টুশকি ৪

টুশকি [১] [২] [৩] [৫]

১. কোন একদিন গেমস টাইমে ভালো একদফা ঘষামাজা দেবার পর পুরো কলেজকে এ্যাডজুট্যান্ট এর জিজ্ঞাসা, “হাউ ইজ ইওর মোরাল”? আমরা আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে বললাম, “হাই স্যার”। রাশভারী এ্যাডজুট্যান্ট এর মুখে তখন মজা পাওয়া চিকন হাসি, “কোন হাই? ম্যাথমেটিক্স এর মিস্টার হাই”?

২. আইসিসি ১৯৯৮এ বাস্কেটবল কম্পিটিশনে খেলা হচ্ছে বরিশাল ও সিলেটের মধ্যে। খেলার মধ্যে আমাদের পাভেল নিতান্ত অন্যায্যভাবে জার্সি টেনে ধরে ফাউল করলে খেপে অস্থির হয়ে যায় ফুয়াদ (যদি স্মৃতি বিট্রে না করে তবে এটা ফুয়াদই ‘৯৩-৯৯)। সেটা খেয়াল করে ফ্রি শট দেবার সময় রেফারীর কমেন্ট, “তোমারে টাইনা ধরবে না তো কি চুমা দেবে? নাও ধর …মার”।

৩. “এই সাবধান এরা কিন্তু ..লসে হাত দেয়” – এক্সকারশনের শেষের দিকে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে পৌঁছালে দল বেধে দেখা করতে আসা ক্লাসমেটদের একজনের একান্ত ব্যক্তিগত স্থানে নাড়া লাগার (আমাদের দ্বারা) ঠিক আগ মুহূর্তের সতর্কবাণী। বেচারা পাগলরে সাঁকো নাড়ানোর কথা মনে করায়ে দিছিল মাত্র।

৪. আইএসএসবি’র ভাইবাতে ডেপুটি কমান্ড্যান্ট যখন জানতে পারলেন তার সামনে বসা ক্যান্ডিডেট (একজন সদ্য এক্স-ক্যাডেট) এসএসসি’তে বোর্ডে সেকেন্ড স্ট্যান্ড করার পর এইচএসসি’তে সেকেন্ড ক্লাস পেয়েছে, তখন ইংরেজি ভুলে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এই অসাধ্য তুমি ক্যামনে সাধন করলা”? বলা বাহুল্য সে গ্রীন কার্ডই অর্জন করেছিল।

৫. কম্যান্ডো ট্রেনিং এর গল্প: অবসট্যাকল গ্রাউন্ডে একটা একটা গ্রুপ করে ছাড়া হলে বাকিদের বাধ্যতামূলকভাবে সাবধান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু এসএমজি, হেলমেট আর পিঠে ১৫ পাউন্ড ওজন নিয়ে কি ছাই টানা সাবধান হয়ে থাকা যায়? যথারীতি কেউ না কেউ নড়াচড়া করে আর স্টাফ এসে হ্যান্ডস ডাউন করিয়ে পুশ আপের কাউন্ট শুরু করে। বলে,”স্যার, হয় চা খান নয় ঘুমান। চাও খাবেন আবার ঘুমাবেনও – তাতো হবে না। হয় সাবধান হয়ে দাঁড়ায়া থাকবেন না হয় পুশ আপ দেবেন….বুঝছেন”?
আমার সমস্বরে চিৎকার করে বলি, “জি স্টাপ”।

৬. এমএমএ সিকদার স্যার (ইংরেজি) একবার আমাদের জ্যামিতি পড়িয়েছিলেন। A,B,C যদি কোন ত্রিভুজের তিনটি শীর্ষবিন্দু হয় আর যদি বিন্দু A তে একটা কুকুর রেখে বিন্দু B তে কিছু খাবার রাখা যায় তাহলে কুকুরটা ACB পথে না যেয়ে সরাসরি AB পথেই দৌড়ে খাবারের কাছে যাবে, কারণ কুকুরমাত্রই জানে “ত্রিভুজের দুই বাহুর সমষ্টি তৃতীয় বাহু অপেক্ষা বৃহত্তর”।

৭. লাইব্রেরী ক্লাসের পরের ক্লাসই শাহজাদা বসুনিয়ার (ইংরেজি)। কিন্তু ইমদাদুল হক মিলনের (প্রথম দিকের বই) অপ্রতিরোধ্য আকর্ষনে ধরাশায়ী আরিফ ক্লাসের মধ্যেই গল্পের বই পড়া শুরু করল এবং যথারীতি টহলরত ভিপি স্যারের হাতে ধরা খেল। খেপে টেপে অস্থির বসুনিয়া স্যারের ঝাড়ি, “মাথায় কি মাল উঠি গ্যাছে”?

৮. আইএসএসবি মেডিকেলে জনৈক ক্যাডেটের কাশি দেয়া পর্ব চলছে। ঐ অবস্থাতে মেডিক্যাল অফিসার জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি সিগারেট খাও”? ঐরকম স্পর্শকাতর, বেকায়দা অবস্থানেও রসিক ক্যাডেটের উত্তর, “কেন স্যার, ধোঁয়া বের হচ্ছে নাকি”?

******
সিসিবি পরিবারের সবাইকে ঈদুল ফিতরের উষ্ণ শুভেচ্ছা।
 

১,৫৯৫ বার দেখা হয়েছে

২৪ টি মন্তব্য : “টুশকি ৪”

  1. মিল্টন (৯৩-৯৯)

    জটিল হইছে সায়েদ ভাই। গেমস টাইম এর পাঙ্গা তে আমিও আসিলাম। অনেক দিন পর শিকদার স্যার এর কথা মনে করাইয়া দিলেন(সামান্য বুকে ব্যথা) :)) । এই জোকস টা উনি সব ক্লাস এ বলছেন।

  2. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    টুশকি সিরিজের প্রেমে পড়ে গেলাম । হকির কথা বললেন ভাইয়া সেই আইসিসি তে আমাদের শামীম ভাই ছিলেন উনি নাকি একবার রেফারীর উপর বিরক্ত হয়ে মাঠের মাঝখানে হকিস্টিক রেখে টানা খাটি বাংলায় গালিগালাজ করেছিলেন। সত্যি নাকি জানিনা। কলেজে শোনা।

  3. আহ্সান (৮৮-৯৪)

    সায়েদ,
    জটিল লেখা হইছে...। আমিও তোমার টুশকীর প্রেমে পইরা গেছি...।
    শিকদার স্যার আর বাসুনিয়া স্যারের কথা মনে করাইয়া দিলা...।

    ও হ্যা, ১১তারিখ ঢাকা থেকে আসার সময় বাসুনিয়া স্যারের সাথে দেখা হইলো। আমাদের ব্যাচের ফজল (শেরে বাংলা হাউসের)আমারে সি-অফ করার জন্য রাজারবাগ গ্রীন লাইন কাউন্টারে আসছিলো। কথা-বার্তার এক পর্যায়ে আমারে কইলো, "চল সিগারেট কিনমু।" দুইজনে মিইলা সিগারেট কিনতে গেলাম। টাকা দিয়া সিগারেট চাইলো ফজল। আমি হঠাৎ আবিষ্কার করলাম পাশের ব্যাক্তিটি বাসুনিয়া স্যার। অবশেষে কিছুক্ষণ কথা বলার পর স্যারই সিগারেট খেতে বললেন। স্যার এখন ডাচ-বাংলা ব্যাঙ্ক এ ফার্স্ট এসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন। একই সাথে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতেও পার্ট টাইম জব করছেন।

    যাইহোক, আরো টুশকী চাই ভবিষ্যতে।
    ভালো থেকো।