হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা, আমার বন্ধু আমার বন্ধু হবেনা…

এক… দুই… তিন….

গুনে গুনে ঠিক তিনজন ছিলাম আমরা।

এর মধ্যে একটু আগে মারুফ এসে বলে গেল – “দোস্ত, থাকিস কিন্তু। রাতে এসে একসাথে ডিনার করবো।”
আমি জেনে শুনে সতর্কতার সাথে ঢিলটা ছুড়ে মারলাম- “ডেটিং এ যাচ্ছিস নাকি?”
মারুফ কিছু বলেনা। শুধু কেমন করে জানি হাসে। আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাই।

কাজেই রইলো বাকি দুই।

কিন্তু সেটাকে এক হিসেবেও ধরা যায় । কারণ জুম্মা নিশ্চিতভাবেই ঘরদোর বন্ধ করে সিরিয়ালী একটার পর একটা সিরিয়াল দেখতে ব্যস্ত। এদিকে আমি যেমন ব্যস্ত আমার একলা কিছু নির্জনতা নিয়ে…

সবাই গেছে চলে। ছুটি পেলে চলে যাবারই নিয়ম। সবাই চলে যায়ও। কিন্তু আমি যাইনি। কেন যাইনি তার সদুত্তর দিতে পারবোনা। তবে বলতে পারি- একা থাকতে আমার ভালো লাগে।

মেইলটা দেখেছিলাম কাল রাতেই। কিন্তু আলসেমি করা যার সাত জনমের বিলাসিতা সে যে তখনই সেটা খুলে দেখবেনা এই কি স্বাভাবিক নয়? আজ মেইলটা খুললাম। কামরুল ভাই একটা গান পাঠিয়েছে। ধীরে সুস্থে ডাউনলোড করলাম।এবার শোনার পালা। শুনতে শুনতে বুঝতেই পারিনি কখন গানটা শেষ হয়ে গেছে। কারণ গানটা তখনো আমার মনের ভেতর গুনগুন করে বেজে যাচ্ছিল। শ্রাবণের শেষ রাতের বৃষ্টির মত কোথাও একটা রিমঝিম অনুভূতি তখনো আমার সারা ঘর জুড়ে। আমি অনেকক্ষণ ঝিম মেরে থাকি। একা একা গুনগুনাই। সমস্ত অনুভূতিগুলো হঠাৎ করে চুপ হয়ে যায়। গানটা আবার শুনি। তারপর আবার…

আমি একা থাকতে ভালোবাসি। একা থাকতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু কিছু কিছু ভালোলাগা ঠিক একা একা উপভোগ করা যায়না। মনে হয় পুরো পৃথিবীটাকেও আমার কয়েক ফোঁটা ভালোলাগার অংশীদার করি।

তাই এই গানটা আমার সব ভালোবাসার মানুষদের জন্য তুলে দিলাম….

..:: হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা ::..

হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা, রবেনা
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা ।।

আমার বন্ধু আমার বন্ধু হবেনা, হবেনা
আমার বন্ধু আমার বন্ধু হবেনা ,হবেনা ।।
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা, রবেনা
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা ।।

শিশির ঝরবে সকাল বেলা
আমাকে তুমি করবে হেলা
আমাকে ভালোবাসবে ঠিকই
কিন্তু আমার হবে না , হবেনা
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা, রবেনা
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা ।।

শরৎ শেষে শিউলী ফুলের
গন্ধে আমি উঠবো দুলে
আমার আবেগ চুর্ণ হবে
আমার আবেগ চুর্ণ হবে
সে জন বন্ধু সবেনা
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা।

অল্পে আলাপ উঠবে জমে
গভীর গল্প আসবে কমে
সারা রাতের গানের কথা
রাত ফুরালেই কবেনা

হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা, রবেনা
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা
আমার বন্ধু আমার বন্ধু হবেনা ,হবেনা
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা, রবেনা
হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা ।।

ডাউনলোড লিংক:

=> কামরুজ্জামান কামুর কন্ঠে
=> সঞ্জীব দা’র গলায়

আর এই কবিতাটা তাদের জন্য যাদের বন্ধু ভালোবাসবে ঠিকই কিন্তু কখনো তাদের হবেনা..

নীল উঠোনের একটু সাদা মেঘে
জানিস কি তুই
ঠিক কতটুক দু:খ আছে জেগে?
জানলে দেখি তুই আমাকে ফিঁসফিঁসিয়ে বল
মেঘ নাকি ঐ মেঘবালিকার চোখের তারায় জল?
বলতো আমায় কোন অবেলায় বৃষ্টি নামে হেসে
মেঘকে ভালোবেসে?
বলতে পারিস কোন রোদেতে ছায়া লুকায় সাথে
কিংবা কোন চাঁদ হারানো রাতে
কোন তারাটা একলা জাগে , একলা কাউকে ভেবে
জমিয়ে রাখা সব আলো রঙ জোনাকটাকেই দেবে?
নয়তো কোন মেঘ পিয়নের খামে
ঠোঁটের তিলে লুকিয়ে থাকা কষ্টটুকুর দামে
মেঘ বালিকা দু:খ পাঠায় কাকে?
হারিয়ে ফেলা সুখ মোহনার বাঁকে
জানিস কি তুই কোন স্মৃতিটা
সবচে বেশি দামী?
কেউ জানেনা, কেউ জানেনি
জানতো কেবল সেই পুরনো আমি…

পুনশ্চ: নির্দ্বিধায় বলতে পারেন এইটা একটা ছ্যাঁকা খাওয়া পোস্ট। কিন্তু সবকিছুর পরেও দু:খের অনুভূতিগুলোই সবচেয়ে বেশি তীব্র.. আর সবচেয়ে বেশি সত্যি…

৪,০৮৫ বার দেখা হয়েছে

৪৯ টি মন্তব্য : “হাতের ওপর হাতের পরশ রবেনা, আমার বন্ধু আমার বন্ধু হবেনা…”

  1. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    গত ৩ দিন ধইরা খাইয়া না খাইয়া কামু ভাইয়ের খোলা গলায় এই গান শুনতেছি আর যারেই পাইতেছি তারেই শুনাইতেছি 😛

    নাহ! কি যে হইছে আমার 🙁


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  2. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    ভাবছিলাম, জিহাদরে কমু বান্ধবীদের সাথে নোট লেনদেন+একসাথে পড়া শুরু করতে; অথবা তানভীরের (১৯৯৪-২০০০) এর মতো একজন স্বাতী জুটায়ে নিতে। কিন্তু কিসের কি, এই পোলায় ত আবার IUT-তে। 🙁

    যার কপাল পোড়া, তার কপাল চারদিক দিয়েই পোড়াই। সরি জাহিদ। আরেকটু বড় হউ, IUT থেকে পাশ করে বের হও, তখন দেখা যাবে। :grr: :grr: এই কয়বছর আপাতত "ইরাম" গান+কবিতা+তোমার 'একলা নির্জনতা' নিয়ে...... ;;;


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  3. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    পড়লাম পুরাটা। গানটার জন্য কামরুল ভাইকে সালাম।

    কবিতাটা তো বেশি ভালো লাগলো আমার কাছে । কয়েকবার পইড়া ফালাইছি। আঁতলামি মন্তব্য করতে ইচ্ছা হইতেসিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাও পারলাম।না। ভাল্লাগছে এইটুকু কয়া গেলাম।

    জবাব দিন
  4. সামিয়া (৯৯-০৫)

    সঞ্জীবের গলায় গানটা শুনতে শুনতে তো মুখস্ত করে ফেলছি 🙁 আপাতত অন্য গানটা শুনতে পারতেছিনা বলে দুঃখিত হয়ে গেলাম।
    তরফদার সাহেব দেখা যায় ভালই কষ্টে আছে। কিন্তু কবিতাটা সেইরকম হইছে। :boss:

    জবাব দিন
  5. এহসান (৮৯-৯৫)

    কামরুল,

    এইটা কি দিলা ভাই। এওদিন হয়ে গেলো তাও বৈরাগ্য কমতেছে না। এখনো শুনেই যাচ্ছি। খালি গলায় গানটা বেশি ভুগাইতেছে। অফিসে গেলেও অনুরনন থেকে যায়। আর আজকে তো সপ্তাহের শেষ। সেই ভোর থেকে বেজেই যাচ্ছে। কিন্তু বউ জিগানোর পর গানের ভাব টা অনুবাদ করতে পারছি না। 🙁

    অল্পে আলাপ উঠবে জমে
    গভীর গল্প আসবে কমে
    সারা রাতের গানের কথা
    রাত ফুরালেই কবেনা

    কামরুল অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য আর জিহাদ তোমার কাব্যটাও অসাধারন লেগেছে। :clap:

    জবাব দিন
  6. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    জিহাদ,
    গানটা খুব সুন্দর...যদিও বিরহ টাইপের গান আমি পারতপক্ষে এড়ায়া চলার চেষ্টা করি 😀

    একটা ছোট্ট ডাউট আছে...

    => কামরুজ্জামান কামুর কন্ঠে
    => সঞ্জীব দা’র গলায়

    কামু ভাইয়ের বেলায় 'গলা' হইলে সঞ্জীবদার বেলায় 'কন্ঠ' কেন?
    তাহলে কি মিউজিক ছাড়া খালি 'গলা' রে 'কন্ঠ' বলে? :-/


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।