আফসোস

আমার অনেক দিন ধরেই শখ একটা ক্যামেরা কেনার। বিভিন্ন জায়গায় গেলে অনেক সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখে আফসোস হয়। এই আফসোস আরো বেশি হলো এখানে, পদ্মার তীরে, এসে। আজীবন শুধু ছবিতে আর মুভিতে দেখেছি নীল পানির হ্রদ, নদী, সাগর…ইত্যাদি। সেটা যে বাস্তবে সম্ভব হতে পারে সেটা কখনো ভাবি নি। এর আগে পোস্টিং ছিল যমুনা ব্রিজের পাশে, সেখানে ঘোলা পানি দেখেই অভ্যাস। সপ্তাহ পার হল, এসেছি পদ্মার তীরে। প্রথমে রেকি করতে গিয়েই আমি হতভম্ব! কি অবস্থা! এখাঙ্কার পানি দেখি নীল!!!!!!!!
যাক, ব্যাপার না।
পদ্মার পূর্ব পাড়ে মনে হয় চাষাবাদ বেশি হয়, একপাশে শুধু ক্ষেত, আর আরেক দিকে পাকশি রেলওয়ের বিশাল স্থাপনা এবং ঈশ্বরদী ইপিজেড। সব মিলিয়ে বেশ সুন্দর। এখন আফসোস শুধু এটাই যে সব কিছু আমি ঠিক ই দেখে নিচ্ছি, কিন্তু আপনাদের জন্য কিছু দিতে পারছি না।
গতকাল স্ট্যান্ড টু শেষে দিলাম একটা হাঁটা, রেল লাইন টা রাস্তা থেকে বেশ উঁচুতে। বিএইচকিউ থেকে রেললাইনে উঠে সরাসরি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ব্রিজের পাশে একটা করিডোর আছে ঠিকই, কিন্তু কোন গেট নেই। রেলিং দিয়ে আলাদা করা। কি আর করা! বাধ্য হয়ে রেলিং টপকাতে হল 😛 !
সকাল মানে একেবারে ভোর, সূর্যটাও ভালভাবে উঠেনি। আর উত্তুরে বাতাসেরও কোন অভাব নেই। তাই উইন্টার কোটের হুডটা মাথায় পরে নিলাম। হাটতে হাটতে দেখি পদাতিকের কয়েকজন সৈন্য, আগের দিন চীফের ভিসিট উপলক্ষ্যে স্থাপিত অবসারভেশন পোস্ট সরিয়ে নিচ্ছে। ওদেরকে পার হয়ে এসে খেয়াল করলাম যে প্রমত্তা পদ্মার শীতের রূপ বড়ই শীর্ণ। অনেকটা পথ পেড়িয়ে তারপর নদী পাওয়া গেল। এবং মনে পরলো বিসিসি তে কনফিডেন্স সার্কিটের কথা 😀 । মনে মনে হাসলাম, এত উপর থেকে লাফ দিলে আমাকে আর দেখতে হত না, তাও আবার লাইফ জ্যাকেট ছাড়া!!!!!
একটা ব্যাপার আমার কাছে একটু মজা লাগল। মূল সেতু পুরোটাই লোহার, স্প্যানগুলোতে ১৯১২ সালে যে কোম্পানি তৈরী করেছিলো, তাদের নাম ঠিকানা আছে। পাশাপাশি দুটো লাইন, মাঝখানে স্টীলের ছোট ছোট পাত দিয়ে করিডোরের মত। কিন্তু আমি যে করিডোর দিয়ে হাঁটছিলাম, সেটা আবার কংক্রিটের। মজাই লাগছিল ভাবতে যে আমি একাই এই ব্রিজের উপর দিয়ে যাচ্ছি। হেঁটে হেঁটে পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছে আবার উলটো ঘুরলাম। হঠাৎ শুনি “ক্রিং ক্রিং” শব্দ, ভাবলাম স্টিমার কবে থেকে বেল বাজানো শুরু করল? কিন্তু……শব্দ তো আসলো পেছন থেকে!!!!! ও এম জি!!!!! ট্রেনের ব্রিজে দেখি সাইকেলও চলে!!! 😮 :))
নদীর উপর থেকেই দেখলাম সেদিনের সূ্র্‍্য ওঠা। এরপর ধীর গতিতে মার্চ করতে করতে ফেরত আসলাম আমার তাবুতে। এন্ড মাই রানার ইজ ওয়েটিং উইথ খেজুরের রস 😉 :awesome:
আজকের মত বিদায়।
ধন্যবাদ।

১,০৬৭ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “আফসোস”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    লেখা ভাল লাগল, আরো ভাল লাগল এটা শুনে যে সকালের স্টান্ড টু চেক করেছ, কিপ ইট আপ 😛 এবার এখনো খেজুরের রস খাওয়া হল না 🙁


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

    ভাইয়া আমার বাড়ী ভেড়ামারায়। ছোটবেলায় একবার পায়ে হেঁটে হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পার হয়েছিলাম। অসাধারণ অনুভূতি। এরপর কলেজে থাকতে আমাদের ক্লাস টেনের এক্সকার্শান হয়েছিল ঈশ্বরদীতে। তখন আমার প্রস্তাব দিয়েছিলাম পুরো ইনটেক যেন পায়ে হেঁটে ব্রীজটা পার হতে পারি। আসার সময় সেটার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু এরপর সে এক বিশাল ইতিহাস। যেজন্য ঐ এক্সকার্শনের পর আমাদের ক্লাসের প্রায় সবাই ইডি খায়। আমাদের আর পায়ে হেঁটে ব্রীজ পার হওয়া হয়নি।

    জবাব দিন
  3. মুহিব (৯৬-০২)

    শীত চলে গেল কিন্তু খেজুরের রস খাওয়া হলো না রে। আইভোরিকোষ্টে খেজুর গাছই তো দেখলাম না। এই দেশের মানুষ কি খায় খেজুরের রস। এদের কে জিজ্ঞাসা করলেও দেখা যাবে আকাশ থেকে পড়েছে। আজব এক দেশ।

    আরিফ খুব ভালো লাগল লিখাটা পড়ে। :hatsoff: :hatsoff: :hatsoff:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।