাজির হয়েছে। ফোঁস ফোঁস করে দম নিচ্ছে আর গজরাচ্ছে। হাতে মেয়েদের একটা ব্রেসিয়ার। ”

” কী বললে? ভাবীর হাতে কি? ব্রেসিয়ার মানে? ” আমরা প্রায় চিৎকার করে উঠি। দোকানী শামসু কাকা চিৎকার শুনে আমাদের দিকে তাকান। ঘটনা বুঝতে না পেরে আমাদের পাড়ার বিখ্যাত “শামসু কাকাময়” হাসি দেন একটা। ওদিকে কাঞ্চনদা আরেকটা বেনসন সিগারেট ধরিয়ে ফসফস করে ধোঁয়া ছাড়ে।

” ব্রেসিয়ার শুনে এমন অবাক হচ্ছিস কেনো? জাস্ট এ বক্ষবন্ধনী। হ্যাঁ। অবাক হওয়ার কথা হলো- ঐ বক্ষবন্ধনী তোদের ভাবীর না! এবং সেটি নাকি আমার কক্সবাজার ফেরত ব্যাগ থেকে বেরিয়েছে!” এতটুক বলে কাঞ্চনদা হাতের সিগারেট আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। কাঞ্চনদার এই এক স্বভাব। সামনে দশ প্যাকেট সিগারেট থাকলেও পুরোটা একা টানবে না।
শেয়ার করে সিগারেট না খেলে নাকি ঠিক তৃপ্তি পাওয়া যায় না। কাঞ্চনদা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। আমরাও প্রশ্ন করি না। অস্বস্তি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি।

” ভাব্ একবার সিচুয়েশনটা! আমার ব্যাগে অন্য মেয়ের বুক ঢাকনী, যেটা হাতে নিয়ে আমার বউ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ” এ কথা বলে কাঞ্চনদা আমাদের সবার মুখের দিকে তাকান। চোখে চাপা একটা হাসি ছড়িয়ে পড়েছে! সেই চাপা হাসি নিয়েই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায়। ” লাইফ ইজ ভেরি স্ট্রেন্জ অ্যানিমেল, বুঝলি?”

শত অস্বস্তি নিয়েও দমিয়ে রাখা প্রশ্নটা করে ফেলি। ” তোমার ব্যাগে তো নিশ্চয়ই এমনি এমনি আসেনি! ঘটনা ঘটিয়েছিলে নাকি কক্সবাজারে?”

“এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেব না। ঐ যে বললাম- লাইফ ইজ ভেরি স্ট্রেন্জ অ্যানিমেল, আপাতত এটাই মাথায় গেঁথে রাখ্। তারপর কী হলো সেটা তো বুঝতেই পারছিস! স্যুটকেস নামানো হলো আলমারী থেকে- কাজের মেয়েকে বলতে বাড়ির সামনে একটা ট্যাক্সিও হাজির হলো- আর তোদের ভাবীজান আমাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে রয়েল বেংগল টাইগ্রেসের মত খিক খিক করতে করতে সেই ট্যাক্সিতে চড়ে বসলো!” এতটুক বলেই কাঞ্চনদা ভস করে আবার থেমে যায়। এই ভস করে থেমে যাওয়া কী একটা নাটকীয়তা সৃষ্টি করে। আমাদের আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

“তারপর?”

” তারপর, দুই একদিন মনটা দমে গেল। তৃতীয় দিন ওর বাপের বাড়ি গেলাম রাগ ভাঙিয়ে ফিরিয়ে আনতে। নো লাভ। আমার সাথে দেখাই করলো না। বাপের বাড়ির লোকজনের সামনে বলতে লাগল- এরকম চরিত্রহীন লম্পটের সাথে মরে গেলেও নাকি দেখা করবে না। আমি বিরস বদনে বাড়ি ফিরে আসি। রাতের বেলা মনটা বিরহে কাতর হয়ে ওঠে। দুই একটা বিরহ সংগীত শোনার চেষ্টা করে ক্ষান্ত দিই। এর মাঝে একবার মনে হলো- মদ ফদ কিছু একটা খেয়ে ড্রেনের পাশে গিয়ে শুয়ে থাকি। এভাবে বেশ কযেকদিন পার হয়ে গেলো। তোদের ভাবী ফিরে আসে না। আফটার অল- শী ইজ এ গ্রেট ওমেন। আমিও বিরহ শোকে কাতর হয়ে থাকি আর নিজের ব্যাগে পরনারীর ব্রেসিয়ারের উপস্থিতির কথা ভেবে নিজেকেই ধিক্কার দিতে থাকি। এবং…”

“এবং?”

“এবং এরকম এক বিরহ জাগানিয়া রাতে লেগে যায় চূড়ান্ত পেঁচগি” ”

“চূড়ান্ত পেঁচগি মানে?” আমাদের কথা না শোনার ভান করে কাঞ্চনদা শামসু কাকার দিকে তাকিয়ে আলুর চপের অর্ডার দেয়। আলুর চপ আসতেই গরম গরম মুখে গুজে দেয়। আলুর চপ চিবোতে চিবোতে বলে, ” দাঁড়া। চপটা শেষ করে নিই।” প্লেটের দুটো চপ পেটে পুরোপুরি চালান করা হলে কাঞ্চনদা সিগারেট ধরায় একটা। দেশলাই জ্বালাতে জ্বালাতে বলে, ” যে রাতের কথা বলছি, সেদিন খুব ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে, বুঝলি? অফিস যাইনি। ঢ্যালা মেরে সকাল থেকে বিছানায় পড়ে আছি। রাত আটটার দিকে কী মনে করে বিছানায় একটা গড়াগড়ি দিতেই ধপাস করে মেঝেতে পড়ে যাই। আমি সবসময় দেয়ালের দিকে শুই। তোদের ভাবী থাকে এ পাশে। অভ্যেস নেই! মনটা এমন বিকল হয়ে আছে যে উঠে খাটে যেতেও ইচ্ছে করছে না। হঠাৎ করে হাতটা একটু খাটের নিচে ঢুকে গেলো। হাতে কিছু একটার ছোঁয়া লাগে। এক হাত উঁচু করে বেড সুইচ অন করে খাটের তলার জিনিসটার দিকে তাকাতেই চমকে উঠি। ”

“কেন?” অয়ন আবারো সিগারেট টানতে টানতে কথা বলতে গিয়ে খক খক করে কেশে ওঠে। আমরাও বেদম আগ্রহ নিয়ে কাঞ্চন্দার দিকে তাকাই। “কী দেখলে?”

” এ ম্যানস আণ্ডারওয়ার। আর একবার তাকাতেই বুঝে যাই – ও জিনিস আমার নয়”

“তার মানে?” আমরা সমবেত কণ্ঠে প্রায় আর্তনাদ করে উঠি। “তারপর?”

কাঞ্চনদা শামসু কাকার দিকে গলা চড়িয়ে দেয় ” কাকা, চা দ্যান পাঁচ কাপ। মুড়ি আছে না?” আমাদের দিকে তাকাতে তাকাতে বলে ” আগে চা আর মুড়ি খেয়ে নে। তবে তোরা যা ভাবছিস ঘটনা কিন্তু তা না! তোদের আগেই বলেছি- তোদের ভাবী ইজ এ গ্রেট ওমেন। আর আমিও নট এ ব্যাড পারসন! ”

” তাহলে? তোমার ব্যাগে অপরিচিত ব্রেসিয়ার- খাটের নিচে অপরিচিত আণ্ডারওয়ার কীভাবে এলো? ” সবাই নিজেদের হাতে চায়ের কাপ তুলে নিই। চানাচুর মাখা মুড়িও চলে এসেছে। এক হাত মুড়ি মুখে একসংগে ছেড়ে দিয়ে কাঞ্চদা বলে, ” হা হা। সেখানেই তো মজা! আগে চা খেয়ে নে, তারপর বলছি”

আমরা বামহাতে চায়ের কাপ ধরে রেখে – চানাচুর মেশানো মুড়ি চিবোতে থাকি কুড়মুড় করে!

৬,০১০ বার দেখা হয়েছে

১০১ টি মন্তব্য : “কাঞ্চনদার গপ্পো: অন্তর্বাস দ্বন্দ্ব।”

    • শ্বাস বন্ধ করে রেখে ....
      পেজ লোড হবার আগেই ....
      নোট প্যাডে "১ম" কথাটা লিখে কপি তে ক্লিক করে...
      সাবমিট বাটন আসার আগেই পেস্ট করে ....
      সাবমিট বাটন এলেই সাথে সাথে ক্লিক....
      এন্ড 1st ....
      Goooogle থুক্কু .. Yahoooo !!!

      জবাব দিন
  1. পড়ে খুশি হলাম। তবে যেই সাইট থেকে কপি করলেন তার নাম দিলে আরো খুশি হতাম। তবে মজা লাগলো ঔ জায়গায় অসমাপ্ত, এই সাইটেও অসমাপ্ত। 😉 অপেক্ষায় থাকলাম। কারো সন্দেহ থাকলে www.sachalayatan.org এ একই শিরোনামে এই লেখাটি পড়তে পারেন। ধন্যবাদ।

    জবাব দিন
  2. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    আইচ্ছা আমারে একটা কথা কও তো দেখি, এইটার কি ২য় পত্র আছে নাকি শ্যাষ এক পত্রেই?

    আমি হালায় এইটা বুঝবারি পারতাছিনা। 😕


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  3. রাশেদ (৯৯-০৫)

    আগে পড়ছিলাম দেইখা আর নতুন করে ঢুকি নাই কিন্তু ভাগ্যিস ঢুকছিলাম নাইলে সোহাগ ভাইজানের জুক্স এর নমুনা পাইতাম কই :just: :pira:
    মহিব এত কষ্ট কইরা কপি করছস নে এক কাপ চা খা :teacup:


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  4. টিটো রহমান (৯৪-০০)

    দারুণ!!!!!
    তবে মহিব আর একটু বোধহয় দরকার আছে..নয়ত সেই রহস্য লেখকের মত লিখা ফালাও তারপর কি হইতে কি হইয়া গেল দেখি তোদের ভাবী ঘরেই আছে
    তবেসেই মণীষীর কথা ভাবলে ঠিকই আছে

    অন্তরে অতৃপ্তি রবে..সাঙ্গ করে মনে হবে...শেষ হইয়াও হইল না শেষ


    আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।