ধারাপাত

গল্পের পুরনো বাড়ির মত
ভেবেছিলাম দরজা খুললেই দেখব জমাট বাঁধা অন্ধকার,
তেলাপোকা আর মাকড়সার বসতি
মেঝেতে বিছানো ধুলোর চাদর।
কেন এমন ভেবেছিলাম কে জানে!

সুখের পসরা সাজাতে এই শহরের বুকে
অনেক খুঁজে পেয়েছি একটি ভাড়ার বাসা,
হাঁড়িকুঁড়ি বাক্সপ্যাটরা নিয়ে সিড়ি ভেঙ্গে ক্লান্ত ভীষণ
উঠেই দেখি হাট করে খোলা দরজা,
আর পুবের জানালা দিয়ে রোদের উঁকিঝুঁকি
ঘরময় ছড়ানো আটপৌরে জীবনের শতেক টুকরো
একদম কোণার ঘরের দেয়াল জুড়ে এক শিশুর আঁকিবুকি।
না জানি শিশুটির কত পিটুনির ইতিহাস লুকিয়ে
ওই শুভ্র দেয়ালের পেন্সিলের আঁচড়ে ,
মাঝের ঘরের কোণায় খাতার একটা ছেঁড়া পাতা-
কৌতূহলে ভাঁজ খুলতেই দেখি বাজার খরচের হিসেব!

বারান্দায় কয়েকটা ভাঙ্গা রেশমি চুড়ি
বাথরুমের আয়নার কোণে লাগানো একটা লাল টিপ,
এখানে সেখানে যাপিত জীবনের মায়া…
সময়খাতায় বন্দী একেকটি চিহ্ন এখন
বড় বেমানান আমার নীড়ে ।।

আজ থেকে কয়েক বছর পরে
সময়ের তীরে তরী ভাসিয়ে
উধাও হব আরেক ডেরায় ।
খড়কুটোর মত পিছে ফেলে নীল খাম, সবুজ চুড়ি
ভাঙ্গা আয়না কিংবা বইয়ের ফাঁকের লাল গোলাপ …

তার ও পর একদিন ভোর হবে দিনের দোরগোড়ায়
জানালার আলো মেখে ইট কাঠের দালানে
শুরু হবে স্বপ্ন আলেখ্য,
কতশত দিনের শেষে আবার শুরু হবে জীবনের ধারাপাত …

৫৬৫ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “ধারাপাত”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।