টরেটক্কা টরোন্টো – আগমন (পর্ব-১)

১লা জুলাই, ২০০৬ – ‘কানাডা দিবস’-এর শেষ বেলায় আমরা টরোন্টোর পিয়ারসন্স এয়ারপোর্টে এসে পোঁছাই। টরোন্টো শহরে এই আমাদের প্রথম আসা – তাও আবার একেবারে তল্পিতল্পাসহ। পোর্টারের সাহায্য নিয়ে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস পেরিয়ে যখন অ্যারাইভাল লাউঞ্জে এলাম, বাইরে তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। দীর্ঘ আকাশ পথ পাড়ি দেয়ার ধকলে কিছুটা হলেও ক্লান্ত আমরা। লাউঞ্জের কাঁচের দেয়ালের বাইরে বর্ষণসিক্ত টরোন্টো শহরের প্রাণ চাঞ্চল্যপূর্ণ জীবনের চিত্র চোখে পড়তেই অনেকটা চাঙ্গা বোধ করলাম। টরোন্টোতে আমাদের আগমন প্রথম হলেও কানাডাতে কিন্তু নয়। বছর তিনেক আগে আমরা ভ্যানকুভার শহরে পাঁচ দিন কাটিয়ে গেছি – সেই সাথে শেষ করেছি ‘ল্যান্ডেড ইমিগ্রান্ট’-এর প্রাথমিক সব আনুষ্ঠানিকতা। ফলে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসে আমাদের আলাদা কোন কালক্ষেপণ করতে হয়নি এবার।

আমাদেরকে রিসিভ করতে এসেছে ক্যাডেট কলেজের আমার এক প্রাক্তন সহপাঠী। বছর পাঁচেক আগে টরোন্টোতে অভিবাসী ভিসা নিয়ে এসে এখন সে কানাডিয়ান নাগরিক। আরও এসেছে আমার ভাতিজির বর। কয়েক মাস আগে ওদের বিয়ে হয়েছে ঢাকায় – বিয়েতে আমরা যেতে পারিনি – ওর সাথে আমাদের এই প্রথম দেখা। আমার সহপাঠী বন্ধুর তৎপরতায় দ্রুত একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে ফেললাম – গন্তব্য তার বাসা। সব লাগেজ নিয়ে আমি উঠে পড়লাম মাইক্রোবাসে, আর আমার স্ত্রী ও পুত্র উঠল বন্ধুর গাড়ীতে। অচেনা পথঘাট – অন্ধকারে গাড়ী ছুটে চলল হাইওয়ে ধরে বৃহত্তর টরোন্টো এলাকার পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত উইটবি শহরের অভিমূখে।

অভিবাসন ভিসা নিয়ে টরোন্টোতে চলে আসার সিদ্ধান্তটা নেয়া খুব একটা সহজ ছিল না আমাদের জন্য। সময়টা ছিল ২০০৬-এর  গোড়ার দিক। সাত ছুঁই ছুঁই বয়সের একমাত্র পুত্র সন্তানকে নিয়ে আমাদের ছোট্ট পরিবার। বসবাস সিঙ্গাপুরে। আমি সিঙ্গাপুরের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রনয়ণের একটি প্রজেক্টে সিনিয়র সফটওয়্যার প্রকৌশলী আর আমার স্ত্রী জন হপকিন্স হসপিটালের সিঙ্গাপুর শাখায় ক্যান্সার সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। আমাদের সন্তান সবে প্রাইমারি ওয়ানের হাফ-ইয়ারলি পরীক্ষা শেষ করেছে। এই অবস্থায় সবকিছু ছেড়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি দেশে অভিবাসী হিসেবে চলে আসার পিছনে জোরালো কোন কারণ থাকাটাই স্বাভাবিক। টরোন্টোর ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে গাড়ী তখন অপেক্ষাকৃত নির্জন রাস্তায় উঠেছে। দুপাশে বাড়ী-ঘরের তেমন চিহ্ন নেই, সবকিছু যেন অন্ধকারে ডুবে আছে। অনাগত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে কেন যেন সদ্য ছেড়ে আসা সিঙ্গাপুরের কথাই মনে হচ্ছিল বারবার।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার-এর পদ নিয়ে সিঙ্গাপুরে আমার প্রথম আগমন ১৯৯৭-এর ডিসেম্বরে। সেই থেকে একটানা সিঙ্গাপুরে। মাঝে বিয়ে ১৯৯৮-এর মে মাসে, সিঙ্গাপুরের পার্মানেন্ট রেসিডেন্স প্রাপ্তি সেই বছরেরই অক্টোবরে এবং বিয়ের বছর না ঘুরতেই ১৯৯৯-এর জুলাইতে আমাদের সন্তানের জন্ম।

আমার সিঙ্গাপুরে আসাটাও ছিল অনেকটা ঘটনাচক্রে। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারের বৃত্তি নিয়ে সফটওয়্যার প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রী নিতে বেইজিং-এ যাই ১৯৮৭ সালে। প্রথম বছর চীনা ভাষা এবং পরবর্তী চারটি বছর সফটওয়্যার প্রকৌশলে অধ্যয়নের পর ১৯৯২-এর মাঝামাঝি সময়ে ডিগ্রী লাভ করি। হংকং-এ মাস তিনেক চাকুরী পাওয়ার ব্যর্থ চেস্টা করে ১৯৯২-এর ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরি। দেশে তখনও ব্যাপক হারে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাহিদা তৈরি হয়নি। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে এবং সরকারী কিছু দপ্তরে অল্প কিছু পদ তৈরি হচ্ছে। শুধুমাত্র অল্প সংখ্যক উৎসাহী উদ্যোক্তা তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোতে সফটওয়্যার নিয়ে পরীক্ষামূলক কিছু কাজ করছেন। সেই রকমই একটি প্রতিষ্ঠান ‘নিউ এইজ গার্মেন্টস লিমিটেড’।  সেখানকার সফটওয়্যার প্রোগ্রামার বাংলাদেশ শিল্পব্যাংকে চাকুরী নিয়ে চলে যাওয়াতে নতুন লোক খোঁজা হচ্ছিল। আমার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে আমার কাছে সেই খবর আসে। মৌখিক পরীক্ষা শেষে হাতে-হাতে অফার লেটার পাই। জীবনের প্রথম প্রফেশনাল জব। এর আগে অবশ্য বেইজিংস্থ কলোম্বিয়া দূতাবাসে ‘কম্পিউটার ট্রেইনার’ হিসেবে পার্ট-টাইম জব করেছি। সেটা শুরু করেছিলাম গ্রাজুয়েশনের ঠিক আগের বছর।

আমার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট প্রোডাক্টশন ট্র্যাকিং-এর উপর সফটওয়্যার তৈরি করা। বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের সাধারন কর্মপদ্ধতি হচ্ছে অনেকটা এরকম – প্রথমে বিদেশী ক্রেতারা ব্যাংক-চুক্তিপত্র অথবা লেটার-অব-ক্রেডিট প্রদানের মাধ্যমে ‘ক্রয় আদেশ’ নিশ্চিত করে, পরে সেই চুক্তিপত্রের বিপরীতে আমদানী করা হয় কাপড়, সূতা, লেবেল, বোতাম ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক পণ্য। তারপর সেগুলো দিয়ে পোশাক তৈরি করে পর্যায়ক্রমে রফতানী করা হয়। প্রতিবার রফতানী শেষে পোশাকের পরিমান অনুসারে মূল্য পেয়ে যায় গার্মেন্টস কোম্পানি। সেই মূল্য থেকে আমদানী করা সূতা, কাপড়ের বকেয়া মূল্য পরিশোধ করা হয়। আমার সফটওয়্যারের কাজ হচ্ছে এসবের হিসাব রাখা। একেবারে গোঁড়া থেকে কাজ শুরু করতে হয় আমাকে – সকাল ন’টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ডুবে থাকি কাজে। কাজ শেষে প্রায়ই চলে যাই শাহবাগের মোড়ে আর্টস কলেজের চত্বরে। চীন থেকে পাশ করে আসা আরও কয়েকজন বন্ধু এসে জড়ো হয় সেখানে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আড্ডার ফাঁকে বেশ আঁচ করতে পারি যে অনেকেই আবার দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাইছে – ব্যতিক্রম শুধু শামীম ভাই আর ফখরুল মামু। আজ তারা দুজনেই অবশ্য না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। নিভৃত মুহূর্তগুলোয় তারা এসে ভীড় করে আমার স্মৃতির জানালায় আর আমি বেদনার্ত হই তাদের এই হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ায়। বন্ধুদের ভেতর যারা দেশ ছেড়ে চলে যেতে আগ্রহী তাদের সবার ভেতর একটা সাধারণ অনুধাবন হচ্ছে যে এদেশে পড়ে থাকলে নিজের এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের ভবিষ্যত অন্ধকার। ব্যবসায়িক বুদ্ধি সম্পন্ন একটি মহল তাদের এই অনুধাবনকে কাজে লাগাতে এগিয়ে এলেন; প্রতিষ্ঠিত হলো কানাডিয়ান প্রাক্তন ইমিগ্রেশন অফিসারদের সাথে পার্টনারশীপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যাদের কাজ হলো অর্থের বিনিময়ে ফর্ম পূরণ, প্রেরণ এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিকরণ। আগ্রহী মানুষদের লম্বা লাইন পড়ল তাদের দরজায়। সাদা চামড়ার কানাডিয়ানদেরকে মুখোমুখি দেখে তারা ‘ভরসা’ পেলেন। ‘ইমিগ্রেশন টু কানাডা’ পরিণত হলো ‘টক অব দি টাউনে’। আমার পরিচিত একজন তাদের মাধ্যমে কানাডা এসেছে তখনকার আমলের চার লক্ষ টাকার বিনিময়ে।

আমি অবশ্য ‘ইমিগ্রেশন’-এর চাইতে ‘এডুকেশন’-এর ব্যাপারে আগ্রহী হলাম বেশী। অগ্রজ সাত ভাইবোনের সবারই পোস্টগ্রাজুয়েট ডিগ্রী রয়েছে। তাই তাদের কাতারে নিজের নাম লিখাতে পার্টটাইম স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হলাম বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। সপ্তাহে দুদিন ক্লাস – বিকেল বেলায়। প্রথম ক্লাসের অভিজ্ঞতা এখনও স্মৃতিপটে অম্লান। কায়কোবাদ স্যারের ‘কমপিউটিশনাল কমপ্লেস্কসিটি এ্যান্ড অপটিমাইজেশন’-এর উপর লেকচার – বোর্ডে জটিল সব অংক কষে অত্যন্ত সহজভাবে বুঝিয়ে দিলেন ‘ট্রাভেলিং সেলসম্যান প্রবলেম’-এর বিষয়টা। ক্লাসে আমি ছাড়া সবাই তাঁর পরিচিত মুখ। লেকচার শেষে এসে দাঁড়ালেন আমার ডেস্কের সামনে। জানতে চাইলেন আমি কোথা থেকে গ্রাজুয়েশন করেছি, তাঁর লেকচার বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা, ইত্যাদি। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে তিনি আমাকে ‘আপনি’ করে সম্বোধণ করছেন। পরে অবশ্য জানতে পারি যে তিনি তাঁর সব ছাত্রকেই ‘আপনি’ করে সম্বোধণ করে থাকেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ বুয়েটের এই পার্টটাইম মাস্টার্স ডিগ্রী কোর্সটা আমাকে পরে ছেড়ে দিতে হয় ফুলটাইম কাজের প্রেশারে।

‘নিউ এইজ’ গার্মেন্টসে আমি তখন সফলভাবে আমার প্রথম প্রজেক্ট ‘এল-সি ম্যানেজমেন্ট’ শেষ করে দ্বিতীয় প্রজেক্ট ‘স্টোর ইনভেন্টরি’র কাজও প্রায় শেষ করে ফেলেছি। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ব্যাপারে চেয়্যারমান সাহেবের বিশেষ আগ্রহ থাকার কারনে কাজের অগ্রগতির ব্যাপারে সরাসরি তাঁকেই নিয়মিত অবহিত করতে হত আমাকে। উনি আমাকে নিজে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে কাজে ঢুকিয়েছেন, সফটওয়্যার তৈরির সময় সিস্টেমের যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় ডিফাইন করে দিয়েছেন। যে কোনো ধরণের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁর অসাধরণ উপস্থিত বুদ্ধি  চোখে পড়ার মতো। দিনের পর দিন তাঁর নির্দেশনায় সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে করতে এক সময় আবিস্কার করলাম যে তিনি যতটা না আমার বস, তার চেয়ে অনেক বেশী ‘মেন্টর’।

স্বাধীনতা-পূর্ব  বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক চেয়্যারমান সাহেবের মাথায় নতুন সব আইডিয়া খেলা করে সব সময়। ‘কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন’-এর মাধ্যমে কিভাবে ‘অপ্টিমাইজড মার্কার’ তৈরি করে কম কাপড়ে বেশি পোশাক প্রস্তুত করা যায় সেটা নিয়ে ডুবে ছিলেন তিনি। পোশাকের বিভিন্ন অংশের ছবি একটি বড় কাগজে এঁকে মার্কার তৈরি করা হয়। যা কিনা টেবিলের উপর স্তর করে সাজানো কাপড়ের উপর বিছিয়ে ছবির আউটলাইন ধরে কাটিং মেশিন চালানো হয় – ফলে একই সাথে অনেক সংখ্যক পোশাকের জন্য কাপড় কাটা হয়ে যায়। আমেরিকার বিখ্যাত ‘GERBER TECHNOLOGY’-এর অত্যাধুনিক মার্কিং সিস্টেম উনি কিনে আনালেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রেতা হওয়ার কারণে লোকাল এজেন্টের বদলে সরাসরি আমেরিকা থেকে টেকনেশিয়ান চলে এলো মেশিন ইনস্টল এবং ‘কাটিং মাস্টার’-কে ট্রেইন-আপ করার জন্য। অল্প সময়ের ভেতর তৈরী হলো প্রথম ‘অপ্টিমাইজড মার্কার’ যা কিনা হাতে তৈরি মার্কারের চেয়ে অনেক বেশী কাপড়-সাশ্রয়ী। ‘কাটিং মাস্টার’-এর কাজের ধরণ পাল্টে গেল রাতারাতি – আগে যেখানে তাকে সারাদিন ‘জি-কিউ ইকোনো’ বল-পয়েন্ট কলম দিয়ে হাতে ‘মার্কার’ তৈরি করতে হতো, এখন তাকে ‘মাউস’ হাতে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে কম্পিউটার মনিটরের সামনে নতুন কোনো মার্কারকে কিভাবে আরও বেশী ‘অপ্টিমাইজড’ করা যায় সেই কাজ নিয়ে। কিছুদিনের ভেতরই এই আধুনিক মার্কিং সিস্টেমের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া শুরু হলো। কিন্তু চেয়্যারমান সাহেবের মাথায় তখন নতুন আইডিয়া – কিভাবে দেশীয় মেধা খাটিয়ে এর সমমানের একটি সিস্টেম তৈরি করা যায়। প্রায়ই এ নিয়ে আমার সাথে উনি আলোচনায় বসেন। ঠিক এসময় বেইজিং থেকে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করার দুই বছর পর একই ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক্তোর কোর্সে ভর্তির সুযোগ আসে আমার। আমার বেইজিং যাবার খবরে তার মুখে কিছুটা হলেও আশাভঙ্গের ছায়া দেখতে পাই। তিনি শুধু আমাকে বললেন পড়া শেষে আবার এখানে চলে এসো।

দুই বছর পর বেইজিং-এ গিয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ল না শুধু দুয়েকটা ব্যাপার ছাড়া। বড় ধরণের পরিবর্তনগুলোর প্রথমটা হলো, আমাদের ইউনিভার্সিটির সবগুলো ল্যাব-এ ইন্টারনেটের সংযোগ। দ্বিতীয় পরিবর্তনটা ছিল ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত। চীন থেকে পাশ করে সাধারণত বাংলাদেশী ছাত্ররা হংকং-এ ভীড় জমাত প্রফেশনাল জবের আশায়। হংকং-এর সীমানা ছাড়িয়ে এমনই দুই একজন তখন পাড়ি জমিয়েছেন মালেয়শিয়ায়। এই সময়ে  সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিও মাত্র চালু করেছে তাদের ‘রিসার্চ স্কলার’ প্রোগ্রাম – গবেষণা নির্ভর স্নাতক্তোর ডিগ্রি, সাথে ভালো অংকের স্কলারশীপ মানি। থাইল্যান্ডের বিখ্যাত এশিয়ান ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকেও কোর্স কমপ্লিট না করে সিংগাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এসে পাড়ি জমালো আমার পরিচিত অনেকেই। চারিদিকের এতসব কর্মকাণ্ডে আমিও প্রভাবিত হলাম। ইন্টারনেটের সুবাদে আমি তখন মালেয়শিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভালো ভালো ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ল্যাবের ওয়েবসাইটগুলোতে ঢুঁ মেরে বেড়াচ্ছি। উদ্দেশ্য আমার যোগ্যতানুযায়ী গবেষণা ভিত্তিক কোনো একটা স্নাতক্তোর কোর্সে ভর্তি হওয়া। এদিকে আবার আমার বর্তমান মাস্টার্স প্রোগ্রামের কোর্সওয়ার্ক শেষ। সুপারভাইজারের সাথে পরামর্শ চলছে গবেষণার বিষয়বস্তু নিয়ে – এক সময় ‘ইমেজ প্রসেসিং’ সংক্রান্ত একটি বিষয়ও স্থির হয়।

ঠিক এই সময় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালেয়শিয়া থেকে ভর্তির অফার পেলাম – ফিংগার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন-এর উপর গবেষণা সাপেক্ষে মাস্টার্স ডিগ্রি। বেইজিংস্থ মালেয়শিয়ান অ্যাম্বাসি থেকে ভিসা নেয়ার সময় সেখানকার কাউন্সিলার সাহেব অনেকটা গর্ব করেই বললেন – একটা সময় ছিল যখন মালেয়শিয়া থেকে ছাত্ররা বাংলাদেশে পড়তে যেত, আর এখন উল্টো তোমরা যাচ্ছ মালেয়শিয়ায়। ইতিমধ্যে ‘টাইম’ পত্রিকা কুয়ালালুমপুরের ‘টুইন টাওয়ার’ নিয়ে প্রচ্ছদ কাহিনী বের করেছে – বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ণ কার্যক্রমের জন্য বিশ্ব-মিডিয়াতে মালেয়শিয়া তখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একটা মাস্টার্স কোর্স মাঝপথে অসমাপ্ত রেখে ভিন্ন একটা দেশে আরেকটা মাস্টার্স কোর্স গোড়া থেকে শুরু করা – মন থেকে এই দ্বন্দ্ব দূর করে একদিন বিমানে চেপে বসলাম কুয়ালালুমপুরের উদ্দেশ্যে। কাউকেই চিনি না, একজনের মোবাইল নাম্বার শুধু সাথে। আমার ইউনিভার্সিটির এক সিনিয়র ভাইয়ের বড় ভাই তিনি।

বিমানের চাকা যখন কুয়ালালুমপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের রানওয়ে স্পর্শ করল তখন স্থানীয় সময়ে রাত আটটা। ইমিগ্রেশন ও কাস্টম পার হয়ে সোজা চলে এলাম এয়ারপোর্টের ট্যাক্সি সার্ভিস সেন্টারে। সেখান থেকে সঙ্গে করে আনা মোবাইল নাম্বারে ফোন দিতেই ওপাশে হাবিব ভাইয়ের আন্তরিক কণ্ঠস্বর – যে উৎকণ্ঠা নিয়ে সারাটা পথ কাঠ হয়ে ছিলাম সেটা কেটে গেল নিমিষেই। উনি ট্যাক্সি চালককে ঠিকানা বলে দিলেন ফোনে। প্রায় মিনিট চল্লিশের পথ। পথে চালকের সাথে খুচরো কথোপকথনে বুঝতে পারলাম যে কুয়ালালুমপুরের ব্যবহারিক ভাষা হচ্ছে মালেয় – তবে ইংরেজী বহুল প্রচলিত – সবাই কম বেশী বুঝতে এবং বলতে পারে। আমার প্রথম মালেয় শব্দ এই ট্যাক্সি ভ্রমণের মাঝেই শেখা হয়ে গেলো – ‘জালান’ যার অর্থ রাস্তা/সড়ক, আবার ‘জালান-জালান’ অর্থ হাঁটাহাঁটি করা। পরে অবশ্য কাজ চালানোর মতো মালেয় ভাষা আমার শেখা হয়েছিলো সিঙ্গাপুর ও মালেয়শিয়াতে দশ বছরের দীর্ঘ পরবাসের কারণে।

মালেয়শিয়াতে নেমেই প্রথম যে জিনিষটা চোখে প্রকট হয়ে ধরা পড়ল সেটা হলো ‘মাল্টি কালচারালিজম’। মালেয়, চাইনিজ এবং ইন্ডিয়ান (মূলতঃ তামিল) এই তিন জাতিসত্বার সংমিশ্রনে গঠিত মালেয়শিয়ান জাতীয়তা। এখানে আসার পূর্বে আমার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা শুধু চীনের বেইজিং শহরে বসবাসের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল। অবশ্য বিশাল এবং বিচিত্র চীনের বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেড়েয়েছি অনেকটা সময় নিয়ে। চীনের জনসংখ্যার প্রায় শতকরা নব্বুই ভাগ হচ্ছে ‘হান’ জাতি, দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতি হচ্ছে ‘মাঞ্চুরিয়ান’ – এছাড়া আছে অসংখ্য উপজাতি। চীনের যাপিত জীবনের মূলধারায় ‘হান’ জাতির প্রাধান্য প্রকটভাবে প্রবল। সেই হিসেবে মালেয়শিয়ার চিত্র ভিন্ন। কুয়ালালুমপুরে মালেয় এবং চাইনিজ জনসংখ্যার আনুপাতিক হার প্রায় সমান সমান হলেও ইন্ডিয়ানদের সংখ্যা এদের তুলনায় অনেক কম। মালেয়শিয়ার মূল জীবনধারায় কোনও একক জাতির প্রাধাণ্য অনুপস্থিত, বরং ভিন্ন ভিন্ন জাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সত্যিই চোখে পড়ার মতো।

দীর্ঘদিন বেইজিং-এ বসবাস করার পর কুয়ালালুমপুরে এসে বেশ কিছু বৈপরীত্য ধরা পরল আমার কাছে। প্রথমতঃ, সরকার নির্ধারিত ‘এক সন্তান’ রীতির দেশ চীন – অন্যদিকে মালেয়শিয়ান সরকার জনগনকে অধিক সন্তান নেয়াতে উৎসাহিত করছে। দ্বিতিয়তঃ, চীনে মূলধারার চাইনিজদেরকে কখনও কোনো ধর্ম পালন করতে দেখিনি – ধর্মের উপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা যদিও অনেকটাই শিথিল ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’-এর আমলের তুলনায়। অথচ মালেয়শিয়াতে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মাঝে বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠান পালন করাটাই স্বাভাবিক রীতি – অর্থাৎ ধর্মচর্চা এখানকার মূলধারা জীবনের একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ সেটা যে ধর্মই হোক না কেন। চীনে যে চাইনিজ জাতিকে দেখে এসেছি এক ভাষাভাষী, যাদের পরিবার এক সন্তান ভিত্তিক এবং যাদের জীবনে ধর্মের কোনো বালাই নেই, সেই চাইনিজদেরকে মালেয়শিয়াতে দেখছি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। অন্ততঃ পক্ষে তিনটি (মালেয়, ইংরেজী এবং চাইনিজ) ভাষায় অনর্গল কথা বলছে – পরিবারে সন্তানের গড়ে সংখ্যা তিন থেকে চারটি – আর নিষ্ঠার সাথে ধর্মাচার পালন করছে। ইদানিং কালে অনেক শিক্ষিত চাইনিজ অবশ্য পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে অথবা মিশনারি কার্যক্রমের প্রভাবে খ্রীস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে – কিন্তু একই সাথে তারা তাদের পূর্বপুরুষের ধর্ম ‘তাও’-এরও অনুসারী। সব মিলিয়ে মালেয়শিয়াকে আমার কাছে একটি বৈচিত্রপূর্ণ দেশ হিসেবেই মনে হলো।

আমি যে সময়টায় মালেয়শিয়াতে আসলাম, সম্ভবতঃ সেই সময়টা ছিল তাদের উন্নয়ণের ‘পিক-পয়েন্ট’। প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ মালেয়শিয়াকে একটি সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছেন। একই সাথে সেইসব কার্যক্রমকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রনয়ণ করেছেন, যা কিনা ‘ওয়াওয়াসান ২০২০’ বা ‘ভিশন ২০২০’ নামে পরিচিত। ‘ভিশন ২০২০’-কে সামনে রেখে বিপুল কর্মকাণ্ডের আয়োজন পুরো দেশ জুড়ে – তিন ধরনের মেট্রো রেলওয়ে, পেট্রোনাস টাওয়ার অর্থাৎ টুইন টাওয়ার, প্রচুর রাস্তাঘাট আর সারি সারি উঁচু দালান। গড়ে উঠছে শহরের বাইরে নতুন দুইটি অত্যাধুনিক শহর – পূত্রাজায়া ও সাইবারজায়া। পূত্রাজায়াকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে সরকারের সকল প্রকার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। আর সাইবারজায়া হবে মালেয়শিয়ার ‘সিলিকন ভ্যালি’। ‘ভিশন ২০২০’-এর অন্যতম মূলভিত্তি ‘মাল্টিমিডিয়া সুপার করিডোর’ প্রকল্পের কারণে প্রচুর মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানী তাদের এশিয়ান হেড-অফিস সাইবারজায়াতে  স্থাপন করার জন্য ইতিমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সুবাদে বিভিন্ন দেশ থেকে এসে ভীড় করেছে অগনিত নির্মাণ শ্রমিক। বাংলাদেশ থেকে আসা শ্রমিকের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতন।

হাবিব ভাইয়ের ফ্ল্যাটে সপ্তাহ দুয়েক থাকার পর চলে আসি আমার ইউনিভার্সিটি শহর বাংগি-তে। দূর্ভাগ্যবশতঃ ‘ফিংগার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন’ গবেষণা প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশন থেকে গ্রান্ট পেতে ব্যর্থ হয় – ফলে আমার স্কলারশীপ হয়ে পড়ে অনিশ্চত। সেই সময়ে মালেয়শিয়ার সব চাইতে পুরানো ইউনিভার্সিটি, ‘ইউনিভার্সিটি অব মালায়া’র কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ইফতেখার ভাই এগিয়ে আসেন আমাকে সাহায্য করার জন্য। ‘ক্যাটালগিং অব বায়ো-ডাইভার্সিটি ইন মালেয়শিয়া’ নামক সেখানকার এক গবেষণা প্রকল্পের ‘গবেষণা সহকারী’র পদ পাইয়ে দেন আমাকে। এই পদে যোগ দেয়ার কিছুদিন পর আমি সেই ডিপার্টমেন্টেই ‘মাস্টার্স বাই রিসার্চ’ কোর্সে ভর্তি হই – এবারে আমার গবেষণার বিষয় ‘কম্পিউটার সিকিউরিটি’। মাস্টার্স শেষে সাইবারজায়াতে ‘ইনফরমেন টেকনলজী’ বিষয়ক ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ইচ্ছা।

ডিপার্টমেন্ট সংলগ্ন ছাত্রাবাস ‘কলেজ যাবা’-তে রুম নিয়ে উঠে পড়লাম – ক্যান্টিনে তিন বেলার খাবারসহ রুম ভাড়া অতি সামান্য। শুক্রবার লাঞ্চে আবার স্পেশাল ডায়েট – ‘নাসি বিরিয়ানি’ (আমাদের পোলাউ মাংসের মালেয়শিয়ান সংস্করণ)। সারাদিন ডিপার্টমেন্টে কাটিয়ে এসে বিকেলে ক্রিকেট খেলাও শুরু করলাম। রাতে ছাত্রাবাস চত্বরে খোলা আকাশের নীচে পাকিস্তানি, মরক্কো ও বাংলাদেশী সহপাঠি ছাত্রদের সাথে বসে ‘তে-ও-আইস-লিমাও’ (আইস-লেমন-টি) সহযোগে আড্ডা অথবা হলের টিভি রুমে বসে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সিতি-নূরহালিজার গান শোনা। কোনো কোনো উইকএন্ডে আমাদের লালমাটিয়ার ওবায়েদ ভাই আসেন – তার গাড়ীতে করে চলে যাই থিয়েটারে মূভি দেখার জন্য, কখনো বা ঘরোয়া কোনো গজলের আসরে। ঠিক এই সময়টায় পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন এসে কনসার্ট করে গেল কুয়ালালুমপুরের অদূরে শাহ-আলম স্টেডিয়ামে। দূর্ভাগ্যবশতঃ আমার যাওয়া হয়নি সেই কনসার্টে। এর পরপরই আই-সি-সি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর বসলো কুয়ালালুমপুরে। ফাইনালে কেনিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ যে ইতিহাস গড়েছিল সেটা অবশ্য স্বচক্ষে উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। সবকিছু মিলিয়ে মালেয়শিয়ার জীবনটা মন্দ চলছিল না।

কিন্তু মাস কয়েক যেতে না যেতেই শুরু হলো মালেয়শিয়াসহ এশিয়ার একটা অংশ জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা। মন্দা শুরুর ঠিক আগে আগে ইসরাইলী ছাত্রদের একটি ক্রিকেট টিমকে কুয়ালালুমপুরে খেলার আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে পড়তে হয়েছিলো রাজনৈতিক তোপের মুখে। মতপার্থক্যের কারনে মন্দা যখন শুরু ঠিক সেই সময়টায় তিনি তার ডেপুটি আনোয়ার ইব্রাহিমকে করলেন পদচ্যুত। সাথে সাথে পুলিশ আনোয়ার ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করল ‘সডোমি’ এবং দূর্নীতির অভিযোগে। মামলা যখন কোর্টে উঠল, আনোয়ার ইব্রাহিমের চোখে-মুখে পুলিশী অত্যাচারের চিহ্ন স্পস্ট। স্বাভাবিক ভাবেই ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ জোরাল অভিযোগ উঠল মাহাথিরের বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য হাইকোর্ট আনোয়ার ইব্রাহিমকে নির্যাতন করার অভিযোগে পুলিশ বিভাগকে দায়ী করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশের আই.জি. আব্দুল রহিম নূর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সব মিলিয়ে মালেয়শিয়ার অবস্থা তখন টালমাতাল। প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মার্কিন ইনভেস্টর ‘জর্জ সরোজ’-কে দায়ী করলেন অর্থনৈতিক এই মন্দার মূল হোতা হিসেবে এবং দৃঢ় হাতে আই. এম. এফ.এর ঋণ ছাড়াই মন্দাকে কাটিয়ে উঠতে সচেস্ট হলেন। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নেয়া হলো ‘বেল্ট টাইটেনিং’ নীতি। এর ফলে আমাদের ‘ক্যাটালগিং অব বায়ো-ডাইভার্সিটি ইন মালেয়শিয়া’ প্রকল্পের অবস্থা হলো ‘হালুয়া টাইট’ – গ্রান্ট বন্ধ, আমার পদ হয়ে গেলো অবৈতনিক। চলমান অনেক উন্নয়ণ প্রকল্পেরও ভাগ্য হলো অনিশ্চত, কর্মচ্যুত হলো অনেকে। ঠিক এই সময় ইন্দোনেশিয়ার ‘ফরেস্ট ফায়ার’-এর কারণে কুয়ালালুমপুর শহর ঢাকা পড়ল ‘হেইজ’ (Haze)-এ। দু’হাত দূরের জিনিষও চলে গেলো দৃস্টিসীমার আড়ালে। সবাই মুখে মাস্ক লাগানো শুরু করল অসহনীয় মাত্রার এয়ার পলুশনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে। প্রধানমন্ত্রী মাহাথির ‘অপারেশন হেইজ’ নামে ফায়ার ব্রিগেডের এক বিশেষ টীম পাঠালেন ইন্দোনেশিয়ায়, তাতে অবশ্য কুয়ালালুমপুরের ‘হেইজ’-এর কোন প্রকার উনিশ-বিশ হলো না। পুরো শহরটার চেহারা পাল্টে যেতে শুরু করল। মালেয়শিয়ার সম্ভবনাময় আলোকিত ভবিষ্যত যেন ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ঘন কুয়াশার চাদরে। আমিও চিন্তিত হলাম আমার নিজের ভবিষ্যত নিয়ে।

(চলবে)

২,০৪৭ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।