কিছু কথা…

আজকে ব্লগে এসে নানা জনের প্রিয় পোস্ট পড়ছিলাম। তার মধ্যে এক ছোট ভাইয়ের পোস্ট পড়ে মনটা খুবই খারাপ লাগছে। পোস্টটা হলো শারীরিক অসুস্থতা এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের অবহেলার…নিজে একজন ডাক্তার বলেই খুব মন খারাপ লাগলো। মনে হচ্ছে এর কিছুটা দায়ভার যেনো আমারও।

যদিও সব ডাক্তার সমান না আর আমাদের দেশেও অনেক ভালো ডাক্তার আছেন যাদের আমি অনেক অনেক শ্রদ্ধা করি, কিন্তু তার পরেও কিছু কথা আমি না বলে পারছিনা। আমার বাবা যখন অন্তিম শয্যায়, আই সি ইউ তে ভর্তি , তখন আমি এবং আমার বড় ভাই , আমরা দুজনেই ডাক্তার, নিজেদের পরিচয় দিয়েও খুব একটা পাত্তা পাই নাই। যে রাতে উনি মারা গেলেন, ডিউটি ডাক্তার ভাইয়া নির্বিকার ভাবে দশ হাত দূরে দাঁড়িয়ে থেকে শুধু নার্সদের কাজ কর্ম দেখছিলেন, নিজে এসে কিছুই করেন নাই। আমার শুধু মনে হচ্ছিল, ভাইয়া আপনার কাছে যেটা নিছক একটা নাইট ডিউটি, অন্য একজনের কাছে সেই রাতটাই হয়তো তার জীবনের শেষ রাত। কিছুই করার ছিলনা তখন আমি জানি কিন্তু রোগীর পাশে এসে দাঁড়ানো, দুইটা কথা বলাটাও কিন্তু ডাক্তারদের দায়িত্বের মাঝে পড়ে।

আমাদের ছোট ভাই হাঁসের ছানা যখন অসুস্থ ছিল , শুধু এটাই দোয়া করছিলাম , যাতে ডাক্তাররা ওর কোনো অবহেলা না করেন!

বাংলাদেশে যখন ইন্টার্নী করতাম, তখন দেখতাম সবাই শুধু রোগীদের ঝাড়ি দেয়। আমিও সেই কালচারই প্র্যাক্টিস করছিলাম। আমার সাথে একজন বড় ভাই ছিলেন, উনি বলেছিলেন, নূপুর, যেদিন নিজে রোগী হবা, সেদিন শুধু বুঝবা ডাক্তারদের ঝাড়ি খেতে কেমন লাগে। কথাটা খুব সত্য, তার পরে সব সময় রোগীদের সাথে ভাল ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি…

সরকারী হাসপাতাল তো বাদের খাতায়, দেশে যেসব প্রাইভেট হাস্পাতাল আছে, ওদের ও সেম অবস্থা। টাকা নেবার বেলায় শুধু সিন্সিয়ার, সেবার বেলায় ‘জিরো’। ওখানে মানুষ ভর্তি হয় পয়সা দিয়ে ডাক্তার, নার্স আর প্রফেসরদের ঝারি খাওয়ার জন্য, আর যদি হায়াত থাকে তাহলে বেঁচে ফিরে আসে। সবার কথা আমি বলছি না, আমি সাধারন মানুষের কথা বলছি, নিতান্ত অসুস্থ হওয়াও যারা এফোর্ড করতে পারে না।

আমেরিকায় যখন আসলাম, আবার পড়ালেখা শুরু করলাম এখানকার ডিগ্রী নেবার জন্য। একটা এক্সাম আছে, ক্লিনিক্যাল স্কিল টেষ্ট, রোগী থাকে এবং ওরা বিভিন্ন সিম্পটমের অভিনয় করে, আমরাও ডক্তার সেজে ওদের সাথে কথা বলি, এক্সামিন করি, পেশেন্ট নোট লিখি ইত্যাদি, ইত্যাদি। তো সেই এক্সামের প্রথম শর্ত হলো হাসি মুখে রোগীদের সাথে কথা বলতে হবে, এমনি হাসলে হবে না , দাঁত বের করে হাসতে হবে, তাকে সিম্প্যাথি, এম্প্যাথি শো করতে হবে, সাপোর্ট দিতে হবে, নাইলে ফেল। ১২০০ ডলার গচ্চা। আমরা বাংলাদেশী কজন গ্রুপ করে প্র্যাক্টিস করতাম। আমাদের সাথে একজন দিদি ছিলেন উনি কিছুতেই হাসতে পারতেন না। বলতেন সারা জীবন অভ্যাস করেছি কিভাবে গম্ভীর থাকা যায়, আর এখন যদি বলো হাসতে, তাইলে ক্যামনে হবে? চিন্তা করে দেখলাম, ঠিকই তো। কোনোদিন কোন বড় ডাক্তারকে দেখিনাই রোগীর সাথে হেসে কথা বলতে, আমরা শিখবো কার থেকে? সিম্প্যাথি তো বহু দূরের কথ। হাস্যকর!

আমাদের ক্যাডেট কলেজের যারা মেডিক্যাল অফিসার থাকেন, তাদের যোগ্যতা নিয়ে আমার কোন কিছু বলার অধিকার নাই, কিন্তু সব সময় তারা সঠিক ডিসিশন নেন না। ভাবেন যে সিক রিপোর্ট মানেই ক্যাডেটদের ফাঁকি দেবার ধান্দা, তাই ওনারাও প্রায়ই ফাঁকি দেন আর তার পরিনতি হিসাবে অনেকেই সারাজীবন ব্যথা বয়ে বেড়ায়। এসব দেখে আমি খুবই আপসেট হয়ে যাই, ভালো লাগেনা কিছুই…

জানিনা নিজে কেমন ডাক্তার হবো, কিন্তু এ্যটলিষ্ট কাউকে ঠকাবো না। হয়তো দিনে একটা রোগী দেখবো কিন্তু তাকে উপযুক্ত সম্মান দেখাবো, রোগ হয়ত ভালো করতে পারবোনা কিন্তু রোগীর মন ভাল করার চেষ্টা করবো। আমার ব্যবহারে যাতে ওনারা আগেরর ডাক্তারদের খারাপ ব্যবহার একটু হলেও ভুলতে পারেন…

মন খারাপ করে অনেক কিছুই লিখে ফেললাম। আশা করি সবাই বুঝতে পারবেন।

নূপুর
০১-০৭-০৯

১,৯৩০ বার দেখা হয়েছে

৫৭ টি মন্তব্য : “কিছু কথা…”

  1. এহসান (৮৯-৯৫)
    এ্যটলিষ্ট কাউকে ঠকাবো না। হয়তো দিনে একটা রোগী দেখবো কিন্তু তাকে উপযুক্ত সম্মান দেখাবো, রোগ হয়ত ভালো করতে পারবোনা কিন্তু রোগীর মন ভাল করার চেষ্টা করবো।

    :thumbup:

    জবাব দিন
  2. রকিব (০১-০৭)
    জানিনা নিজে কেমন ডাক্তার হবো, কিন্তু এ্যটলিষ্ট কাউকে ঠকাবো না।

    আপনার উপলব্ধিটুকু অসম্ভব ভালো লাগলো আপু। :salute: :salute: :salute:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  3. আপা সালাম।

    ডাক্তার হয়ে ডাক্তারদের হাঁড়িটা ভেংগে দিলেন!!!

    আমাদের দেশের ডাক্তারদের অধিকংশই যখন নির্দয় তখন আমার মনে হয় আমাদের সিস্টেমে কোন সমস্যা আছে।

    আমি এখানে একটা সার্জারির জন্য বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে ছিলাম। তখন ডাক্তার ও নার্স সবাই আমার সাথে এমন বিনয়ী ব্যবহার করল যে আমি বুঝতে পারছিলামনা এরা মানুষ না ফেরেস্তা। এখানে ডাক্তারদের বেতন ফিক্সড। প্রাইভেট প্রেক্টিস বলতে কিছু নেই। ভাবলাম, আমার দেশে ডাক্তারদের বেতন ফিক্সড ও প্রাইভেট প্রেক্টিস বলতে কিছু না থাকলে, এখন যতটুকু তারা দয়া করে রোগী দেখেন সেটাও বন্ধ হবার আশংকা ছিল।

    তাই, আমাদের দেশের ডাক্তারদের ইন্টার্নটা বিদেশে(জাপানে etc) হওয়া উচিত।JDS এ জাপান যে পরিমান টাকা বাংলাদেশকে দেয়, সেটা দিয়ে আমাদের দেশের ডাক্তারদের ইন্টার্নটা জাপানে করানো সম্ভব। কিন্তু সরকারী আমলারা এটা হতে দেবেনা কারন তাহলে তারা প্রত্যেকের ৫মিলিয়ন জাপানীজ ইয়েনও পাওয়া হবেনা, আর জাপানীজদের টাকায় দ্বিতীয় মাস্টার্সটাও করা হবেনা।

    তাই, আশায় গুড়েবালি।

    জবাব দিন
    • রহিমা আফরোজা নূপুর (৯১-৯৭)

      আমাদের সিস্টেমে তো অবশ্যই সমস্যা আছে...রোগীদের ও যে কিছু আধিকার আছে সুচিকিতসা পাবার সে সম্পর্কে ওরা অজ্ঞ। সেই সুযোগটাই ডাক্তাররা নেয়। এখানকার মতো বাংলাদেশে যদি রোগিরা স্যু করতো আর উপযুক্ত বিচার পেতো তাহলে দেখতা ঘটনা সব অন্যরকম হতো।

      আমেরিকার ডাক্তারদের পাশ করার পরেও প্রতি স্টেটে প্র্যাক্টিস করার জন্য আলাদা লাইসেন্স + প্রতি বছর সেটা রিনিউ করতে হয়। লাইসেন্স কমিটি মনিটর করে যদি পায় কোনো ঝামেলা তাহলে ক্যান্সেল করে দিবে সাথে সাথে।

      জাপানে ইন্টার্নী করার আগে আমাদের মাথা যারা আছেন তাদের কোথায় ট্রেনীং এ পাঠানো যায় সেই চিন্তা করছি। ইন্টার্নীদের যা শেখানো হয় তারা তাই শেখে। ওরা রোগীদের সেবা দিতে চায়, ওদের ভালো করতে চায়, অনেস্টলী বলছি।

      জানিনা আমরা কবে বদলাবো। আমাদের অনেক আলোকিত মানুষ দরকার।

      জবাব দিন
      • "জাপানে ইন্টার্নী করার আগে আমাদের মাথা যারা আছেন তাদের কোথায় ট্রেনীং এ পাঠানো যায় সেই চিন্তা করছি।"

        মাথা যারা আছেন তাদের নরকে ট্রেনীং এ পাঠানো যায়, তাহলে নিজেদের বাঁচানোর জন্য অন্তত দেশের ভাল চিন্তা করবে।

        যেভাবে জলিল,দেলোয়ার,জিল্লুর সাহেবরা মৃত্যু ভুলে এখনো দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন তাতে অন্য উপায় মাথায় আসছেনা।

        জবাব দিন
  4. আপু,
    লেখাটা পড়ে মনে হলো, আমার একটা পোস্ট-এর ইঙ্গিত পেলাম... আমার চিরকালীন ব্যথাময় জীবনের শুরু যেই ঘটনার মধ্য দিয়ে-- সেইটার কথা শেয়ার করেছিলাম.........

    খুব ভালো লাগলো আপু আপনার এই অনুভূতি আর চিন্তাগুলো পড়ে। ইউ,এস,এ-তে ওরা এরকম প্র্যাকটিস করে-- সেইটা ওদের উন্নতি হয়ে ওঠারই প্রমাণ। আমাদের জাতির মানুষগুলোর মাঝে যেইদিন চেতনা গড়ে উঠবে, যেদিন আমরা অন্য কারো জীবনানুভূতিকে মূল্যায়ণ করতে শিখব-- সেইদিন আমাদের ডাক্তারদেরকেও হয়ত এভাবে জোর করে হাসি দিয়ে হলেও নিজেকে উপস্থাপন করবেন। হয়ত সহানুভূতি এমনিতেই গড়ে উঠবে তখন। আর পরিবর্তন তো শুধু ডাক্তাররা একা হবেন না-- এইটা সম্ভবত পুরো জাতির চিন্তার প্রতিফলন।

    আপনার মতো মানুষগুলো যখন ডাক্তার হবেন, যখন ডাক্তারদের মাঝে বোধগুলো আপনার মত সুহৃদ মানুষের অনুরূপ হবে-- সেইদিন আমরা পরিবর্তন পাবো......

    সেই পরিবর্তনের প্রতি আজই একটু আশাবাদী হয়ে গেলাম।
    খুব ভালো লাগলো আপু। আল্লাহ আপনার সাথে থাকুন, রহমত দান করুন।

    :boss: :boss:

    জবাব দিন
    • রহিমা আফরোজা নূপুর (৯১-৯৭)

      ভাই মাহমুদ,
      আমাদের দেশটা খুব নবীন একটা দেশ, তার ওপরে ব্রিটিশদের শিখিয়ে যাওয়া সমস্ত বাজে জিনিসগুলোই আমাদের নখদর্পনে। ঘুষ দেয়া + খাওয়া, অন্যের পা চাটা বা নিজের পা চাটানো , তোষামুদি / সুপারিশে কাজ আদায় করানো এইসব না করলে আমাদের ভালো লাগেনা। আমেরিকায় যার অস্তিত্ব নাই (থাকলেও সেটা জনজীবনকে হ্যাম্পার করে না)।
      আমাদের দেশের বয়স যখন ২০০ বছর হবে, জাতীর জনক আরে স্বাধীনতার ঘোষক বিষয়ক বিতর্কের শেষ যেদিন হবে, প্রতিহিংসাবাদী , সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের বংশধরদের বিনাশ যেদিন হবে, হয়তো সেদিন আমাদের দেশের ডাক্তারদের জন্যোও সুনির্দিষ্ট প্র্যাক্টিস এর নিয়ম থাকবে...ওনারা হাসিমুখে কথা বলবেন...

      ভাইয়া তুমি মন খারাপ কোরোনা, তোমার এই আপু ওইসব ডাক্তারদের পক্ষ থেকে সরি চাচ্ছি...তোমার প্রতি আমার দোয়া থাকবে সবসময়।

      জবাব দিন
      • আমাদের দেশের বয়স যখন ২০০ বছর হবে, জাতীর জনক আরে স্বাধীনতার ঘোষক বিষয়ক বিতর্কের শেষ যেদিন হবে, প্রতিহিংসাবাদী , সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের বংশধরদের বিনাশ যেদিন হবে, হয়তো সেদিন আমাদের দেশের ডাক্তারদের জন্যোও সুনির্দিষ্ট প্র্যাক্টিস এর নিয়ম থাকবে…ওনারা হাসিমুখে কথা বলবেন…

        আপনি দারুণ সুন্দর কথা বলেছেন। আসলে এইটা একটা স্বপ্ন দেখা। কেন যেন এই স্বপ্নটাই দেখা কঠিন লাগে আমার কাছে। তাই যারা স্বপ্ন দেখতে পারেন, তাদের আমি বিশেষ শ্রদ্ধা করি।
        স্বপ্ন দেখতে কষ্ট হয় কারণ এইমাত্র হাসের্ছানা তুহিন যেই মৃত্যুর খবর শুনালো, এই জাতীয় মৃত্যু তো কারই কাম্য না......

        আপু, আপনার দরদমাখা কথাগুলো আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেলো। আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ।

        জবাব দিন
  5. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    আপু :salute: :salute: :salute: :salute:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  6. দিহান আহসান

    আপু আপনার সিদ্ধান্তের জন্য :hatsoff:
    আমি বিদেশে না আসলে বুঝতেই পারতাম না, দেশের ডাক্তার আর এখানকার ডাক্তারের মধ্যে পার্থক্য। এইখানে ডাক্তারের সাথে কথা বললেই মনে হয় আমার অর্ধেক অসুখ সেরে গেছে।
    আপনাকে আবারো :salute:

    জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      দূর দেশের কথা বাদ দেই,এই এক ভারতে রোগী চলে যায় শুধুমাত্র বাংলাদেশি ডাক্তারদের(আমি ব্যতিক্রমী দের কথা বলছিনা) দুর্ব্যবহারের কারণে।আমার এক খালু ডাক্তার-তিনি বলেন যে শুধু কথা আর মানসিক সমর্থন দিয়ে রোগীকে অর্ধেক চাঙ্গা করে তোলা সম্ভব।

      নুপুরাপ্পু,আপনার সিদ্ধান্তের জন্য স্যালুট।এইভাবেই তো আসলে দেশটার পরিবর্তন হবে-একজন দু'জন করে এগিয়ে আসার মাধ্যমে।আমার জন্যেও দোয়া করবেন-কতটুকু পারব জানিনা,তবে আমিও বিদেশে পাকাপোক্তভাবে ঘাঁটি না গেড়ে(যাঁরা সেখানে থেকে যাচ্ছেন তাঁদের খাটো করছিনা কোনভাবেই)দেশেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

      জবাব দিন
  7. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    🙂

    আমি তোমার চেম্বারে রোগীর হিসেবে সিরিয়াল দিয়ে রাখলাম। তবে আমেরিকায় তো আর যাব না, তুমি দেশে এসে চেম্বার খুললে আওয়াজ দিও।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  8. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)

    Patch Adams এ রবিন উইলিয়ামস এর একটা ডায়লগ কিছুটা এই রকম,

    "উই ট্রিট দ্যা ডিজিজ - উই উইন, উই লুজ। বাট ইফ উই ট্রিট দ্যা পেশেন্ট, নো ম্যাটার হোয়াট দ্যা রেজাল্ট ইজ উই উইল উইন"।

    :hatsoff: :hatsoff: :hatsoff:


    Life is Mad.

    জবাব দিন
  9. Apu, goto koyekdin e onek kisui dekhesi. Onek kisu niyei onek kisu bolar silo.

    Ekta ghotona na bole parsi na. Dmc te amar pasher bed er loktar stich khule gesilo naki. Tar shathe thaka mohila(shomvoboto gram theke asha) kisui bojhen na. Shudhu kadsilen. Nurse der bolle tara dhomok sara ar kisui den ni. Sheshe arekti lok giye doc deke anlen. Doc unar treatment valo korleo behave ta ektu rude silo. Tobu ami doc der dosh dei na. Karon unara o to manush. Public medical gulo to 50 ta patient er jaygate unara 500 patient er treatment koren, doc rao to manush. Unara to ar robot non.

    Tobe goto tuesday prothom alor last page er news ta asholei dukkhojonok. RMC te "jibon rokkhar (!) upay" namer seminar e jog dite rmc er shob doc chole jan. Tokhon ekjon patient er condition kharap hole doc ke bar bar phn kora holeo tini ta receive koren ni. Ek shomoy shei patient mara jan. (link dite parlam na news er. 30.6.9 last page prothom alo)

    apu, apnar moto mentality shobar hok ei kamona kori. Valo thakben.
    (onek boro comment kore fellam english e :frontroll: )

    জবাব দিন
  10. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    আমার পা ভাঙার পর ডাক্তার একটু খারাপ ব্যবহারের পরে আমার আব্বু তাকে ঝারি দিয়েছিলেন। ঝারি দেয়াটা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ডাক্তার তারপর থেকে ঠিকই সুন্দর ব্যবহার করেছিলেন। তবে সব বড় ডাক্তারের ব্যবহার যে খারাপ তা নয়। আমি একজন বড় ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পেয়েছি। আর কিছু কিছু রোগী এমন সব কাজ করেন যে ভালো ব্যবহার করাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে ডাক্তারের জন্য। রোগীদেরও অনেক বেশি সচেতন হতে হবে সঠিক ফলাফল পাওয়ার জন্য।

    জবাব দিন
    • রহিমা আফরোজা নূপুর (৯১-৯৭)

      ডাক্তারদের ও অনেক লিমিটেশন আছে...সরকারী হাস্পাতালে আমরা করতাম নার্সদের কাজ আর নার্সরা করতো আয়াদের কাজ। ডেডিকেশন থাকলেও অনেক সময় পারা যায়না। আমি বলছি যারা এইসব লিমিটেশনের উর্ধে , তাদের কথা...আর আমাদের দেশে যারা কাজ করেন তাঁদের তো এইসব মানতেই হবে...

      জবাব দিন
  11. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি-ডাক্তারদের মত অন্য কোন পেশার মানুষজন এভাবে সরাসরি মানুষের কাছাকাছি যেতে পারেন না।যখন আমার খালাতো বোন ডাক্তারি পাস করা কত কঠিন এটা নিয়ে কান্নাকাটি করে তখন আমি বলি-দ্যাখ, আমি ভবিষ্যতে অর্থনীতি নিয়ে কাজ করব-আমার সিদ্ধান্তে ভুল হলে হয়তো ক্ষতি হবে কিন্তু কারো জীবন চলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ যেখানে তোদের পেশায় সামান্যতম ভুলেরও কোন সুযোগ নেই।এ কারণে তোদেরকে আর বেশি বেশি "টাফ টাইম" দেওয়া উচিৎ,তোদের মত আক্ষরিক অর্থেই মানুষের জীবন হাতে নিয়ে আর কোন পেশার মানুষেরা থাকেনা

    আফরোজা আপু আর সব নিবেদিতপ্রাণ ডাক্তারদেরকে অন্তর থেকে :salute: :salute:

    জবাব দিন
    • আরে দোস, আমারে স্যরি বলতেছিস ক্যান? জানি তো তুই মোবাইল থেকে লিখিস। ধুররর, লজ্জা লাগতেছে। আমি এমনিতেই বলছিলাম-- জাস্ট ফিলিং।
      ভালো হয়ে উঠতেছিস শুনে ভালো লাগলো। আর কিছু বলবো না... অস্বস্তি লাগতেছে আজকে কিছু লেখতেই।

      সুস্থ হয়ে উঠ। চিন্তা করিস না--- আমাদের দেশে আমরা নূপুর আপুর মত ডাক্তার পেতে যাচ্ছি, আগামী প্রজন্মে এরকম আরো পাবো... আমাদের দেশ বদলে যাবে ইনশাআল্লাহ।

      জবাব দিন
    • রহিমা আফরোজা নূপুর (৯১-৯৭)

      ভাইয়া, আমার মতো ডাক্তাররাই বেশী , কিন্তু তাদের বেশীর ভাগই পলিটিক্যাল / অন্যান্য প্যাঁচে পড়ে আছেন, অনেকে হাল ছেড়ে দিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। অনেকেই দেশের জীবন যাত্রার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন (শুধু বেতনের টাকায় চলেনা বলে ঝটপট কমসময়ে রোগী দেখার প্র্যাক্টিস করছেন)। মানুষ তো আর বেসিক্যালি করাপ্টেড হয়না, সামটাইম্‌স হয়ে যায়।

      দোয়া করবেন যেনো ঐসব আলোকিত ডাক্তারদের এক করে কিছু একটা করতে পারি...

      আর এতো স্যালুট ফ্যালুট দিয়ে লজ্জ্বা দিয়েন না তো ভাইয়ারা!

      জবাব দিন
      • আহ্সান (৮৮-৯৪)
        ভাইয়া, আমার মতো ডাক্তাররাই বেশী

        কোন এক বিশেষ কারণে একজন মেডিক্যাল স্টুডেন্টের সাথে আমার কথা হয়। তার কন্ঠেও আমি তোমারই প্রতিধ্বনি শুনেছি।

        অনেকেই দেশের জীবন যাত্রার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন (শুধু বেতনের টাকায় চলেনা বলে ঝটপট কমসময়ে রোগী দেখার প্র্যাক্টিস করছেন)। মানুষ তো আর বেসিক্যালি করাপ্টেড হয়না, সামটাইম্‌স হয়ে যায়।

        সহমত।

        দোয়া করবেন যেনো ঐসব আলোকিত ডাক্তারদের এক করে কিছু একটা করতে পারি…

        হাত তুলে না করলেও মন থেকে সবসময়ই এই দোয়া থাকবে...

        আর এতো স্যালুট ফ্যালুট দিয়ে লজ্জ্বা দিয়েন না তো ভাইয়ারা!

        যার যেটা প্রাপ্য, তাকে তো সেটা দিতেই হবে তাইনা? তুমি নিজেও হয়তো জানোনা যে তোমার এই চিন্তাধারা কতটা মহৎ।

        জবাব দিন
  12. তৌফিক (৯৬-০২)

    নুপূর আপা, আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

    একজন মিস্তিরি হিসাবে বলতে পারি, আমার দায়িত্ব ডাক্তারদের তুলনায় কিছুই না। এরকম জিরো মার্জিন অব এরর নিয়ে এরা কাজ করেন কিভাবে তা আমার বুদ্ধির বাইরে।

    তবে বাংলাদেশে অনেক ডাক্তার আছেন, রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন, ভালো মতো রোগীও দেখেন না। আমি নিজে মনে করি, একাউন্টেবিলিটি না থাকলে এরকম হবেই। ডাক্তারদের এসোসিয়েশান যেখানে অন্যদেশে ডাক্তারী পেশাটার মান ধরে রাখতে কাজ করে, আমাদের দেশে সেখানে তারা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত।

    আমার দুলাভাই একবার বলেছিলেন, কোন রকমে এসিসটেন্ট প্রফেসর হতে পারলে নাকি বাংলাদেশের ডাক্তাররা সবাই জেমস বন্ড হয়ে যান। মানে, মানুষ মারার লাইসেন্স নাকি তখন হয়ে যায়। দুলাভাই নিজেও ডাক্তার, তাই তার কথাটা উড়িয়ে দিতে পারি নাই।

    নুপুর আপার জন্য আবারও সালাম। অন্তত একজন তো ভিন্নভাবে চিন্তা করছেন।

    জবাব দিন
  13. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    ডাক্তারদের নিয়ে একটা গান মনে পড়লো, নচিকেতার।
    শুনতে পারেন।

    02 - Daktar.mp3


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  14. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    ধন্যবাদ নুপুর, চমৎকার উপলব্ধির জন্য।

    শুধু ডাক্তার না, প্রকৌশলী, আইনজীবী, আমলা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীদের বড় অংশই প্রথম থেকে শিখি কিভাবে অন্যকে ঠকিয়ে আমি নিজে দ্রুত বড়লোক হবো। তোমার মতো আমার একই অভিজ্ঞতা হয়েছে ১৯৯২ সালে বাবাকে যখন তখনকার পিজি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। শেষ পর্যন্ত তাকে আর জীবিত ফেরত পাইনি। তুহিন যেটা বলেছ, হয়তো অনেকাংশে ঠিক। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীকে যেভাবে জুনিয়র ডাক্তাররাও দেখছে, রোগী যখন মারা যাচ্ছে তখন তারা নার্সদের সঙ্গে বসে তারা হা.. হা.. হি.. হি.. করছে- সবই তো নিজের চোখেই দেখেছি। আর এই পেশা তো তারা নিজেরাই বেছে নিয়েছে। আমরা এতোটা অমানবিক হই কি করে?? নিয়মিত মৃত্যু দেখতে দেখতে আমাদের চোখের লজ্জাটাও খসে যায়!!

    নুপুর, আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের পেশায়, নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকি তাহলেই বদলাতে শুরু করবে সমাজটা-দেশটা।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  15. রহিমা আফরোজা নূপুর (৯১-৯৭)

    এই জন্যই তো সবাই ডাক্তারদের সম্পর্কে কোনো কথা বলার আগে একটা 'গালি' দিয়ে নেয়। গালিটা আমার গায়েও লাগে,
    কিন্তু কি করবো, কিছুই করার নাই।যে সব ডাক্তার রোগী মারা যাবার সময় ঠাট্টা-তামাশা করে, তারা কোন পর্যায়ের
    ডাক্তার একটা উদাহরন দিলেই বুঝতে পারবেন।

    আমাদের ৪ বছর সিনিয়ার এক ভাইয়া পাশ করলেন আমাদের সাথে,
    দূর্দান্ত পলিটিশিয়ান, দেশ মাতৃকার সেবা করতে করতে পড়ালেখা করার সময়ই পান না। যাই হোক, পাশ তো করলেন
    এখন ইন্টার্নী'র মেডিসিন ওয়ার্ড রোটেশন পড়লো আমাদের সাথে। জীবনেও ওয়ার্ডে আসতেন না, উনি যদি ওয়ার্ডে এসে সময়
    নষ্ট করেন তাহলে দেশকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে নিবে কে? ডেইলি ডিউটির schedule এ ওনার নাম রাখা হতো অনারারী হিসাবে! যাই হোক, মাঝে মাঝে আসতেন 'মেহেরবানী' করে, প্রফেসর
    স্যার কথা বলতেন অত্যন্ত বিনয়ের সাথে, "আরে তুমি? ওয়ার্ডে আসো না কেনো? মাঝে মাঝে আসবা , কেমন?" যাই
    হোক, এভাবেই উনার ট্রেইনীং পিরিয়ড শেষ হয়। বের হয়ে যখন আমরা হিমশিম অবস্থায়, শুনি উনি নাকি সোহ্‌রোয়ার্দী
    হাস্পাতালের মেডিক্যাল অফিসার হয়ে গেছেন। মনে হলো উনি কোন লেভেল এর treatment দেবেন। সিম্পল হার্ট এটাক
    ও উনি বুঝবেন না রোগীর চেহারা দেখে, ম্যনেজ করা তো দূরের কথা। খুব মায়া লাগলো ওখানে ভর্তি রোগীগুলা জন্য।

    আমাদের আরেক আপু আরেক পলিটিশিয়ান এর বউ, হয়ে গেলেন বার্ডেম এর আই,সি,ইউ এর সি,এ আই মিন, সুপারভাইজার।
    ওনার সুপারভাইজ যে কে করবেন আল্লাহ জানেন শুধু!

    আমাদের ক্লাশের পা চাটা পলিটিক্স করা ছেলে গুলা আমাদের বলতো, এত পইড়া কি হইবো, চাকরি তো পাবিনা, না পাইলে
    আমারে বলিস, পিজি বার্ডেমে চাকরি দিয়া দিমু। ওরাই আল্টিমেটলি সরকারী হাস্পাতাল গুলাতে চাকরি করে, রোগীদের চিকিতসা
    সেবা দেয়। মেধার জোরে যারা ওখানে চান্স পায় ওদের সংখ্যা খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজার মতো।

    এখন যদি সেই ডাক্তার রা রোগীর অবহেলা করে , কি আর বলবো, কিছুই বলার নাই...

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      নুপুর : সেদিন আমাদের এক বন্ধুর স্বামী ডা. আফতাবুজ্জামানের সঙ্গে গাড়ির ওয়ার্কশপে দেখা। বহু বছর পর। কিন্তু তিনিই চিনলেন আমাকে। শুনলাম তার কাহিনী। উনি চোখের চিকিৎসক। প্লাস্টিক সার্জারি করেন। ওইটা শিখেছেন জনগণের করের টাকায় বিদেশে গিয়ে। সম্ভবত ঝিনাহদহ বা মির্জাপুরের, আমাদেরও সিনিয়র। শেরেবাংলা নগরে চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে ওই পদ আছে একটা। ২৫ বছর চাকরির পর সহকারি অধ্যাপকের চলতি দায়িত্বে উনি গত বছরের অক্টোবরের দিকে ওইখানে পোস্টিং পেলেন। চার মাসও থাকতে পারেননি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারই এক ছাত্র, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা উনাকে কুমিল্লা পাঠিয়ে ওই জায়গাটা দখল নিয়েছে! ভাবতে পারো, এমন দেশেই বাস করছি!!

      এদের বিরুদ্ধে লিখবো, বলবো না তো কি? যতদিন বেঁচে থাকি অন্যায়, দলবাজি, দুর্নীতি, লুটপাততন্ত্র আর মাস্তানতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলে যাবো, লিখে যাবো। ওইটাই আমি পারি।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।