না বলা কথন…

আমি যা লিখতে যাচ্ছি তা নিয়ে শত লেখা শত সহস্র জন লিখেছেন।আমি জানি আমার এই লেখার বিন্দুমাত্র মূল্য নাই।এই লেখা কিছুই করতে পারবে না।তবু পাগলের প্রলাপ হিসেবেই লিখছি।

সেদিন সকালে খাবার সময় পত্রিকায় সুন্দর একটা ছবি ছেপেছে রাহুল গান্ধির।ছবিটা দেখেই আব্বা বল্ল,”কত বিচক্ষন ছেলে!আর আমার দেশে আছে দুইজন নায়ক;দেখলেই মন ভাল হয়ে যায়।একজন তো সততার পরীক্ষায় প্রথম আরেকজন দেশের বাইরে থেকে দেশের মঙ্গলের জন্য পথ বাতলে দিচ্ছেন।হ্যা,আমি ভদ্রলোক তারেক জিয়া আর gentleman সজীব ওয়াজেদ জয় এর কথাই বলছি।

আমার মেজাজ খুব খারাপ হয়ে যায় যখন বিএনপি-জামাতের কেউ বলে তারেককে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।কারণ আমার চোখে আজ ও ভাসে সেই ছবিটা যেখানে আমার আব্বা আর ছোট মামা শিল্প মন্ত্রণালয় এ চাকরির জন্য হাওয়া ভবনে নগদ ৫লাখ টাকা দিয়ে এসেছিল।

আর জয়ের কথা কি বলব?কোন ব্যাক্তির পক্ষেই একটি জনপদে বসবাস না করে ঐ জনপদের আসল সমস্যা অনুধাবন করা সম্ভব না।বাইরে থেকে অনেক কিছুই বলা যায় যে এটা করো ঐটা করো।
দেশে তো এখন war criminal দের নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে।আমরা যে কতো বড় হুজুগে জাতি এই কথাটাই আমার শুধু মনে হচ্ছে।আসলে war criminal এর definitionটা কি?এখন তো এমন হয়েছে যে আওয়ামী লীগের সাথে যারা আছে তারাই শুধু ভাল আর বাকিরা সব রাজাকার-আল বদর।আওয়ামী লীগ এখন তাদের বিচারের কথা বলছে কিন্তু তাদের এত কথা তখন কোথায় ছিল যখন তারা শুধু মাত্র সরকারে গঠন করার জন্য ৯০” এর পরে জামাত এর সাথে জোট বাধতে গেল?তখন কি কোন war criminal ছিল না জামাতে?আর আওয়ামী লীগের শেখ মণি,তোফায়েল,রাজ্জাকরা ৭১’ এ যা করেছে তা কোনো দেশপ্রেমিক ছাত্রনেতা করতে পারত না।কলকাতায় বসে বসে সময় নস্ট আর ভারতীয় রেশন না খেয়ে দেশে এসে কিছু করলে দেশের জন্য ভাল হতো।এখন তারা খুব দেশপ্রেমিক!অথচ সেদিন যারা ভুক্তভোগি আজ ও তারাই ভুক্তভোগী।দেশের মাথা হয়ে আছেন সব কোট পরা ভদ্রলোকরা।যাদের মাথায় দেশের জন্য কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ তারচেয়ে নিজেদের আখের গুছাতেই ব্যাস্ত।শুধু তারা কেনো,সেসময় তো আওয়ামী-লীগের অধিকাংশ নেতাই ভারতে শুধু বসে ছিল।আসল কাজটা করল সাধারন জনগন আর মজা লুটতেছে নেতারা।
আমি সমাজতন্ত্রের ধারক নই।তবুও ভাবতাম তাদের একটা আলাদা চিন্তাধারা আছে।কিন্তু election এর সময় কি দেখালাম?শুধু মাত্র বিজয়ী হবার জন্য চে’,লেননের উত্তরসূরি মেনন,ইনুরা সারাটা জীবন নিজে যেই মতবাদে believe করে সেই মতবাদের প্রতীক না নিয়ে নিল কি?তারা নিল আওয়ামী-লীগের প্রতীক।হায়রে সমাজতন্ত্র!colonel তাহের আজ যদি তাদের দেখতেন তাহলে হয়তো নিজেই থুথু ফেলতেন নিজের গায়ে।
আসলে আমাদের দেশের কোনো কিছুই আমি ঠিক মতো বুঝতে পারিনা।কে যে কখন কি করে,আর কি বলে বোঝাই মুশকিল।এমনই এক বিচিত্র দেশ যেখানে সেনা অফিসার মারা গেলে পরিবার পায় লাখ লাখ টাকা,ফ্ল্যাট।আর রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ dutyতে মারা গেলে কেউ দেখতেও যায় না,পরিবারের সাহায্য তো অনেক দূরের কথা!ক্যান ভাই,ঐ পুলিশ কি দোষ করলো?সে কী দেশের জন্য কাজ করে না নাকি?দেশে তো প্রতিদিন কত শত লোক মারা যাচ্ছে যারা নিজেদের থেকে দেশকে বেশি ভালবাসত।শেষ রক্ত বিন্দু পর্যন্ত তারা শুধু দেশের কথাই ভেবেছে।আজ দেশের নায়ক তাজউদ্দিন আহমেদ,মাওলানা ভাসানীরা না।কারন তারা তো নিজেদের নিয়ে ভাবতেন না।তাদের ভাবনায় ছিল শুধু আমাদের দেশ।অথচ আমরা আজ কিছু কিছু বিশেষ বিশেষ দিন ছাড়া তাদের মনেই করি না।কারণ আমাদের দেশ আজ চালাচ্ছে কিছু সুবিধাবাদী কিছু রাজনীতীবিদ।আসলে আমাদের দেশটাই এমন!জোর যার মুল্লুক তার!
অনেক আবল-তাবল লিখলাম।আসলে এগুলা লিখে কোনো লাভ নাই আমি এটা ভালমতই জানি।তবু লিখলাম।
” আকাশে রক্তিম আভা,
লাল রাধাচূড়া-
মনে হয় যেন সব চূরমার করে ফেলি।
শেষ করি সব পাপের বীজ,আমি বাচতে চাই এই ধরণিতে
যেখানে কল্পনার শত রঙ খেলা করে আপন মনে।”

২,৪৯১ বার দেখা হয়েছে

২৯ টি মন্তব্য : “না বলা কথন…”

  1. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    অনেক সত্য কথা উঠে এসেছে তোমার লেখায়।
    তোমার সাথে আমি একমত যে, পুলিশের জন্যে বাজেট বাড়ানো উচিত। তবে তুমি যে স্টাইলে সশস্ত্র বাহিনীর সাথে তুলনা করে বললে, সেটা ঠিক মানতে পারলাম না।

    জবাব দিন
    • মঞ্জুর (১৯৯৯-২০০৫)

      ভাইয়া,আমি কাউকে আঘাত দেবার জন্য এটা বলি নি।আমি যেটা বলতে চেয়েছি যে,আমাদের দেশে অনেক বৈষম্য।আজকে ও দেখলাম chittagong এ একজন electrician কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছে।ওই লোকটা তো দেশের কাজেই মারা গিয়েছে,নাকি?কিন্তু তাকে নিয়ে তো মিডিয়ায় উচ্চবাচ্চ্য নাই।তার পরিবার কত টাকা পাবে?খুব বেশি হলে হাজার দেড়েক।।আমি শুধু দেখাতে চেয়েছি দেশে আসলে লোক দেখানো কাজ হচ্ছে শুধু।
      তাও ভুল হলে মাফ করে দিবেন ভাইয়া।

      জবাব দিন
      • মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
        ওই লোকটা তো দেশের কাজেই মারা গিয়েছে,নাকি?কিন্তু তাকে নিয়ে তো মিডিয়ায় উচ্চবাচ্চ্য নাই।তার পরিবার কত টাকা পাবে?খুব বেশি হলে হাজার দেড়েক।

        তুমি কি সিওর??? আমার জানা মতে পলিসি অনুযায়ী ওই ট্রাফিক পুলিশ কেন যে কোন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলে মোটামুটি ভাল অংকের পরিবার নিরাপত্তার অর্থসহ আন্যান্য আরো অর্থ পেয়ে থাকে। শুধু পার্থক্য এই সে সেটা মিডিয়ায় প্রচার হয় না এবং জনসাধারন জানতে পারে না।

        ২৫ ফেব্রুয়ারী ঘটনাকে যদি তুমি উদাহরন দাও তবে তারা কিন্তু অন্যদের তুলনায় খুব বেশি সুযোগ সুবিধা কিন্তু পায়নি। শহীদ পরিবার কে যে ফ্লাট প্রদান করা হবে সেটা কিন্তু বিনামূল্যে কিম্বা নাম মাত্র মূল্যে নয়। একটু খোজ নিয়ে দেখলে খুশি হতাম। আর এই সেনা অফিসারদের কে যে নির্মম ভাবে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে তারা কি দেশের জন্য কিছুই করেনি??

        তোমার কথা আমি সাপোর্ট করি যখন তুমি বৈষম্যের কথা বলেছ, কিন্তু সেনা কর্মকর্তাদের সাথে তুলনাটা সাপোর্ট করছি না। তোমার লেখার বাকি বিষয়গুলো পড়ে ভালো লেগেছে। আমাদের কিছু একটা করা উচিৎ।

        জবাব দিন
        • মঞ্জুর (১৯৯৯-২০০৫)
          ওই লোকটা তো দেশের কাজেই মারা গিয়েছে,নাকি?কিন্তু তাকে নিয়ে তো মিডিয়ায় উচ্চবাচ্চ্য নাই।তার পরিবার কত টাকা পাবে?খুব বেশি হলে হাজার দেড়েক।

          আমি কিন্তু কথাটা বলেছিলাম electrician কে নিয়ে।পুলিশ কে নিয়ে নয় ভাইয়া।

          আর এই সেনা অফিসারদের কে যে নির্মম ভাবে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে তারা কি দেশের জন্য কিছুই করেনি??

          আমি আমার লেখার কথাও বলিনি যেসব সেনা অফিসার মারা গেছেন তারা দেশের জন্য কিছুই করেনি।

          জবাব দিন
          • মঞ্জুর (১৯৯৯-২০০৫)

            যে সকল সেনা অফিসার মারা গেছেন তাদের পরিবার অনেক ভাগ্যবান ভাইয়া, যে দেশ তাদের কিছুটা দেবার চেস্টা করেছে...কিন্তু ভাইয়া,আমাদের দেশে সবাই কি এততূকুই পায় যারা দেশের জন্য কাজ করছেন বা করেছেন...আমার মনে হয় না।তাহলে দেশের আজ এই হাল হত না।

            আমাদের কিছু একটা করা উচিৎ।

            :thumbup:

            জবাব দিন
      • মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

        প্রথমে তোমাকে বুঝতে হবে, মিডিয়া, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, যে বিদ্যুতকর্মীর কথা তুমি লিখেছো সব আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান। যে কোন প্রতিষ্ঠানেই নিয়মমালা থাকার কথা যে কাজের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে কি করা হবে বা কি ক্ষতিপুরন দেয়া হবে। এখন সশস্ত্র বাহিনীতে এটার পরিমান বেশী এবং পুলিশে কম এবং ওই বিদ্যুতকর্মীর জন্যে আরও কম, এই ঘটনার জন্যে তুমি কোনোভাবেই অন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করতে পারো না, করলে করতে পারো হয়ত সরকারকে, যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট নির্ধারন করছে।

        আর মিডিয়া কি নিয়ে কথা বলবে না বলবে, সেটা সম্পুর্ন মিডিয়ার ব্যাপার, এইখানে তুমি কোনোভাবেই কোনো নির্দেশনা দিতে পারবেনা যে এদের খবর ছাপতেই হবে।

        প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমরা সবাই দেশের জন্যে কাজ করি। কিন্তু তুমি কোনোভাবেই আশা করতে পারো না, যে মিডিয়া আমাদের সবার খবর তুলে ধরতে পারবে। কিছু বৈষম্য সমাজে সবসময়ই থাকবে।

        আমি সশস্ত্রবাহিনীর সাথে পুলিশের তুলনা করার স্টাইলের সমালোচনা করেছিলাম কারন তাদের কর্মক্ষেত্রের ধারাটা পুরোপুরি আলাদা। আমরা, দেশের মানুষেরা, কিছু নীতি, অভ্যাস এবং স্বভাব বদল করলেই পুলিশ বা ওই বিদ্যুতকর্মীর মতন লোকদের দুর্ঘটনার মুখে পড়ার সম্ভাবনা বহু কমে যাবে।

        জবাব দিন
  2. রাশেদ (৯৯-০৫)

    খান সাহেব পড়লাম :clap:
    ০১।
    আমার একটা কথা আছে এইখানে যুদ্ধপরাধী না শালা নরকের কীটদের জন্য ব্যবহার করা উচিত রাজাকার শব্দ।
    ০২।
    জয় আর তারেক নিয়ে আমি তোমার সাথে একমত
    ০৩।
    যুদ্ধের সময় মণি,তোফায়েল আর রাজ্জাকের সম্পরকে তোমার বিশ্লেষণ বড় বেশি সরল। খান সাহেব তুমি যদি একটু ভাল করে আমাদের ইতিহাস দেখ তাইলে পরিষ্কার হবে কেমনে স্বায়ত্তশাসনের দাবী স্বাধিকার হয়ে স্বাধীনতায় পৌছাল। ঐখানে তুমি দেখাবা তখনকার ছাত্রনেতাদের ভূমিকা, কেমনে তারা চাপ দিয়ে আওয়ামেলীগের উচু সারির নেতাদের ঠিক পথে রাখছে। বিশেষ করে চার খলিফা।

    আরেকটা কথা চিন্তা কর এই চার খলিফা যেভাবে একটা রাষ্ট্রের ভিতর নতুন একটা রাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করল সেইটা করতে কতটা সাহস আর দেশপ্রেম থাকতে হয়। আর সেইটা চিন্তা করে আমি অন্তত ৭১এর তোফায়েল সম্পরকে তোমার চিন্তার সাথে সহমত জানাতে পারলাম না।
    ০৪।
    ট্রাফিক পুলিশ নিয়েও আমি একমত।


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  3. দোস্ত
    তোর প্রত্যেকটা কথা আমার পারফেক্ট বইলা মনে হইছে... আমার এই জিনিসগুলা খুব বুকে কষ্ট দেয়-- আর কষ্টটা আরো তীব্র হয় প্রতিদিন সংবাদপত্র হাতে নেয়ার পর...
    আমারো এই কথাগুলো লিখতে ইচ্ছে করে-- কিন্তু বিশ্বাস কর দোস, এত্টা ইমশোনাল হয়ে যাই যে ঠিক যা চাই সেইটা লিখতে পারিনা

    দারুণ সুন্দর এই পোস্টটার জন্য তোকে ধন্যবাদ।
    :salute:

    জবাব দিন
  4. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    মঞ্জুর : ভালো লাগলো। নিজের ক্ষোভের কথাগুলো প্রকাশ করেছ। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ সরলীকরণ বা বলা যায় ঢালাও হয়ে গেছে। আবার তোমার বয়সটাও বিবেচনায় রাখছি। সে হিসাবে ঠিকই আছে। ব্লগটা সমাজের আয়না। এখানে যদি সব মত নিঃশঙ্কচিত্তে প্রকাশ না করা যায়, করবে কোথায়।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  5. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    লেখাটা মিস করে গেছি আগে।
    ভালো চিন্তাভাবনা। তবে সানা ভাইয়ের মত আমিও বলব একটু সরলীকীকরন হয়ে গেছে।
    তারপরেও ভালো লাগলো চিন্তার ধরণ দেখে।
    সমস্যা হচ্ছে আমরা কেউই নিজেদের গন্ডিবদ্ধতাকে জয় করতে পারি না।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।