টুশকি ২০

টুশকি [১] [২] [৩] [৪] [৫] [৬] [৭] [৮] [৯] [১০] [১১] [১২] [১৩] [১৪] [১৫] [১৬] [১৭] [১৮] [১৯] [২১]

১. জনৈক অফিসার নতুন বিয়ে করে যেই না এক জুনিয়র অফিসারের সাথে ভাবীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, “ইনি তোমার ভাবী” বলে – সাথে সাথে ঐ জুনিয়র ভাবীকে একটু আড়াল করে কলিগের কানে ফিসফিসিয়ে (ভাবী শোনার জন্য যথেষ্ট জোরে) বলে বসল, “স্যার, আপনার সাথে আগে যেই ভাবীরে দেখছিলাম উনি কই”? তখন কোন রকমে পার পাওয়া গেলেও গভীর রাত্রে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে নরক গুলজার হয়ে ওঠে। এটা যে নিছকই ঠাট্টা সেটা প্রমাণ করতে শেষ পর্যন্ত সেই জুনিয়রকে ডেকে পাঠাতে বাধ্য হন সিনিয়র কলিগ।

২. কলেজে থাকাকালীন সিসিবি’র “পিরা” ভাষার মতোন একটা ভাষা চালু ছিল আমাদের ক্লাসে। এর বৈশিষ্ট্য হল বাক্যের সব দন্ত্য-স, তালব্য-শ ও মূর্ধন্য-ষ’কে “ক” উচ্চারণ করা। প্রথম প্রথম একজনকে খেপানোর জন্য এর উৎপত্তি হলেও পরবর্তীতে মুখে মুখে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। এই ‘ক’ ভাষায় কথা বলার পাশাপাশি আমরা গানও গাইতাম,

“ও আকা – তোমার ভালোবাকা
ভাকিয়ে নিয়ে গেকে আমায়
কোন কীমান্তে, হৃদয়ের প্রান্তে…..”

৩. সমুদ্র তীরে আমার কয়েকজন কলিগ শুধু হেঁটেই বেড়াবেন – পানিতে নামবেন না। জোরাজুরি করলে কেউ গোড়ালী তো কেউ হাঁটু পানি পর্যন্ত নামতে রাজী হলেন মাত্র। পুট করে বলে বসলাম, ” আচ্ছা ঠিক আছে – আমরা আজ যার যেখানে বুদ্ধি ততটুকুই পানিতে নামব”। এই কথায় ভালো ফল দিল। সবাই টপাটপ পানিতে নেমে পড়লেন আর হাঁটু পানিতে থেকেও মাথাসমেত পুরো শরীর ভেজানো নিশ্চিত করলেন 😛 ।

৪. চিরদিন কো এডুকেশনের বাইরে থাকা আমাদের মাঝে হঠাৎ করেই একজন আপুমনি এসে পড়লে তার চোখের ঠমকে ঠামকে একজন একজন করে কাত হয়ে পড়তে থাকলে তার নাম হয়ে গেল: DMC = “দিল মে চাক্কু”! কয়েকদিন পর একই কারণে কাতারে কাতারে কাত হয়ে পড়তে থাকলে আরেকটা নাম আগেরটার সাথে জুড়ে গেল: WMD = “ওয়েপন অফ মাস ডেস্ট্রাকশন”!!

৫. আমাদের এক সিনিয়র কলিগ তার নিজ উদ্ভাবিত অদ্ভুত সব মন্তব্যের জন্য পরিচিত মহলে বেশ নন্দিত। ইউনিটে সৈনিকদের একটা কনফারেন্সে তিনি খানিকটা খেপে যেয়েই বলে বসলেন, “মোতাহার, ইউনুস, বাবর সব ভালো হইয়া যাইও কিন্তু। তোমাদের কার পাদে কি গন্ধ আমার ঠিক ঠিক জানা আছে….”।

৬. এই কলিগই একবার ঢাকা শহরের ব্যাপারে তার দখল বোঝাতে বলেছিলেন, “ঢাকা শহর আমারে চিনান? ঢাকা শহরের কোন চিপায় আমি মুতি নাই”?

৭. ক্যাম্প থেকে মনরোভিয়া আসার সময় আমার এক বন্ধুর দৃষ্টি আটকে যায় রাস্তার এক ন্যাংটা পাগলের বিশাল ঐশ্বর্যের (!) প্রতি। আমার কাছে এসে চোখ গোল গোল করে এই ব্যাপারে ওর বিস্ময় প্রকাশ, “দোস্ত, অত বড় জিনিসটা দিয়ে এরা কি করে 😮 😮 “?

*******
কৃতজ্ঞতা: মুসা (৯২-৯৮), সিলেট ক্যাডেট কলেজ।

৪,৮৫৫ বার দেখা হয়েছে

৫৭ টি মন্তব্য : “টুশকি ২০”

  1. আহ্সান (৮৮-৯৪)

    হুমমম...
    বরাবরের মতই...।
    কিন্তু সায়েদ,
    ভদ্র পোলা মুসার পার্টটা একটু খোলাসা করতো...।
    মুসা গত পরশুদিন আমারে ফোন দিয়া জানাইল যে সে আর একা নাই...। ভাবী সমেত এই মূহুর্তে রংপুরে আছেন তিনি...।

    জবাব দিন
  2. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    সেরকম সেরকম :thumbup: :thumbup:
    হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ :goragori: :goragori:
    দোস্ত সাত নাম্বারে সঙ্গের দোস্তের নির্দোষ প্রশ্নটার জবাবে তুই কি কইছিলি জাতি তা আজ ঝানতে চায় 😉 :gulli2: :gulli2:

    টুশকির হাজার পর্ব কামনা করি :salute: :salute:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  3. দিন দিন টুশকি আর সায়েদ ভাই দুজনেরই গ্ল্যামার বাড়তেছে। 😀
    যথারীতি এইবারো পুরা গুল্লি হইছে। :gulli2: একবার পড়েই এখনো হাসতে আছি। :khekz: :khekz: :khekz:
    টুশকি আর সায়েদ ভাই দুইজনেই দীর্ঘজীবি হউক।

    জবাব দিন
  4. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
    ঢাকা শহর আমারে চিনান? ঢাকা শহরের কোন চিপায় আমি মুতি নাই

    সায়েদ, জটিল, জটিল, জটিল সব। হাসতেই আছি। পিরা মিরি নাই। :)) :)) :))

    অফটপিক : আমাদের যখন ফাইভ স্টার হোটেলে যাওয়ার ক্ষমতা ও যোগ্যতা হয়নি এক বন্ধু ওই জায়গা ঘুরে এসে বললো, "দোস্ত শেরাটন হোটেলে ...গে এলাম।"
    তোমরাও যে কেউ যে কোনোসময় গটগট করে যে কোনো ফাইভ স্টার হোটেলে ঢুকে ওই কাজ সেরে আসতে পারো। হোটেলের কেউ তোমাকে জিজ্ঞেসও করবে না। সারা বিশ্বে সবচেয়ে ভালো 'পাবলিক টয়লেট' ওটাই। একমাত্র 'বুর্জ আল আরবে' ঢুকতে সম্ভবত পয়সা দিতে হয়।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।