ফিরে দেখা (পর্ব-৪)

(১১)
মুসতাঈন স্যার ছিলেন আমাদের এডজুটেন্ট । তিনি আবার ইংরেজী ব্যতীত কখনই কথা বলতেন না । তার মুখ থেকে শোনা কিছু ইংরেজীর নমুনাঃ
*কোন কারণে আমাদের ফর্মে এসেছিলেন তিনি । এসে দেখলেন ফ্যান বন্ধ । তিনি বললেন “গিভ দ্যা ফ্যান” ।
*প্রিন্সিপাল ইন্সপেকশন প্যারেডে তিনি হেয়ার কাট চেক করতে এসেছেন । তখন কমান্ড দিলেন “ওপেন ইওর ক্যাপ” ।
*এস এস সির রেজাল্ট বের হয়েছে । আমাদের একজন স্যারকে ফোন করে কলেজের রেজাল্ট জানতে চাইল । স্যার বললেন “ভেরী ব্যাড, ফোর্থ থার্ড অফ ইউ গেট এ প্লাস” ।

(১২)
আমাদের বড় ভাইদের খাতা দেখার ভার পেয়েছেন নতুন বাংলা স্যার । যে স্যার প্রশ্ন করেছেন তিনি অসুস্থ বিধায় তাজ স্যারকে খাতা দেখতে হচ্ছে । কিন্তু প্রথম খাতা দেখতে গিয়েই স্যার অবাক হলেন । প্রথম কয়েক পাতায় কিছুই লেখা নেই । তারপর ১০ নং প্রশ্নের উত্তর হেডলাইন লিখে নিচে একটি চিত্রাংকন । চিত্রে দেখা গেল একটি নদী ও নৌকার ছবি । নদীর পাড়ে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে বসে আছে । তাদেরকে ডাইমেনশন দিয়ে লেখা হয়েছে কুবের এবং কপিলা । স্যার প্রথমে ভেবেছিলেন ভুলে অন্য কোন খাতা চলে এসেছে । পরে ১০ নং প্রশ্ন ঘাটতে গিয়ে দেখেন সেখানে লেখা “পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাস অবলম্বনে জেলে পাড়ার চিত্র অংকন কর” । সেই ভাইয়া সেই চিত্রই অংকন করেছিলেন । এই ছিল আমাদের তাজ স্যারের প্রথম খাতা দেখার অভিজ্ঞতা ।

(১৩)
আই এস এস বি বোর্ডে ডিপি ভাইবা চলছে । আমার এক ফ্রেন্ডকে ডিপি স্যার প্রশ্ন করলেন “বুকের (book) মধ্যে ও দুটো কি” । এর উত্তর খুবই সহজ অর্থাৎ ও ( O) হচ্ছে ভাওয়েল । আমার ফ্রেন্ড এই প্রশ্ন শুনে একটু ভরকে গেল । এটা আবার কি ধরণের প্রশ্ন ? অনেকক্ষন ভেবে সে উত্তর দিয়েছিল “স্যার দুটো তিল” ।

(১৪)
আমাদের এইচ এস সি পরীক্ষার ছিট পরেছিল এডওয়ার্ড কলেজে । পরীক্ষা দিয়ে বের হতে না হতেই আমাদের চারপাশে লিফলেট বিতরণকারীদের ভীড় জমতো । লিফলেটগুলো ছিল বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের এডভারটাইজমেন্ট । একদিন সেই
লিফলেট থেকে নাম্বার নিয়ে হাসান ফোন দিল বাংলাদেশের এক সুনামধন্য কোচিং সেন্টারে । তখন সময় রাত দুইটা বেজে পনের মিনিট । ওদের পরবর্তী কথপোকথন ছিল এরকমঃ
কোচিং সেন্টারঃ হ্যালো স্লামালাইকুম । (ঘুমজড়ানো কন্ঠে)
হাসানঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম । সরি আমি বোধ হয় আপনার ঘুম ভাংগালাম ।
কোচিং সেন্টারঃ না না ঠিক আছে , আপনি বলুন ।
হাসানঃ আমি ভর্তি বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছিলাম । পরিচালক সাহেবের সাথে কথা বলতে পারলে ভাল হত ।
কোচিং সেন্টারঃ জি বলুন আমিই পরিচালক ।
হাসানঃ ভাই আমার মেডিকেলে পড়ার খুব ইচ্ছা । আমি আপনার কোচিং এ ভর্তি বিষয়ে জানতে চাই ।
পরিচালকঃ আপনি কালকেই চলে আসুন । কোন সমস্যা নেই আমরা খুব যত্ন সহকারে পড়িয়ে থাকি । আপনার কোন সমস্যা হবে না ।
হাসানঃ ভাই আমি ক্যাডেট কলেজে পড়ি । আমার এইচ এস সি চলছে , আমি আসতে পারবো না । যদি আমার প্যারেন্টস যায় তবে সমস্যা আছে ।
পরিচালকঃ না কোন সমস্যা নেই । আপনার প্যারেন্টসকে আপনার দু কপি ছবি আনতে বলবেন তাহলেই হবে ।
হাসানঃ আচ্ছা ভাইয়া আপনাদের ভর্তি ফি কত ।
পরিচালকঃ ৯০০০ টাকা ।
হাসানঃ ভাইয়া একটু কমানো যায় না ।
পরিচালকঃ ক্যাডেট ব্যাচের জন্য আমরা ১০০০ টাকা কনসিডার করছি ।
হাসানঃ ভাইয়া আপনাকে ধন্যবাদ । তবে একটা সমস্যা আছে ।
পরিচালকঃ কি সমস্যা ?
হাসানঃ আমার বাবা মায়ের খুব ইচ্ছা আমি মেডিকেলে পড়ি । আমার নিজেরো খুব ইচ্ছা আছে কিন্তু আমি একটা ভুল করেছি । আমি বায়োলজী না নিয়ে অপশোনাল সাবজেক্ট হিসেবে ইডি (ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং) নিয়েছিলাম । তবে শুনেছি
আপনারা নাকি প্রশ্ন আউট করেন । যত টাকা লাগে আমি দেব তবু আমাকে একটা প্রশ্ন দেন । প্লীজ ।
পরিচালকঃ ঐ তর নাম কি । আমার সাথে ফাজলামি করিস । —জাদা ,………
এরপর আর শোনা যায় নি । এদিক থেকে লাইন কেটে দেয়া হয়েছিল ।

(১৫)
আমাদের সাইফুল আলম স্যার ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশেষ অঞ্চল থেকে উঠে আসা । তিনি ‘প’ উচ্চারণ করতে পারতেন না । তিনি ‘প’ কে ‘ফ’ উচ্চারণ করতেন । স্যারের ওয়াইফ ছিলেন আমাদের বাংলা ম্যাডাম । একবার প্রেগনেন্সির
কারণে তাকে ছুটি নিতে হয় । ম্যাডাম খুব অসুস্থ ছিলেন বলে স্যারকে কিছুদিন রান্না করে খেতে হয়েছিল । সেই সময় একদিন স্যার ক্লাশে আফসোস করে বলেছিলেন ” কি জ্বালায় ফরছি , তোমাদের ম্যাডাম অসুস্থ তো তাই আমাকেই তাকে
দিনে তিনবার ফাক (পাক বা রান্না করা) করে খাওয়াইতে হয়” ।

৪,৩২৭ বার দেখা হয়েছে

৭৯ টি মন্তব্য : “ফিরে দেখা (পর্ব-৪)”

  1. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    তোমাদের ম্যাডাম অসুস্থ তো তাই আমাকেই তাকে
    দিনে তিনবার ফাক (পাক বা রান্না করা) করে খাওয়াইতে হয়”
    ঐ তর নাম কি । আমার সাথে ফাজলামি করিস । —জাদা

    :khekz: :khekz: :khekz: :goragori: :goragori: :goragori:

    জবাব দিন
  2. ফরিদ (৯৫-০১)
    ...আমার বাবা মায়ের খুব ইচ্ছা আমি মেডিকেলে পড়ি । আমার নিজেরো খুব ইচ্ছা আছে কিন্তু আমি একটা ভুল করেছি । আমি বায়োলজী না নিয়ে অপশোনাল সাবজেক্ট হিসেবে ইডি (ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং) নিয়েছিলাম

    =)) =)) =)) :pira: :pira: :khekz: :khekz:

    জবাব দিন
  3. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)
    “বুকের (book) মধ্যে ও দুটো কি” । এর উত্তর খুবই সহজ অর্থাৎ ও ( O) হচ্ছে ভাওয়েল । আমার ফ্রেন্ড এই প্রশ্ন শুনে একটু ভরকে গেল । এটা আবার কি ধরণের প্রশ্ন ? অনেকক্ষন ভেবে সে উত্তর দিয়েছিল “স্যার দুটো তিল” ।
    কি জ্বালায় ফরছি , তোমাদের ম্যাডাম অসুস্থ তো তাই আমাকেই তাকে
    দিনে তিনবার ফাক (পাক বা রান্না করা) করে খাওয়াইতে হয়” ।

    :goragori: :goragori: :khekz: :khekz: :khekz: :khekz: :)) =)) 😀 :pira:

    জবাব দিন
  4. মুহিব (৯৬-০২)
    ” কি জ্বালায় ফরছি , তোমাদের ম্যাডাম অসুস্থ তো তাই আমাকেই তাকে
    দিনে তিনবার ফাক (পাক বা রান্না করা) করে খাওয়াইতে হয়” ।
    আমি বায়োলজী না নিয়ে অপশোনাল সাবজেক্ট হিসেবে ইডি (ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং) নিয়েছিলাম ।
    জবাব দিন
  5. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    এই পোস্টের কমেন্টে সবাই দেখি কপি পেস্ট মারতেছে, কাহিনি কি?


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  6. আহমদ (৮৮-৯৪)

    ভাই, :khekz: :khekz:
    অনেক্ষন ধইরা হাসলাম ... :khekz: :khekz: তাও আবার একা না ... :khekz: :khekz: পুরা পরিবার সহ হাসলাম ... =)) =)) তোমার অন্য লেখাগুলা না পড়া পর্যন্ত শান্তি নাই ... =)) =))


    চ্যারিটি বিগিনস এট হোম

    জবাব দিন
  7. তৌফিক (৯৬-০২)

    তোমার সিরিজের নাম দেখে আমার কেমন জানি লাগতেছিল প্রথম থেকেই। এই মাত্র রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এই নামে একটা লালুভুলু গল্প লিখছিলাম এক সময় ইন দ্য ইয়ার ১৯৬৯... 😛

    জবাব দিন
  8. মেহেদী (২০০২-২০০৮)
    কি জ্বালায় ফরছি , তোমাদের ম্যাডাম অসুস্থ তো তাই আমাকেই তাকে
    দিনে তিনবার ফাক (পাক বা রান্না করা) করে খাওয়াইতে হয়” ।

    এইটা আমি লিখে রাখছিলাম... তুই দিয়া দিলি x-( x-( x-( 🙁 🙁 🙁

    পুরা মাক্ষি হইছে 😡 :pira: :pira:

    জবাব দিন
  9. হাসান (২০০২-২০০৮)

    আমার বাবা মায়ের খুব ইচ্ছা আমি মেডিকেলে পড়ি । আমার নিজেরো খুব ইচ্ছা আছে কিন্তু আমি একটা ভুল করেছি । আমি বায়োলজী না নিয়ে অপশোনাল সাবজেক্ট হিসেবে ইডি (ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং) নিয়েছিলাম । তবে শুনেছি
    আপনারা নাকি প্রশ্ন আউট করেন । যত টাকা লাগে আমি দেব তবু আমাকে একটা প্রশ্ন দেন । প্লীজ । =)) =)) =)) =)) পুরানা কথা পইরা আবার একটু হাসলাম।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।