আমার ক্যাডেট কলেজের স্বর্ণালি দিনগুলি- (আট)

‘বাঁদর’ যোগ ‘আমি’ যদি “বাঁদরামি” হয় অর্থাৎ বাঁদরের মতো আমি নিশ্চয়ই এর শব্দার্থ হবে ,তাহলে নতুন কোন শব্দ আবিষ্কার এর অবশ্যই প্রয়োজন , আমদের নাইন / টেন এর ক্যাডেট জীবন কে ব্যাখ্যা করার জন্য যার অর্থ হবে ” বাঁদর আমাদের মতো” “we” -in superlative sense! অর্থাৎ এককথায় ওঁরা আমাদের থেকে অনেক… নিরীহ । আসলে বেপ্যার টা আমি ভাষায় বুঝাতেই অক্ষম ! শুধু লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামশুল ইসলাম এর ভাষায় ” আর্মি এডুকেশন কোঁর ” এ নাম না লিখিয়ে বেঙ্গল রেজিমেন্ট এ নাম লিখিয়ে সম্মুখ যুদ্ধ করলেও বেচারার নাকি অনেক শান্তি মিলতো। আমাদের নিয়ে এতই অশান্তিতে ছিলেন উনি। আমাদের বিরুদ্ধে “জিহাদ ” ঘোষণা করেই স্বস্তি পাননি উনি, শেষ মেশ “ক্যাডেট কলেজেস চ্যেয়ারম্যান” জেনারেল জিয়াউর রাহমান কে পর্যন্ত ডাকিয়ে আনতে বাধ্য হয়ে ছিলেন । (সেই ঘটনা পরবর্তী কোন পর্বে লিখবো )।
নাইনে উঠতেই একেকজন (সবাই নয়) পাক্কা “কর্পোরেট চোর” হয়ে উঠেছি । “কর্পোরেট চোর” কথাটার ব্যাখ্যার প্রয়োজন। এটা একান্তই আমার আবিষ্কৃত শব্দ। যার অর্থ অত্যান্ত ‘ কেতা দুরস্ত ‘ স্যুট-টাই পড়া ইংরাজিতে খই ফুটানো ইয়েস-স্যার, নো-স্যার বলা ভদ্র গোছের মানুষ, কিন্তু ” চোর “!! আমাদের সমাজে আহরহ দেখা যায়।আমাদের চাল চলন, পড়াশুনা, ভদ্রতা নম্রতা দেখলে কেও দুঃস্বপ্নেও আমাদের দুষ্টামি বা একশ্যান সম্বন্ধে কল্পনাও করতে পারবে না । শুধু প্রিঞ্চিপাল ও এডজুট্যাঁন্ট ব্যাটাই বুঝতো, আমরা কি চিজ্ !!!
এক আধটা চুরির ঘটনা ক্যাডেট কলেজ জীবনে ঘটায়নি এমন ‘রাম ছাগল’ দু-চার জন থাকতে পারে কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি আমাদের সেই সব ঘটনা কোন কোন ক্ষেত্রে “জেমস বন্ড ” থ্রিলার কেও হার মানাবে ।
স্বাধীনতার ঠিক পরে পরে বলেই কিনা জানিনা, আমরা ছিলাম সাংঘাতিক সংগবদ্ধ, কমান্ডো টাইপ, planning was detail & up to the dot!এজন্য আমাদের planning,action,retaliation ছিল এককথায় অনবদ্ধ্য! রস চুরির একটা কেইস এ : আমরা দু দিন আগে থেকেই “রেকি” করে প্রিঞ্চিপাল, এডজুট্যাঁন্ট এমনকি নাইট গার্ড দের টহলের প্যাঁটার্ন ,গতি বিধি নোট করে সেই মতে ছক তৈয়ার করি।

শীতের রাত, আমাদের অপারেশান বাহিনী প্রস্তুত।(এক-দু টা নাম টেকনিক্যাল কারন এ লিখা যাচ্ছে না (কারন ওরা এখন সেনাবাহিনীতে কর্তব্যরত জেনারেল।) চার-দুই-চার পদ্ধতিতে এগিয়ে চলছি। মেইন একশ্যানে সামনের চার জন। মাঝের দুই জন সারভিল্যেনস্ । পেছনের সবল চার জন ‘ব্যক-আপ’। কখনো দৌড়ে, কখনো গুড়ি গুড়ি পায়ে পৌঁছে গেলাম নির্দিষ্ট লক্ষে। রস ও পাওয়া গেলো কয়েক হাড়ি। গোল বাধলো আসার পথে। ঠিক জে নাইট গার্ডটি আমাদের প্রতি বৈরি ভাবাপন্ন ছিল, পরবি তো পড় , তার সামনেই। মহা ঝামেল,চিল্লা-চিল্লি শুরু করার আগেই ব্যাক আপ কমান্ডো চার জন ধরে ফেল্লো ওকে । মুখে কাপড় গুঁজে কম্বল দিয়ে বেঁধে ফেল্লো গাছের সাথে। আর আমাদের সাথে অন্য নাইট গার্ড দের মতো ‘Co-operation’ না করার কারনে “spot Court Martial” করা হল ওকে । শাস্তি হিশাবে হিম ঠাণ্ডা রাতে, গাছের সাথে বাঁধা অবস্তায় এক হাঁড়ি ‘রস’ ওর মাথায় ঢেলে , মুচকি হেঁসে আমরা ফিরে চললাম বীর দর্পে। এর পরের ঘটনা আরো ভয়াবহ। (চলবে)

১,০৩৫ বার দেখা হয়েছে

৭ টি মন্তব্য : “আমার ক্যাডেট কলেজের স্বর্ণালি দিনগুলি- (আট)”

  1. কিবরিয়া (২০০৩-২০০৯)

    =)) =)) =))


    যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ-তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষরতা।
    জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি - ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ি রূপে
    - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

    জবাব দিন
  2. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    লেখা পিদিম পিদিম সাইজের ক্যান? কেসটা কি? টেকি প্রবলেম নাকি? শুধু আমার, নাকি সবার? 🙁

    ভাইয়া লেখাটা পড়তে পারি নাই। তবে সবাই যেমনে গড়াগড়ি দিতেছে 😀

    আপনার প্রোফাইল পিকুটা জট্টিল হইছে। ওয়েট করেন, আমাদেরও দিন আসবে ইনশাআল্লাহ, আমরাও এমনে পোজ মাইরা ছবি তুলবো। :tuski:


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।